মহান আল্লাহপাক ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাদের মুহব্বত তালাশ কারী নারী পুরুষদের উদ্দেশ্যেঃ-


খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- “তারা (মহিলারা) তোমাদের আবরণ এবং তোমরা (পুরুষেরা) তাদের আবরণ। (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ-১৮৭) অর্থাৎ পুরুষ ও মহিলা মিলে একটি পরিবার, একে অপরের আবরণ এবং সম্পূরক। সুবহানাল্লাহ! কাজেই মহান আল্লাহ পাক তিনি ও উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা উভয় উভয়ের ক্ষেত্রে যে বিধান বা নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন তা পরিপূর্ণভাবে পালন করা বা পালনের চেষ্টা করা তাদের উভয়ের জন্য ফরয-ওয়াজিব, পাশাপাশি মূল শান্তি ও কল্যাণের অন্যতম কারণ।
মূলত, আমরা দেখতে পাই সমাজের মধ্যে আহল ও আহলিয়া (স্বামী-স্ত্রী) তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ, বিবাদ অশান্তির যে মূল কারণ তা হলো সম্মানিত শরীয়ত মুতাবিক পরস্পর পরস্পরের হক্ব আদায় না করা। এই ক্ষেত্রে দেখা যায় নারীদের চেয়ে পুরুষেরা বেশি উদাসীন। যার কারণে কলহ, বিবাদ হতে হতে এক পর্যায়ে তালাক তথা বিচ্ছেদের রূপধারণ করে থাকে। নাউযুবিল্লাহ! সুতরাং এই ক্ষেত্রে আহল ও আহলিয়া উভয়কে মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টির লক্ষ্যে তথা সংসার সুখ সমৃদ্ধ হাছিলের লক্ষ্যে পরস্পর পরস্পরের প্রতি সচেতন হওয়া। কেননা একজন আহলিয়ার উপর যেমন আহলের হক্ব রয়েছে, অনুরূপভাবে আহলের উপরও আহলিয়ার সমান হক্ব রয়ে গেছে। তাই যে আহল সম্মানিত শরীয়ত মুতাবিক আহলিয়ার হক্ব আদায় করবে না সে জাহান্নামী হবে। নাউযুবিল্লাহ!
আহলিয়ার প্রতি সৎব্যবহার করা, সদাচরণ করা সমস্ত মুসলমান পুরুষদের জন্য ফরয-ওয়াজিব। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- “পূর্ণ ঈমানদার সেই ব্যক্তি, যার চরিত্র সবচেয়ে সুন্দর, আর তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে তার আহলিয়ার কাছে উত্তম।” (তিরমিযী শরীফ)
অন্যত্র ইরশাদ মুবারক হয়েছে- “আহলকে সন্তুষ্ট রেখে যে আহলিয়া মৃত্যুবরণ করবে, সে জান্নাতে যাবে।” (ইবনে মাজাহ, তিরমিযী শরীফ)
অতএব, মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টির জন্য উভয় উভয়ের জন্য ভালো হওয়া, উভয়কে উভয়ের হক্ব আদায় করা তথা উভয় উভয়কে মুহব্বত করা বাঞ্ছনীয়। কিন্তু বেশির ভাগ পুরুষেরা মনে করে থাকে আহলিয়াকে খাওয়াচ্ছে, পরাচ্ছে, প্রয়োজনীয় সামগ্রী যা কিছু প্রয়োজন তা দেয়া হচ্ছে, তাদের আর কি বা প্রয়োজন থাকতে পারে? এটা সম্পূর্ণ তাদের ভুল ধারণা, আহলিয়াকে ভরণ-পোষণ দিলেই তার হক্ব আদায় হয় না। বরং ভরণ-পোষণের পাশাপাশি সৎব্যবহার, মুহব্বত, ভালোবাসা, পাশাপাশি অন্যান্য আনুসাঙ্গিক বিষয়ে সহযোগিতা করাও দায়িত্ব-কর্তব্য।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- তোমরা আমার কাছ থেকে মহিলাদের (স্ত্রী) সাথে সদ্ব্যবহার করার শিক্ষা গ্রহণ করো। এছাড়া আমরা জানি- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিতা পূত-পবিত্রা হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে বেমেছাল মুহব্বত মুবারক করতেন। বর্ণিত রয়েছে- উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি যে পাত্র মুবারকের যে স্থানে ঠোট মুবারক লাগিয়ে পানি মুবারক পান করতেন, ঠিক একই পাত্র মুবারকের একই স্থান মুবারকে ঠোট মুবারক লাগিয়ে তিনি পানি মুবারক পান করতেন। সুবহানাল্লাহ!
তাই যে স্বামী বা স্ত্রী মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের হাক্বীক্বী সন্তুষ্টি মুবারক তালাশ করবেন, তারা অবশ্যই অন্যান্য সম্মানিত শরীয়ত উনাদের আদেশ মুবারক মানার পাশাপাশি স্বামী তার স্ত্রীর হক্ব সম্পর্কে সদাচরণ সম্পর্কে সচেতন হবেন এবং তা যথাযথ পালনে আপ্রাণ চেষ্টা করবেন। কেননা এতে মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি মুবারক নিহিত রয়েছে।
এছাড়া যেটা সবার জানা রয়েছে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের সমন্বয়ে একটি সংসার তথা একটি দাম্পত্য জীবন। আর এই সংসারের সুখ-দুঃখ নির্ভর করে উভয়ের উপর ভিত্তি করে।
তাই এই ক্ষেত্রে উভয়কে সম্মানিত শরীয়ত অনুযায়ী পরস্পর পরস্পরের প্রতি সচেতন হতে হবে। একজন সচেতন, অন্যজন ইচ্ছামতো চললো, তাহলে সেই সংসারে ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকবে। স্বামী যেমন স্ত্রী তার মনের মতো হওয়া কামনা করে, যেমন- সেবা শশ্রƒষার দিকে হোক মুহব্বতের দিকে হোক অথবা আল্লাহওয়ালী হওয়ার ক্ষেত্রে হোক; ঠিক তেমনি একজন স্ত্রীও কামনা করে তার স্বামী যেন এমন হোক, যেমন- সুন্দর আচার, আচরণ বিশিষ্ট, স্ত্রীর প্রতি সচেতনতা ও মুহব্বতকারী, আল্লাহওয়ালা ইত্যাদি।
মূলত, একজন পুরুষ ও একজন নারী যদি উল্লেখিত বিষয়ে সচেতন হয় অথবা লক্ষ্য রাখে, তবে তাদের পক্ষে মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি মুবারক অর্জনপূর্বক সুখীসমৃদ্ধ জীবনযাপন করা সম্ভব হবে। ইনশাআল্লাহ!
১. মহান আল্লাহ পাক তিনি একজন আহলিয়া(স্ত্রী) দিয়েছেন, সেজন্য আহাল বা স্বামীকে শুকরিয়া করা উচিত। অনুরূপ মহিলা বা আহলিয়ার ক্ষেত্রেও তা করা উচিত।
২. আহাল বাইরে থেকে ঘরে প্রবেশ করেই আহলিয়াকে সালাম দিবে এবং বাইরে থেকে কোনো কিছু এনে থাকলে হাসি মুখে তা আহলিয়াকে তুলে দিবেন আহলিয়া ও আহালকে স্বাগতম জানানোর জন্য এগিয়ে যাবে এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিজের হাতে তুলে নেয়ার চেষ্টা করবে।
৩. বেশিরভাগ আহালদের ক্ষেত্রে দেখা যায়, আহালরা চায় আহলিয়ারাই আহালদের খোঁজ-খবর রাখবে তাদের খিদমত ও সেবায় নিয়োজিত থাকবে। কারণ তারা স্ত্রী এবং এটাই তাদের কর্তব্য। মূলত, আহালদের ও উচিত আহালিয়াদের খোঁজ খবর নেয়া, তাদের খিদমত করা, তাদের ভালো-মন্দ খবর নেয়া। তাদের খিদমত করার মতো সামর্থ্য আছে কিনা? তা দেখা।
৪. আহালদের উচিত সময় ও সুযোগ বুঝে আহলিয়ার সাথে মুহব্বত ও ভালোবাসা মিশ্রিত কথা বার্তা বলা। আহলিয়ার ভালো গুনাবলীর কথাগুলো উল্লেখ করা। আহলিয়ার জন্যও অনুরূপ করা।
৫. সংসার পরিচালনা করার ক্ষেত্রে দেখা যায় আহলিয়ার (স্ত্রীর) অবদানের পরিশ্রমের শেষ থাকে না। যেমন- সন্তানদের লালন-পালন, পড়া-শুনা দেখা শুনা করা, রান্না-বান্না করা, ঘর দোয়ার গুছানো ইত্যাদি। যার করণে তুলনামূলকভাবে আহলিয়াদের কষ্টটাও বেশি হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে আহালদের উচিত যদি একান্ত ব্যস্ততা নাই থাকে, তাহলে আহালিয়াকে সাধ্য অনুযায়ী সাহায্য-সহযোগিতা করা। যেমন আমাদের প্রাণের আক্বা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অনেক সময় হুজরা শরীফ ঝাড়– মুবারক দিতেন। সুবহানাল্লাহ!
৬. আহলিয়া( স্ত্রী) যদি কোনো নেককাজ করতে চায়, সে ক্ষেত্রে তাকে সর্বপ্রকার সহযোগিতা করার কোশেশ করা এবং উৎসাহ দেয়া। আর আহলিয়ার ও উচিত সেক্ষেত্রে আহালকে সহযোগিতা করা, উৎসাহ দেয়া।
৭. অনেক আহালরা মনে করে থাকে আহালিয়াদের যা প্রয়োজন সবই দেয়া হচ্ছে, তাদের অতিরিক্ত টাকা-পয়সার কি দরকার? এটা মূলত ভুল ধারণা। আহালিয়াদেরও ব্যক্তিগত অনেক প্রয়োজন থাকে যা হয়ত আহালকে বলতে দ্বিধাবোধ করে, যেমন আহালিয়ার বাপের বাড়ির কাউকে কিছু হাদিয়া দেয়া, নেক কাজে ব্যয় করা ইত্যাদি।
তাই আহালদের উচিত নির্দিষ্ট একটা হাত খরচ আহালিয়াদের হাতে দেয়া। আর এটা সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্তও বটে। কেননা যিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে এক বৎসরের হাদিয়া মুবারক এক সঙ্গে দিয়ে দিতেন। সুবহানাল্লাহ!
৮. আহালদের উচিত আহলিয়াদের পোশাক-পরিচ্ছদ, অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় সামগ্রীর প্রতি খেয়াল রাখা তথা ব্যবস্থা করে দেয়া। কেননা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন সুন্দর আহলিয়া মানেই তার আহাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর।
৯. এমন অনেক আহাল রয়েছে- যারা বাইরে ভালো খাবার খেয়ে থাকে এবং বাসায় এসে আালিয়াকে বলে- আজ এমন এমন খেয়েছি। মূলত, আহালদের উচিত আহলিয়ার জন্য নিজে যা খাবে তা আনার চেষ্টা করা।
১০. অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, আহাল যা খেতে পছন্দ করেন, তাই বাজার থেকে নিয়ে আসেন। আহলিয়ার কোনো পছন্দ আছে কিনা তা তেমন গুরুত্ব দেয় না। তাই আহালদের উচিত আহলিয়ার পছন্দের কথা জিজ্ঞেস করে উভয় দিক থেকে মিলিয়ে বাজার-খরচ ফল-ফলাদি কেনা-কাটা করা। এতে দু’জনেরই তুষ্ট থাকা হবে। আর আহলিয়ার উচিত আহালদের থেকে জিজ্ঞেস করে রান্না-বান্না করা।
১১. আহালিয়া ভালো কোনো কথা বা পরামর্শ দিলে, আহালের উচিত- তা গুরুত্ব দেয়া। অনেক আহাল এমন রয়েছে যারা আহালিয়ার কোনো কথা-বার্তা বা পরামর্শকে গুরুত্ব দেয় না। এবং তারা এমনও বলে- মেয়ে মানুষ এত কি বুঝবা? এতে আহালিয়ার মন খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়।
১২. আহালদের উচিত- আহলিয়াকে সন্তুষ্ট করার জন্য নিজেকে গোছ-গাছ রাখা, হাস্যউজ্জ্বল চেহেরায় আহলিয়ার সামনে যাওয়া। আহলিয়ার সাথে কর্কশ ভাষায় কথা না বলা। আহালিয়ার কোন দোষত্রুটি দেখলে সংশোধন করার জন্য আহলিয়াকে তা জানিয়ে দেয়া। অনুরূপভাবে আহলিয়ারও তার আহালের উপর কথা না বলা। দোষত্রুটি দেখলে সংশোধনের জন্য তা জানিয়ে দেয়া।
১৩. সুযোগ-সুবিধা বুঝে আহলিয়ার উচিত আহালকে নিজহাতে লোকমা তুলে খাওয়ানো এবং মাঝে মাঝে পরস্পর পরস্পরকে হাদিয়া করা।
১৪. আহাল-আহলিয়ার মধ্যে যদি কোনো কারণে মনমালিন্য দেখা দেয়, বা ফিতনা-ফাসাদ হয় সেক্ষেত্রে আহলিয়ার উচিত আহাল রেগে গেলে আহলিয়াকে চুপ থাকা। আর আহলিয়া যদি অভিমান করে আহালদের উচিত আহালিয়ার রাগ ভাঙ্গানো। যদি কেউ অন্যায়ভাবে রেগে যায়, তাহলে অন্যসময়ে প্রেক্ষাপট বুঝে সমঝোতার ব্যাবস্থা করা।
অন্যাথায়, একসময় এই ফিতনা গিয়ে তালাকে পরিনত হতে পারে, মনে রাখতে হবে আল্লাহপাক উনার কাছে যায়িয বিষয়ের মধ্যে তালাক হচ্ছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট কাজ৤নাউযুবিল্লাহ!
এছাড়া মুসলমান স্বামী স্ত্রীদের উচিৎ সুন্নতী কায়দায় সংসার পরিচালনা করার কোশেশ করা৤সেই ঘরে দেখা যাবে অবধারিত শান্তি রহমত বরকত ছাকিনা বর্ষিত হচ্ছে৤
প্রকৃত পক্ষে স্বামী স্ত্রী উভয়ের উচিৎ সংসারের শান্তির জন্য মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি তালাশ পুর্বক একজন অন্যজনকে বুঝে চলা, একজন আরেকজনের জন্য ত্যাগ স্বীকার করা৤
কাজেই মহান আল্লাহপাক আমাদের কে সেই শান্তি পুর্ন জীবন যাপন করার তৌফিক দান করুন৤ আমীন!

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে