মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের নিসবত মুবারক লাভের মাঝেই উম্মত হবার সার্থকতা নিহিত 


রাজারবাগ শরীফ উনার সাইয়্যিদুনা আস সাফফাহ মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত ৬৩ দিনব্যাপী মজলিস উনার মাঝে ইরশাদ মুবারক করেছেন, “উম্মতকে রিযিক তালাশ করার জন্য প্রেরণ করা হয়নি, তাদেরকে হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে নিসবত স্থাপনের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।”

আমীরুল মু’মিনীন হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি নিসবত স্থাপনের সেই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ‘গোলাম’ হওয়ার মাধ্যমে। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দ্বারা ‘গোলাম’ স্বীকৃতি মুবারক প্রাপ্তিকে তিনি উনার যিন্দেগী মুবারক উনার সমস্ত আমল ও ত্যাগের তুলনায় উত্তম বলে গণ্য করেছেন। কারণ উম্মত হিসেবে হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনার নিসবত মুবারক হাছিল হওয়ার মাঝেই চূড়ান্ত সার্থকতা। এর সামনে সকল আমলই ম্লান হয়ে যায়।

সম্মানিত হানাফী মাযহার উনার ইমাম হযরত আবু হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছিলেনÑ “আমি আবু নু’মান ধ্বংস হয়ে যেতাম, যদি দু’টি বছর আমি না পেতাম”। অর্থাৎ হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের গোলামী করার যে দু’টি বছর তিনি লাভ করেছিলেন, এই দু’টি বছর তিনি না পেলে ধ্বংস হয়ে যেতেন বলে উল্লেখ করেছেন।

উল্লেখ্য, সম্মানিত হানাফী মাযহাব উনার ক্ষেত্রে বলা হয়, উক্ত মাযহাব উনার ইলম নবুওয়্যতী তাক মুবারক থেকে গ্রহণ করা হয়েছে, আর বাকি তিনটি মাযহাব উনাদের ইলম গ্রহণ করা হয়েছে বিলায়েতী তাক মুবারক থেকে। এই বৈশিষ্ট্য সম্মানিত হানাফী মাযহার উনার লাভ করার মূল কারণই হলো হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের নিসবত। উল্লেখ্য, হযরত ইমামুস সাদিস মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একখানা লক্বব মুবারক হলো ‘জামিউন নিসবত’ অর্থাৎ নিসবত মুবারক উনার জামে বা মূল। মূলত তিনি সমস্ত নিয়ামত হযরত আহলে বাইত শরীফ উনাদের সিলসিলায় জমা করেছেন বিধায় তিনি হলেন ‘জামিউন নিসবত’।

যিনি হায়াতুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, যিনি শাহিদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তিনি মুত্তলা’ আলাল গইব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, যিনি মহাসম্মানিত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তিনি পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ মুবারক করেছেন যে, “একজন উম্মত হিসেবে যতটুকু ধারণ করা সম্ভব, তার পুরোটাই হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম উনার অন্তরে বা ক্বলবে নিক্ষেপ করা হয়েছে”।

এ কারণে একজন বিশিষ্ট ছাহাবী হয়েও হযরত সালমান ফারিসী রদ্বিআল্লাহু তা’আলা আনহু, তিনি হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম উনার হাত মুবারক-এ বাইয়াত গ্রহণ করেছিলেন। এতে সবাই বিস্ময় প্রকাশ করলে তিনি বলেছিলেন, তিনি তো সেই নিয়ামত মুবারক হাছিল করার লক্ষ্যেই উনার হাত মুবারক-এ বাইয়াত গ্রহণ করেছেন। যেই নিয়ামত মুবারক, যা হায়াতুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, শাহিদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতের জন্য হাদিয়া মুবারক করেছিলেন, তা বাইয়াত হওয়ার মাধ্যমে হযরত সালমান ফারিসী রদ্বিআল্লাহু তা’য়ালা আনহু তিনি গ্রহণ করেন। অতঃপর হযরত মুহম্মদ বিন ক্বাসিম বিন আবু বকর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত সালমান ফারিসী রদ্বিআল্লাহু তা’য়ালা আনহু উনার নিকট বাইয়াত হয়ে তা গ্রহণ করেন।

হযরত মুহম্মদ বিন ক্বাসিম বিন আবু বকর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ছিলেন হযরত ইমামুস সাদিস মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নানা, তিনি এই নিয়ামত মুবারক হযরত ইমামুস সাদিস মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হাদিয়া মুবারক করেন। এভাবে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মারফত সমস্ত নিয়ামত তিনি হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মাঝে জমা করেন। অর্থাৎ বর্তমান উম্মতের নিয়ামত লাভের জন্য হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের নিসবত মুবারক লাভ করা ব্যতীত কোনো গত্যন্তর নেই। যা কিনা হযরত ইমামুস সাদিস আলাইহিস সালাম তিনিও ইরশাদ মুবারক করেছেন যে, “আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম ব্যতীত কোনো উসীলা নেই”।

মূলত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা যে আরজি মুবারক জানিয়েছিলেন, উনাদেরকে নবী-রসূল না করে মহাসম্মানিত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মত করে পাঠালে উত্তম হতো, এর কারণ নিহিত রয়েছে হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের নিসবত মুবারক লাভের মাঝে। উল্লেখ্য, হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রথম স্তরে রয়েছেন হযরত আবু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা। উনাদের মাধ্যমেই হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সিলসিলা মুবারক উনার সূত্রপাত। স্বাভাবিকভাবেই পূর্ববর্তী কোনো নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের নিসবত মুবারক লাভ করেননি। একমাত্র হযরত রুহুল্লাহ আলাইহিস সালাম, উনাকে পরবর্তী উম্মতগণের মাঝে প্রেরণ করে হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের নিসবত মুবারক লাভ করার বিশেষ নিয়ামত মুবারক প্রদান করা হবে।

হযরত রুহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি দুনিয়ার যমীনে আগমন করে হযরত ইমামুল হাদি আশার মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম উনার পিছনে নামায আদায় করবেন, অর্থাৎ উনাকে তিনি ইমাম হিসেবে গ্রহণ করে নিসবত মুবারক স্থাপন করবেন। উল্লেখ্য, হযরত রুহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি যমীনে থাকা অবস্থায় যে ইজতিহাদ মুবারক করবেন, তা সম্মানিত হানাফী মাযহাব উনার সাথে মিলে যাবে। এর মূল কারণ হলো, হযরত রুহুল্লাহ আলাইহিস সালাম এবং হযরত আবু হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি, উনারা উভয়ই হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুবারক সিলসিলা উনার সহিত সংযুক্ত। উনাদের প্রাপ্ত নিয়ামত মুবারক উনাদের উৎসস্থল যেহেতু অভিন্ন, সেহেতু উনাদের ইজতিহাদ মুবারকও অভিন্ন হয়েছেন।

সাইয়্যিদুনা আস সাফফাহ মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি এবং উনার আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম, উনারা সম্মানিত হানাফী মাযহাব উনাকে কবুল করেছেন। এর কারণ হচ্ছে সম্মানিত হানাফী মাযহাব মূলত হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের তরফ থেকে বিশেষ নিয়ামত মুবারক, যা উম্মত লাভ করতে পেরেছে হযরত আবু হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার উছিলায় এবং পরবর্তীতে হযরত রুহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনিও তা লাভ করবেন।

অর্থাৎ উম্মত হওয়াটা অপূর্ণ থেকে যাবে, ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে, যদি হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের নিসবত মুবারক না লাভ করা যায়। হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম এই নিয়ামত মুবারক লাভ করাকে উনাদের নবুওয়্যত-রিসালত মুবারক উনাদের চাইতেও সু-নসিবের বলে গণ্য করেছেন, একারণেই চেয়েছেন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মত হিসেবে দুনিয়ায় আগমন করতে। কারণ যিনি হায়াতুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, যিনি শাহিদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তিনি মুত্তলা’ আলাল গইব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, যিনি মহাসম্মানিত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তিনি পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ মুবারক করেছেন-

“আমরা হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম, সম্মানিত নবুওয়্যত উনার বৃক্ষ, রিসালত উনার খনি থেকে আমরা পবিত্র (তথা উক্ত মুবারক বিষয়সমূহ উনাদের মুখাপেক্ষী)। সৃষ্টির মাঝে আমাদের সমকক্ষ রয়েছে এমন কেউই নেই।”

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে