মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ইসলামী শরীয়ত উনার ফতওয়া অনুযায়ী মহা গযব করোনা ভাইরাসের দোহাই দিয়ে আযান পরিবর্তনকারীরা কাট্টা কাফির এবং চির জাহান্নামী-


সম্প্রতি কুয়েত, কাতার, আরব আমিরাত এবং মক্কা শরীফে আযান পরিবর্তন করা হয়েছে।حى على الصلوة ‘(হাইয়্যা আলাছ ছলাহ্) তথা তোমরা নামায উনার উদ্দেশ্যে আসো।’ এর পরিবর্তে فِي رِحَالِكُمْ صَلُّوا বা صلوا فِي بُيُوتكُمْ (ছল্লূ ফী রিহালিকুম বা ছল্লূ ফী বুয়ূতিকুম) তথা তোমরা তোমাদের আবসস্থলে, বাড়িতে নামায পড়’ বলা হচ্ছে। না‘ঊযুবিল্লাহ! যারা এরূপ করবে, তারা কাট্টা কাফির এবং চির জাহান্নামী হবে। না‘ঊযুবিল্লাহ! তারা হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত যেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারা দলীল দিয়ে থাকে, সেটা হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার এবং হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার অর্থাৎ উনাদের থেকে বর্ণিত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফসহ আরো অন্যান্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারা মানসূখ তথা রহিত হয়ে গেছে। যেমন- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ نَافِعٌ قَالَ أَذَّنَ ابْنُ عُمَرَ فِي لَيْلَةٍ بَارِدَةٍ بِضَجْنَانَ ثُمَّ قَالَ صَلُّوا فِي رِحَالِكُمْ فَأَخْبَرَنَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَأْمُرُ مُؤَذِّنًا يُؤَذِّنُ ثُمَّ يَقُولُ عَلَى إِثْرِهِ أَلاَ صَلُّوا فِي الرِّحَالِ فِي اللَّيْلَةِ البَارِدَةِ أَوِ المَطِيرَةِ فِي السَّفَرِ.
অর্থ: “বিশিষ্ট তাবিয়ী হযরত নাফে’ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি প্রচন্ড এক শীতের রাতে দ্বজ্নান নামক স্থানে আযান মুবারক দিলেন। অতঃপর আযান শেষে তিনি ঘোষণা মুবারক দিলেন, তোমরা তোমাদের আবাসস্থলেই নামায আদায় করে নাও। এরপর তিনি আমাদের জানালেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মুসাফির অবস্থায় প্রচন্ড শীতের রাতে অথবা বৃষ্টিতে মুয়ায্যিনকে আযান দিতে আদেশ মুবারক দিতেন আপনি আযান মুবারক দিন। তারপর আপনি ঘোষণা মুবারক দিয়ে দিন যে, আপনারা আবাসস্থলে নামায আদায় করে নিন।” (বুখারী শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ নং ৬৩২)
অপর বর্ণনায় ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ نَافِعٍ أَنَّ ابْنَ عُمَرَ أَذَّنَ بِالصَّلاَةِ فِي لَيْلَةٍ ذَاتِ بَرْدٍ وَرِيحٍ ثُمَّ قَالَ أَلاَ صَلُّوا فِي الرِّحَالِ ثُمَّ قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَأْمُرُ المُؤَذِّنَ إِذَا كَانَتْ لَيْلَةٌ ذَاتُ بَرْدٍ وَمَطَرٍ يَقُولُ أَلاَ صَلُّوا فِي الرِّحَالِ.
অর্থ: “বিশিষ্ট তাবিয়ী হযরত নাফে’ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি প্রচন্ড শীত ও বাতাসের রাতে নামাযের আযান মুবারক দিলেন। অতঃপর আযান শেষে তিনি ঘোষণা মুবারক দিলেন, তোমরা তোমাদের আবাসস্থলেই নামায আদায় করে নাও। তারপর তিনি বললেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রচন্ড শীত এবং বৃষ্টির রাত হলে মুয়ায্যিনকে এ কথা বলার নির্দেশ মুবারক দিতেন যে, আপনারা আবাসস্থলে নামায আদায় করে নিন।” (বুখারী শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ নং ৬৬৬, মুসলিম শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ নং ১৬৩২)
এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যায় আল্লামা হাফিয ইবনে হাজার আসক্বালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,
صريح في أن القول المذكور كان بعد فراغ الأذان.
অর্থ: “এই বিষয়টি সুস্পষ্ট যে, ‘উপরোক্ত কথা বলা (أَلاَ صَلُّوا فِي الرِّحَالِ ‘আলা ছল্লূ ফী ফির রিহাল’ তথা তোমরা আবাসস্থলে নামায পড়ো।) আযান থেকে ফারেগ হওয়ার পর বলতে হবে।” সুবহানাল্লাহ! (ফাতহুল বারী ২/১১৩)
এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যায় আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ ৮৫৫ হিজরী শরীফ) তিনি বলেন,
قال هذه الكلمة تقال في نفس الأذان ويرد عليه حديث ابن عمر رضي الله تعالى عنهما الآتي في باب الأذان للمسافر إنها تقال بعده.
অর্থ: “হযরত ইমাম নববী (শাফেয়ী) রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন যে, এই বাক্য আযানের মধ্যে বলা হবে। ইমাম নববী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ক্বওলটি হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার (বর্ণিত) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারা রদ্দ হয়ে গেছে। সুবহানাল্লাহ! ‘বাবুল আযান লিল মুসাফির’ নামক অধ্যায় এই বিষয়টি এসেছে- নিশ্চয়ই এই বাক্যটি আযানের পর বলতে হবে।” সুবহানাল্লাহ! (উমদাতুল ক্বারী ৫/১২৮)

এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যায় আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ ৮৫৫ হিজরী শরীফ) তিনি বলেন,
قلت حَدِيث ابْن عَبَّاس لم يسْلك مَسْلَك الْأَذَان أَلا ترى أَنه قَالَ فَلَا تقل حي على الصلاة قل صلوا فِي بُيُوتكُمْ وَإِنَّمَا أَرَادَ إِشْعَار النَّاس بِالتَّخْفِيفِ عَنْهُم للْعُذْر كَمَا فعل فِي التثويب لِلْأُمَرَاءِ وَأَصْحَاب الولايات وَذَلِكَ لِأَنَّهُ ورد فِي حَدِيث ابْن عمر أخرجه البُخَارِيّ وَحَدِيث أبي هُرَيْرَة أخرجه ابْن عدي فِي (الْكَامِل) أَنه إِنَّمَا يُقَال بعد فرَاغ الْأَذَان.
অর্থ: “(আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,) আমি বলি- হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার (বর্ণিত) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ আযানের মধ্যে ঢুকানো হয়নি। তুমি কি দেখোনি যে, হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বলেছেন, তুমিحي على الصلاة (হাইয়্যা আলাছ ছলাহ্ তথা তোমরা নামাযের উদ্দেশ্যে আসো।) বলো না বরং বলো, صلوا فِي بُيُوتكُمْ (ছল্লূ ফী বুয়ূতিকুম তথা তোমরা তোমাদের বাড়িতে নামায পড়ো।)। তিনি উনার এই ক্বওল শরীফের মাধ্যমে ওজরের কারণে যে তাখফীফ হয়, সে বিষয়টি ঘোষণা দিয়েছেন। যেমন, আমীর-উমরা এবং রাজা-বাদশাদের ঘোষণায় বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। আর এটা এ কারণে যে, বুখারী শরীফ-এ হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার বর্ণিত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে এবং হযরত ইবনে আদী রহমতুল্লাহি আলাইহি আল কামিল-এ হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে যেটা উল্লেখ রয়েছে, এটা আযান থেকে ফারেগ হওয়ার পর বলা হবে।” সুবহানাল্লাহ! (উমদাতুল ক্বারী ৫/১২৮)

এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যায় আল্লামা শাওকানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ ৮৫৫ হিজরী শরীফ) তিনি বলেন,
أَلَا صَلُّوا فِي الرِّحَالِ وَهُوَ صَرِيحٌ فِي أَنَّ الْقَوْلَ الْمَذْكُورَ كَانَ بَعْدَ فَرَاغِ الْأَذَانِ.
অর্থ: “أَلَا صَلُّوا فِي الرِّحَالِ (আলা ছল্লূ ফী ফির রিহাল) তথা তোমরা আবাসস্থলে নামায পড়ো।’ এই বিষয়টি সুস্পষ্ট যে, উপরোক্ত কথাটি আযান থেকে ফারেগ হওয়ার পর বলতে হবে।” সুবহানাল্লাহ! (নাইলুল আওত্বার ৩/১৮৫)

কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে,
انها تقال بعد الأذان وهو مذهب الحنفية والمالكية.
অর্থ: “(أَلَا صَلُّوا فِي الرِّحَالِ ‘আলা ছল্লূ ফী ফির রিহাল’ তথা তোমরা আবাসস্থলে নামায পড়ো) এটা আযান সম্পন্ন হওয়ার পর বলতে হবে। সুবহানাল্লাহ! এটা হানাফী এবং মালিকী মাযহাবের ফতওয়া।” সুবহানাল্লাহ! (উমদাতুল ক্বারী, ৫/১২৮, হাশিয়াতুত ত্বাহ্ত্বাওই, ২৯৭, আল মুনতাক্বা ১/১৩৯, ইকমালুল মু’লিম ৩/২২, শারহু মুসলিম লিন নববী ৫/২০৭, ফাতহুল বারী ২/১১৭, আহকামুল আযান ওয়ান নিদা ওয়াল ইক্বামাহ্ ১০৩)

হযরত ইমাম শাওকানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিসহ আরো অনেকে এই মতটি গ্রহণ করেছেন। এক বর্ণনা মতে হযরত ইমাম শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিও এই মতটি গ্রহণ করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
‘আবূ দাঊদ শরীফ’ উনার বিশ্বখ্যাত শরাহ্ তথা ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘বাজলুল মাজহূদ’ কিতাবে রয়েছে,
وقال العيني في شرح البخاري بعد نقل كلام النووي قلت حديث ابن عباس لم يسلك مسلك الأذان ألا ترى أنه قال فلا تقل حي على الصلاة قل صلوا في بيوتكم وإنما أراد إشعار الناس بالتخفيف عنهم للعذر كما فعل في التثويب للأمراء وأصحاب الولايات وذلك لأنه ورد في حديث ابن عمر أخرجه البخاري وحديث أبي هريرة أخرجه ابن عدي في الكامل أنه إنما يقال بعد الفراغ من الأذان. قلت والذي عند هذا العبد الضعيف أن حديث ابن عمر صريح في أن هذا الكلام ينادى بها في زمان رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد الفراغ من الأذان عند العذر كما تدل عليه الروايات وأما حديث ابن عباس فليس بصريح في هذا الباب.
অর্থ: “আল্লামা হযরত বদরুদ্দীন আইনী হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ‘শারহুল বুখারী শরীফ’ উনার মধ্যে ইমাম নবীব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কথা উল্লেখ করার পর বলেন, আমি বলি- ‘হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার (বর্ণিত) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ আযানের মধ্যে ঢুকানো হয়নি। তুমি কি দেখোনি যে, হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বলেছেন, তুমি حي على الصلاة (হাইয়্যা আলাছ ছলাহ্) বলো না; বরং বলো, صلوا في بيوتكم (ছল্লূ ফী বুয়ূতিকুম’। তিনি উনার এই ক্বওল শরীফের মাধ্যমে ওজরের কারণে যে তাখফীফ হয়, সে বিষয়টি ঘোষণা দিয়েছেন। যেমন আমীর-উমরা এবং রাজা-বাদশাদের ঘোষণায় বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। আর এটা এ কারণে যে, বুখারী শরীফ-এ হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার বর্ণিত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে এবং হযরত ইবনে আদী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার আল কামিল-এ হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বলা হয়েছে, এটা আযান থেকে ফারেগ হওয়ার পর বলা হবে। আমি বলি, এই দূর্বল বান্দার যে মত, তা হচ্ছে- হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার (বর্ণিত) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফখানা দ্বারা এ বিষয়টি স্পষ্ট যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যামানায় ওজরের কারণে আযান থেকে ফারেগ হওয়ার পর এই বাক্য দ্বারা ঘোষণা মুবারক দেয়া হতো। যেমনটি বিভিন্ন রেওয়াত দ্বারা প্রমাণিত। কিন্তু হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার (বর্ণিত) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফখানা এ বিষয়ে স্পষ্ট না।” (বাযলুল মাজহূদ ৫/৫৩)

ওহাবীদের গুরু ইবনে বায বলেছে,
الأفضل أن يكمل الأذان ثم يقول بعده صلوا في بيوتكم.
অর্থ: “উত্তম হচ্ছে- আযান পূর্ণ করা। তারপর আযান শেষে صلوا في بيوتكم (ছল্লূ ফী বুয়ূতিকুম) বলা।” (ছলাতুল জামা‘আহ্ ১/৭১)

এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার দ্বারা যে বিধানটি বর্ণনা করা হয়েছে, তাহচ্ছে, যদি কখনো এমন প্রচন্ড শীত, বৃষ্টি, বন্যা তুফান এবং কঠিন দূর্যোগ হয় যে, কোনক্রমেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক-এ আসা সম্ভব হচ্ছে না, তখন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক-এ আসার বিষয়টি ওজরের কারণে আবশ্যক থাকে না। তখন মানুষ ওজরের কারণে বাড়িতে নামায পড়তে পারবে। আর ঘোষণাটা দিতে হবে, আযান শেষ করার পর। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আব্বা আলাইহিস সালাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আম্মা আলাইহাস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের শান মুবারক উনার খিলাফ নানা ব্যঙ্গচিত্র, কার্টুন ও সিনেমা করাসহ নানা কুরুচি সম্পন্ন লেখালেখি করার কারণে এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক ভেঙ্গে দেয়ার কারণে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক বন্ধ করে দেয়ার কারণে, আযান বন্ধ করে দেয়ার কারণে, পর্দা করতে বাঁধা দেয়ার কারণে, মুসলমানদেরকে দাড়ি রাখতে বাঁধা দেয়ার কারণে, মুসলমানদের উপর যুলুম করার কারণে, কাফির-মুশরিক এবং তাদের গোলামদের প্রতি খোদায়ী গযব হিসেবে করোনা নামক মহা গযব নাযিল হয়েছে। না‘ঊযুবিল্লাহ! কাফির-মুশরিকরা চাচ্ছে, তাদের এই মহা গযব যেন মুসলমানদের উপরও যেন নাযিল হয়। না‘ঊযুবিল্লাহ! তাই তারা তাদের গোলাম মুসলমান নামধারী শাসক, মুনাফিক্ব এবং উলামায়ে সূ’দের মাধ্যমে মুসলমান দেশে আযান পরিবর্তন, দ্বীনি মাহফিল বন্ধ, জুমুয়া ও জামাতে আসতে নিষেধ করাসহ পবিত্র মসজিদসমূহ বন্ধ করার নানা ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। কাজেই কাফির-মুশরিক এবং তাদের গোলামদের প্রতি আরোপিত খোদায়ী গযব করোনার কারণে যারা আযান পরিবর্তন করবে, মুসলমানদের জুমুয়াহ্ ও জামাতে আসতে নিষেধ করবে, পবিত্র মসজিদ বন্ধ করবে, তারা কাট্টা কাফির এবং চির জাহান্নামী হবে। না‘ঊযুবিল্লাহ! কেননা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ইসলামী শরীয়ত উনার ফতওয়া হচ্ছেন, আযানের শব্দ পরিবর্তন করা কাট্টা কুফরী এবং চিরজাহান্নামী হওয়ার কারণ। না‘ঊযুবিল্লাহ!

মূলত, মুসলমান দেশে আযান পরিবর্তন, দ্বীনি মাহফিল বন্ধ, জুমুয়া ও জামাতে আসতে নিষেধ করা এবং পবিত্র মসজিদসমূহ বন্ধ করা ইত্যাদী সবই কাফির-মুশরিকদের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র। যা বর্তমানে সময়ে কাফির-মুশরিকদের দোসর উলামায়ে সূ, মুনাফিক ও গোমরাহ শাসকরা করোনার অযুহাতে জারী করতে চাচ্ছে। কাজেই, করোনার অযুহাতে কাফির-মুশরিকদের ষড়যন্ত্র জারী করার অপচেষ্টা হতে বিরত থাকা সকলের জন্য ফরজে আইন।
একইভাবে কাফির-মুশরিকদের ষড়যন্ত্র জারী করার ক্ষেত্রে বাধা দেয়া, প্রতিবাদ করা, প্রতিরোধ করা সকলের জন্য ফরজে আইন এবং ঈমানী দায়িত্ব।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে