মহাপবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনার গুরুত্ব


হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম এবং হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের এত শান-মান, মর্যাদা, ফযীলত মুবারক কেন? কারণ উনারা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আহাল-ইয়াল উনাদের অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ! হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের এত ফযীলত মুবারক কেন? কারণ উনারা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সরাসরি ছোহবত মুবারক এবং রেযামন্দী-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করেছেন। সুবহানাল্লাহ! পবিত্র মদীনা শরীফ উনার এত ফযীলত মুবারক কেন? কারণ পবিত্র মদীনা শরীফ উনার মধ্যে অবস্থান মুবারক করছেন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! পবিত্র রবীউল আউয়াল শরীফ মাস শ্রেষ্ঠতম মাস কেন? কারণ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি রবীউল আউয়াল শরীফ মাসে পবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন। ইছনাইনিল আযীম শরীফ বা সোমবার শরীফ সম্মানিত বার কেন? কারণ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইছনাইনিল আযীম শরীফ বা সোমবার শরীফ-এ বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন । সুবেহ সাদিক এত প্রশান্তিময় কেন? কারণ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সুবেহ সাদিকের সময় বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন । পবিত্র সুন্নত মুবারক উনার এত ফযীলত কেন? কারণ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যা আমল করেছেন তাই পবিত্র সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভূক্ত। সুবহানাল্লাহ! মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত হলো কেন? কারণ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বাশারী সুরত মুবারক-এ দুনিয়াতে তাশরীফ মুবারক নিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! পবিত্র রওযা শরীফ উনার মাটি মুবারক উনার এত মর্যাদা মুবারক কেন? কারণ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জিসিম মুবারক উনার সংস্পর্শে এসেছে। সুবহানাল্লাহ! স্বর্ণ এত মূল্যবান কেন? কারণ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সিনা মুবারক চাক করার সময় স্বর্ণের তৈরী পাত্র উনার স্পর্শ মুবারক-এ আনা হয়েছিল। সুবহানাল্লাহ! জমজম কূপ উনার পানির এত ফযীলত কেন? কারণ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সিনা মুবারক চাক করার সময় জমজম উনার পানিকে পবিত্র থেকেও পবিত্রতম ক্বলব মুবারক উনার সংস্পর্শ মুবারক-এ আনা হয়েছিল। সুবহানাল্লাহ! আরবী ভাষা সম্মানিত ও মযার্দাপূর্ণ ভাষা কেন? কারণ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরবী ভাষায় কথা মুবারক বলতেন। সুবহানাল্লাহ! হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল হলেন কেন? কারণ তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক ছোহবতে চব্বিশ হাজার বার এসেছিলেন। সুবহানাল্লাহ! এভাবে প্রত্যেক ব্যক্তি, গোষ্ঠী, স্থান, কাল, পাত্র, বিষয়, বস্তু ইত্যাদি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছোহবত মুবারক, সংস্পর্শ মুবারক-এ থাকার ফলে মর্যাদাবান, ফযীলতপূর্ণ হয়ে গেছে। সুবহানাল্লাহ! এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “নিশ্চয়ই আমি আপনাকে কাউছার অর্থাৎ সমস্ত ভালাই হাদিয়া মুবারক করেছি।” (পবিত্র সূরা কাউছার, পবিত্র আয়াত শরীফ-১) অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সংস্পর্শে মুবারক-এ যে সকল ব্যক্তি, বিষয়, স্থান, কাল, পাত্র ইত্যাদি এসেছে এবং উনার সঙ্গে নিসবত প্রাপ্ত হয়েছে তায়াাল্লুক যুক্ত হয়েছে; ওই সমস্ত বিষয় তথা বস্তুগুলো কায়িনাতের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম সম্মানিত বেমেছাল ফযীলতপ্রাপ্ত। তাহলে এখন ফিকির করতে হবে- নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কত শান-মান, মর্যাদা, ফযীলত মুবারক। আর যেই দিন তিনি দুনিয়াতে তাশরীফ মুবারক নিয়েছেন সেই ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ উনার কত ফযীলত। অবশ্যই ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ কুল-কায়িনাতের সর্বশ্রেষ্ঠ ঈদ অর্থাৎ সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। যা পালন করা মুসলমান তো অবশ্যই জিন-ইনসানসহ সমস্ত কায়িনাতের জন্য ফরয এবং নাজাতেরও কারণ। সুবহানাল্লাহ!

 

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে