মহাকাশ বিজ্ঞান (Astronomy) সংক্রান্ত প্রাথমিক জ্ঞান – ২


আগের পর্ব : মহাকাশ বিজ্ঞান (Astronomy) সংক্রান্ত প্রাথমিক জ্ঞান – ১

অক্ষাংশ(Latitude):

অক্ষাংশ কাকে বলে তা জানতে হলে প্রথমে আমাদের জানতে হবে পৃথিবীর মেরুরেখা বা অক্ষ এবং নিরক্ষরেখা ও সমাক্ষরেখা কাকে বলে। পৃথিবীর কেন্দ্র দিয়ে উত্তর-দক্ষিণে কল্পিত রেখাকে মেরুরেখা বলে। এ অক্ষের উত্তর-প্রান্ত বিন্দুকে উত্তর মেরু বা সুমেরু(North Pole) এবং দক্ষিণ প্রান্ত বিন্দুকে দক্ষিণ মেরু বা কুমেরু(South Pole) বলে। প্রথম পর্বে আমরা এই ছবি গুলো দেখেছি । দুই মেরু থেকে সমান দূরত্বে পৃথিবীকে পূর্ব-পশ্চিমে বেষ্টন করে একটি রেখা কল্পনা করা হয়েছে। এ রেখাকে বলা হয় নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা(Equator)। পৃথিবীর গোলীয় আকৃতি কল্পনার জন্য এ রেখা বৃত্তাকার, তাই এ রেখাকে নিরক্ষবৃত্তও বলা হয়।

নিরক্ষরেখা পৃথিবীকে উত্তর ও দক্ষিণে সমান দুই ভাগে ভাগ করেছে। নিরক্ষরেখার উত্তর দিকের পৃথিবীর অর্ধেককে উত্তর গোলার্ধ(Northern Hemisphere) এবং নিরক্ষরেখার দক্ষিণ দিকের পৃথিবীর অর্ধেককে দক্ষিণ গোলার্ধ(Southern Hemisphere) বলা হয়।

নিরক্ষরেখার সাহায্যে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধের কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্ব স্থির করা হয়। এ জন্য পৃথিবীপৃষ্ঠে যে স্থানের কৌণিক দূরত্ব বের করতে হবে তার কোনো বিন্দুকে একটি কাল্পনিক রেখার সাহায্যে পৃথিবীর কেন্দ্রের সঙ্গে যোগ করা হয়। আবার পৃথিবীপৃষ্ঠের ঐ বিন্দুর উপর দিয়ে প্রসারিত মধ্য রেখা যে স্থানে নিরক্ষরেখাকে ছেদ করে সেই ছেদ বিন্দুকে একটি কাল্পনিক সরলরেখার সাহায্যে পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দুর সঙ্গে যোগ করা হয়। এ কাল্পনিক রেখা আসলে পৃথিবীর গোলকের ব্যাসার্ধ। এ দুই রেখার সাহায্যে পৃথিবীর কেন্দ্রে যে কোণ উৎপন্ন হয় সে কোণই হল ঐ নির্দিষ্ট স্থানটির অক্ষাংশ। নিরক্ষরেখা থেকে উত্তর বা দক্ষিণে অবস্থিত কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বকে (Angular Distance)  সেই স্থানের অক্ষাংশ(Latitude) বলে। ভূপৃষ্ঠের কোনো স্থান থেকে পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত যদি কোনো সরলরেখা টানা যায় তা হলে ঐ রেখা নিরক্ষীয় তলের সঙ্গে যে কোণ তৈরি করবে সেই কোণই হবে ঐ স্থানের অক্ষাংশ(Latitude)।  এটি বুঝার জন্য নিচের ভিডিও ফাইলটি দেখুন । এই ভিডিও এর শেষের দিকে যে কোণ টি (40.641 Degree N) দেখানো হয় সেটিই মূলত লাল ফোটা দ্বারা চিহ্নিত স্থানটির অক্ষাংশ । আর 76.166 Inch W কোণটি হচ্ছে ঐ স্থানের দ্রাঘিমাংশ (Longitude) যা আমরা পরবর্তীতে আলোচনা করব ।

নিরক্ষরেখার উত্তর দিকে অবস্থিত কোনো স্থানের অক্ষাংশকে উত্তর অক্ষাংশ এবং দক্ষিণ দিকে অবস্থিত কোনো স্থানের অক্ষাংশকে দক্ষিণ অক্ষাংশ বলে। পৃথিবীর বৃত্তের কেন্দ্রে উৎপন্ন কোণ ৩৬০ ডিগ্রি। এ কোণকে ডিগ্রি, মিনিট ও সেকেন্ড বিভক্ত করা হয়। নিরক্ষরেখার অক্ষাংশ ০ ডিগ্রি, উত্তর মেরু বা সুমেরুর অক্ষাংশ ৯০ ডিগ্রি উত্তর এবং দক্ষিণ মেরু বা কুমেরুর অক্ষাংশ ৯০ ডিগ্রি দক্ষিণ। কারণ নিরক্ষরেখা থেকে প্রত্যেক মেরুর কৌণিক দূরত্ব ৯০ ডিগ্রি । এ কোণকে ডিগ্রি ও মিনিটে ভাগ করে নিরক্ষরেখার সমান্তরাল যে রেখা কল্পনা করা হয় তাকে সমাক্ষরেখা বলে। এই পোস্টের ১ম ছবিটিতে আমরা সমাক্ষরেখা গুলো দেখতে পাচ্ছি।  এ সমাক্ষরেখাগুলো পরস্পর সমান্তরাল, প্রত্যেকে একটি পূর্ণবৃত্ত ও অক্ষাংশ বাড়লে সমাক্ষরেখার পরিধি কমে। কয়েকটি সমাক্ষরেখা বা অক্ষরেখা বিখ্যাত। এদের একটি ২৩.৫ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ, একে বলা হয় কর্কটক্রান্তি(Topic of Cancer)। অপরটি ২৩.৫ডিগ্রি দক্ষিণ অক্ষাংশ, একে বলা হয় মকরক্রান্তি(Topic of Capricorn)। ৬৬.৫ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশকে বলা হয় সুমেরুবৃত্ত(Arctic Circle) এবং ৬৬.৫ ডিগ্রি দক্ষিণ অক্ষাংশকে বলা হয় কুমেরুবৃত্ত(Antarctic Circle) বিষুবরেখাকে(Equator) বলা হয় মহাবৃত্ত। কোনো অক্ষরেখার উপর অবস্থিত সব স্থানের অক্ষাংশ সমান।

নিরক্ষরেখার নিকটবর্তী অঞ্চলের অক্ষাংশকে অর্থাৎ ০ডিগ্রি থেকে ৩০ ডিগ্রি পর্যন্ত অক্ষাংশকে নিম্ন অক্ষাংশ, ৩০ ডিগ্রি থেকে ৬০ ডিগ্রি পর্যন্ত অক্ষাংশকে মধ্য অক্ষাংশ এবং ৬০ ডিগ্রি থেকে ৯০ ডিগ্রি পর্যন্ত অক্ষাংশকে উচ্চ অক্ষাংশ বলে।

 

মহাকাশ বিজ্ঞান এবং চাঁদ সম্পর্কে জানতে ভিজিট করুন: http://al-hilaal.net/

Views All Time
1
Views Today
4
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+