মহাপবিত্র নূরে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বপ্রথম সৃষ্টি সংক্রান্ত ছহীহ হাদীছ শরীফ বিষয়ে আপত্তির জবাব


এক শ্রেণীর লোক সমাজে অপপ্রচার করে ও বিভিন্ন বই পুস্তক লিখে প্রচার করে সর্বপ্রথম সম্মানিত নূরে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সৃষ্টি সংক্রান্ত হাদীছ শরীফ উনার কোন সনদ নেই। তারা “মুসনাদে আব্দুর রাজ্জাক শরীফ” কিতাবের নুসখায় হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত পবিত্র হাদীছ শরীফখানা অস্বীকার করে। নাঊযুবিল্লাহ! প্রায় ৩০-৩৫ জনের মত বিখ্যাত মুহাদ্দিছ ও ইমাম উনারা স্ব স্ব কিতাবে হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সেই বর্ণনা “মুসনাদে আব্দুর রাজ্জাক শরীফ” কিতাবে থাকার কথা উল্লেখ করার পরও বিদ্য়াতী ওহাবীরা তা মানতে নারাজ। বর্তমান সময়ে যখন “মুসনাদে আব্দুর রাজ্জাক শরীফ” কিতাবের সেই হাদীছ শরীফখানা ও অন্যান্য হাদীছ শরীফ যা “মুসনাদে আব্দুর রাজ্জাক শরীফ” কিতাবে ছিলো তা “আয-যুযউল মাফকূদ মিনাল যুযয়িল-আউয়াল মিনাল মুসান্নাফ আব্দির রাজ্জাক” নামক কিতাবে ছবি সহ প্রকাশিত হওয়ার পরও বিদ্য়াতী ওহাবীরা দাবি করেছে এই পা-ুলিপিটিই নাকি জাল। উক্ত কিতাবের বিরোধীতা করে তারা বাজারে কয়েক ডজন বইও ছেপে দিয়েছে। একচেটিয়াভাবে প্রচার করছে পবিত্র নূর মুবারক সংশ্লিষ্ট কোন হাদীছ শরীফ উনার কোন সনদই নেই। যা আছে তা মানুষের বানানো … ইত্যাদি। নাঊযুবিল্লাহ! এখানেই শেষ নয় তারা এও বলে থাকে নূর মুবারক বিষয়ক হাদীছ শরীফ ইমাম কাস্তালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার “আল মাওয়াহেবুল্লাদুন্নিয়া” কিতাবে আনার পূর্বে নূর সংশ্লিষ্ট কোন হাদীছ শরীফ কোন কিতাবে ছিলো না। নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ!
হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার বর্ণিত হাদীছ শরীফখানা হচ্ছে-
اَخْرَجَ عَبْدُ الرَّزَّاقِ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ بِسَنَدِهٖ عَنْ حَضْرَتْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ الْأَنْصَارِيِّ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُمَا قَالَ قُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِاَبِيْ أَنْتَ وَأُمِّيْ أَخْبِرْنِـيْ عَنْ أَوَّلِ شَيْءٍ خَلَقَهُ اللهُ قَبْلَ الْأَشْيَاءِ؟ قَالَ يَا جَابِرُ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ إِنَّ اللهَ خَلَقَ قَبْلَ الْأَشْيَاءِ نُوْرَ نَبِيِّكَ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ نُوْرِهٖ فَجَعَلَ ذٰلِكَ النُّوْرُ يَدُوْرُ بِالْقُدْرَةِ حَيْثُ شَاءَ اللهُ وَلَـمْ يَكُنْ فِيْ ذٰلِكَ الْوَقْتِ لَوْحٌ وَلَا قَلَمٌ وَلَا جَنَّةٌ وَلَا نَارٌ وَلَا مَلَكٌ وَلَا سَمَاءٌ وَلَا أَرْضٌ وَلَا شَمْسٌ وَلَا قَمَرٌ وَلَا إِنْسٌ وَلَا جِنٌّ
অর্থ: হযরত ইমাম আব্দুর রাজ্জাক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সনদ সহকারে বর্ণনা করেন যে, হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণনা। হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি আরয করলাম, ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাাম! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক, আমাকে জানিয়ে দিন যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি সর্বপ্রথম কোন জিনিস সৃষ্টি করেন? তিনি বললেন, হে হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! মহান আল্লাহ পাক তিনি সবকিছুর পূর্বে আপনার যিনি নবী নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত নূর মুবারক উনাকে সৃষ্টি করেন।’ অতঃপর সেই মহাসম্মানিত নূর মুবারক মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারকের মধ্যে অবস্থান করছিলেন। আর সে সময় লওহো, কলম, বেহেশ্ত, দোযখ, ফেরেশতা, আসমান, যমীন, চন্দ্র, সূর্য, মানুষ ও জিন কিছুই ছিল না। (আল মাওয়াহেবুল্লাদুন্নিয়া ১ম খন্ড ৯ পৃষ্ঠা)
উপরোক্ত হাদীছ শরীফখান হাফিজুল হাদীছ ইমাম কাস্তালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিখ্যাত কিতাব ‘আল মাওয়াহেবুল্লাদুন্নিয়া’ কিতাবে উল্লেখ করেন। ‘আল মাওয়াহেবুল্লাদুন্নিয়া’ কিতাব সর্ম্পকে বলা হয়েছে-
وَهُوَ كِتَابٌ جَلِيْلُ الْقَدْرِ كَثِيْرُ النَّفْعِ لَيْسَ لَه نَظِيْرٌ فِيْ بَابِهٖ
এটি উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন কিতাব, অত্যন্ত উপকারী, এর কোন উপমা নেই। (শরহে যারকানী ৬ পৃষ্ঠা, কাশফুয যুনুন)
আর কিতাবের লেখক হযরত ইমাম কাস্তালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি সর্ম্পকে বলা হয়েছে-
এই পবিত্র হাদীছ শরীফখানা হাফিজে হাদীছ বুখারী শরীফ উনার ব্যাখ্যাকারক ইমাম কাস্তালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি ছাড়াও পৃথিবীর বিখ্যাত বিখ্যাত হাফিজে হাদীছ ও মুহাদ্দিছ রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ উনাদের কিতাবে উল্লেখপূর্বক বলেছেন উক্ত রেওয়ায়েত ইমাম আব্দুর রজ্জাক রহমতুল্লাহি তিনি উনার “মুসনাদে” সনদ সহকারে বর্ণনা করেছেন। অথচ আজকের নব্য ওহাবীরা এটা মানতে নারাজ তাদের বক্তব্য হচ্ছে ইমাম আব্দুর রজ্জাক রহমতুল্লাহি তিনি নাকি এটা বর্ননা করেননি। তাদের বক্তব্য হচ্ছে হাফিজে হাদীছ ইমাম কাস্তালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি নাকি প্রথমে ভুল করে এ হাদীছ শরীফ ইমাম আব্দুর রাজ্জাক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সনদে বলে ফেলছেন। তর্কের খাতিরে যদি এ বক্তব্য মেনে নেয়া হয় তবে প্রশ্ন আসে আরেক জায়গায়। এই বিখ্যাত কিতাব ‘আল মাওয়াহিবুল্লাদুন্নিয়াহ’ এর শরাহ বা ব্যাখ্যা গ্রন্থ ‘শরহে মাওয়াহেব’ রচনা করেন আরেকজন বড় মুহাদ্দিছ ও হাফিজে হাদীছ হযরত ইমাম যারকানী রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি প্রতি শব্দ ধরে ধরে ব্যাখ্যা করেছেন। ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনিও ‘শরহে মাওয়াহেব’ কিতাব যা দারু কুতুব আল ইলমিয়া থেকে প্রকাশিত এর ৮৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন ইমাম আব্দুর রজ্জাক রহমতুল্লাহি তিনি উনার “মুসনাদে” সনদ সহকারে বর্ণনা করেছেন। যদি এটা ইমাম কাস্তালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ভুল হতো তাহলে সেটা ইমাম যারকানী রহমতুল্লাহি অবশ্যই প্রতিবাদ করতেন। অথচ তিনি তা করেন নাই বরং বিষয়টা কিতাবে গ্রহণ করে মেনে নিয়েছেন। এরকম আরো ৩০-৩৫ জন মুহাদ্দিছ উনারা প্রত্যেকেই ইমাম আব্দুর রজ্জাক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মহাসম্মানিত নূর মুবারক উনার হাদীছ শরীফ খানা উনার “মুসনাদে” সনদ সহকারে বর্ণনা করেছেন এই মতই প্রকাশ করেছেন। বিখ্যাত মুহাদ্দিছ এবং হাদীছ শরীফ বিশারদ হযরত ইবনে হাজার হায়তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ৫ খানা কিতাবে এ পবিত্র হাদীছ শরীফ উল্লেখপূর্বক বলেছেন ইমাম আব্দুর রাজ্জাক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার “মুসনাদে” সনদ সহকারে বর্ণনা করেছেন। তন্মধ্যে দারু কুতুব আল ইলমিয়া থেকে প্রকাশিত ‘আশরাফুল ওসাইল’ ৩৬ পৃষ্ঠা, দারুল মিনহাজ বৈরুত লেবানন থেকে প্রকাশিত ‘আল মিনায়ুল মাক্কীয়া ফি শারহীল হামজিয়া’ কিতাবের ৯৩ পৃষ্ঠা, দারু ইহইয়া আত তুরাছ আল আরাবী বৈরুত লেবানন থেকে প্রকাশিত ‘আল ফতওয়ায়ে হাদিছিয়্যাহ’ কিতাবের ৮৫ পৃষ্ঠায় তা উল্লেখ আছে। বিখ্যাত আলেম ও মুহাদ্দিছ হযরত আব্দুল কাদির ইবনে শায়েখ হুসাইনী ইয়ামেনী রহমতুল্লাহি আলাইহি (জন্ম: ৯৭৮, ওফাত ১০৩৮ হিজরী) উনার “আন নুরুস সাফির আন আখবারি কারনীল আশির” কিতাব উনার ২২ পৃষ্ঠা যা দারুছ ছদর, বৈরুত লেবানন থেকে প্রকাশিত সেখানেও ইমাম হযরত আব্দুর রজ্জাক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মুছান্নাফের বরাতে হাদীছ শরীফখানা উল্লেখ করেছেন। বিখ্যাত হাদীছ শরীফ বিশারদ হযরত মুল্লা আলী কারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার “আল মাওয়ারিদুর রাবী” কিতাবের ২২ পৃষ্ঠায় ইমাম আব্দুর রজ্জাক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মুছান্নাফের বরাতে হাদীছ শরীফখানা উল্লেখ করেছেন। এছাড়া মুফতীয়ে বাগদাদ হযরত ইমাম আলুসী বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার তাফসীরে রুহুল মায়ানীতে ১৭ খন্ড ১০৫ পৃষ্ঠায় এই হাদীছ শরীফখানা এনেছেন। এ উপমহাদেশে বিখ্যাত আলেম হাফিজুল হাদীছ হযরত রুহুল আমীন বশিরহাটী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার “মীলাদে মুস্তফা” কিতাবের ৯ পৃষ্ঠায়, বিখ্যাত আলেম উছূলে হাদীছের কিতাব ‘মিযানুল আখবারের’ মুছান্নিফ হযরত আমিমুল এহসান মুজাদ্দেদী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ‘সিরাজুমমুনীরা’ কিতাবে ৪৩ পৃষ্ঠায়, সিরাতে হলবীয়া ১/৩০, মাতালেউল মাসাররাত ২৬৫ পৃষ্ঠা, হাদ্বীকায়ে নদীয়া ২/৩৭৫, তারীখুল খমীস ১/২০, দুররুল মুনাজ্জাম ৩২ পৃষ্ঠা, কাশফুল খফা ১/৩১১, নুজহাতুল মাজালীস ১ খন্ড, নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ৪৭ পৃষ্ঠা, মজমুয়ায়ে ফতোয়া লখনবী ২/২৬০ সহ অসংখ্য কিতাবে ইমাম আব্দুর রজ্জাক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মুছান্নাফের বরাতে হাদীছ শরীফখানা দলীল হিসাবে উল্লেখ করেছেন। এই বক্তব্যের প্রতিবাদও কেউ করেন নাই, এর বিরুদ্ধে কেউ কলমও ধরেন নাই নব্য (২০/৩০ বছর ধরে) ওহাবীরা ছাড়া।

Views All Time
2
Views Today
3
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে