মহান আল্লাহ পাক উনার অনুগ্রহ (৪)


বয়স যাদের ৪৫-৫০ বা তার বেশি তারা তাদের ছোটবেলার কথা মনে করে দেখুন- ঘরে ঘরে মুন্সী মৌলভী ইমাম খতীব হুযূর ডেকে পবিত্র মীলাদ শরীফ মাহফিলের আয়োজন করা হতো। পিতা-মাতা, দাদা-দাদীদের স্মরণে; নতুন ধান, নতুন ফসল ঘরে তোলার সময়, চারা রোপনের সময়, রমাদ্বান শরীফ-এ, দোকান বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উদ্বোধন, জন্মদিন পালন ইত্যাদি নানা উপলক্ষে ঘরে ঘরে পবিত্র মীলাদ শরীফ মাহফিলের ধুম লেগেই থাকতো। আর এজন্য তাদের শান্তিরও অভাব ছিল না। তাদের অন্তর যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার ভয়ে প্রকম্পিত হতো এবং তাদের চক্ষুদ্বয় মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহব্বতে অশ্রুসজল হয়ে উঠতো। মনের অজান্তে কোনো গুনাহ করে ফেললে তাদেরকে অনেক আফসোস করতে দেখেছি। এই পরিবেশে দুষ্ট ভাইরাসের মতো কোত্থেকে একদল ওহাবী, খারিজী, লা-মাযহাবী, তাবলীগী নামক বদ-আক্বীদা, বাতিল ফিরক্বার লোক এসে জুটলো। তারা পবিত্র মীলাদ শরীফ উনার বিরুদ্ধে ফতওয়া দিলো, সাধারণ সহজ-সরল লোকগুলোকে বদ-আক্বীদা শিখিয়ে দিলো। মুসলমানদের ঘরবাড়ি থেকে পবিত্র মীলাদ শরীফ মাহফিলের আয়োজন কমে গেল। তার পরিবর্তে মুসলমানদের ঘরে টেলিভিশন ঢুকলো; মুসলমানগণ নাটক, হাস্যরস-কৌতুক, গান-বাজনা, খেলাধুলায় মগ্ন হয়ে গেল; পর্দার মাসয়ালা ভুলে গেল, সুদ-ঘুষ ইত্যাদি বিভিন্ন নামে তাদের কাছে জায়িয হয়ে গেলো, তন্ত্র-মন্ত্রের রাজনীতিতে আত্মনিয়োগ করলো। মুসলমানদের অন্তর গুনাহের ভয়ে এখন আর আড়ষ্ট থাকে না। আলিম নামধারীরাও এসবের বিরুদ্ধে বলে না, বরং তারাও এসবের মধ্যে মশগুল হয়ে গেল। নাউযুবিল্লাহ! এই অবস্থায় মুসলমানদেরকে হিদায়েতের কথা কে শোনাবেন? ঘরে ঘরে পবিত্র মীলাদ শরীফ মাহফিলের আয়োজন করার কথা কে বলবেন? টিভি-চ্যানেল দেখা, বেপর্দা, গান-বাজনা, খেলাধুলা, সুদ-ঘুষ ইত্যাদি ছেড়ে দিয়ে খালিছ আল্লাওয়ালা হওয়ার জন্য কে বলবেন? দুনিয়াসুদ্ধ সব মুসলমানদের এই যখন করুণ অবস্থা, তখন রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি অনন্তকালব্যাপী পবিত্র সাইয়্যিদুল আ‘ইয়াদ শরীফ মাহফিল জারি করেছেন। প্রতিদিনই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের আলোচনা, ছানা-ছিফত করা হয়, পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ করা হয়। টিভি-চ্যানেল দেখা, বেপর্দা, গান-বাজনা, খেলাধুলা, সুদ-ঘুষ ইত্যাদি ছেড়ে দিয়ে সবাইকে খালিছ আল্লাওয়ালা হওয়ার জন্য বলেন। উনার ছোহবত মুবারকে যারা গেছেন- ছোট, বড়, শিশু-যুবক-বৃদ্ধ, তারা সকলকেই তিনি পবিত্র মীলাদ শরীফ শিখিয়ে দিয়েছেন। আবারো ঘরে ঘরে সম্মানিত মীলাদ শরীফ চালু হয়ে গেল। সুবহানাল্লাহ! উনার ছোহবত মুবারকের ফযীলতে সকলের অন্তর মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের দিকে রুজু হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ! রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে এক বিরাট অনুগ্রহ। সুবহানাল্লাহ! মুসলমানগণ উনাদের জন্য এখন যা করা দরকার তা হলো রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার হাত মুবারকে বাইয়াত হয়ে, তওবা ইস্তিগফার করে, খেলাধুলা, গান-বাজনা, টিভি চ্যানেল দেখা, ছবি তোলা, বেপর্দা হওয়া ছেড়ে দিয়ে, সুদ-ঘুষ ছেড়ে দিয়ে, কাফির-বেদ্বীনদের সাথে বন্ধুত্ব ত্যাগ করে খালিছ আল্লাওয়ালা হয়ে যাবার কোশেশ করা। তাহলেই রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার সম্মানার্থে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা মুসলমানদের নিয়ামত আরো বৃদ্ধি করে দিয়ে সম্মানিত করবেন ইনশাআল্লাহ।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে