কে মর্যাদার অধিকারী ?


মক্কা শরীফ বিজয়ের পর হুযূর পাক   ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ঘোষণা মুবারক করলেন, “মহান আল্লাহ পাক উনার প্রশংসা, যিনি তোমাদের থেকে জাহেলিয়াতের দোষ এবং অহংকার দূর করে দিয়েছেন। হে মানবজাতি! তামাম মানুষ দু’ভাগে বিভক্ত। প্রথম নেক। যে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট মর্যাদার অধিকারী। দ্বিতীয় কাফির ও দূর্ভাগ্যবান। যে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট খুবই ঘৃনিত ও হেয়।”

যে যতবেশী তাকওয়াধারী সেই ততোবেশী মর্যাদা বা সন্মানের অধিকারী। বংশ-গোত্র, ভাষা-জাতি, ধন-সম্পদ, রং-রূপ, সিরাত-সূরত প্রভৃতি কারণে মানুষ শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী হতে পারে না, শ্রেষ্ঠত্বের বা মর্যাদার সঠিক মাপকাঠি হলো খোদাভীতি। কারণ, মহান আল্লাহ পাক উনাকে যে যতবেশী ভয় করবে তার চারিত্রিক সৌন্দর্যও ততো অধিক হবে।

সেহেতু সম্পদ, গোত্র, বর্ণ, বংশ কখনই মর্যাদার অধিকারী হতে পারে না। মর্যাদার একমাত্র ভিত্তি হলো চারিত্রিক সৌন্দর্য ও সৎকর্ম। আর এ গুণটি ততোবেশী অর্জন করা সম্ভব যতোবেশী মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশিত মতে এবং হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রদর্শিত পথে জীবনকে পরিচালিত করা যাবে।

মূলতঃ মানুষ একই পিতা-মাতার সন্তান হয়েও শুধুমাত্র বর্ণ-ভাষা বা জনপদের পার্থক্যের কারণে মর্যাদার পার্থক্য হতে পারে না। তাই মহান আল্লাহ পাক তিনি সূরা আল হুজুরাত উনার মধ্যে  ইরশাদ মুবারক করেন। “হে মানব জাতি! আমি তোমাদের এক পুরুষ ও এক নারী থেকে পয়দা করেছি এবং যাতে একে অন্যকে জানতে পার, তার জন্য তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে পরিণত করেছি। বস্তুতঃ তোমাদের মধ্যে সেই মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট সবচেয়ে বেশী সন্মানিত, যে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী আল্লাহ ভীরু।”

সুতরাং বলার আর অবকাশ থাকে না যে, পরহিযগার ব্যক্তিই হ’ল প্রকৃত মর্যাদার অধিকারী।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে