মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের আলোকে সম্মানিত আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত উনার বিশুদ্ধ আক্বীদাহ মুবারক


সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি বিশুদ্ধ আক্বীদাহ মুবারক:

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ সাইয়্যিদুনা মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার মাহবুব হাবীব এবং মাহবুব রসূল। সুবহানাল্লাহ! তিনি সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাইয়্যিদ ও ইমাম। মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার মাহবুব হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক বুলন্দ থেকে বুলন্দতর করেছেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন; এছাড়া যত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক রয়েছেন, সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারী হচ্ছেন তিনি। স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই আশিক্ব হয়ে উনার সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক উনার সাথে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক সংযুক্ত করে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! একমাত্র মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারাসহ সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের সম্মানিত ও পবিত্র কালিমা শরীফ হচ্ছেন-لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ। এ বিষয়ে সমস্ত উম্মতের ইজমা’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, ক্বিয়ামত পর্যন্ত যদি কেউ শুধু لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ বলে তাহলেও সে কস্মিনকালে ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ না বলবে। সুবহানাল্লাহ! স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই আশিক্ব হয়ে উনার সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক উনার সাথে উনার মাহবুব হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার প্রতিটি দরজায় দরজায়, প্রতিটি কামরায় কামরায়, গাছের ডালে ডালে, পাতায় পাতায়, ফলে ফলে, হুর-গিলমানের কপালে কপালে, চোখে চোখে, বুকে বুকে, গলায় গলায়, প্রতিটি নহরে নহরে, সমস্ত সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ, সম্মানিত আরশ মুবারক উনার স্তম্ভ মুবারক-এ, সম্মানিত তূবা বৃক্ষের পাতায় পাতায়, সিদ্রাতুল মুন্তাহার পাতায় পাতায়, সম্মানিত হিজাব মুবারক উনার কিনারে কিনারে, সমস্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের চোখে চোখে এবং সাত আসমানের সমস্ত জায়গায় লিপিবদ্ধ করে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! কোনো হযরত নবী আলাইহিস সালাম উনাকে সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক দেয়া হয়নি, কোনো হযরত রসূল আলাইহিস সালাম উনাকে সম্মানিত রিসালাত মুবারক দেয়া হয়নি; যতক্ষণ পর্যন্ত উনারা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সম্মানিত ঈমান মুবারক না এনেছেন। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সম্মানিত ঈমান মুবারক আনার পরেই মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক ও সম্মানিত রিসালাত মুবারক হাদিয়া মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়া, সম্মানিত তা’যীম-তাকরীম মুবারক করা এবং দায়িমীভাবে উনার সম্মানিত ছানা-ছিফত মুবারক করা সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারাসহ সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের উপর ফরযে আইন। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
وَتُعَزِّرُوهُ وَتُوَقِّرُوهُ وَتُسَبِّحُوهُ بُكْرَةً وَأَصِيلًا
অর্থ: “তোমরা উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দাও, উনার সম্মানিত তা’যীম-তাকরীম মুবারক করো এবং উনার সম্মানিত ছানা-ছিফত মুবারক করো সকাল-সন্ধ্যা তথা অনন্তকাল দায়িমীভাবে।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা ফাত্হ শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৯)

মহান আল্লাহ পাক তিনি সৃষ্টির শুরু থেকে দায়িমীভাবে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়াফরহূ শরীফ’ সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করে যাচ্ছেন এবং অনন্তকাল যাবৎ পালন করতেই থাকবেন:

যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,
إِنَّ اللهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا
অর্থ: “নিশ্চয়ই যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার সম্মানিত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সম্মানিত ছলাত মুবারক পাঠ করেন। হে ঈমানদারগণ! আপনারাও উনার প্রতি সম্মানিত ছলাত মুবারক পাঠ করুন এবং উনার প্রতি সম্মানিত সালাম মুবারক পেশ করার মত সম্মানিত সালাম মুবারক পেশ করুন। অর্থাৎ যথাযথ আদবের সাথে সম্মানিত সালাম মুবারক পেশ করুন। সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৬)
এখানে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, তিনি উনার মাহবূব হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সম্মানিত ছলাত মুবারক পাঠ করেন। সুবহানাল্লাহ! তাহলে তিনি কখন থেকে সম্মানিত ছলাত মুবারক পাঠ শুরু করেছেন এবং কখন পর্যন্ত পাঠ করবেন? মূলত, মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়াফরহূ শরীফ’ সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করে উনার মাহবূব হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সৃষ্টি মুবারক করার পর থেকেই উনার প্রতি দায়িমীভাবে সম্মানিত ছলাত মুবারক পাঠ করে যাচ্ছেন, এখনও পাঠ করছেন। সুবহানাল্লাহ! আর মহান আল্লাহ পাক তিনি যেহেতু ক্বদীম তাই তিনি অনন্তকাল যাবৎ সম্মানিত ছলাত মুবারক পাঠ করতেই থাকবেন। তিনি কখনও এ সম্মানিত ছলাত মুবারক পাঠ করা থেকে বিরত থাকবেন না। সুবহানাল্লাহ! আর এ কথা কখনও কল্পনা করা যায় না যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি এমন এক মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওজূদ মুবারক উনার প্রতি সম্মানিত ছলাত মুবারক পাঠ করবেন, অথচ উনার সম্মানিত অস্তিত্ব মুবারক থাকবে না, উপস্থিতি মুবারক থাকবে না। না‘ঊযুবিল্লাহ! অর্থাৎ যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি যেমন ক্বদীম, তিনি কখনও ফানা বা লয় হবেন না, ঠিক তেমনিভাবে উনার সাথে সংযুক্ত হওয়ার কারণে উনার মাহবূব হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও ক্বদীম উনার অন্তর্ভূক্ত হয়ে গেছেন, তিনিও কখনও ফানা বা লয় হবেন না। সুবহানাল্লাহ!
যখন কিয়ামত সংঘটিত হবে, সমস্ত কিছু ধ্বংস হয়ে যাবে, তখন শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি থাকবেন। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
كُلُّ مَنْ عَلَيْهَا فَانٍ. وَيَبْقَى وَجْهُ رَبِّكَ ذُو الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ.
অর্থ: “সারা কায়িনাতের সমস্ত কিছু ফানা বা ধ্বংস হয়ে যাবে। একমাত্র আপনার মহামহিম ও মহানুভব রব মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওজূদ মুবারক বাক্বা বা স্থায়ী থাকবেন।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আর রহমান শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ২৬-২৭)
আর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেহেতু মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত কুদরত মুবারক উনার অধীন। তাই যখন সমস্ত কায়িনাতের সমস্ত কিছু ফানা বা ধ্বংস হয়ে যাবে, তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত কুদরত মুবারক উনার মধ্যে অবস্থান মুবারক করতে থাকবেন, যেমনিভাবে সৃষ্টির শুরুতে যখন কিছুই ছিলো না, তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!
তাহলে এখান থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি সৃষ্টির শুরু থেকে দায়িমীভাবে উনার মাহবূব হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সম্মানিত ছলাত মুবারক পাঠ করে যাচ্ছেন, উনার সম্মানার্থে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়াফরহূ শরীফ’ সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করে যাচ্ছেন এবং অনন্তকাল যাবৎ সম্মানিত ছলাত মুবারক পাঠ করতেই থাকবেন, অনন্তকাল যাবৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়াফরহূ শরীফ’ সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করতেই থাকবেন। সুবহানাল্লাহ!

কোটি কোটি লওহে মাহফূয একত্রিত করলেও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যেই সম্মানিত ইলম মুবারক রয়েছেন, সেই সম্মানিত ইলম মুবারক থেকে বিন্দু থেকে বিন্দুতমও সম্মানিত ইলম মুবারক ধারণ করতে পারবে না:

লওহে মাহফূযে পূর্ববর্র্তী সমস্ত আসমানী কিতাবসহ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ সংরক্ষিত রয়েছেন। এমনকি সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যা কিছু ঘটেছে এবং ঘটবে তাও সংরক্ষিত রয়েছে। কিন্তু সম্মানিত লওহে মাহফূযসহ সমস্ত কায়িনাত সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক থেকে নেয়া এক কাতরা নূর মুবারক হতে সৃষ্টি। তাহলে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ইলম মুবারক কতটুকু? মূলত,কোটি কোটি লওহে মাহফূয একত্রিত করলেও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যেই সম্মানিত ইলম মুবারক রয়েছেন, সেই সম্মানিত ইলম মুবারক থেকে বিন্দু থেকে বিন্দুতমও সম্মানিত ইলম মুবারক ধারণ করতে পারবে না। সুবহানাল্লাহ! যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত ইলম মুবারক যেমন অসীম তেমনিভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ইলম মুবারকও অসীম। যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার মাহবূব হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উনার অসীম সম্মানিত ইলম মুবারক হাদিয়া মুবারক করেই সম্মানিত সৃষ্টি মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ! কাজেই যারা বলবে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি লিখতে-পড়তে জানতেন না, না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! উনাকে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি ইলম মুবারক শিক্ষা দিয়েছেন, না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! উনার সম্মানিত ইলমে গইব মুবারক নেই, না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! তারা সবচেয়ে বড় কাট্টা কাফির, সবচেয়ে বড় মাল‘ঊন, চির জাহান্নামী। তাদের প্রত্যেককেই লা’নাতুল্লাহি আলাইহি বলা ফরয, ফরয এবং ফরয। তাদের প্রত্যেকের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদ-। তাদেরকে যারা সমর্থন করবে তাদেরও একই হুকুম অর্থাৎ তাদেরও একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদ-। এই মৃত্যুদ- থেকে রেহাই পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তাদের কোনো ওযর-আপত্তি গ্রহণযোগ্য হবে না এবং তাদের তওবাও গ্রহণযোগ্য হবে না।

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে, উনারই সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়ার জন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত কায়িনাত সৃষ্টি করেছেন:

এ প্রসঙ্গে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছে কুদসী শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,
يَا مُـحَمَّدُ صَـلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَنَا وَاَنْتَ وَمَا سِوَاكَ خَلَقْتُ لِاَجْلِكَ
অর্থ: “আমার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি এবং আপনি। আর আপনি ছাড়া যা কিছু রয়েছে, সমস্ত কিছু আমি আপনার সন্তুষ্টি মুবারক উনার জন্যই সৃষ্টি করেছি।” সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
لَوْلَاكَ مَا خَلَقْتُ الْـجَنَّةَ.
অর্থ: “আমার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আপনাকে সৃষ্টি মুবারক না করলে, সম্মানিত জান্নাত মুবারক সৃষ্টি করতাম না।” সুবহানাল্লাহ! (দায়লামী, কানযুল উম্মাল)

তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
لَوْلَاكَ مَا خَلَقْتُ الْـنَّارَ.
অর্থ: “আমার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আপনাকে সৃষ্টি মুবারক না করলে, জাহান্নাম সৃষ্টি করতাম না।” সুবহানাল্লাহ! (দায়লামী, কানযুল উম্মাল)।
সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছে কুদসী শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَيَقُوْلُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ وَعِزَّتِـىْ وَجَلَالِـىْ لَوْلَاكَ مَا خَلَقْتُ الْـجَنَّةَ وَلَوْلَاكَ مَا خَلَقْتُ الدُّنْيَا.
অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুমা উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, আমার সম্মানিত ইজ্জত মুবারক এবং সম্মানিত জালালিয়াত মুবারক উনাদের কসম! আমি আপনাকে সৃষ্টি মুবারক না করলে, সম্মানিত জান্নাত মুবারক সৃষ্টি করতাম না এবং আমি আপনাকে সৃষ্টি মুবারক না করলে, কায়িনাত কোনো কিছুই সৃষ্টি করতাম না।” সুবহানাল্লাহ! (দায়লামী শরীফ ৫/২২৭)

মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
لَوْلَاكَ مَا اَظْهَرْتُ الرُّبُوْبِيَّةَ.
অর্থ: “আমার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আপনাকে সৃষ্টি মুবারক না করলে, আমার সম্মানিত রুবূবিয়াত মুবারকও প্রকাশ করতাম না।” সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছে কুদসী শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عن سيدنا حضرت على كرم الله وجهه عليه السلامان الله تعالى قال لنبيه صلى الله عليه وسلم من اجلك ابطح البطحاء واموج الماء وارفع السماء واجعل الثواب والعقاب والجنة والنار.
অর্থ: “ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার মহাসম্মানিত নবী-রসূল, উনার মাহবূব হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ মুবারক করেন, আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আপনার মুবারক সম্মানার্থেই সমভূমি, নি¤œভূমি, উপত্যকা, নদীর তলদেশকে বিস্তৃত করেছি অর্থাৎ যমীন সৃষ্টি করেছি, (সমুদ্রের) পানিকে তরঙ্গায়িত করেছি, ঊর্মিমুখর করেছি এবং আসমানকে করেছি সুউচ্চ। অর্থাৎ সারা কায়িনাত সৃষ্টি করেছি। সুবহানাল্লাহ! আর আপনার মুবারক সম্মানার্থেই আমি পুরস্কার-শাস্তি এবং জান্নাত-জাহান্নাম সৃষ্টি করেছি। অর্থাৎ আপনাকে যাঁরা সম্মানিত মুহব্বত মুবারক করবেন, সম্মানিত তা’যীম-তাকরীম মুবারক করবেন, উনারা পুরস্কার লাভ করবেন, সম্মানিত জান্নাত মুবারক লাভ করবেন তথা হাক্বীক্বী মুহব্বত-মা‘রিফত, নিসবত-কুরবত, রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক লাভ করবেন। সুবহানাল্লাহ! আর আপনাকে যারা সম্মানিত মুহব্বত মুবারক করবে না, সম্মান তা‘যীম-তাকরীম মুবারক করবে না, আপনার নাফরমানী করবে, তাদের জন্য রয়েছে কঠিন লাঞ্ছনাদায়ক ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি এবং চিরজাহান্নাম।” সুবহানাল্লাহ! (সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১/৭৫)

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কারণেই সমস্ত কিছু সম্মানিত হয়েছেন এবং হবেন। তিনি কারো কারণে সম্মানিত নন:

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কারণেই সমস্ত কিছু সম্মানিত হয়েছেন এবং হবেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি কারো কারণে সম্মানিত নন। কেননা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত মুহব্বত মুবারক করে উনার সম্মানার্থে উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়ার জন্যই মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত জান্নাত মুবারক, সম্মানিত হাউযে কাওছার মুবারকসহ মহান আল্লাহ পাক উনার কায়িনাতে সম্মানিত যা কিছু রয়েছেন সমস্ত কিছু সৃষ্টি মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ! তাই এ কথা বলা সুস্পষ্ট কুফরী হবে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত হাউযে কাওছার মুবারক দ্বারা সম্মানিত করা হয়েছে। না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! অনুরূপভাবে সম্মানিত শাফায়াতে কুবরা মুবারক, সম্মানিত মাক্বামে মাহমূদ মুবারক এবং অন্যান্য সম্মানিত মাক্বামাত মুবারক বা সম্মানিত বিষয় মুবারক দ্বারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত করা হয়েছে, এটা বলাও সুস্পষ্ট কুফরী। কেননা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কোনো সম্মানিত মাক্বামাত মুবারক বা সম্মানিত বিষয় মুবারক উনাদের মুহতাজ নন; বরং উনার কারণে সমস্ত সম্মানিত মাক্বামাত মুবারক এবং সম্মানিত বিষয় মুবারকসমূহ সম্মানিত ও মর্যাদাবান হয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি শুধু যিনি খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার মুহতাজ এবং উনার কারণে সম্মানিত। সুবহানাল্লাহ! এ সম্পর্কে সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছে কুদসী শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,

يَا مُـحَمَّدُ صَـلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَنَا وَاَنْتَ وَمَا سِوَاكَ خَلَقْتُ لِاَجْلِكَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَـلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا رَبِّ اَنْتَ وَمَا اَنَا وَمَا سِوَاكَ تَرَكْتُ لِاَجْلِكَ.
অর্থ: “আমার মাহবূব হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি এবং আপনি। আর আপনি ছাড়া যা কিছু রয়েছে সমস্ত কিছু আমি আপনার সন্তুষ্টি মুবারক উনার জন্যই সৃষ্টি করেছি। সুবহানাল্লাহ! (জবাবে) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আয় বারে এলাহী! শুধু আপনি, আমিও না। আপনি ছাড়া আর যা কিছু রয়েছে, সমস্ত কিছুই তরক করেছি আপনার রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করার লক্ষ্যে।” সুবহানাল্লাহ!

আর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
اِنَّاۤ اَعْطَيْنٰكَ الْكَوْثَرَ.
অর্থ:“নিশ্চয়ই আমি আপনাকে সম্মানিত মুবারক কাউছার হাদিয়া মুবারক করেছি।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা কাওছার শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১)

এই সম্মানিত মুবারক কাওছার উনার লক্ষ-কোটি ব্যাখ্যা মুবারক। উনাদের মধ্যে একখানা ব্যাখ্যা মুবারক হচ্ছেন, ‘খইরে কাছীর’ তথা সমস্ত প্রকার ভালাই। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সমস্ত প্রকার ভালাই তথা সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্বোত্তম বিষয় মুবারকসমূহ হাদিয়া মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ! অপরদিকে উনার সাথে যে বিষয় মুবারকসমূহ সম্পৃক্ত হয়েছেন, সে বিষয় মুবারকসমূহ সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্বোত্তম হয়ে গেছেন। সুবহানাল্লাহ!

এক মুহূর্তের তরেও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত স্পর্শ মুবারক-এ যা কিছু এসেছেন, তা আসমান-যমীন, সম্মানিত ও পবিত্র কা’বা শরীফ, সম্মানিত ও পবিত্র কুরসী শরীফ, মহান আল্লাহ পাক উনার কায়িনাতে যা কিছু রয়েছে; এমনকি সম্মানিত ও পবিত্র আরশে আযীম মুবারক থেকেও লক্ষ-কোটি গুণ বেশি পবিত্র, ফযীলতপ্রাপ্ত, সম্মানিত, সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্বোত্তম। সুবহানাল্লাহ!

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে