মহান আল্লাহ পাক উনার নেয়ামতের শেষ নাই।


মহান আল্লাহ পাক উনার নেয়ামতের অস্বীকার করতে পারবে কেউ??

 

এক একর জমি জুড়ে আম গাছ !
জেলার বালিয়াডাঙ্গি উপজেলার হরিণমারী সীমান্ত গ্রামে রয়েছে এক একর (তিন বিঘা) জমির ওপর এক বিরাট আম গাছ। ওই গাছটি যেন একটি আমের বাগান।
এ বছর এ গাছে প্রচুর মুকুল এসেছিল। কিন্তু ঝড়ে অনেক মুকুল ঝড়ে পড়ার পরও গাছের মালিক নূর ইসলাম এক লাখ ২০ হাজার টাকায় পাইকারের কাছে গাছটির আম বিক্রি করেছেন।
দেশে এখন আমের মৌসুম প্রায় শেষ হয়েছে। তবে ঠাকুরগাঁওয়ে এখন আমের ভরা মৌসুম। আর যে আমটির জন্য ঠাকুরগাঁও বিখ্যাত তার নাম সূর্যাপূরী। আমটির চমৎকার স্বাদ, সুমিষ্ট এবং ছোট ছোট আঁটি বিশিষ্ট। আমটির এই বৈশিষ্ট সকলকে অবাক করে দেয়, যেমন ওপরের আবরণে পচন ধরলেও ভেতরে আমটি সম্পূর্ণ ঠিক থাকে। ফলে সহজে যেন না পচে সে জন্য এ আমের আছে নিজস্ব একটা প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ।
কেবল একটা সূর্যাপুরী আমের গাছ রয়েছে এক একর জমি জুড়ে। প্রায় দু’শ’ বছরের ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে হরিণমারী সীমান্ত গ্রামে এই আম গাছটি দাঁড়িয়ে আছে। এই গাছটি চারদিকে ছড়িয়ে দিয়েছে বিস্তৃত শাখা-প্রশাখা উপ-প্রশাখাসহ এক সীমাহীন আবর্ত। প্রতিটি ডালের দৈর্ঘ্য ৪০ থেকে ৫০ হাত।
মাটিতে আসন গেড়ে বসে থাকা গাছটিকে দেখলে মনে হয় সারি সারি আম গাছ জড়াজড়ি করে দাঁড়িয়ে আছে। কখনও মনে হয়, গাঢ় সবুজ টিলায় সেজেছে হরিণমারীর প্রকৃতি। স্থানীয় বয়োঃবৃদ্ধ মানুষরা জানান, গাছটির ডাল-পালা আরও অনেক বেশি ছিল।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এর নির্বাচারে ডালপালা কেটে ফেলার পাশাপাশি ঝড়ে ভেঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কিছুটা কমেছে এর আয়তন। তবে আশপাশের দশ গ্রামের সবচাইতে প্রবীণ ব্যক্তিটিও গাছটির বয়সের সঠিক ঠিকুজি জানেন না।
কেউ বলছেন, দু’শ’ আবার কেউ বলছেন, আড়াইশ’ বছর। তবে এলাকার সবাই এ ব্যাপারে একমত যে, গাছটির বয়স কিছুতেই দু’শ বছরের কম নয়।
পৈত্রিক সূত্রে গাছের মালিক নূর ইসলাম বলেন, এ গাছটির কা–ডালপালা লতানো। এটাই এ গাছটির বিশেষত্ব। আর এটা জানতে পেরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের প্রাক্তন এক মহাপরিচালক পরীক্ষামূলকভাবে গাছটির ডাল কেটে কলম চারা তৈরি করে বিভিন্ন নার্সারিতে বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। গাছটি ঠিকভাবেই তার উত্তরাধিকার তৈরি করে চলেছে। তাই এ আম গাছটির পাশেই আরও কয়েকটি বড় আম গাছ বেড়ে উঠছে ঐতিহ্য রক্ষার প্রত্যয় নিয়ে।
এদিকে এ গাছটি অখ্যাত হরিণামারী গ্রামকে পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করেছে। দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা প্রতিদিনই ভিড় করছে এখানে। দর্শনার্থীদের বসার জায়গা করে দিয়েছে ঠাকুরগাঁও জেলা ও বালিয়াডাঙ্গি উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা সদর থেকে এই বিস্ময়কর আম গাছের এলাকা পর্যন্ত রাস্তাটি ইট বিছিয়ে সংস্কার করা হয়েছে। দাবি উঠেছে, রাস্তাটিকে সম্পূর্ণ পাকা করার।
স্থানীয় সমীরউদ্দিন কলেজের অধ্যক্ষ নৃতত্ত্ববিদ বেলাল রব্বানি আশা করছেন, এটা সারা বিশ্বের পরিবেশবাদী ও প্রকৃতি প্রেমিকদের নজর কাড়তে সক্ষম হবে।
জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শহীদুজ্জামান জানান, এখানে একটি পর্যটন কেন্দ্রের জন্য রেস্টহাউজ করার পরিকল্পনা করার পরিকল্পনা জেলা প্রশাসনের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে, যাতে দেশ-বিদেশের অভ্যাগতরা রাত্রিযাপন বা কয়েকঘণ্টার জন্য বিশ্রাম নিতে পারেন।


 

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+