মহান আল্লাহ পাক উনার ও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি মুবারক উনার জন্য সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার নির্যাতন ভোগ


পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার প্রাথমিক অবস্থায় কেউ পবিত্র দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করলে উনারা যথাসম্ভব তা গোপন রাখার চেষ্টা করতেন। কাফিরদের পক্ষ হতে কোনো নির্যাতন পৌঁছে এই আশঙ্কায় স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও গোপন রাখার জন্য পরামর্শ দিতেন। মুসলমান উনাদের সংখ্যা যখন ঊনচল্লিশে দাঁড়ায়, তখন সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে¡ আকবর আলাইহিস সালাম তিনি প্রকাশ্যে পবিত্র দ্বীন ইসলাম প্রচার করার অনুমতি প্রার্থনা করেন। প্রথমে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অনুমতি দেননি। অবশ্য পরে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার একাধিকবার অনুরোধে সম্মত হন। নব দীক্ষিত সবাইকে নিয়ে পবিত্র কাবা গৃহে তিনি হাজির হলেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি দাওয়াতী খুতবা শুরু করেন। পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার উপর এটাই উনার প্রথম খুৎবা তথা ভাষণ। সেদিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চাচা সাইয়্যিদুনা হযরত হামজা আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তার তিন দিন পর সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনিও পবিত্র দ্বীন ইসলাম-এ দীক্ষিত হন। খুতবা তথা ভাষণ শুরু হতেই চতুর্দিক হতে কাফিররা মুসলমান উনাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো। পবিত্র মক্কা শরীফ নগরীতে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি যথেষ্ট প্রভাব প্রতিপত্তিশালী হওয়া সত্ত্বেও কাফিররা উনাকে এমন বেদম নির্যাতন করে যে, উনার চেহারা মুবারক, নাক মুবারক, কান মুবারক সবকিছু রক্তে রঞ্জিত হয়ে যায় এবং তিনি একদম বেহুঁশ হয়ে পড়েন।
এই খবর শুনে বনী তাঈমের লোকেরা এসে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনাকে নিয়ে গেলেন। কারো ধারণা ছিল না যে, তিনি আর বাঁচতে পারবেন। বনী তাঈম হারাম শরীফ উনার মধ্যে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করলো যে, এই দুর্ঘটনায় সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি যদি শহীদ হন, তবে আমরা এর প্রতিশোধ স্বরূপ ওত্বা ইব্নে রাবিয়াকে হত্যা করবো। যেহেতু তাকে মারধরের ব্যাপারে ওত্বার ভূমিকা ছিল সবচেয়ে বেশি। সন্ধ্যা পর্যন্ত সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি অচেতন অবস্থায় ছিলেন। সন্ধ্যার সময় উনার হুঁশ মুবারক হওয়ার পর সর্বপ্রথম উনার কথা এটাই ছিল যে, ‘আমার প্রিয় নবী, আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কি অবস্থায় আছেন?’ উপস্থিত লোকজন উনাকে ভর্ৎসনা করে বলতে লাগলো যে, ‘যাঁর জন্য আপনার এই করুণ অবস্থা এবং সারাদিন মৃত্যুর মুখে থেকে যখন জ্ঞানশক্তি আসলো তখন আবার সেই নবী উনার পবিত্র নাম।’ সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার মাতা উম্মুল খায়ের রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা কিছু খানা তৈরি করে খেতে বললেন, কিন্তু মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আশিক্ব সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার মুখে শুধু একই আওয়াজ, ‘আমার প্রিয় নবী উনার অবস্থা কি? উনি কেমন আছেন? তিনি কি ভালো আছেন?’ উনার মা বললেন, ‘বাবা আমি জানি না তিনি কি অবস্থায় আছেন?’ তিনি বললেন, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার ভগ্নী উম্মে জামীল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার নিকট গিয়ে জেনে আসুন।’ মা-ছেলের দুঃখ কষ্ট সহ্য করতে না পেরে উম্মে জামীল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার নিকট গিয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হালত জিজ্ঞাসা করলেন। উম্মে জামীল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি সাধারণ নিয়মানুসারে নিজের পবিত্র ঈমান উনাকে কঠোরভাবে গোপন রেখে বললেন, আমি কি জানি কে মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আর কে আবূ বকর! তবে আপনার ছেলের মারধরের কথা শুনে আমি বড় দুঃখিত হয়েছি। উনাকে দেখার জন্য আমাকে নিয়ে চলুন। উম্মুল খায়ের তিনি উনাকে নিয়ে আসলেন। তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার মর্মান্তিক অবস্থা দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন। কাফিররা উনাকে কিরূপ নির্যাতন করেছে? মহান আল্লাহ্ তায়ালা তিনি তাদেরকে এর শাস্তি প্রদান করুক।
আফযালুন নাস বাদাল আম্বিয়া সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, বলুন তো- আমার মাহবুব উনার অবস্থা কি? তিনি কেমন আছেন, উম্মে জামীল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার মায়ের দিকে ইশারা করে বললেন, আপনার মা শুনতে পারেন। আফযালুন নাস বাদাল আম্বিয়া সাইয়্যিদুনা হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, উনার বিষয় কোনো ভয় করবেন না। উম্মে জামীল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ভালো আছেন এবং হযরত আরকাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার ঘরে আছেন। আফযালুন নাস বাদাল আম্বিয়া সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে¡ আকবর আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, ‘মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! আমি ঐ পর্যন্ত কিছুই খাবো না, পানও করবো না, যেই পর্যন্ত নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাক্ষাৎ না হয়।’ কসম শুনে উম্মুল খায়ের রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি আরও ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। কেননা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাক্ষাতের পূর্বে তিনি কিছুই খাবেন না। বাধ্য হয়ে তিনি ব্যবস্থা করলেন, লোকে দেখে ফেলে নাকি এই ভয়ে রাত্রি গভীর হওয়ার অপেক্ষা করলেন। যখন লোক চলাচল বন্ধ হয়ে গেলো তখন তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনাকে নিয়ে হযরত আরকাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার ঘরে পৌঁছলেন।
প্রিয় নবীজী, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে দেখে সাইয়্যিদুনা হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম উনাকে জড়িয়ে ধরলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও উনাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলেন এবং সকল মুসলমান কাঁদতে লাগলেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, ‘ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! ইনি আমার সম্মানিতা মা। আমার মাকে পবিত্র ঈমান উনার দাওয়াত দিন এবং হিদায়াতের জন্য দোয়া করুন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র ঈমান উনার দাওয়াত দিলেন ও দোয়া করলেন সঙ্গে সঙ্গে তিনি পবিত্র ঈমান কবুল করে মুসলমান হলেন। সুবহানাল্লাহ!

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে