মহাকাশ বিজ্ঞান (Astronomy) সংক্রান্ত প্রাথমিক জ্ঞান – ৩


২য় পোস্টের পর বেশ বড় ধরণের বিরতি পড়ে গেল । এরই মধ্যে গত ২৭শে অক্টোবর সউদী আরব চাঁদ দেখতে পাওয়ার দাবি করে ২৮শে অক্টোবর শুক্রবার থেকে যিলহজ্জ মাস শুরু করে । এবারও হজ্জ বাতিল হবে। কারণ, ২৭শে অক্টোবর সউদী আরবে কোনোভাবেই চাঁদ দেখতে পাওয়া সম্ভব নয়। তাই সকল মুসলমানদের উচিত চাঁদ সর্ম্পকিত মাসায়ালা-মাসায়িল ভালভাবে জেনে এই সৌদী-ওহাবীদের প্রতারনা সবার কাছে প্রকাশ করে দেওয়া ।

আগের পর্ব ১ : মহাকাশ বিজ্ঞান (Astronomy) সংক্রান্ত প্রাথমিক জ্ঞান – ১

আগের পর্ব ২ : মহাকাশ বিজ্ঞান (Astronomy) সংক্রান্ত প্রাথমিক জ্ঞান – ১

দ্রাঘিমারেখা(Meridians of Longitude):

নিরক্ষরেখাকে ডিগ্রি, মিনিট ও সেকেন্ডে ভাগ করে প্রত্যেক ভাগবিন্দুর উপর দিয়ে উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত যে রেখাগুলো কল্পনা করা হয়েছে তাকে দ্রাঘিমারেখা বলে। দ্রাঘিমারেখাকে মধ্যরেখাও বলা হয়। মধ্যরেখাগুলোর যে কোনো একটিকে নির্দিষ্ট মূল মধ্যরেখা ধরে এ রেখা থেকে অন্যান্য মধ্যরেখার কৌণিক দূরত্ব মাপা হয়। আমরা নিচের চিত্রে লক্ষ্য করি—

Longitude

 

 

মূল মধ্যরেখা (Prime Meridian):

যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের উপকণ্ঠে গ্রীনিচ (Greenwich)  মান মন্দিরের উপর দিয়ে উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত যে মধ্যরেখা অতিক্রম করেছে তাকে মূল মধ্যরেখা বলে। এই রেখার মান ০ ডিগ্রি ধরা হয়েছে।মূল মধ্যরেখা থেকে পৃথিবীর কেন্দ্রে উৎপন্ন কোণের সাহায্যে অপরাপর দ্রাঘিমারেখাগুলো অঙ্কন করা যায়। গ্রীনিচের মূল মধ্যরেখা থেকে ৪৫ ডিগ্রি পূর্বে যে মধ্যরেখা বা দ্রাঘিমারেখা তার উপর সকল স্থানের দ্রাঘিমা ৪৫ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমা। সূতরাং আমরা বলতে পারি যে, গ্রীনিচের মূল মধ্যরেখা থেকে পূর্ব বা পশ্চিমে যে কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বকে সেই স্থানের দ্রাঘিমা বলা হয়। আমরা আরো জানি, গ্রীনিচের দ্রাঘিমা ০ ডিগ্রি। পৃথিবীর পরিধি দ্বারা উৎপন্ন কোণ ৩৬০ ডিগ্রি। মূল মধ্যরেখা এ ৩৬০ ডিগ্রি কে ১ ডিগ্রি অন্তর অন্তর সমান দুই ভাগে অর্থাৎ ১৮০ ডিগ্রি পূর্ব ও ১৮০ ডিগ্রি পশ্চিমে ভাগ করেছে। পৃথিবী গোলাকার করা হয় বলে ১৮০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমা ও ১৮০ ডিগ্রি পশ্চিম দ্রাঘিমা মূলত একই মধ্যরেখায় পড়ে। অক্ষাংশের ন্যায় দ্রাঘিমাকেও মিনিট ও সেকেন্ডে ভাগ করা হয়েছে। প্রতি মিনিট দ্রাঘিমা এ ডিগ্রির ৬০ ভাগের ১ অংশের সমান। যেখানে নিরক্ষরেখা ও মূল মধ্যরেখা পরস্পরকে লম্বভাবে ছেদ করে সেখানে অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমা উভয়ই ০ ডিগ্রি। আর এ স্থানটি হল গিনি উপসাগরের কোনো একটি স্থান।

যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার একটি তাজদীদ হচ্ছে “গ্রীনিচ নয় বরং পবিত্র কা’বা শরীফ উপর মূল মধ্যরেখা (Prime Meridian) কল্পনা করে সেখান পৃথিবীর সকল অঞ্চলের প্রমাণ সময় (Standard Time) নির্ধারণ করতে হবে।” এ সম্পর্কে পরবর্তীতে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে ।

 

অক্ষরেখা /সমাক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখার পার্থক্য:

১. সমাক্ষরেখাগুলো পরস্পর সমান্তরাল কিন্তু দ্রাঘিমারেখাগুলো সমান্তরাল নয়।
২. সমাক্ষরেখা পূর্ণবৃত্ত, দ্রাঘিমারেখা অর্ধবৃত্ত।
৩. প্রত্যেক দ্রাঘিমারেখার দৈর্ঘ্য সমান কিন্তু সমাক্ষরেখার দৈর্ঘ্য সমান নয়।
৪. সমাক্ষরেখা পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত কিন্তু দ্রাঘিমারেখা উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত।
৫. সর্বোচ্চ অক্ষাংশ ৯০ ডিগ্রি, সর্বোচ্চ দ্রাঘিমা ১৮০ ডিগ্রি।

 

স্থানীয় সময় (Local Time):

স্থানীয় সময় প্রতিদিন পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে তার নিজ মেরুরেখার উপর আবর্তিত হচ্ছে। ফলে পূর্ব দিকে অবস্থিত স্থানগুলোতে আগে সূর্যোদয় হয়। পৃথিবীর আবর্তনের ফলে কোনো স্থানে সূর্য যখন ঠিক মাথার উপর আসে বা সর্বোচ্চ অবস্থান করে তখন ঐ স্থানে দুপুর এবং ঐ স্থানের ঘড়িতে তখন বেলা ১২টা ধরা হয়। এ দুপুর সময় থেকে দিনের অন্যান্য সময় স্থির করা হয়। একে ঐ স্থানের স্থানীয় সময় বলা হয়। সেক্সট্যান্ট যন্ত্রের সাহায্যেও স্থানীয় সময় নির্ণয় করা যায়।পৃথিবীর কেন্দ্রে কোণের পরিমাণ ৩৬০ ডিগ্রি। এ ৩৬০ ডিগ্রি কৌণিক দূরত্ব আবর্তণ করতে পৃথিবীর ২৪ ঘণ্টা বা (২৪ * ৬০) = ১,৪৪০ মিনিট সময় লাগে। সূতরাং পৃথিবী ১ ডিগ্রি ঘোরে (১,৪৪০/৩৬০) = ৪ মিনিট সময়ে অর্থাৎ প্রতি ১ ডিগ্রি দ্রাঘিমার পার্থক্যের জন্য সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট।

প্রমাণ সময় (Standard Time):

দ্রাঘিমা রেখার উপর মধ্যাহ্নের সূর্যের অবস্থানের সময়কালকে দুপুর ১২টা ধরে স্থানীয় সময় নির্ণয় করলে একই দেশের মধ্যে সময় গণনার বিভ্রাট হয়। সে জন্য প্রত্যেক দেশের একটি প্রমাণ সময় নির্ণয় করা হয়। প্রত্যেক দেশেই সেই দেশের মধ্যভাগের কোনো স্থানের দ্রাঘিমারেখা অনুযায়ী যে সময় নির্ণয় করা হয় সে সময়কে ঐ দেশের প্রমাণ সময় বলে। অনেক বড় দেশ হলে কয়েকটি প্রমাণ সময় থাকে। যেমন, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে চারটি এবং কানাডাতে পাঁচটি প্রমাণ সময় রয়েছে। সেসব দেশে প্রশাসনিক ও অন্যান্য কাজের সুবিধার জন্য একাধিক প্রমাণ সময় রয়েছে। রেল, ডাক, বেতার, তার প্রভৃতি বিভাগের কাজ চালানোর জন্য সে দেশের প্রমাণ সময় ব্যবহার করা হয়। গ্রীনিচের (০ ডিগ্রি দ্রাঘিমার) স্থানীয় সময়কে সমগ্র পৃথিবীর প্রমাণ সময় হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রমাণ সময় গ্রীনিচের সময় অপেক্ষা ৬ ঘণ্টা অগ্রবর্তী। ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমারেখা বাংলাদেশের প্রায় মধ্যভাগে অবস্থিত। এ কারণে এ দ্রাঘিমার স্থানীয় সময়কে বাংলাদেশের প্রমাণ সময় ধরে কাজ করা হয়।

Views All Time
2
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

৪টি মন্তব্য

  1. সুন্দর, চমৎকার, জ্ঞানী পোষ্ট। Coffee শুকরিয়া। Rose Rose Rose

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে