মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ মুবারক করেন, ‘আমি তোমাদের জন্য ব্যবসাকে হালাল করেছি, আর রিবা বা সুদকে হারাম করেছি।’


নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি লা’নত বা অভিসম্পাত করেন- যে সুদ খায় তার প্রতি, যে সুদ দেয় তার প্রতি, যে সুদের দলীল লিখে তার প্রতি এবং যে দুই জন সুদের সাক্ষী হয় তাদের প্রতি। তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, গুনাহগার সাব্যস্ত হওয়ার ব্যাপারে তারা সকলেই সমান। নাউযুবিল্লাহ!
 
সম্মানিত শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- রিবা বা সুদ দেয়া-নেয়া ও খাওয়া সম্পূর্ণরূপে হারাম ও কঠিন কবীরা গুনাহ।
 
রিবা বা সুদখোরের কোনো ইবাদত মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট কবুল হয় না।
 
তাই প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ-মহিলা সকলের জন্য ফরয হচ্ছে- রিবা বা সুদ দেয়া-নেয়া ও খাওয়া অর্থাৎ সুদ সংশ্লিষ্ট সমস্ত বিষয় থেকে দূরে থাকা।
 
আর ৯৮ ভাগ মুসলমান ও রাষ্ট্রদ্বীন ইসলাম উনার দেশের সরকারের জন্যও ফরয হচ্ছে- ব্যাংক, বীমা, অফিস-আদালতসহ সর্বক্ষেত্রে সুদভিত্তিক লেনদেন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেয়া।
 
আমাদের দেশে ‘ইসলামী’ অনৈসলামী’ যত ব্যাংক, বীমা, ইনস্যুরেন্স কোম্পানি, মাল্টিপারপাস ব্যাংক, সমবায় সমিতি, এনজিও রয়েছে- তারা সকলেই সুদভিত্তিক লেনদেন করে থাকে। নাউযুবিল্লাহ! অথচ মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে স্পষ্টভাবে সুদকে হারাম ঘোষণা করেছেন। যেমন এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আমি তোমাদের জন্য ব্যবসাকে হালাল করেছি, আর রিবা বা সুদকে হারাম করেছি।”
 
ছহীহ ‘মুসলিম শরীফ’ “হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি লা’নত বা অভিসম্পাত করেন- যে সুদ খায় তার প্রতি, যে সুদ দেয় তার প্রতি, যে সুদের দলীল লিখে তার প্রতি এবং যে দুই জন সুদের সাক্ষী হয় তাদের প্রতি। তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, গুনাহগার সাব্যস্ত হওয়ার ব্যাপারে তারা সকলেই সমান।” নাউযুবিল্লাহ!
 
মসনদে আহমদ শরীফ, দারে কুতনী শরীফ, বায়হাক্ব শরীফ বণীতো “হযরত আবদুল্লাহ ইবনে হানযালা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি জেনে-শুনে এক দিরহাম সুদ খায়, তার গুনাহ ছত্রিশবার ব্যাভিচারের চেয়েও বেশি।” নাউযুবিল্লাহ!
 
‘মিশকাত শরীফ’ উনার বরাত দিয়ে বলেন, “হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, সুদের গুনাহ সত্তর ভাগের ক্ষুদ্রতম ভাগ এই পরিমাণ যে, কোনো ব্যক্তি স্বীয় মাতাকে বিবাহ করে।” নাউযুবিল্লাহ!
 
আহমদ শরীফ ও ইবনে মাযাহ শরীফ, “হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, মি’রাজের রাতে আমি এমন এক শ্রেণীর লোকের নিকট পৌঁছিলাম, যাহাদের পেট ঘরের ন্যায় বড় এবং উহার ভিতরে বহু সাপ রহিয়াছে, যাহা বাহির হতে দেখা যায়। আমি হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম উনাকে জিজ্ঞাসা করলাম- হে জিবরীল! এরা কোন্ লোক? তিনি বললেন, এরা সুদখোর।”
 
মূল কথা হলো- সম্মানিত শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- রিবা বা সুদ দেয়া-নেয়া ও খাওয়া সম্পূর্ণরূপে হারাম ও কঠিন কবীরা গুনাহ। রিবা বা সুদখোরের কোনো ইবাদত মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট কবুল হয় না। তাই প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ-মহিলা সকলের জন্য ফরয হচ্ছে- রিবা বা সুদ দেয়া-নেয়া ও খাওয়া অর্থাৎ সুদ সংশ্লিষ্ট সমস্ত বিষয় থেকে দূরে থাকা। আর ৯৮ ভাগ মুসলমান ও রাষ্ট্রদ্বীন ইসলাম উনার দেশের সরকারে জন্যও ফরয হচ্ছে- ব্যাংক, বীমা, অফিস-আদালতসহ সকল ক্ষেত্রে সুদভিত্তিক লেনদেন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেয়া।
Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে