মনের পর্দা বড় পর্দা নয়


মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ উনার ৩৩নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “হে মু’মিনা মহিলাগণ! আপনারা আপনাদের ঘরে অবস্থান করবেন এবং আপনারা জাহিলী যুগের ন্যায় নিজেদেরকে প্রদর্শনার্থে বের হবেন না।” আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “আপনি মু’মিনা নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে অবনত রাখে এবং তাদের ইজ্জত-আবরুর হিফাজত করে এবং তাদের সৌন্দর্যকে প্রকাশ না করে।” (পবিত্র সূরা নূর শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৩১)
অর্থাৎ কোনো নারীকে প্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের হতে হলে অবশ্যই তার সৌন্দর্যকে (মুখ, হাত, পা) ঢেকে পর্দা করে বের হতে হবে। কিন্তু বর্তমান সমাজে পবিত্র পর্দার বিধান সম্পর্কে কিছু বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রচলিত রয়েছে। যেমন কেউ কেউ বলে থাকে মনের পর্দাই বড় পর্দা। নাঊযুবিল্লাহ! প্রকৃতপক্ষে অন্তরে যেমন পর্দার কথা খেয়াল রাখতে হবে তেমনি বাহ্যিকভাবেও পর্দা করে চলতে হবে। কেননা পর্দা করা সম্পর্কে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, “হে হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি আপনার আহলিয়া ও কন্যা আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে এবং মু’মিনাদের স্ত্রীদেরকে বলুন, উনারা যেন উনাদের বড় চাদরের কিয়দাংশ নিজেদের উপর টেনে দেন। এতে উনাদের (স্বাধীনা মহিলা হিসেবে) চেনা সহজ হবে। ফলে উনাদেরকে কেউ কষ্ট দিবে না।” (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৯)
এ পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে চাদরের কিয়দাংশ নিজেদের উপর টেনে দেয়ার কথা বলা হয়েছে অর্থাৎ মাথার উপর থেকে বুক পর্যন্ত ঝুলিয়ে দেয়া যেমন- বোরকার নেকাব মাথার উপর থেকে বুক পর্যন্ত ঝুলানো থাকে। মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের আদেশ মুবারক পালন করা ফরয। উনারা যেভাবে আদেশ মুবারক করেছেন সেটাই হলো হাক্বীক্বী পর্দা। আর এর উপর নিজেদের মনগড়া মত পেশ করলে বা মনের পর্দাকে বড় পর্দা বললে তা হবে পবিত্র আয়াত শরীফ উনাকে অস্বীকার করা। নাঊযুবিল্লাহ!
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “যালিমরা ব্যতীত আর কেউই পবিত্র আয়াত শরীফ উনাকে অস্বীকার করে না।” (পবিত্র সূরা আনকাবুত শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৪৯)
অর্থাৎ পবিত্র আয়াত শরীফ অস্বীকারকারীরা যালিম বলে সাব্যস্ত হবে। নাঊযুবিল্লাহ! আর যালিমদের জন্য রয়েছে কঠিন পরিণতি। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- “নিশ্চয়ই আমি জালিমদের জন্য জাহান্নাম প্রস্তুত করে রেখেছি। জাহান্নামের (আগুনের) তাবু তাদেরকে বেষ্টন করে নিবে এবং যদি তারা সাহায্য চায়, তাদেরকে সাহায্য করা হবে পুঁজ জাতীয় পানির দ্বারা যা তাদের নিজেদেরকে দগ্ধ করবে। কতই না নিকৃষ্ট পানীয় এবং কতই না নিকৃষ্ট আবাসস্থল।” (পবিত্র সূরা কাহাফ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২৯)
মূলত মহান আল্লাহ পাক এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের আদেশ, নিষেধ, বিধি-বিধান মুবারক মেনে চলার মধ্যেই রয়েছে ইহকালীন ও পরকালীন মুক্তি। আর নারীদের জন্য উত্তম আদর্শ হচ্ছেন হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালামগণ, হযরত মহিলা ছাহাবীয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্নাগণ উনারা কিন্তু হাক্বীক্বী পর্দার সাথেই জিহাদে অংশগ্রহণ করেছেন, পবিত্র হজ্জ পালন করেছেন, দ্বীনী তা’লিম-তালক্বীন দিয়েছেন, উনাদের সন্তানদেরকে সর্বশিক্ষায় সুশিক্ষিত করে গড়ে তুলেছেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে উনাদের যথাযথ অনুসরণ-অনুকরণ করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে