মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, মহান আল্লাহ পাক উনার নিদর্শন সম্বলিত দিবসগুলিকে স্মরণ করিয়ে দিন সমস্ত কায়িনাতবাসীকে। নিশ্চয়ই এর মধ্যে ধৈর্যশীল ও শোকরগোজার বান্দা-বান্দী উনাদের জন্য ইবরত ও নছীহত রয়েছে।


আজ সুমহান ও বরকতময় ১৪ শাওওয়াল শরীফ।
 
নকশবন্দিয়া-মুজাদ্দিদিয়া তরীক্বা উনার ইমাম আফযালুল আউলিয়া হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এদিন পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন।
 
এ উপলক্ষে সকলের দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে- উনার পবিত্র সাওয়ানেহে উমরী মুবারক আলোচনা করার লক্ষ্যে মাহফিল করে এবং পবিত্র মীলাদ শরীফ, পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ করে সর্বাত্মক ঈদ বা খুশি প্রকাশ করা।
 
আর সরকারের জন্যও ফরয হচ্ছে- মাহফিলসমূহের সার্বিক আনজাম দেয়ার সাথে সাথে উনার পবিত্র জীবনী মুবারক শিশুশ্রেণী থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ শ্রেণী পর্যন্ত সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত করা এবং উক্ত দিবসে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা।
 
নকশবন্দিয়া-মুজাদ্দিদিয়া তরীক্বা উনার ইমাম আফযালুল আউলিয়া হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাস উনার ১৪ তারিখে পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন এবং পবিত্র ছফর মাস উনার পবিত্র ২৮ তারিখে পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। উনার সম্পর্কে আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
 
“হিজরী একাদশ শতাব্দীর আরম্ভকালে মহান আল্লাহ পাক তিনি এমন এক ব্যক্তিকে প্রেরণ করবেন, যিনি একটি বৃহৎ নূর মুবারক। উনার নাম হবে আমার নাম মুবারক উনার অনুরূপ। দুই অত্যাচারী বাদশাহর রাজত্বকালের মাঝে তিনি আবির্ভূত হবেন এবং উনার সুপারিশে অগণিত মানুষ বেহেশতে প্রবেশ করবেন।” সুবহানাল্লাহ!
 
আকবর সৃষ্ট ফিতনার চরমকালে ৯৭১ হিজরী সন উনার পবিত্র ১৪ শাওওয়াল শরীফ (ঈসায়ী ১৫৬৩ সাল) ইমামে রব্বানী হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের পাতিয়ালার সিরহিন্দ শরীফ-এ। মাত্র ৬ বছর বয়স মুবারক-এ তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ হিফয করেছিলেন।
 
অতঃপর কানপুরস্থ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে জগৎ বরেণ্য আলিমগণ উনাদের নিকট তিনি পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র তাফসীর শরীফ, পবিত্র ফিক্বাহ শরীফ, সাহিত্য, কাব্য, ইতিহাস, ভূগোল, দর্শন, বিজ্ঞানসহ ইসলামী ইলম উনার সকল শাখায় ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন। ইলমে তাছাউফে অর্থাৎ বেলায়েত ও কামালত উভয়দিক থেকে পূর্ণতা হাছিলের লক্ষে তিনি ওলীকুল শিরোমণি হযরত খাজা বাক্বী বিল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কাছে বাইয়াত গ্রহণ করেন। সুবহানাল্লাহ!
 
হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি নিজ জীবনে পবিত্র সুন্নত মুবারক উনার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন ঘটিয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করেন। মানুষের মাঝে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র সুন্নত অনুসরণের স্পৃহা জাগিয়ে তুলে তিনি অবলুপ্তপ্রায় সকল সুন্নত জিন্দা করেন। এ জন্য উনাকে বলা হয় ‘মুহইউস সুন্নাহ’। সুবহানাল্লাহ!
 
মহান আল্লাহ পাক উনার যমীনে সুন্নত জিন্দাকারী হাজার বছরের মহান মুজাদ্দিদ হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি উনার বড় সাধ, উনার কর্মময় জীবনাবসানের সর্বশেষ কাজটিও যেন পবিত্র সুন্নত মুবারক উনার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয়। তিনি আপনজন, খলীফা ও মুরীদগণ উনাদেরকে ডেকে বললেন, “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তেষট্টি বছর বয়স মুবারক-এ মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র দীদারে প্রত্যাবর্তন করেন।” অবশেষে সময় ঘনিয়ে এলো। আমল ও ক্ষমতা বহির্ভূত সুন্নত অনুসরণের এ অন্তিম বাসনাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি পূর্ণতা দিয়েছেন উনাকে তেষট্টি বছর বয়স মুবারক-এ হিজরী ১০৩৪ (ঈসায়ী ১৬২৪ সাল) পবিত্র ২৮শে ছফর শরীফ তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন)
 
মূলত উনার ফাযায়িল-ফযীলত, মর্যাদা-মর্তবা ও বুযূর্গী সম্পর্কিত ইলম না থাকার কারণে অর্থাৎ উনার পবিত্র সাওয়ানেহে উমরী মুবারক না জানার কারণে অনেকেই উনাকে যথাযথ মুহব্বত ও অনুসরণ করতে পারছে না। যার ফলে তারা মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের খাছ রেযামন্দি হাছিলে ব্যর্থ হচ্ছে।
 
তাই উনার সম্পর্কে জানা সকলের জন্যই ফরয। কেননা যে বিষয়টা আমল করা ফরয সে বিষয়ে ইলম অর্জন করাও ফরয। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হলো ৯৮ ভাগ মুসলমানের দেশ বাংলাদেশের মাদরাসা, স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে উনার সম্পর্কে কোনো আলোচনাই নেই। নাউযুবিল্লাহ! তাহলে মুসলমানগণ কী করে ওলীআল্লাহ হবে? তাই সরকারের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য অর্থাৎ ফরয হচ্ছে- শতকরা ৯৮ ভাগ মুসলমানের দেশ বাংলাদেশের সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সিলেবাস বা পাঠ্যপুস্তকে উনার জীবনী মুবারক অন্তর্ভুক্ত করা। মাসব্যাপী অনুষ্ঠান আয়োজন করা ও পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার দিবসে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা।
 
মূলকথা হলো- মহান আল্লাহ পাক উনার খালিছ ওলী হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমুতল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার দিন হচ্ছে পবিত্র ১৪ শাওওয়াল শরীফ। যিনি ছিলেন হাজার বছরের মুজাদ্দিদ ও সুন্নত জিন্দাকারী। পাশাপাশি দ্বীনে ইলাহীসহ সকল বাতিল মতবাদের মূলোৎপাটনকারী। তাই প্রত্যেকের দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে- মহান আল্লাহ পাক উনার খালিছ ওলী হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমুতল্লাহি আলাইহি উনার উনার পবিত্র সাওয়ানেহে উমরী মুবারক আলোচনা করার লক্ষ্যে মাহফিল করে এবং পবিত্র মীলাদ শরীফ,
 
পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ করে সর্বাত্মক ঈদ বা খুশি প্রকাশ করা এ উপলক্ষে সকলের দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে- উনার পবিত্র সাওয়ানেহে উমরী মুবারক আলোচনা করার লক্ষ্যে মাহফিল করে এবং পবিত্র মীলাদ শরীফ, পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ করে সর্বাত্মক ঈদ বা খুশি প্রকাশ করা। আর সরকারের জন্যও ফরয হচ্ছে- মাহফিলসমূহের সার্বিক আনজাম দেয়ার সাথে সাথে উনার পবিত্র জীবনী মুবারক শিশুশ্রেণী থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ শ্রেণী পর্যন্ত সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত করা এবং উক্ত দিবসে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা।
Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে