মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত পরিচিতি মুবারক


শাব্দিক পরিচিতি মুবারক: আরবী ক্বাওয়ায়িদ বা ব্যাকরণ অনুযায়ীاَهْلُ بَيْتٍ (আহলু বাইত) মুরাক্কাবে ইদ্বাফী হয়েছে। অর্থাৎ اَهْلُ (আহাল) শব্দ মুবারকখানা হচ্ছেন মুদ্বাফ আর بَيْتٍ (বাইত) শব্দ মুবারকখানা হচ্ছেন মুদ্বাফ ইলাইহ। اَهْلُ (আহাল) শব্দ মুবারক উনার অর্থ মুবারক হচ্ছেন অধিবাসী, পরিবার-পরিজন, লোকজন, বাসিন্দা, সদস্য, আত্মীয়-স্বজন ইত্যাদি। আর بَيْتٍ (বাইত) শব্দ মুবারক উনার অর্থ মুবারক হচ্ছেন ঘর, হুজরা শরীফ, বাড়ি, বাসস্থান, পরিবার ইত্যাদি। সুতরাং اَهْلُ بَيْتٍ (আহলু বাইত) উনার শাব্দিক অর্থ মুবারক হলো, ঘরের অধিবাসী, হুজরা শরীফ উনার অধিবাসী, পরিবারের সদস্য, পরিবারের লোকজন, পরিবার-পরিজন ইত্যাদি। সুবহানাল্লাহ!

পারিভাষিক অর্থ: সম্মানিত শরীয়ত মুবারক উনার পরিভাষায় اَهْلُ بَيْتٍ ‘আহলু বাইত’ বলতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত পরিবার মুবারক উনাকে বুঝায়, উনার সম্মানিত পরিবার মুবারক উনার সম্মানিত সদস্যগণ উনাদেরকে বুঝায়, উনার সম্মানিত হুজরা শরীফ উনার অধিবাসী উনাদেরকে বুঝায়। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত হুজরা শরীফ উনার অধিবাসী যাঁরা রয়েছেন, উনারাই হচ্ছেন মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম। সুবহানাল্লাহ!

উল্লেখ্য যে, যদিও স্বাভাবিকভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত হুজরা শরীফ উনার অধিবাসী বলতে উনার মহাসম্মানিত হযরত আব্বা-আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনাদেরকে, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে, হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে, হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে এবং উনাদের মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম ও আওলাদ আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে বুঝায়, তথাপি বিষয়টি অতি সূক্ষ্ম, অত্যন্ত ব্যাপক এবং অনেক ব্যাখ্যা সাপেক্ষ। তবে সংক্ষেপে বলতে গেলে, যেই সকল সুমহান ব্যক্তিত্ব মুবারক উনারা মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম হিসেবে দুনিয়ার যমীনে সম্মানিত তাশরীফ মুবারক নিয়েছেন এবং ক্বিয়ামত পর্যন্ত সম্মানিত তাশরীফ মুবারক নিবেন, উনারা প্রত্যেকেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত হুজরা শরীফ উনার অধিবাসী। সুবহানাল্লাহ! এই বিষয়টি সম্মানিত কুদরত মুবারক এবং সম্মানিত মু’জিযা শরীফ উনাদের অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ! যদিও স্বাভাবিকভাবে মানুষের জন্য বুঝতে একটু কঠিন মনে হতে পারে।

তবে সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ এই বিষয় মুবারক উনার বরকতময় হাক্বীক্বত মুবারক অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে প্রকাশিত হবে। সুবহানাল্লাহ! যেই সকল সুমহান ব্যক্তিত্ব মুবারক উনারা মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত হবেন, উনারা প্রত্যেকেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত হুজরা শরীফ উনার অধিবাসী হবেন। উনারা একই সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ অবস্থান মুবারক করবেন। সুবহানাল্লাহ! তবে অবশ্যই সম্মানিত কুরবত বা নৈকট্য মুবারক উনার প্রগাঢ়তা অনুযায়ী স্তর বিন্যাস রয়েছে। সুবহানাল্লাহ!

আরো সহজভাবে বলতে গেলে- মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

قُلْ لَّا اَسْاَلُكُمْ عَلَيْهِ اَجْرًا اِلَّا الْمَوَدَّةَ فِى الْقُرْبـٰى.

অর্থ: “(হে আমার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনি বলে দিন, তোমাদের নিকট কোনো বিনিময় চাওয়া হচ্ছে না, চাওয়াটাও স্বাভাবিক নয়। তবে তোমাদের জন্য ফরয হচ্ছে আমার সর্বাধিক নিকট সম্পর্কের অধিকারী, নিকটাত্মীয় তথা মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করা, তা’যীম-তাকরীম মুবারক করা, উনাদের সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়া।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত সূরা শূরা শরীফ : সম্মানিত আয়াত শরীফ-২৩)

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পক্ষ থেকে এই সম্মানিত কুরবত মুবারক এবং উনার সম্মানিত মূল নিয়ামত মুবারক বংশানুক্রমে (অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বংশধর আলাইহিমুস সালাম উনাদের থেকে) যেই সকল সুমহান ব্যক্তিত্ব মুবারক এবং ব্যক্তিত্বা মুবারক উনারা ধারণ করেছেন এবং ক্বিয়ামত পর্যন্ত যেই সকল সুমহান ব্যক্তিত্ব মুবারক এবং ব্যক্তিত্বা মুবারক উনারা ধারণ করবেন, উনারাই হচ্ছেন মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম। সুবহানাল্লাহ! উনাদের শান মুবারকেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন-

نَـحْنُ اَهْلُ بَيْتٍ طَهَّرَهُمُ اللهُ مِنْ شَجَرَةِ النُّبُوَّةِ وَمَوْضِعِ الرِّسَالَـةِ وَمُـخْتَلِفِ الْمَلَائِكَةِ وَبَيْتِ الرَّحْـمَةِ وَمَعْدِنِ الْعِلْمِ.

অর্থ: “আমরা মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস উনাদেরকে (আমাদেরকে) সম্মানিত নুবুওয়াত মুবারক উনার বৃক্ষ, সম্মানিত রিসালাত মুবারক উনার স্থান, বিভিন্ন ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের, উনাদের দ্বারা সম্মানিত খিদমত মুবারক, সম্মানিত রহমত মুবারক উনার ঘর মুবারক এবং সম্মানিত ইলম মুবারক উনার খনি মুবারক (ইত্যাদি সমস্ত কিছু) থেকে পবিত্র রেখেছেন, ছমাদ তথা বেনিয়ায (অমুখাপেক্ষী) করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে দুররে মানছূর লিস সুয়ূত্বী ৬/৬০৬, তাফসীরে ইবনে আবী হাতিম ৯/৩১৩৩)

মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের এবং আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মধ্যে পার্থক্য

এটি একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনেকে মনে করে থাকে যে, যিনি আওলাদে রসূল তিনিই আহলু বাইত শরীফ। আওলাদে রসূল এবং আহলু বাইত শরীফ উনাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। নাঊযুবিল্লাহ! আবার অনেকে মনে করে থাকে যে, আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মধ্যে যারা বড় ওলীআল্লাহ উনারা হচ্ছেন আহলু বাইত শরীফ। নাঊযুবিল্লাহ!

প্রকৃতপক্ষে এই বক্তব্যগুলো একটাও শুদ্ধ না। মূলত মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের এবং আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মাঝে অনেক পার্থক্য রয়েছে। যেমন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যাঁরা বংশধর অর্থাৎ যাঁরা ইমামুছ ছানী সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম উনার এবং ইমামুছ ছালিছ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের উভয়ের যাঁরা বংশধর উনারা প্রত্যেকেই আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত।

তবে আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মধ্যে তিনটি ভাগ রয়েছে। যেমনÑ

১. যাঁদের আক্বীদা ও আমল আখলাক্ব শুদ্ধ রয়েছে উনাদেরকে মুহব্বত করতে হবে এবং অনুসরণও করতে হবে।

২. যাঁদের আক্বীদা শুদ্ধ রয়েছে কিন্তু আমল আখলাক্ব শুদ্ধ নেই উনাদেরকে মুহব্বত করতে হবে, সম্মান করতে হবে; কিন্তু অনুসরণ করা যাবে না।

৩. যাদের আক্বীদার মধ্যে কুফরী রয়েছে, তাদেরকে আওলাদে রসূল বা সাইয়্যিদ বলা যাবে না। মুহব্বত, সম্মান ও অনুসরণ করার তো প্রশ্নোই উঠে না।

এই সম্পর্কে সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,

عَنْ حَضْرَتْ بُرَيْدَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيهِ وَسَلَّمَ لَا تَقُوْلُوْا لِلْمُنَافِقِ سَيِّدٌ فَاِنَّكُمْ اِذَا فَعَلْتُمْ اَغْضَبْتُمْ رَبَّكُمْ تَبَارَكَ وَتَعَالـٰى.

অর্থ: “হযরত বুরাইদাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তোমরা মুনাফিক্বদেরকে সাইয়্যিদ বলো না। যদি তোমরা এরূপ করো, তাহলে তোমরা তোমাদের রব মহান আল্লাহ পাক তাবারাকা ওয়া তায়ালা উনাকে অসন্তুষ্ট করলে।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (আল আদাবুল মুফরাদ ১/২৬৭, মুসনাদে বাযযার ৪/২৯৫, আবূ দাঊদ)

আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত সিবতুন ও সিবত্বাতুন (নাতী-নাতনী) আলাইহিমুস সালাম ও আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের পর থেকে ক্বিয়ামত পর্যন্ত যেই সকল সুমহান ব্যক্তিত্ব মুবারক বংশানুক্রমে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত কুরবত মুবারক এবং উনার সম্মানিত মূল নিয়ামত মুবারক ধারণ করবেন, উনারাই মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম হিসেবে মনোনীত হবেন। আর উনারাই মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ!

উনারা প্রত্যেকেই পূর্ব মনোনীত। উনাদেরকে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র করার মতো পবিত্র করেই সৃষ্টি মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ! উনারা শুধু যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারী হচ্ছেন উনারা। সুবহানাল্লাহ!

নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা যেমন পূর্ব মনোনীত ঠিক তেমনিভাবে মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারাও পূর্ব মনোনীত। সুবহানাল্লাহ!

সহজে বুঝার জন্য বলা যেতে পারে, প্রত্যেক রসূলই নবী; কিন্তু প্রত্যেক নবীই রসূল নন। ঠিক তেমনিভাবে মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রত্যেকেই আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সুবহানাল্লাহ! কিন্তু প্রত্যেক আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা আহলু বাইত শরীফ নন।

সুতরাং উপরোক্ত দলীলভিত্তিক আলোচনার দ্বারা অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে, প্রত্যেক আওলাদে রসূলই আহলু বাইত শরীফ নন। আবার আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মধ্যে বড় ওলীআল্লাহ হলেই আহলু বাইত শরীফ হওয়া যায় না। বরং মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে আলাদা। সুবহানাল্লাহ! উনাদের শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযুর্গী-সম্মান মুবারক এক কথায় উনারা শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া যত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক রয়েছেন সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারী হচ্ছেন উনারা। সুবহানাল্লাহ! উনারা একমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের মুহতাজ। এছাড়া কায়িনাতের অন্য কারো মুহতাজ নন; বরং কায়িনাতের সকলেই উনাদের মুহতাজ। সুবহানাল্লাহ! উনাদের সাথে কারো তুলনা করা যাবে না। সুবহানাল্লাহ!

উনাদের শান মুবারকেই সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ اَنَسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَـحْنُ اَهْلُ بَيْتٍ لَّا يُقَاسُ بِنَا اَحَدٌ.

অর্থ: “হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমরা মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম। আমাদের সাথে অন্য কারো তুলনা করা যাবে না।” সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! (দায়লামী ৪/২৮৩, জামি‘উল আহাদীছ ২২/২১৯, কানজুল উম্মাল ১২/১০৪, জাম‘উল জাওয়ামি’ ১/২৪৯৫০, যাখায়েরুল ‘উক্ববাহ ফী মানাক্বিবে যাওইল কুরবা লিমুহিব্বে ত্ববারী ১/১৭, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১১/৭ ইত্যাদি)

দুনিয়ার যমীন কখনোই মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের থেকে খালি নয়। উনারা সমস্ত কায়িনাতবাসীর জন্য নিরাপত্তাদানকারী

সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ عَـلِـىٍّ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَلنُّجُوْمُ اَمَانٌ لِّاَهْلِ السَّمَاءِ اِذَا ذَهَبَتِ النُّجُوْمُ ذَهَبَ اَهْلُ السَّمَاءِ وَاَهْلُ بَيْتِـىْ اَمَانٌ لِّاَهْلِ الْاَرْضِ فَاِذَا ذَهَبَ اَهْلُ بَيْـتِـىْ ذَهَبَ اَهْلُ الْاَرْضِ.

অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তারকারাজী আসমানবাসীর জন্য নিরাপত্তাদানকারী। যখন তারকারাজী বিদায় নিবে, তখন আসমানবাসীরাও ধ্বংস হয়ে যাবে। আর আমার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা হচ্ছেন যমীনবাসীর জন্য, তামাম কায়িনাতবাসীর জন্য নিরাপত্তাদানকারী। যখন আমার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বিদায় নিবেন, সাথে সাথে সমস্ত যমীনবাসী, সমস্ত কায়িনাতবাসী সকলেই ধ্বংস হয়ে যাবে।” সুবহানাল্লাহ! (ফাদ্বায়িলুছ ছাহাবাহ ২/৬৭১, আছ ছওয়ায়িকুল মুহরিক্বহ ২/৬৭৫, আল মু’জাম ১/৪০৪, মিরক্বাত শরীফ ৯/৩৯৮৮, যাখায়িরুল ‘উক্ববাহ ১/১৭, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১১/৭)

অপর বর্ণায় এসেছে-

عَنْ حَضْرَتْ سَلَمَةَ بْنِ الْاَكْوَعِ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَلنُّجُوْمُ اَمَانٌ لِّاَهْلِ السَّمَاءِ وَاَهْلُ بَيْتِـىْ اَمَانٌ لِّاُمَّتِـىْ.

অর্থ: “হযরত সালামাহ ইবনে আকওয়া’ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তারকারাজী হচ্ছে আসমানবাসীর জন্য নিরাপত্তাদানকারী। আর আমার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা হচ্ছেন আমার সমস্ত উম্মতের জন্য নিরাপত্তাদানকারী।” সুবহানাল্লাহ! (মুছান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ, মুসাদ্দাদ, আবূ ইয়া’লা, হাকিম, তিরমিযী, ত্ববারনী, ইবনে ‘আসাকির, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১১/৬, যাখায়িরুল ‘উক্ববাহ ১/১৭)

অপর বর্ণনায় রয়েছে,

اَلنُّجُوْمُ اَمَانٌ لِّاَهْلِ السَّمَاءِ وَاَهْلُ بَيْتِـىْ اَمَانٌ لِّاَهْلِ الْاَرْضِ فَاِذَا ذَهَبَ اَهْلُ بَيْـتِـىْ ذَهَبَ اَهْلُ الْاَرْضِ.

অর্থ: “তারকারাজী আসমানবাসীর জন্য নিরাপত্তাদানকারী। আর আমার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা হচ্ছেন যমীনবাসীর জন্য, তামাম কায়িনাতবাসীর জন্য নিরাপত্তাদানকারী। যখন আমার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বিদায় নিবেন, সাথে সাথে সমস্ত যমীনবাসী, তামাম কায়িনাতবাসী সকলেই ধ্বংস হয়ে যাবে।” সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে

عَنْ حَضْرَتْ عَـلِـىٍّ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَهْلُ بَيْتِىْ اَمَانٌ لِّاَهْلِ الْاَرْضِ كَمَا اَنَّ النُّجُوْمَ اَمَانٌ لِّاَهْلِ السَّمَاءِ فَوَيْلٌ لِّـمَنْ خَذَلَـهُمْ وَعَانَدَهُمْ.

অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা হচ্ছেন সমস্ত যমীনবাসীর জন্য, তামাম কায়িনাতবাসীর জন্য নিরাপত্তাদানকারী যেমন তারকারাজী আসমানবাসীর জন্য নিরাপত্তাদানকারী। সুবহানাল্লাহ! সুতরাং যারা আমার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের থেকে দূরে সড়ে যাবে এবং উনাদের বিরোধীতা করবে, তারা ধ্বংস হয়ে যাবে। না‘ঊযুবিল্লাহ!

ইমামুল মুহাদ্দিছীন মিনাল আউওয়ালিন ইলাল আখিরীন, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে যে বলা হয়েছেÑ তারকারাজী আসমানবাসীর জন্য নিরাপত্তাদানকারী। মূলত, এটা রূপক অর্থে বলা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা হচ্ছেন তারকারাজীসহ আসমানবাসী-যমীনবাসী, সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের জন্যই নিরাপত্তাদানকারী। সুবহানাল্লাহ! মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানার্থে, উনাদের উছীলায় ক্বিয়ামত পর্যন্ত এই উম্মত, সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী নিরাপত্তা লাভ করবে। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ ক্বিয়ামত পর্যন্ত সবসময় দুনিয়ার যমীনে মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা সম্মানিত অবস্থান মুবারক করবেন। আর উনাদের সম্মানার্থেই ক্বিয়ামত পর্যন্ত সমস্ত কায়িনাত টিকে থাকবে। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর যখনই উনারা দুনিয়ার যমীন থেকে বিদায় নিবেন, তখনই সমস্ত কায়িনাত ধ্বংস হয়ে যাবে।” সুবহানাল্লাহ!

এই বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়ে যায়, নি¤েœাক্ত সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মাধ্যমে। যেমন, সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,

عَنْ حَضْرَتْ عَـلِـىٍّ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَثَلُ اَهْلِ بَيْتِـىْ مَثَلُ النُّجُوْمِ كُلَّمَا مَرَّ نَـجْمٌ طَلَعَ نَـجْمٌ.

অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের দৃষ্টান্ত মুবারক হচ্ছেন তারকারাজীর ন্যায়। যখন কোন একটি তারকা বিদায় নেয়, সাথে সাথে আরেকটি তারকা উদিত হয়। অর্থাৎ যখন একজন মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিস সালাম তিনি মহাসম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন, সাথে সাথে আরেকজন মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত কুরবত মুবারক এবং উনার মূল নিয়ামত মুবারক ধারণকারীরূপে, উনার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে প্রকাশিত হন।” সুবহানাল্লাহ!

এই সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে-

مَثَلُ اَهْلِ بَيْتِىْ مَثَلُ النُّجُوْمِ كُلَّمَا مَرَّ نَـجْمٌ طَلَعَ نَـجْمٌ

অর্থ: “আমার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের দৃষ্টান্ত মুবারক হচ্ছেন তারকারাজির ন্যায়। যখন কোন একটি তারকা বিদায় নেয়, সাথে সাথে আরেকটি তারকা উদিত হয়। অর্থাৎ যখন একজন মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিস সালাম তিনি মহাসম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন, সাথে সাথে আরেকজন মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত কুরবত মুবারক এবং উনার মূল নিয়ামত মুবারক ধারণকারীরূপে প্রকাশিত হন, উনার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে প্রকাশিত হন।” সুবহানাল্লাহ!

প্রথমে মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের বিষয়টি তারকার সাথে মেছাল বা দৃষ্টান্ত দেয়া হয়েছে। তারপর বলা হয়েছে যে, যখই কোন একটি তারকা বিদায় নেয়, সাথে সাথে আরেকটি তারকা উদিত হয়। অর্থাৎ যখন একজন মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিস সালাম তিনি মহাসম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন,

সাথে সাথে আরেকজন মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিস সালাম তিনি উনার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে, মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত কুরবত মুবারক এবং উনাদের মূল নিয়ামত মুবারক ধারণকারীরূপে প্রকাশিত হন। এখানে ধারাবাহিকতা লঙ্ঘিত হয় না। সুবহানাল্লাহ!

এখানে বলা হয়েছে- كُلَّمَا مَرَّ نَـجْمٌ طَلَعَ نَـجْمٌ

অর্থ: “যখন কোন একটি তারকা বিদায় নেয়, সাথে সাথে আরেকটি তারকা উদিত হয়।”

প্রথমে كُلَّمَا مَرَّ نَجْمٌ বলার পর طَلَعَ نَجْمٌ বলার পূর্বে ف, ثُـمَّ (তারপর, অতঃপর, তখন) অথবা এরূপ অর্থ প্রদানকারী কোনো হরফ (অব্যয়) বা শব্দ ব্যবহার করা হয়নি। যদি ব্যবহার করা হতো, তাহলে হয়তো বুঝা যেতো যে, একটি তারকা বিদায় নেয়ার পর, কিছু সময় অতিবাহিত হয়, তারপর আরেকটি তারকা উদিত হয়। অর্থাৎ একজন মহাসম্মানিত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পর কিছু সময় অতিবাহিত হয়, কিছুটা সময় গ্যাপ বা খালি থাকে, তারপর আরেকজন মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিস সালাম উনার প্রকাশ ঘটে। কিন্তু না। এখানে কিন্তু তেমনটি বলা হয়নি। এখানে প্রথমে كُلَّمَا مَرَّ نَجْمٌ বলার পর طَلَعَ نَجْمٌ বলার পূর্বে ف, ثُـمَّ (তারপর, অতঃপর, তখন) অথবা এরূপ অর্থ প্রদানকারী কোনো হরফ (অব্যয়) বা শব্দ ব্যবহার করা হয়নি বা অন্য কোনো শব্দ বা হরফও (অব্যয়) ব্যবহার করা হয়নি। বরং كُلَّمَا مَرَّ نَجْمٌ বলার পর পরই طَلَعَ نَجْمٌ বলা হয়েছে। এরূপ বাক্য ব্যবহার করার মাধ্যমে এই বিষয়টিই স্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে যে, একটি তারকা বিদায় নেয়ার সাথে সাথেই আরেকটি তারকা উদিত হয়। এর মাঝে এক মুহূর্ত বা এক সেকেন্ড সময়ও গ্যাপ বা খালি থাকে না, অতিবাহিত হয় না। একটি তারকা বিদায় নিতে দেরি হয়, কিন্তু আরেকটি তারকা উদয় হতে দেরি হয় না। এখানে مَرَّ نَجْمٌ طَلَعَ نَجْمٌ এই বাক্যের পূর্বে كُلَّمَا ব্যবহার করে এই বিষয়ে আরো তাকীদ (জোর) দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ যখনই কোনো তারকা বিদায় নেয়, তার সাথে সাথে আরেকটি তারকা উদিত হয়। উভয় তারকার মাঝে এক সেকেন্ড বা এক মুহূর্ত সময়ও অতিবাহিত হয় না। সুবহানাল্লাহ! ঠিক একইভাবে যখনই একজন মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিস সালাম তিনি মহাসম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন, সাথে সাথে আরেকজন মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিস সালাম তিনি উনার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে মূল নিয়ামত মুবারক ধারণকারীরূপে প্রকাশিত হন। কেননা প্রথম জন তিনি মহাসম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পূর্বেই তিনি উনার আহলু বাইত শরীফ হিসেবে সম্মানিত কুরবত মুবারক এবং উনার সম্মানিত মূল নিয়ামত মুবারক দ্বিতীয়জন উনাকে হস্তান্তর করেন।

যার কারণে উনাদের উভয়ের মাঝে এক সেকেন্ড বা এক মুহূর্ত সময়ও খালি বা শুন্যতায় অতিবাহিত হয় না। সুবহানাল্লাহ! যদি তাই হয়, তাহলে দুনিয়ার যমীন কিভাবে মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের থেকে খালি থাকতে পারে? সুতরাং দুনিয়ার যমীন কখনও এক মুহূর্তের তরেও মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের থেকে খালি থাকার প্রশ্নোই উঠে না। সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার শুরুতে مَثَلُ أَهْلِ بَيْتِي مَثَلُ النُّجُومِ “আমার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের দৃষ্টান্ত মুবারক হচ্ছেন তারকারাজির ন্যায়।” সুবহানাল্লাহ! বলে এই বিষয়টিই স্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!

কাজেই আবুল বাশার সাইয়্যিদুনা হযরত আদম ছফীউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার থেকে শুরু করে এই পর্যন্ত দুনিয়ার যমীন কখনোই মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের থেকে খালি ছিলো না। ক্বিয়ামত পর্যন্ত সবসময়ই দুনিয়ার যমীনে মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা সম্মানিত অবস্থান মুবারক করবেন। যখন উনারা বিদায় নিবেন, তখন সমস্ত কায়িনাত ধ্বংস হয়ে যাবে। সুবহানাল্লাহ!

তবে জেনে রাখা আবশ্যক যে, মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে তিনটি স্তর মুবারক রয়েছেন। উনাদের মধ্যে প্রথম স্তর মুবারক-এ হচ্ছেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত হযরত ওয়ালিদাইন শরীফাইন আলাইহিমাস সালাম তথা উনার মহাসম্মানিত হযরত আব্বা-আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনারা। সুবহানাল্লাহ! দ্বিতীয় স্তর মুবারক-এ হচ্ছেন, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা। সুবহানাল্লাহ! তৃতীয় স্তর মুবারক-এ হচ্ছেন, মহাসম্মানিত হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা এবং মহাসম্মানিতা হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা এবং উনাদের মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম ও আলাইহিন্নাস সালামগণ উনারা। সুবহানাল্লাহ!

আর ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম ও আলাইহিন্নাস সালাম উনারা এবং ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম ও আলাইহিন্নাস সালাম উনারা প্রত্যেকেই মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ!

তবে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত কুরবত মুবারক এবং উনার সম্মানিত মূল নিয়ামত মুবারক উনার মহাসম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান মুছান্না আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমে এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত কুরবত মুবারক এবং উনার সম্মানিত মূল নিয়ামত মুবারক উনার মহাসম্মানিত আওলাদ ইমামুর রাবি’ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম যাইনুল আবিদীন আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমে জারী থাকেন। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর এইভাবে বংশানুক্রমে মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত কুরবত মুবারক এবং উনার সম্মানিত মূল নিয়ামত মুবারক উনার ধারাবাহিকতায় মহাসম্মানিত সিলসিলা মুবারক এই পর্যন্ত জারি রয়েছেন এবং ক্বিয়ামত মুবারক জারি থাকবেন। সুবহানাল্লাহ!

আর সেই সম্মানিত মুবারক ধারাবাহিকতায় বর্তমান যামানায় দুনিয়ার যমীনে মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম হিসেবে সম্মানিত তাশরীফ মুবারক নিয়েছেন, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি এবং উনার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা। সুবহানাল্লাহ! উনারা হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আখাচ্ছুল খাছ মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ! শুধু তাই নয়, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি হচ্ছেন মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে আখাচ্ছুল খাছ মহাসম্মানিত বিশেষ ব্যক্তিত্ব মুবারক এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একক ও অদ্বিতীয় হাক্বীক্বী কায়িম মাক্বাম। সুবহানাল্লাহ! আর মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের হাক্বীক্বী কায়িম মাক্বাম। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত সিলসিলা মুবারক এবং ইলমে তাছাউফ

উনার সম্মানিত সিলসিলা মুবারক উনাদের মধ্যে পার্থক্য

ইলমে তাছাউফ উনার সম্মানিত সিলসিলা মুবারক: একজন ওলীআল্লাহ তিনি উনার সম্মানিত বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার পূর্বে উনার সম্মানিত মূল নিয়ামত মুবারক উনার খাছ মুরীদকে হাদিয়া করে যান। তিনি আবার উনার খাছ মুরীদকে, তিনি আবার উনার খাছ মুরীদকে। এইভাবে ইলমে তাছাউফ বা ওলীআল্লাহ উনাদের সম্মানিত নিয়ামত মুবারক বা সিলসিলা মুবারক উনার বিষয়টি এসেছেন। আর সেই খাছ মুরীদ স্বীয় সন্তানও হতে পারেন। আবার অন্য কোন ব্যক্তিও হতে পারেন। এখানে সন্তান হওয়া শর্ত নয়। আমরা যদি তাছাউফের সিলসিলা মুবারক উনার দিকে তাকাই, তাহলে দেখতে পাবো যে, একজন ওলীআল্লাহ উনার মূল নিয়ামত মুবারক স্বীয় সন্তান লাভ না করে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে খাছ মুরীদ উনারাই লাভ করেছেন। এর ব্যতিক্রম খুবই কম ঘটেছে। যেমন, হযরত খাজা উছমান হারূনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চীশতী আজমিরী সানজিরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি, হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চীশতী আজমিরী সানজিরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে হযরত কুতুবুদ্দীন বখতিয়ার কাকী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি, হযরত কুতুবুদ্দীন বখতিয়ার কাকী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বাবা ফরীদুদ্দীন মাস‘ঊদ গঞ্জেশোকর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি, বাবা ফরীদুদ্দীন মাস‘ঊদ গঞ্জেশোকর রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে মাহবূবে এলাহী হযরত নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি, মাহবূবে এলাহী হযরত নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে সিরাজুদ্দীন আখি উছমান আওদাহী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি অর্থাৎ উনারা প্রত্যকে খাছ মুরীদ হিসেবে সম্মানিত শায়েখ উনার থেকে সম্মানিত মূল নিয়ামত মুবারক হাছিল করেছেন। সুবহানাল্লাহ! উনারা কেউ কারো সন্তান ছিলেন না। বরং একজন আরেকজনের মুরীদ ছিলেন। অর্থাৎ উনাদের মাঝে পিতা-পুত্রের সম্পর্ক ছিলো না; বরং শায়েখ-মুরীদের সম্পর্ক ছিলো। সুবহানাল্লাহ! এভাবে ইলমে তাছাউফের সিলসিলা মুবারকগুলো এই পর্যন্ত এসে পৌঁছেছে। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত সিলসিলা মুবারক: আমরা পূর্বেই আলোচনা করেছি যে, মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে তিনটি স্তর মুবারক রয়েছেন। উনাদের মধ্যে প্রথম স্তর মুবারক-এ হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত হযরত আব্বা-আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনারা। সুবহানাল্লাহ!

দ্বিতীয় স্তর মুবারক-এ হচ্ছেন হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা। সুবহানাল্লাহ! তৃতীয় স্তর মুবারক-এ হচ্ছেন মহাসম্মানিত হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা এবং মহাসম্মানিতা হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা এবং উনাদের মহসম্মানিত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম ও আলাইহিন্নাস সালাম উনারা। সুবহানাল্লাহ! আর ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম ও আলাইহিন্নাস সালাম উনারা এবং ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম ও আলাইহিন্নাস সালাম উনারা প্রত্যেকেই মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ! তবে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত কুরবত মুবারক এবং উনার সম্মানিত মূল নিয়ামত মুবারক উনার মহাসম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান মুছান্না আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমে এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত কুরবত মুবারক এবং উনার সম্মানিত মূল নিয়ামত মুবারক উনার মহাসম্মানিত আওলাদ ইমামুর রাবি’ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম যাইনুল আবিদীন আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমে জারী থাকেন। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর এইভাবে বংশানুক্রমে মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত কুরবত মুবারক এবং উনার সম্মানিত মূল নিয়ামত মুবারক উনার ধারাবাহিকতায় মহাসম্মানিত সিলসিলা মুবারক এই পর্যন্ত জারি রয়েছেন এবং ক্বিয়ামত পর্যন্ত জারি থাকবেন। সুবহানাল্লাহ!

উল্লেখ্য যে, একই যামানায় একাধিক আহলু বাইত শরীফ থাকতে পারেন। তবে মূল থাকবেন একজন। সুবহানাল্লাহ!

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে