মহাসম্মানিত ‘রবীউল আউওয়াল শরীফ’ মাস সন্নিকটে, মুসলমানরা কি এবারও গাফেল থাকবে ?


মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র হাদীছে কুদসী শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, ‘আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি যদি আপনাকে সৃষ্টি না করতাম; তবে আসমান-যমীন, লওহ-কলম কোনো কিছুই সৃষ্টি করতাম না।’ সুবহানাল্লাহ!
স্বাভাবিক নিয়মে দেখা যায়, একজন মানুষ আরেকজন মানুষের উপকার করলে তার প্রতি সাধ্য-সামর্থ অনুযায়ী কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। সাধারণ দুনিয়াবী কারণে যদি মানুষের এত কৃতজ্ঞতাবোধের উদয় হয়, তাহলে যেই সুমহান ওজুদ পাক উনার সম্মানার্থে কূল-কায়িনাতের সমস্ত কিছু সৃষ্টি করা হয়েছে-আমাকে এবং আপনাকেও সৃষ্টি করা হয়েছে, তাহলে উনার প্রতি কতভাবে, কতদিক থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে হবে সেটা কি ভাষা দিয়ে প্রকাশ করা সম্ভব। কিন্তু অত্যন্ত আফসূসের সাথে বলতে হয় যে, মুসলমানরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি কতখানি শুকরিয়া প্রকাশ করে? অথচ অন্যান্য বাতিল ধর্মে তাদের দৃষ্টিতে যারা সম্মানিত ব্যক্তিত্ব তাদেরকে নিয়ে কি রকম মাতামাতি করে-এটা কি মুসলমানরা দেখে না।
একটা গরুর জন্য হিন্দু-মুশরিকগুলি কি না করে। একটা চতুষ্পদ জন্তুকে কথিত দেবতা বানিয়েছে, আবার সেটাকে ‘রাষ্ট্রমাতা’ ঘোষণা দিয়েছে। সেই ‘মাতা’র মূত্র পান করে মুশরিকগুলির গর্বের শেষ নেই। একটা চতুষ্পদ জন্তুর জন্য তারা মিথ্যা অজুহাত দাঁড় করিয়ে আশরাফুল মাখলূকাত মুসলমানকে পর্যন্ত শহীদ করে। মৃত্যু পথযাত্রী মুমূর্ষ রোগীর জন্য এ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যায় না। কিন্তু গরুর জন্য এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস রয়েছে। বিশেষায়িত হাসপাতাল রয়েছে। কত মুশরিক মাথা গোঁজার ঠাঁই পায় না, দু’বেলা অন্ন জোটে না; কিন্তু গরুর জন্য সরকারি লঙ্গরখানা রয়েছে। আরো কত কি যে করে-যা লিখে শেষ করা সম্ভব নয়।
আবার কথিত যীশুকে কেন্দ্র করে খ্রিষ্টানগুলি মাসব্যাপী উৎসব করে। যে দিন তাদের কথিত যীশু জন্মগ্রহণ করেছে, সেদিনকে তারা বিশেষ নামে সম্বোধন করে। ইহুদী, বৌদ্ধ, জৈন প্রত্যেকেই তাদের কথিত পূজনীয়দের নিয়ে একইরুপ করে। অথচ যিনি সমস্ত কায়িনাতের সৃষ্টির মহাসম্মানিত ওসীলা; উনাকে সম্মানিত ফযল-করম এবং রহমত মুবারক হিসেবে মহান আল্লাহ পাক তিনি মুসলমানদেরকে হাদিয়া মুবারক করলেন অথচ মুসলমানদের শোকর-গুজারী কোথায়? স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি যেই সুমহান সত্ত্বা মুবারক উনার শান মুবারকে ছলাত-সালাম পাঠ করতেই আছেন এবং অনন্তকাল ধরে পাঠ করতেই থাকবেন। মুসলমানরা উনার প্রতি কতবার ছলাত-সালাম পেশ করে- চিন্তা এবং ফিকিরের বিষয়।
মূলত মুসলমানরা তখনই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি শুকরিয়া প্রকাশ করতে পারবে যখন একজন শুকরিয়া আদায়কারী ব্যক্তিত্ব উনার সাথে সম্পৃক্ত হতে পারবে। সেই সুমহান ব্যক্তিত্ব হচ্ছেন রাজারবাগ শরীফ উনার সম্মানিত মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম। তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি শুকরিয়া তথা দায়িমী ছলাত-সালাম পেশ করার জন্যেই অনন্তকালের জন্য জারী করেছেন সম্মানিত ‘সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ’ মাহফিল। এই সম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ যে ব্যক্তি দুনিয়া, কবর, হাশর, নশর, মিযান, পুলছিরাত, জান্নাতে যেয়েও পালন করতে পারবে, তার দ্বারাই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি হাক্বীক্বীভাবে শুকরিয়া প্রকাশ করা সহজ এবং সম্ভব হবে। এখন কেউ যদি হাক্বীক্বীভাবে সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করতে চায় তথা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি শুকরিয়া প্রকাশ করতে চায় তাহলে তাকে রাজারবাগ শরীফ উনার সম্মানিত মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার ছোহবত মুবারকে আসতেই হবে। উনার নিকট বাইয়াত হয়ে যিকির-ফিকির করার মাধ্যম দিয়ে ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ হাছিল করে অন্তরকে ইছলাহ করতে হবে। এখন যে যতটুকু নিজেকে ইছলাহ করতে পারবে তার পক্ষে ঠিক ততটুকু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি শুকরিয়া প্রকাশ করা সহজ এবং সম্ভব হবে। খ¦লিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি শুকরিয়া আদায় করার তাওফিক নছীব করুন। আমীন!

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে