মহাসম্মানীত যাকাত ব্যবস্থা


Zakat
*** ১. যাকাত অর্থ কি?
যাকাত অর্থ বরকত বা বৃদ্ধি, পবিত্রতা বা পরিশুদ্ধি। অর্থাৎ যাকাতের সাথে যারা সংস্লিষ্ট হবেন তাদের বরকত ও বৃদ্ধি হবে এবং পবিত্রতা ও পরিশুদ্ধি হাছিল হবে।
কোথায় হবে?
মালী, জীসমানী এবং রূহানী।
‘মালী’ হচ্ছে মাল-সম্পদ। মাল-সম্পদে বরকত হবে, বৃদ্ধি হবে, পবিত্রতা ও পরিশুদ্ধি হবে।
‘জীসমানী’ হচ্ছে তার দৈহকভাবে বৃদ্ধি হবে, তার সুস্থতা থাকবে, সব ধরনের পবিত্রতা হাছিল হবে। কোন বর্ধন তার হারাম থেকে হবে না।
‘রূহানী’ বৃদ্ধি হচ্ছে তার তাজকিয়া অর্জন হবে, রূহানী যে বাধাসমূহ থাকে তা কেটে যাবে। আর রূহানী পবিত্রতা মানেই হচ্ছে সে কামালিয়াত অর্জন করে আল্লাহওয়ালা হয়ে যাবে। সুবাহানাল্লাহা!

***যাকাত: যদি কারও নিছাব পরিমাণ সম্পত্তি অর্থাৎ ৭.৫ ভরী সোনা অথবা ৫২.৫ ভরী রূপা অথবা তার সমতুল্য পরিমাণ অর্থ যদি কারও কাছে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদী বাদ দিয়ে এক বছর ধরে অতিরিক্ত থাকে তখন তার উপর যাকাত দেওয়া ফরয।
কে দিবে? যিনি মালিকে নিছাব তিনি যাকাত দিবেন। কতটুকু দিবে? ৪০ ভাগের ১ ভাগ, অর্থাৎ শতকরায় ২.৫%। কখন দিবে? প্রত্যেক হিজরী বছরে ১ বার। মালে তেজারতের নিছাব পূর্ণ হলেও যাকাত দিতে হবে।

***২. ফিতরা: ফিতরা ও এক প্রকার যাকাত। যাকে ‘ছদকাতুল ফিতরা’ বা ‘যাকাতুল ফিতরা’ ও বলা হয়। ফিতরা শব্দটা এসেছে ‘ইফতার’ থেকে। ইফতার হচ্ছে রোজা বিরতী দেওয়া। আমরা ঈদের দিন রোজা বিরতী করি, অর্থাৎ ঈদের দিন সুবেহ সাদিকের সময় ফিতরা ওয়াজিব হয়। পরিবারের সবাইকে অর্থাৎ পুরুষ-মহিলা, ছোট-বড়, গোলাম-আযাদ সবাইকে ফিতরা দিতে হবে।
কে দিবে? যিনি পরিবারের কর্তা তিনি ফিতরা দিবেন। কতটুকু দিবে? ১৬৫৭ গ্রাম আটা বা তার মূল্য। কখন দিবে? রোজা শেষ হলে ঈদের নামাজের আগেই ফিতরা দিতে হয়। তবে হযরত সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা’লা আনহুম উনাদের সুন্নত ছিল রমজান মাসের শেষ দিকে অর্থাৎ রমজানের মধ্যেই ফিতরা আদায় করে ফেলা ৭০ গুণ বেশি ফযীলত। তা না হলে রোজার মধ্যে যে ভুল-ত্রুটি থাকে সে কারনে রোজা আসমান ও যমীনের মাঝে ঝুলতে থাকে এবং মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে তা কবুল হয় না। কাজেই যথাসময়েই ফিতরা আদায় করতে হবে।

***৩. উশর: উশর শব্দটি এসেছে ‘আশরাতুন’ শব্দ থেকে। যার অর্থ হচ্ছে ১০ ভাগের ১ ভাগ। উশর হচ্ছে ফল-ফসলাদির যাকাত।
عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ عَنِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فِيْمَا سَقَتِ السَّمَاءِ وَالْعُيُوْنِ اَوْ كَانَ عَثَرِيًّا اَلْعُشْرُ وَمَا سُقِىَ بِالنَّضْحِ نِصْفُ الْعُشْرِ.
সম্মানিত হানাফী মাযহাব মতে পবিত্র উশর উনার কোন নিছাব নেই। বিনা পরিশ্রমে যমীন থেকে উৎপাদিত ফল-ফসলাদির ১০ ভাগের ১ ভাগ বা তার মূল্য প্রদান করতে হবে। যেমন: বাড়ীর আঙ্গিনায় একটি আম গাছে কোন পরিশ্রম ছাড়াই বছরের পর বছর আম হয়। এক্ষেত্রে, ১০০ টি আম হলে উশর দিতে হবে ১০টি আম বা তার মূল্য। আর পরিশ্রম করে ফল-ফসলাদি ফলানো হলে তখন ২০ ভাগের ১ ভাগ বা তার মূল্য প্রদান করতে হবে। যেমন: ধান, গম ইত্যাদির ক্ষেত্রে। যদি কোন জমিতে ১০০ মণ ধান হয় তবে উশর দিতে হবে ৫ মণ বা তার মূল্য।
কে ‍দিবে? ‍যিনি ফল-ফসলাদির অর্থাৎ জমির মালিক তিনি উশর দিবেন। কতটুকু দিবে আমরা জানলাম অর্থাৎ বিনা পরিশ্রমে হলে ১০ ভাগের ১ ভাগ। আর পরিশ্রম করে হলে ২০ ভাগের ১ ভাগ। কখন দিবে? যখন ফল-ফসলাদি তোলা হবে তখনই উশর বা নিছফে উশর দিতে হবে। এবং যতবার ফল-ফসলাদি তোলা হবে ততবারই তার উশর বা নিছফে উশর দিতে হবে।
وَاٰتُوا حَقَّهٗ يَوْمَ حَصَادِهٖ ۖ
অর্থ: তোমরা ফসল কাটার সময় তার হক (উশর) আদায় করো।
ফসল কাটার সময় উশর আদায় করতে হবে। আনজুমান ভিত্তিক উশর সংগ্রহ করতে হবে। যাকাতের মতই উশর ফরয। উশর আদায় না করলে সমস্ত ফল-ফসলাদি নষ্ট হয়ে যাবে।

পবিত্র উশর আদায়ের উদাহরণ: যখনই কোন ফল-ফসল উৎপন্ন হবে তখনই নীচের ছকে লিখে ফেলতে হবে।

নং জমির বর্ণনা ফল/ ফসল উৎপাদনের সময় (মাস/ তারিখ) ফল/ ফসলের নাম উৎপন্ন ফল/ ফসলের পরিমাণ ওশর
বিনা পরিশ্রমে উৎপাদিত ফল ফসলের ক্ষেত্রে
(১০ ভাগের ১ ভাগ) নিছফে-ওশর
পরিশ্রম করে উৎপাদিত ফসলের ক্ষেত্রে (২০ ভাগের ১ ভাগ) ফল / ফসলের বাজার দর
(টাকা ) ওশর / নিছফে-ওশর বাবদ বিক্রয়কৃত অর্থ (টাকা)
১ বাড়ির আঙ্গিনা আম ৫০০ টি ৫০ টি X ১০ ৫০০
২ অমুক জমি-১ বিঘা ধান ১০০ মণ X ৫ মণ ৮০০ ৪০০০

*** إِيْتَاءُ الزَّكَاةِ – অর্থ কি?
শব্দটি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি ৩২ বার উচ্চারণ করেছেন। এর অর্থ হচ্ছে- ১. যাকাত আদায় করা (নিজের ও অন্যের) এবং ২. প্রদান করা (হক্ব স্থানে)। প্রথমে নিজের থেকে যাকাত আদায় করতে হবে যদি সেটা নিজের উপর ফরয-ওয়াজিব হয়। যদি নিজের উপর যাকাত ফরয না ও হয় তাহলেও তাকে যাকাত আদায় করতে হবে। তার প্রতিবেশি, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, পরিচিতজন সকলের কাছ থেকে যাকাত আদায় করতে হবে। এটা মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশ।
যাকাত শুধু আদায় করলেই হবে না, যাচাই করে হক্ব স্থানে প্রদানের ব্যবস্থাও করতে হবে; যেখানে দিলে মহান আল্লাহ পাক খুশি হন। আর বর্তমানে হক্ব স্থান আছে মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ ইয়াতীমখানা ও লিল্লাহবোর্ডিং – যা যাকাত, ফিতরা, উশর প্রদানের শ্রেষ্ঠ ও একমাত্র হক্ব স্থান। যেখানে যাকাত দিলে তা নিঃসন্দেহে কবুল হবে। সুবাহানাল্লাহ!
যাকাত দিলে কি কি নিয়ামত লাভ করা যায়,
পবিত্র সূরা তওবা শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ ১০৩:
خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِم بِهَا وَصَلِّ عَلَيْهِمْ ۖ إِنَّ صَلَاتَكَ سَكَنٌ لَّهُمْ ۗ وَاللهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ
অর্থ: “(ইয়া রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনি তাদের মাল-সম্পদ থেকে গ্রহণ করুন, আপনি তাদেরকে পবিত্র করুন ও পরিশুদ্ধ করুন এবং তাদের জন্য দু’আ করুন। কেননা আপনার দু’আ মুবারক তাদের জন্যে প্রশান্তি ও কামিয়াবীর কারণ হবে। মহান আল্লাহ পাক তিনি সব কিছু শোনেন এবং সব কিছু জানেন।”
(১) ত্বহারাত বা পবিত্রতা অর্জন হয় (২) তাযকিয়া বা পরিশুদ্ধি হাছিল হয় (৩) সর্বশ্রেষ্ঠ দোয়া মুবারক পাওয়া যায় ও (৪) প্রশান্তি লাভ হয়-দুনিয়া ও আখিরাতে কামিয়াব অর্জন হয়।

***গুরুত্ব ও ফযীলত:

***১. ঈমান: ঈমান অর্থ বিশ্বাষ। সব কিছুর মূল হচ্ছে ঈমান। আমরা সব ছেড়ে দিতে রাজি আছি কিন্তু ঈমান ছাড়া যাবে না। কেননা ঈমান ছাড়লে জাহান্নামে যেতে হবে। নাঊযূবিল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক ঈমানের সাথে যাকাতকে জড়িত করে দিয়েছেন। পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
اَلَّذِينَ لا يُؤْتُونَ الزَّكٰوةَ وَهُم بِالٰاخِرَ‌ةِ هُمْ كٰفِرُ‌ونَ.
অর্থ: যারা পবিত্র যাকাত প্রদান করে না, আর তারাই পরকাল অবিশ্বাসী। অর্থাৎ তারা কাফির। (পবিত্র সূরা হা-মীম সাজদাহ শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ ৭)

যাকাত আদায় না করলে: সুতরাং যে যাকাত আদায় করবে না (নিজের এবং অন্যের) এবং হক্ব স্হানে তা প্রদান করবে না তার কোন ঈমান নাই । সে আখিরাতে বিশ্বাষ করে না। আর যে আখিরাতে বিশ্বাষ করে না সে মহান আল্লাহ পাক উনাকে বিশ্বাষ করে না। যে আখিরাতে বিশ্বাষ করে না সে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বিশ্বাষ করে না। যে আখিরাতে বিশ্বাষ করে না সে নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে বিশ্বাষ করে না। যে আখিরাতে বিশ্বাষ করে না সে ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে বিশ্বাষ করে না। যে আখিরাতে বিশ্বাষ করে না সে জান্নাত-জাহান্নামে বিশ্বাষ করে না। সে কাট্টা কাফির, চির জাহান্নামী।
যাকাত আদায় করলে: কেউ যদি সঠিকভাবে যাকাতের আনজাম দেয় তাহলে সে দলীলসহ দৃঢ় ঈমানদার।
পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَهُم بِالْآخِرَةِ هُمْ يُوقِنُونَ
অর্থ: যারা নামায কায়েম করে ও যাকাত প্রদান করে, আর তারা আখেরাত সন্বন্ধে স্বয়ং দৃঢ়বিশ্বাস রাখে। (পবিত্র সুরা শরীফ আন নহল, পবিত্র আয়াত শরীফ ৩)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- والزَّكَوةُ بُرْهَانٌ
অর্থ: “যাকাত হচ্ছে সম্মানীত ঈমান উনার দলীল” (পবিত্র নাসায়ী শরীফ)
দলিল না থাকলে যেমন জমির মালিকানা প্রমানিত হয় না, তেমনিভাবে যাকাতের কাজ যে করবে না সে যে ঈমানদার তা প্রমানিত হয় না। যাকাতের কাজ থেকে যে দূরে দূরে থাকবে সে ঈমানদার নয়। আর যে যাকাতের কাজ করবে সে দলিলসহ পুর্ণ ঈমানদার। সুবাহানাল্লাহ!

***২. আমল: পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক সরাসরি ৩২ বার যাকাতের কথা উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে ২৬ বার নামাযের সাথে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া ‘ইনফাকা’ শব্দ দিয়ে ৪৩ বার এবং ‘ছদক্বা’ শব্দ দিয়ে ৯ বার মোট ৮৪ বার যাকাত শব্দটি মহান আল্লাহ পাক কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ করেছেন। এছাড়াও পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ১৫০ বারেরও অধিক খরচের বিষয়ে বলা হয়েছে। এত অধিক আর কোন বিষয়ে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ করা হয়নি। যাকাত ফরয তো বটেই বরং অনেক দৃঢ় একটি ফরয। সাধারন অফিসের মালিক যদি তার কর্মচারীকে ১ বার আদেশ করে তুমি এই কাজটি কর; তাহলে কর্মচারী বেচুইন হয়ে যায় কিভাবে সে কাজটি করবে। সুতরাং মহান আল্লাহ পাক যিনি ‘রব্বুল আলামীন’ তিনি যেহেতু এত বার আদেশ করলেন তাহলে আমাদের এ ব্যাপারে অনেক বেশি সচেতন হওয়া উচিৎ।
যাকাত আদায় না করলে: ফরযের বিপরীত হচ্ছে হারাম। ফরয যেটা ছিল (যাকাত, ফিতরা, উশর) তা যদি কেউ না দিয়ে ভক্ষণ করে তাহলে সে হারাম ভক্ষণ করলো। হারামের ফলাফল হচ্ছে ১. সমস্ত খাওয়া-খাদ্য তার হারাম হয়ে যাবে। তার কোন ইবাদত-বন্দেগী, দোয়া-মুনাজাত কবুল হবে না এবং ২. পরকালে সে নিশ্চিত জাহান্নামী হবে। যেমন এক গ্লাস পানিতে এক ফোটা নাপাক জিনিস মিশ্রিত করলে গ্লাসের সমস্ত পানিই নাপাক হয়ে যায় তেমনই মাল-সম্পদ, খাওয়া-খাদ্য সমস্ত কিছু হারাম হয়ে যাবে।
যেমন কারও ১০ হাজার টাকা যাকাত হলো। এখন সে কোন কারন বশত ১ টাকা কম দিলো। তাহলে যেখানেই সে হাত দিবে সেখানেই তার ১ টাকার একটা অংশ রয়ে গেছে। অর্থাৎ তার সমস্ত মাল-সম্পদই হারাম হয়ে যাবে। যদি কারও ঈমান না থাকে তাহলে তার কোন আমলই কবুল হবে না। সমস্ত আমলই তার বরবাদ হয়ে যাবে। নাঊযূবিল্লাহ! যারা যাকাতের কাজ করবে না তাদের নামায কবুল হবে না। ১ বছরে ২১০০ ওয়াক্ত নামাজ কোনটাই তার কবুল হবে না। ১ ওয়াক্ত নামাজ কাযা করলে ৮০ হুকবা। ১ হুকবা = ২ কোটি ৮৮ লক্ষ বছর। সুতরাং কোটি কোটি বছর আগুনে জ্বলার জন্য সে উপযুক্ত হয়ে গেল। এটা নামাজের ক্ষেত্রে। আর অন্যান্য যে সমম্ত আমল আছে কোন আমলই তার কবুল হবে না। নাঊযূবিল্লাহ!
অযু ছাড়া যেমন নামায কবুল হয় না। বাহ্যিক পবিত্রতা লাগে নামায কবুল হওয়ার জন্য, তেমনি মালী, জীসমানী, এবং রূহানী পবিত্রতা ছাড়া কোন ইবাদতই কবুল হবে না।
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
لاَيَدْخُلُ الْـجَنَّةَ جَسَدُ غُذِىَ باِلْـحَرَامُ
“ঐ দেহ বা শরীর বেহেশতে প্রবেশ করবে না, যা হারাম খাদ্য দ্বারা গঠিত।”(শুআবুল ঈমান মিশকাত শরীফ) ফলে হারাম হতে বর্ধিত এক টুকরা গোশতও জান্নাতে যাবে না, জাহান্নামে যাবে।
এছাড়া পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “যে ব্যক্তি পবিত্র যাকাত প্রদান করে না, তার নামায কবুল হয় না”(তাফসীরে কুরতবী, রুহুল মায়ানী, তাফসীরে খযীন ও বাগবী শরীফ, পবিত্র আততারগীব ওয়াত তারহীব শরীফ)।
মূলত হারাম ভক্ষণ করার ফলে কোন ইবাদত-বন্দেগী, দোয়া-মুনাজাত কবুল হবে না।

যাকাত আদায় করলে: কেউ যদি যাকাত যথাযথভারে আদায় করে (নিজের এবং অন্যের) এবং তা হক্ব স্থানে প্রদান করে তাহলে মালী, জীসমানী ও রূহানী ৩ প্রকার পবিত্রতাই তার হাছিল হবে। মহান আল্লাহ পাক তার অন্তরের ভিতরে হুযুরী ক্বলব তৈরী করে দিবেন। সমস্ত ইবাদত বন্দেগীই তার কবুল হবে। সুবাহানাল্লাহ!

***৩. স্বচ্ছলতা: আমাদের টাকা-পয়সা দরকার। এটা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। দিনার-দিরহাম ছাড়া এই জামানায় কোন ফায়দা হাছিল করা যায় না। আমাদের এই যে টাকা-পয়সা দরকার তাহলে তা কোথায় পাবো?
نَحْنُ قَسَمْنَا بَيْنَهُم مَّعِيشَتَهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا
অর্থ: তারা কি আপনার পালনকর্তার রহমত বন্টন করে? আমি তাদের মধ্যে তাদের জীবিকা বন্টন করেছি পার্থিব জীবনে এবং একের মর্যাদাকে অপরের উপর উন্নীত করেছি, যাতে একে অপরকে সেবক রূপে গ্রহণ করে। তারা যা সঞ্চয় করে, আপনার পালনকর্তার রহমত তদপেক্ষা উত্তম। (পবিত্র সূরা আয-যুখরুফ, পবিত্র আয়াত শরীফ ৩২)
তাহলে মুসালমানদের এত অভাব কেন? কারণ হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক বণ্টন করে যেখানে রেখেছেন সেখানে সে যায় না। যেখানে তার রাখা আছে সেখানে তাকে যেতে হবে পেতে হলে। কিন্তু সে যদি না যায় তাহলে তা পাবে না।
মহান আল্লাহ পাক আমাদের সমৃদ্ধির জন্য যাকাতের ব্যবস্থা রেখেছেন। কিন্তু কেউ যদি যাকাত ব্যবস্থার কাজে না থাকে তাহলে সে কোনদিনই সচ্ছল হতে পারবে না। প্রকৃত সচ্ছল হতে হলে ১. ধন-সম্পদ থাকতে হবে ২. সকল চাহিদা মিটতে হবে এবং ৩. অন্তরে পরিতৃপ্তি থাকতে হবে।
একটা মানুষের কোটি-কোটি টাকা থাকতে পারে, কিন্তু রাতে তার ঘুম আসে না। কারণ কি? কারণ হচ্ছে তার চাহিদা পূরণ হয়নি। কোটি-কোটি টাকা, কোটি-কোটি চাহিদা, কোটি কোটি পরিমানে সে দরিদ্র। কাজেই একটি মানুষের বাহ্যিকভাবে যেমন টাকা-পয়সার প্রয়োজন তেমনি অন্তরের সচ্ছলতার প্রয়োজন, অন্তরের পরিতৃপ্তি প্রয়োজন। এ তিনটি ছাড়া কেউ কোনদিন ধনী হতে পারবে না। আর এ তিনটির একমাত্র সম্মেলন ঘটেছে যাকাতের মাধ্যম দিয়ে। সুবাহানাল্লাহ! যে ব্যক্তি যাকাতের আনজাম দিবে মহান আল্লাহ পাক তার বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীন উভয় প্রকার পরিতৃপ্তি দান করবেন। তার মাল-সম্পদ অনেক গুনে বাড়িয়ে দিবেন। সুবাহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
وَمَا آتَيْتُم مِّن زَكَاةٍ تُرِيدُونَ وَجْهَ اللَّـهِ فَأُولَـٰئِكَ هُمُ الْمُضْعِفُونَ
অর্থ: “আর তোমরা যারা যাকাত দ্বারা মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি কামনা কর; তারাই ঐ সম্পদ বহুগুণ প্রাপ্ত হবে।”(পবিত্র সূরা রূম শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ ৯৩)
যে ব্যক্তি যাকাতের আনজাম দিবে মহান আল্লাহ পাক তাকে ‘মুদ্বইফূন’দের অর্ন্তভূক্ত করে দিবেন। মুদ্বইফূন শব্দটি ‘ইসমে ফায়েল’ যার অর্থ হচ্ছে কর্তা। অর্থাৎ যে কাজ ঘটায়। মুদ্বইফূন শব্দটা এসেছে সমৃদ্ধি বোঝাতে। যে যাকাতের কাজ করবে (আদায় ও প্রদান) তিনি নিজে সমৃদ্ধিশীল হয়ে যাবেন এবং তিনি যেহেতু কর্তা সুতরাং তিনি অন্যদেরকেও সমৃদ্ধি দান করবেন। সুবাহানাল্লাহ! অস্থায়ী নয়, স্থায়ীভাবে জান্নাতী এবং চূড়ান্ত ‘দিদার’ মুবারক লাভ।
কাজেই যাকাত ব্যবস্থার আনজাম দেওয়া ছাড়া কেউ কোনদিন ধনী হতে পারবে না।
কাফতান: বাস্তবে এরকম অনেক উদাহরন রয়েছে। যেমন- হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি জিহাদ করে যাকাত ব্যবস্থা জারি করেছিলেন। হযরত ফারুকে আযম আলাইহিস সালাম তিনি হিসাব করে করে যাকাত আদায় করতেন। হযরত যুন্নুরাইন আলাইহিস সালাম উনার সময় এমন অবস্থা যে তখন ঘরে ঘরে কোটি-কোটি দিনার-দিরহাম। সুবাহানাল্লাহ!
হযরত আবু হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু তা’লা আনহু উনার থেকে বর্ণিত-তিনি দিনের পর দিন ক্ষুধার্ত অবস্থায় না খেয়ে মাটি কামড়ে পড়ে আছেন যে উনাকে কে একটু দাওয়াত দিয়ে খাওয়াবে। তিনি বর্ণনা করেন-হযরত যুন্নুরাইন আলাইহিস সালাম উনার খিলাফতকালে আমাদের তখন এত ধন-সম্পদ যে আমরা তখন নাকের ময়লা পরিষ্কার করি কাফতানের কাপড় দিয়ে। সুবাহানাল্লাহ! কাফতানের কাপড় রাজা-বাদশারা একসময় তাদের পোষাক হিসেবে ব্যবহার করতো। (তুরষ্কের ‘টপকাপি ’মিউজিয়ামে সেম্পল রাখা আছে)। রাজা-বাদশাদের কাপড় দিয়ে যদি নাকের ময়লা পরিষ্কার করা হয় তাহলে অন্যান্য বিষয়গুলো তারা কত দামী জিনিস দিয়ে ব্যবহার করেছেন। সুবাহানাল্লাহ!
তখন এত ধন-সম্পদ, এত ঐশ্বর্য যে হযরত সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা’লা আনহুম উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে কান্নাকাটি করেছেন যে হায় আল্লাহ পাক আমরা কি দুনিয়ার বুকেই জান্নাত পেয়ে গেলাম? পরকালে আমরা আসল জান্নাত পাবো তো ! সুবাহানাল্লাহ! কাজেই এটা ফিকির করতে হবে যে মহান আল্লাহ পাক কুদরতীভাবে সে ব্যবস্থা জারি করে দিবেন। সুবাহানাল্লাহ! এটা কোন মানবরচিত যেমন ‘সোসালিজম’ বা ‘ক্যাপিটালিজম’ কোনোটা দিয়েই অর্জন করা সম্ভব নয়। মুসলমানদেরকে মহান আল্লাহ পাক যে যাকাত ব্যবস্থা দিয়েছেন এই যাকাত ব্যবস্থা কায়েম না হওয়া পর্যন্ত কোনদিন সচ্ছলতা আসবে না।

***৪. বুনিয়াদ বা স্তম্ভ (শান্তির ঘর উনার): যাকাত পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার ৩য় স্তম্ভ। ৫ টি স্তম্ভের মধ্যে মধ্যবর্তী স্তম্ভ।
بُـنِيَ الإِسْلاَمُ عَلَى خَمْسٍ شَهَادَةِ أَنْ لَّا اِلٰهَ اِلَّا اللهُ وَاَنَّ مُـحَمَّداً رَسُوْلُ اللهِ وَاقَام لصَّلاَةِ وَايْتَاءِ الزَّكَاةِ وَحَجِّ الْبَيْتِ وَصَوْمِ رَمَضَانَ
অর্থ: পবিত্র ইসলাম উনার ভিত্তি পাঁচটি যথা- (১) সাক্ষ্য দেয়া যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যাতীত কোনো ইলাহ নেই এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল (২) নামায কায়িম করা (৩) যাকাত আদায় করা (৪) হজ্জ করা (৫) এবং রমাদ্বান শরীফ উনার রোযা রাখা।”(বুখারী শরীফ)
পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার ৫টি স্তম্ভের মধ্যে ৩য় বা মধ্যবর্তী স্তম্ভ যাকাত যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যাকাত ছাড়া দ্বীন ইসলাম নামক ঘর প্রতিষ্ঠিত করা ও টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। একটি খুঁটি না থাকলে ঘর সেদিকে কাত হয়ে যায়। আর মাঝখানের খুঁটি যদি না থাকে তাহলে ঘর ধ্বসে পড়বে।
শান্তির ঘর কত বড়!!!
الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا ۚ
অর্থ: আজ আমি তোমদের দ্বীন ইসলামকে পরিপুর্ণ করে দিলাম এবং তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামতকে পুর্ন করে দিলাম এবং আমি তোমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে মনোনীত করে সন্তুস্টি করর দিলাম। (পবিত্র সুরা মায়িদা শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ ৩)

***যাকাত না দিলে কি হয়?
মাল-সম্পদ নষ্ট হয়: সম্মানীত যাকাত উনাকে বন্দী করলে-
قَالَ حَضْرَتْ عُمَرُ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ “مَا تُلِفَ مَالٌ فِـىْ بَرٍّ وَلَا بَـحْرٍ اِلَّا بِـحَبْسِ الزَّكَاةِ”.
অর্থ: হযরত উমর ইবনুল খত্ত্বাব আলাইহিস সালাম তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, স্থলে এবং পানিতে যেখানেই কোন সম্পদ ধ্বংস হয়, তার কারণ যাকাত বন্ধ আছে । (পবিত্র তবারানী শরীফ)
বন্দী/অবরুদ্ধ হয় কিভাবে? আদায় (চিঠি বিলি…Wink, প্রদান ঠিকমত না করলে।
عَنْ اُمُّ الْـمُؤْمِنِيْنَ حَضْرَتْ عَائِشَةَ صِدِّيْقَ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ سَـمِعْتُ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ مَا خَالَطَتِ الزَّكٰوةُ مَالًا قَطُّ اِلَّا أهَلَكَتْهُ.
অর্থ: উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, আমি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলতে শুনেছি, যে মালে যাকাত মিশবে নিশ্চয়ই তাকে ধ্বংস করে দিবে। (বুখারী শরীফ)

মাল-সম্পদ ধ্বংস হয়: মিশ্রিত করে রাখলে-
وَالْـحُمَيْدِيُّ وَزَادَ قَالَ يَكُوْنُ قَدْ وَجَبَ عَلَيْكَ صَدَقَةٌ فَلَا تَـخْرُجُهَا فَيَهْلِكُ الْـحَرَامُ اَلْـحَلَالَ.
ইমাম হুমায়দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “যে মালে যাকাত দেয়া হয়নি অথচ সে মালের যাকাত ফরয ছিল তা অন্য মালের সাথে সংমিশ্রন করলে উভয় মালই ধ্বংস হবে।” (মিশকাত শরীফ)

***প্রদান করলে:
মাল-সম্পদ বহুগুন বৃদ্ধি পাবে: যদি কেউ যাকাতের আনজাম দেয় তাহলে তার মাল-সম্পদ বহুগুন বৃদ্ধি পাবে। কতগুন বৃদ্ধি পাবে? ১-এ ৭০০, ৭ হাজার, লক্ষ, কোটি, বিলিয়ন, ট্রিলিয়ন…….হিসাব ছাড়া। এমন অধিক যা তিনিই শুধু অবগত।

গ্রহণ করারমত কেউ নেই: হযরত ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার খিলাফতকালে মাত্র আড়াই বছর তিনি খিলাফত পরিচালনা করেছেন। আড়াই বছর শেষ হয়নি এর মধ্যেই উনার গভর্নররা উনার কাছে চিঠি লিখেছেন-সবার ঘরে এত ধন-সম্পদ যে আমাদের কাছে যাকাত, ফিতরা, উশর নিতে কেউ আসে না। এখন আমরা কি করবো? তিনি বললেন যে, বাজারে বাজারে ঘোষণা দেওয়া হোক যেখানে অধিক লোক সমাগম। সেখানে ঘোষণা দেওয়া হলো তবুও কেউ নিতে আসলো না। গভর্নররা জানালেন এখন আমরা কি করবো? তিনি জানালেন রাস্তার মোড়ে মোড়ে ঘোষণা দেওয়া হোক। তাই করা হলো তবুও একটা লোক যাকাত, ফিতরা, উশর নিতে আসলো না। সুবাহানাল্লাহ!

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বলা হয়েছে-(তাছ্বদ্দাকূ) تَصَدْقُ
তোমরা যাকাত, ফিতরা, উশর দাও। এমন সময় আসবে তা প্রদান করার জন্য যার কাছে যাবে সে বলবে আমার কোনও প্রয়োজন নেই। গতকাল হয়তো কিছু প্রয়োজন ছিল কিন্তু আজ আমার কোনও প্রয়োজন নেই।
হাদিস শরীফ উনার মধ্যে আছে যাকাত, ফিতরা, উশর দিলে মহান আল্লাহ পাক মরুভুমিতে নহর, মরুদ্যান জারী করে দিবেন। আল্লাহ পাক অতি বৃষ্টি, অনাবৃষ্টি দূর করে দিয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ বৃষ্টি দান করবেন। সুবাহানাল্লাহ!
তাহলে যাকাত, ফিতরা, উশরের লেনদেন হচ্ছে যমীনে আর ফয়সালা হচ্ছে আসমানে। যদি কেউ যাকাতের আনজাম দিয়ে থাকে তাহলে তার জন্য হালাল রিযিকের কুদরতী ব্যবস্থা হবে। সুবাহানাল্লাহ!
পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
مَن قُدِرَ عَلَيْهِ رِزْقُهُ فَلْيُنفِقْ مِمَّا آتَاهُ اللهُ ۚ لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا مَا آتَاهَا ۚ سَيَجْعَلُ اللهُ بَعْدَ عُسْرٍ يُسْرًا
অর্থ: যার উপরে রিযিকের সংর্কীণতা এসেছে, তার উচিৎ আল্লাহ পাক তাকে যা দিয়েছেন, তা থেকে সাধ্যমত ব্যয় করা। আল্লাহ পাক যাকে যা দিয়েছেন, তদাপেক্ষা বেশী কাউকে দায়িত্ব দেননা। অতিশীঘ্রই মহান আল্লাহ পাক কষ্টের পর সুখ দিবেন। (পবিত্র সুরা আত-তালাক, পবিত্র আয়াত শরীফ ৭)
রিযিকের সংকির্নতা হলে বাড়ানোর উপায় হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় বেশি বেশি খরচ করা। তাহলে মহান আল্লাহ পাক তাকে অতি স্বত্তর কঠিন অবস্থা থেকে মুক্ত করে প্রশস্ত রিযিকের ব্যবস্থা করে দিবেন। হালাল রিযিকের নতুন নতুন পথ তিনি উন্মুক্ত করে দিবেন এবং কুদরতী রিযিকের ফয়সালা করে দিবেন। সুবাহানাল্লাহ!

***যাকাত আদায় না করলে:
قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اُمِرْتُ اَنْ اُقَاتِلَ النَّاسَ حَتّٰى يَشْهَدُوْا اَنْ لَّا اِلٰهَ اِلَّا اللهُ وَاَنَّ مُـحَمَّدًا رَّسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَيُقِيْمُوا الصَّلٰوةَ وَيُؤْتُوا الزَّكٰوةَ.
নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন-আমাকে আদেশ করা হয়েছে, আমি আদিষ্ট হয়েছি ঐ সমস্ত মানুষকে কতল করে ফেলার জন্য, যারা ঈমানদার নয়, নামায কায়েম করে না এবং যাকাত আদায় করে না।
যে যাকাতের কাজ থেকে দূরে থাকবে, যাকাত আদায় করবে না (নিজের এবং অন্যের) এবং তা সঠিক স্থানে প্রদান করবে না সে মহান আল্লাহ পাক এবং নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের বিরুদ্ধে জিহাদের মুখোমুখি। নাঊযূবিল্লাহ! সে অনেক কাজ করতে পারে-দান-ছদকা করে, মসজিদ-মাদরাসা তৈরী করে, গরীব আত্মীয়-স্বজনদেরকে সাহায্য সহযোগিতা করে কিন্তু যাকাতের ব্যাপারে সে সচেতন নয়, এ ব্যাপারে তার গাফলতি রয়েছে। তার মানে তার ঈমান নষ্ট, তার ইবাদত-বন্দেগী নষ্ট, এমনকি মহান আল্লাহ পাক ও নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের ফয়সালা অনুযায়ী সে কতলের উপযোগী এবং উনাদের বিরুদ্ধে সে জিহাদের মুখোমুখি। দুনিয়াতে তার ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, তার অর্থ-সম্পদ, চাকরি-ব্যবসা, জমি-জমা, তার ইলম, তার আমল সমস্ত কিছুতে সে হালাক। এই দুনিয়াতে সে হালাক, আখিরাতেও সে পরিপূর্ণ হালাক। নাঊযূবিল্লাহ!
হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন-
قَالَ حَضَرَتْ اَبُوْ بَكْرِنِ الصِّدِّيْقُ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ وَاللهِ لَاُ قَاتِلَنَّ مَنْ اِرْتَدَّ عَنِ الزَّكٰوةِ .
মহান আল্লাহ পাক উনার শপথ! যে ব্যক্তি সালাত ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করবে আমি তার সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হবো। কারণ যাকাত হচ্ছে, মহান আল্লাহ পাক উনার সম্পদের হক্ব। মহান আল্লাহ পাক উনার শপথ! তারা যদি আমাকে উটের গলার রশিও দিতে অস্বীকার করে, যা তারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সময় দিতো, তাহলে এ অস্বীকৃতির কারণে আমি তাদের সাথে যুদ্ধ করবো।
কেউ যদি যাকাতের কাজ না করে তাহলে তার ঈমান থাকবে না। নামাজ কবুল হবে না। সুতরাং তিনটি বিষয়ের মধ্যে মূল হচ্ছে যাকাত।
যাকাত আদায় করলে: আমরা যদি সঠিকভাবে যাকাত আদায় করি তাহলে মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি অর্জন হবে, জান-মালের হিফাযত হবে এবং গায়েবী মদদ পাবো।
فَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَاعْتَصِمُوا بِاللَّهِ هُوَ مَوْلَاكُمْ ۖ فَنِعْمَ الْمَوْلَىٰ وَنِعْمَ النَّصِيرُ
অর্থ: তোমরা নামায কায়েম কর, যাকাত দাও এবং মহান আল্লাহ পাক উনাকে শক্তভাবে ধারণ কর। তিনিই তোমাদের মালিক। অতএব তিনি কতইনা উত্তম অভিভাবক এবং সবচেয়ে বড় অভিভাবক ও উত্তম সাহায্যকারী। (পবিত্র সূরা হজ্ব শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ ৭৮)

তাকদীর পরিবর্তন: দোয়া ও দানের দ্বারা তাকদীর পরিবর্তন হয়। সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা’লা আনহুম উনাদের একটি ঘটনা আছে। একজন সাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা’লা আনহু উনার ফয়সালা হয়েছে আগামীকাল তিনি ইন্তেকাল করবেন। উনাকে তাকদীরের এই ফয়সালা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন উনার শেষ ইচ্ছা তিনি উনার আহলিয়ার হাতে রুটি খাবেন। কিন্তু তিনি বিয়ে-শাদী করেন নাই। যা হোক উনার শাদীর ব্যবস্থা হলো। উনার আহলিয়া রুটি তৈরী করলেন। তিনি যখন খেতে বসেছেন তখন একজন ভিক্ষুক এসে বললো আমি ক্ষুধার্ত; আমাকে কিছু খেতে দিন। উনার এই শেষ ইচ্ছার রুটি তিনি না খেয়ে ভিক্ষুককে দিয়ে দিলেন। এখন দিন পার হয়ে গেল কিন্তু তিনি ইন্তেকাল করলেন না। দেখা গেল একটা বিরাট অজগর সাপ উনার বিছানার নিচে মরে পরে আছে এবং মুখে রুটির টুকরা। মহান আল্লাহ পাক কুদরতীভাবে সেই রুটির টুকরো দিয়ে অজগর সাপটিকে মেরে তাকদীরের যে মন্দ সেই মন্দটাকে ঘুরিয়ে ভাল ফয়সালা করে দিলেন। সুবাহানাল্লাহ!
কাজেই একটা সাধারণ দানের ক্ষেত্রে (যা ছিল ঐচ্ছিক) যদি এমন হয় তাহলে ফরয দানের ক্ষেত্রে (যাকাত,ফিতরা, উশর) কিরূপ ফয়সালা হবে তা আমরা সহজেই অনুমান করতে পারি। সারা বছর কাজ করলে সারা বছর মন্দ কেটে ভালো ফয়সালা হবে।
অনাদায়ী যাকাত ঋণ স্বরূপ: কোন কাফফারা নেই। পবিত্র যাকাত, ফিতরা, ওশর হচ্ছে ফরয-ওয়াজিবের অন্তর্ভুক্ত। আর ফরযের ক্বাযা আদায় করাও ফরয। চলতি বছরে যাকাত আদায়ের পূর্বেই অনাদায়ী যাকাত, ফিতরা, ওশর আদায় করতে হবে। তবে কারো পক্ষে যদি সম্ভব না হয় তবে চলতি বছরেরটা আদায় করবে আর পিছনেরটা অল্প অল্প করে আদায় করে দিবে (ফতওয়ায়ে আলমগীরী)। বিগত বছরগুলিতে তার যে পরিমাণ সম্পদ ছিলো তা হিসাব করে যাকাত আদায় করতে হবে। উল্লেখ্য, যদি কারো অতীত যাকাত, ফিতরা, ওশর অনাদায়ী বা অবশিষ্ট থাকে, তাহলে তা ঋণের মধ্যে গণ্য হবে। যার কোন কাফফারা নেই। নির্ধারিত যাকাত পরিশোধের পূর্বেই সম্পদের মালিক মারা গেলে এই ঋণ তার ওয়ারীশদের উপর বর্তাবে। বর্তমান বাজার দরে আদায় করা।
জাহান্নামের আগুনে গরম করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে দাগিয়ে দেয়া হবে: পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “যারা সোনা-রূপা জমা করে, অথচ মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় তা খরচ করে না (অর্থাৎ তার পবিত্র যাকাত দেয় না) তাদেরকে সংবাদ দিন কষ্টদায়ক আযাবের, যে দিন গরম করা হবে সেগুলোকে দোযখের আগুনে, অতঃপর দাগা দেয়া হবে সেগুলো দ্বারা তাদের ললাটে, তাদের পার্শ্বদেশে ও তাদের পৃষ্ঠদেশে (এবং বলা হবে) এখন তার স্বাদ গ্রহণ কর যা তোমরা (দুনিয়াতে) জমা করেছিলে।” (পবিত্র সূরা তওবা শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ- ৩৪, ৩৫)
সংরক্ষিত মাল কেশবিহীন সাপে পরিণত হবে: হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তা’লা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন – যাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্পদ বা ফসল দান করেন আর সে তার পবিত্র যাকাত, ফিতরা বা উশর আদায় করেনি কিয়ামতের দিন তার সম্পদকে কেশহীন (বিষের কারণে) সাপ স্বরূপ বানানো হবে, যার চক্ষুর উপর কিসমিসের দানার মতো দুটি কালো বিন্দু থাকবে। কিয়ামতের দিন সাপটাকে তার গলায় বেড়ি স্বরূপ পড়ানো হবে। অতঃপর উক্ত সাপ তার মুখের দু’দিকে কামড় দিতে থাকবে আর বলবে, আমি তোমার সঞ্চিত সম্পদ আমি তোমার মাল। (পবিত্র বুখারী শরীফ)
*****আপনারা মনে রাখবেন নিম্ন লিখিত আক্বিদা ভুক্ত লোকদের , বা তাদের মাদ্রাসায় যাকাত দিলে তা কখনই কবুল হবে না । তা নিম্ন রুপ :

কাদেরকে যাকাত, ফিতরা, উশর দিতে হবে যাচাই করা:

মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
تَعَاوَنُواْ عَلَى الْبرِّ وَالتَّقْوٰى وَلَا تَعَاوَنُواْ عَلَى الإِثْـمِ وَالْعُدْوَانِ وَاتَّقُواْ اللهَ اِنَّ اللهَ شَدِيْدُ الْعِقَابِ
অর্থ: “তোমরা নেকী ও পরহেযগারীর মধ্যে সহযোগিতা করো; পাপ ও নাফরমানীর মধ্যে সহযোগিতা করো না। এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি কঠিন শাস্তিদাতা।” (পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ ২)
সুতরাং এই পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক বলে দিয়েছেন কোথায় আমাদের যাকাত, ফিতরা, উশর দিতে হবে। অর্থাৎ ১. আদেশ: যারা নেককার, পরহেযগার তাদেরকে যাকাত, ফিতরা, উশর দিতে হবে। আর ২. নিষেধ: পাপে, বদীতে, সীমালঙ্ঘনে, শত্রুতায় কোন সাহায্য-সহযোগিতা করা যাবে না। মহান আল্লাহ পাক উনার আদেশ-নিষেধ মানা ফরয। কোন কারনে তা লঙ্ঘন করলে কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে।
********১. যাদের ঈমান-আক্বীদা বিশুদ্ধ নয়:
যাদের ঈমান নাই,আক্বীদা নষ্ট তাদেরকে কোন প্রকার সাহায্য-সহযোগিতা করা যাবে না। তারা নেককার-পরহেযগার নয়। তারা পাপী; মহাপাপী। তাদেরকে যাকাত, ফিতরা, উশর দেওয়া যাবে না।
হযরত ইমাম গাজ্জালী রহমাতুল্লাহ আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন- বিরাট পর্বতমালা যার অস্তিত্ব শত শত মাইল দূর হতে দেখা যায়। কিন্তু ঈমান অত্যন্ত সূক্ষ, যার অস্তিত্ব টের পাওয়া যায় না। কিভাবে যে একজন ঈমানদার ব্যক্তি বেঈমান হয়ে যায় তা বোঝা কঠিন। যার অন্যতম উদাহরণ হচ্ছে কাদিয়ানীরা। তারা সব মানে কিন্তু নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ‘খ্বতামুন নাবিয়্যিন’ অর্থাৎ শেষ নবী হিসেবে স্বীকার করে না। নাঊযূবিল্লাহ! ১ টা শব্দ ‘শেষ’না মানার কারনে তারা ভন্ড গোলাম কাদিয়ানী (যে কিনা বাথরুমে পড়ে মারা গিয়েছে) তাকে তারা শেষ নবী বলে দাবী করে। নাঊযূবিল্লাহ! এরা যত আমলই করুক না কেন এদের কোন আমলই কবুল হবে না। এরা কাট্টা কাফির, চীর জাহান্নামী।
এরকম যারা আছে; যারা বলে মহান আল্লাহ পাক উনার হাত-পা আছে, (নাঊযূবিল্লাহ) যারা বলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের বড় ভাই, (নাঊযূবিল্লাহ) যারা বলে নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা দোষ করেছেন, (নাঊযূবিল্লাহ) যারা বলে থাকে হযরত সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা’লা আনহুম উনাদের ত্রুটি আছে, (নাঊযূবিল্লাহ) যারা হযরত উম্মাহাতুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সম্মান নিয়ে নানা কথা বলে, (নাঊযূবিল্লাহ) যারা বলে থাকে ওলী-আল্লাহ উনাদের ইলমে গাইব নেই- এই সমস্ত লোকেদের কোন ঈমান নেই। তারা কাট্টা কাফির, চীর জাহান্নামী।
এরকম আরও অনেক উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। যেমন-আশরাফ আলী থানবী নামে এক বেঈমান আছে, যে ‘হিফজুল ঈমান’ (তার মোটা মোটা আরও অনেক বই আছে) নামে একটি বইয়ের মধ্যে লিখেছে – নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইলমে গাইব হাইউয়ান, বাজপান, মঞ্জু অর্থাৎ উনার ইলমে গাইব একটা পশুর মতো (নাঊযূবিল্লাহ), একটা শিশুর মতো (নাঊযূবিল্লাহ) এবং একটা পাগলের মতো (নাঊযূবিল্লাহ) । সুতরাং নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে যে এমন নিকৃষ্ট উদাহরন দিতে পারে তার কোন ঈমান নেই। সে কাট্টা কাফির, চীর জাহান্নামী।
এই যে ক্বওমী, দেওবন্দী এদের সিলেবাসে এগুলো শিখানো হয়। নাঊযূবিল্লাহ! এদের কাছ থেকে এগুলো শিখে এই সব কওমী, দেওবন্দীরা বলে মহান আল্লাহ পাক তিনি নাকি মিথ্যা কথা বলতে পারেন। নাঊযূবিল্লাহ! তারা বলে নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের বড় ভাই। নাঊযূবিল্লাহ! আর বড় ভাই-এর আহালিয়া যদি মারা যায় তাকে বিয়ে করা যায়। নাঊযূবিল্লাহ!
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
تفترق امتى على ثلاث وسبعين ملة كلهم فى النار الا ملة واحدة. قالو من هى يا رسول الله صلى الله عليه وسلـم قال ما انا عليه واصجابى.
অর্থ : “আমার উম্মত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে, একটি দল ব্যতীত বাহাত্তরটি দলই জাহান্নামে যাবে। তখন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! যে একটি দল নাযাতপ্রাপ্ত, সে দলটি কোন দল? নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, আমি এবং আমার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা’লা আনহুম উনাদের মত মুবারক ও পথ মুবারক উনাদের উপর যারা কায়িম থাকবেন (উনারাই নাযাতপ্রাপ্ত দল)।” (তিরমিযী শরীফ)
সুতরাং বোঝা যায় এরা মূলত বদ চরিত্র। এরা হচ্ছে বাতিল ৭২ ফেরকা। এদেরকে কোন যাকাত, ফিতরা, উশর দেওয়া যাবে না। এদেরকে যাকাত, ফিতরা, উশর দিলে তা কবুল হবে না।
ক্বওমী-দেওবন্দী চক্রান্ত: ১৮৬৫/৬৬ সাল থেকে:

সম্প্রতি ভারতে মধ্যপ্রদেশের মাদরাসাগুলোতে যবন, স্লেচ্ছ, অস্পৃশ্য হিন্দুদের নাপাক গ্রন্থ গীতা বাধ্যতামূলকভাবে পড়ানোর কুফরী আদেশ জারি করেছে সেই প্রদেশের যালিম সরকার। অথচ ভারতের দেওবন্দীরা এর কোনো প্রতিবাদ তো করেইনি, বরং অনেক আগে থেকেই তারা হিন্দুতোষণে বেশ পটু হয়ে উঠেছে। তাদের সে সব হিন্দুতোষণের নমুনা নিচে তুলে ধরা হলো:
(১) ভারতের দেওব্দ মদরাসার ১৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ৩০তম মাহফিলে হিন্দু কংগ্রেসের দালাল ‘জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ’-এর মাওলানাদের আমন্ত্রণে হিন্দুদের প্রধান পণ্ডিত ইয়োগা গুরু সোওয়ামী রামদেব উপস্থিত হয়ে উক্ত মাহফিলে গীতা পাঠ করে শোনায়। আর রামদেবের সাথে সাথে দেওবন্দী মাওলানারা ও ছাত্ররা গীতা পাঠ করে এবং যোগ ব্যায়াম করে। এমনকি উক্ত যবন রামদেব বলে যে, ওঃ ধিং যরময ঃরসব ঢ়বড়ঢ়ষব ৎবধষরুবফ ঃযধঃ অষষধয ধহফ ওংযধিৎ বিৎব ঃড়ি হধসবং ড়ভ ড়হব ধহফ ঃযব ড়হষু এড়ফ. নাঊযুবিল্লাহ! (সুত্র: http://goo.gl/2E2IZl)
(২) এই দেওবন্দীরাই ২০১১ সালে ফতওয়া দিয়েছিল যে, দেওবন্দী ও হিন্দুরা ভাই ভাই।” (নাউযুবিল্লাহ) (সুত্র:http://goo.gl/AQlRga)
(৩) দেওবন্দীরা আরো ফতওয়া দিয়েছিল যে, “হিন্দুদের কাফির বলা যাবে না।” (নাউযুবিল্লাহ) (সুত্র:http://goo.gl/0WE5rO)
(৪) গত ২০১১ সালে তারা ফতওয়া দিয়েছে, “মুসলমানদের গরু কুরবানী দেয়া উচিত নয়; কারণ গরু হিন্দুদের দেবতা।” (সুত্র: http://goo.gl/fH0YCm)

দেওবন্দ মালানাদের যত্রতত্র কুফরী আক্বীদা ও ফতওয়া:

(১) “মহান আল্লাহ পাক তিনি মিথ্যা বলতে পারেন।” নাঊযুবিল্লাহ! (রশিদ আহমদ গাংগুহী, ফতওয়া রশিদিয়া ১ম খণ্ড: পৃষ্ঠা-১৯, রশিদ আহমদ গাংগুহী, তালিফাত রশিদিয়া, কিতাবুল আক্বাইদ অধ্যায়, পৃষ্ঠা-৯৮, খলীল আহমদ আম্বেঢী, তাজকিরাতুল খলীল, পৃষ্ঠা ১৩৫, মেহমুদ হাসান, আল-জিহাদুল মুগিল, পৃষ্ঠা ৪১)
(২) “মহান আল্লাহ পাক তিনি বান্দা ভবিষ্যতে কি করবে তা আগে থেকে বলতে পারেন না। বান্দা কর্ম-সম্পাদনের পর তিনি তা জানতে পারেন।” নাঊযুবিল্লাহ! (হুসাইন আলী, তাফসীরে বুঘাতুল হাইরান, পৃষ্ঠা ১৫৭-১৫৮)
(৩) “হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জ্ঞানের চেয়ে হযরত আযরাঈল আলাইহিস সালাম উনার ও শয়তানের জ্ঞান বেশি।” নাঊযুবিল্লাহ! (খলীল আহমদ আম্বেঢী, বারাহীন-ই-কাতেয়া, পৃষ্ঠা-৫১)
(৪) “হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজের ভাগ্য সম্পর্কে জানতেন না। এমনকি দেয়ালের ওপাশ সম্পর্কেও না।” নাঊযুবিল্লাহ! (খলীল আহমদ আম্বেঢী, বারাহীন-ই-কাতেয়া, পৃষ্ঠা-৫১)
(৫) “নবীর (হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার) যদি কিছু ইলমে গায়েব থেকেও থাকে, তাহলে এতে তাঁর বিশেষত্ব কী? এমন ইলমে গায়েব তো সকল চতুষ্পদ জন্তু, পাগল ও শিশুরও আছে।” নাঊযুবিল্লাহ! (আশরাফ আলী থানবী, হিফজুল ঈমান, পৃষ্ঠা ৭) (screenshot)
(৬) “রহমতুল্লিল আলামীন- এটা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কোনো বিশেষ লক্বব নয়। উনার উম্মতও ‘রহমতুল্লিল আলামীন’ হতে পারে।” নাঊযুবিল্লাহ! (রশিদ আহমদ গাংগুহী, ফতওয়া রশিদিয়া ২য় খণ্ড: পৃষ্ঠা-১২)
(৭) “সাধারণ মানুষের কাছে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খাতামুন নাবিইয়ীন হলেও বুযুর্গ ব্যক্তির কাছে নয়।” নাঊযুবিল্লাহ! (কাশেম নানুতুবী, তাহযীরুন্নাছ, পৃষ্ঠা-৩)
(৮) “হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আগে বা সর্বশেষে আসার মধ্যে কোনো ফযীলত নেই। ফযীলত হলো মূল নবী হওয়ার মধ্যে। উনার পরে যদি এক হাজার নবীরও আগমন মেনে নেয়া হয় তাতেও হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খতমে নবুওয়তের কোনো রূপ বেশ-কম হবে না।” নাঊযুবিল্লাহ! (কাশেম নানুতুবী, তাহযীরুন্নাছ, পৃষ্ঠা-২৫)
(৯) “একজন নবীর জন্য সকল মিথ্যা থেকে মুক্ত ও নিষ্পাপ হওয়ার প্রয়োজন নেই।” নাঊযুবিল্লাহ! (কাশেম নানুতুবী, শফীয়াতুল আক্বাইদ, পৃষ্ঠা ২৫)
(১০) “হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে তাগূত (শয়তান) বলা যায়।” নাঊযুবিল্লাহ! (হুসাইন আলী, তাফসীর বুঘাতুল হাইরান, পৃষ্ঠা ৪৩)
(১১) “আমলের মাধ্যমে নবী-রসূলের চেয়ে নবী-রসূলগণের উম্মত বেশি মর্যাদাবান হয়।” নাঊযুবিল্লাহ! (কাশেম নানুতুবী, তাহযীরুন নাছ, পৃষ্ঠা ৫)
(১২) “আমি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পুলসিরাত হতে পড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করেছি।” নাঊযুবিল্লাহ! (হুসাইন আলী, তাফসীর বুঘাতুল হাইরান, পৃষ্ঠা ৮)
(১৩) “হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ (জন্মদিন) উপলক্ষে ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা আর হিন্দুদের দেবতা কৃষ্ণের জন্মদিন পালন করা একই।” নাঊযুবিল্লাহ! (খলীল আহমদ আম্বেটী, বারাহীন-ই-কাতেয়া, পৃষ্ঠা ১৪৮)
(১৪) “হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিশেষত্ব দাজ্জালের মতো।” নাঊযুবিল্লাহ! (কাশেম নানুতুবী, আবে হায়াত, পৃষ্ঠা ১৬৯)
(১৫) “হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাদের বড় ভাই এবং আমরা উনার ছোট ভাই।” নাঊযুবিল্লাহ! (খলীল আহমদ আম্বেটী, বারাহীন-ই-কাতেয়া, পৃষ্ঠা ৩)
(১৬) “হোলি ও দিওয়ালীর ভোগ খাওয়া এবং উপহার গ্রহণ করা সওয়াবের কাজ।” নাঊযুবিল্লাহ! (ফতওয়ায়ে রশিদিয়া, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১২৩)
(১৭) “রসূল (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মরে মাটির সাথে মিশে গেছেন।” নাঊযুবিল্লাহ! (ফতওয়ায়ে রশিদিয়া)
(১৮) “কোন কিছু ঘটানোর জন্য হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইচ্ছা পোষণ করার গুরুত্ব নেই।” নাঊযুবিল্লাহ! (কাশেম নানুতুবী প্রণীত আবে হায়াত, পৃষ্ঠা ১৬১)
(১৯) “নবী-রসূলদের মোজেজার চেয়ে যাদুকরদের যাদু সর্বোকৃষ্ট হতে পারে।” নাঊযুবিল্লাহ! (ফতওয়ায়ে রশিদিয়া, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৫)
(২০) “যে বলবে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হাজির-নাযির সে কাফির।” নাঊযুবিল্লাহ! (গোলামুল্লাহ খান প্রণীত যাওয়াহিরুল কোরান)
(২১) “ইয়া রসূলুল্লাহ- এই বাক্যটি কুফরী কালিমা।” নাঊযুবিল্লাহ! (ফতওয়ায়ে রশিদিয়া)

***২. আমল: শরাবের বোতলে হালাল সিল: যারা পবিত্র ইসলাম উনার নামে অনৈসলামিক কর্মকান্ড করে, যেমন- মৌলবাদ, সন্ত্রাসবাদ, বোমাবাজি, হরতাল, লংমার্চ করা, পবিত্র কুরআন শরীফ পোড়ানো, কোয়ান্টাম মেথড, ইত্যাদি হারাম ও শরীয়তের খিলাফ কাজ করা; মাদ্রাসার নামে সন্ত্রাসী কাজ করা, বেআমল, বেপর্দা হওয়া এবং জাকির নায়েক ওরফে কাফির নায়েক এর মত হারাম ছবি তোলা, বেপর্দা হওয়া ও টাই পরা ইত্যাদি গুমরাহীমূলক কাজে কোন প্রকার সাহায্য-সহযোগিতা করা যাবে না। আর এদেরকে যাকাত, ফিতরা, ওশর দেওয়ার তো কোন প্রশ্নই ওঠে না। এদেরকে যাকাত, ফিতরা, উশর দিলে তা কবুল হবে না।
হারামকে হালাল করে:
আনজুমান মুফিদুল ইসলাম: এই প্রতিষ্ঠানটি কথিত ফ্রি লাশ পরিবহন, ফ্রি দাফন সেবার নামে দেশ থেকে যেমন যাকাত, ফিৎরা, দান, ছদকা বিভিন্নভাবে অর্থ সংগ্রহ করছে তেমনি বিদেশ থেকেও বিভিন্ন এজেন্টের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা ডোনেশন সংগ্রহ করছে। এই পদ্ধতিতে বর্তমানে এটি বিশাল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। তারা মানুষের লাশতো দাফন করেই না বরং লাশগুলো গরম পানিতে সিদ্ধ করে গোশতগুলো আলাদা করে ফেলে। এরপর হাড়গুলো বিক্রি করে। নাউযুবিল্লাহ! (screenshot)
কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন: এটি সম্পূর্ণরুপে কাফির মুশরিকদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এমন একটি প্রতিষ্ঠান যার মাধ্যম দিয়ে অর্থ সংস্থান করে হারাম ও কুফরী কাজে বিনিয়োগ করে ব্যবসা করে। তারা মানুষের মগজ ধোলাই করে শুধু পয়সাই আদায় করে না, ফ্রি রক্তদান কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষের দেয়া রক্ত বিক্রি করেও পয়সা সংগ্রহ করে ব্যবসা করে। তারা নারী-পুরুষ একসঙ্গে বেপর্দা হয়ে ‘মেডিটেশন’ করে। নাঊযূবিল্লাহ! তাদের মাটির ব্যাংক লা’নতের কারণ।
কাফির নায়েক: হারামকে হালাল করার আরেকটি উদাহরণ হচ্ছে জাকির নায়েক ওরফে কাফির নায়েক। সে টাই পরে (যা কাফির-মুশরিকদের পোষাক), ছবি তোলে, বেপর্দা হয়, বেগানা মহিলাদের ‍দিকে তাকায় এবং সারা দুনিয়াতে তার টিভির মাধ্যমে তা প্রচার করে। নাঊযূবিল্লাহ!
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
كل مصور في النار
অর্থ: ছবি তুলনেওয়ালা, আকনেয়াওলা, দেখনেওয়ালা প্রত্যেকেই জাহান্নামী।
ছবি তোলা, আঁকা, দেখা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। যে করবে তাকে ‍খালিছভাবে তওবা করতে হবে।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরোও ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
لعن الله الناظر والمنظور إليه
অর্থ: যে দেখায় এবং যে দেখে তাদের উভয়ের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার লানত।
এরা দেদারছে ছবি তোলে। সুতরাং এরা লানতগ্রস্থ। সুতরাং এদেরকে কোন যাকাত, ‍ফিতরা, উশর দেওয়া যাবে না।

ইসলামী ব্যাংক, সরকারী যাকাত ফাউন্ডেশনে প্রদন: দূর্গা পূজায় ব্যবহৃত হয় (নাউযূবিল্লাহ)

***৩. ফাসিক-ফুয্যার: যারা ফরয, ওয়াজিব, সুন্নতে মুয়াক্বাদা তরক করে, বেপর্দা-বেহায়াপনা করে, খেলাধুলা, ছবি তোলা, টিভি-ডিশ চ্যানেল দেখা ইত্যাদি হারাম কাজে জড়িত থাকে তারা হচ্ছে ফাসিক-ফুয্যার। এদেরকে কোন প্রকার সাহায্য-সহযোগিতা করা যাবে না। –
আয়াত শরীফ-নিষেধ অংশ: মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
تَعَاوَنُواْ عَلَى الْبرِّ وَالتَّقْوٰى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الإِثْـمِ وَالْعُدْوَانِ وَاتَّقُوا اللهَ اِنَّ اللهَ شَدِيْدُ الْعِقَابِ
অর্থ: “তোমরা নেকী ও পরহেযগারীর মধ্যে সহযোগিতা করো; পাপ ও নাফরমানীর মধ্যে সহযোগিতা করো না। এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি কঠিন শাস্তিদাতা।” (পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ ২)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- إذا مدح الفاسق غضب الرب تعالى واهتز له العرش
অর্থ: “ফাসিকের প্রশংসা করলে মহান আল্লাহ পাক তিনি এত গোসসা করেন যে, গযবের ভয়ে আরশে আযীম থরথর করে কাঁপতে থাকেন”।
ফাসিকের প্রশংসা করলেই যদি মহান আল্লাহ পাক উনার গযব নাযিল হয়, তাহলে ফাসিককে সাহায্য করলে কি ভয়াবহ অবস্থা হবে, তা চিন্তার বিষয়। কাজেই তাদের এসব হারাম কাজে কোনো সাহায্য করা যাবে না।
***৪. যারা রিয়া এবং ইহানত করে: মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি ব্যতীত অন্য কারো যেমন- বাসার কাজের লোক, আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশীদের খুশি করার জন্য রিয়া করে যাকাত, ফিতরা, উশর ‍দিলে তা কবুল হবে না। রিয়া গুপ্ত শিরক। শিরককারী জাহান্নামী। যাকাত প্রদানের নামে নিম্ম মানের কাপড় দিয়ে যাকাত উনাকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা হারাম। সম্মানিত যাকাত উনার নামে মেলা করে যারা যাকাত সংগ্রহ করে তাদের যাকাত দিলে তা আদায় হবে না। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
مَنْ تَصَدَّقُ يُرَاءِ فَقَدْ اَشْرَكُ
অর্থ : “যে রিয়া করে যাকাত দেয়, সে শিরক করলো” (পবিত্র হাদীছ শরীফ)
سِنْتَانِ مُعْخِبَتَان
২টি ওয়াজিব- শিরক জাহান্নমী: “নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন- দুটি জিনিস ওয়াজীব হয়ে গেলে! হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহুম উনারা জিজ্ঞাসা করলেন, কোন দুটি জিনিস? তিনি বললেন, “যে ব্যক্তি শিরক করে মৃত্যুবরণ করে সে সরাসরি জাহান্নামে প্রবেশ করেব, আর যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করবে কিন্তু কোন শিরক করবে না সে ব্যক্তি সরাসরি জান্নাতে প্রবেশ করবে।”

*****যাদেরকে বা যে সব মাদ্রাসায় যাকাত দিলে অবশ্যই কবুল হবে তা নিম্ন রুপ :

“মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ ইয়াতীমখানা ও লিল্লাহবোর্ডিং”
যাকাত, ফিতরা, ওশর প্রদানের শ্রেষ্ঠ ও একমাত্র স্থান। কবুল তো হবেই, সাথে সাথে ছদকায়ে জারিয়ার ছওয়াব পাওয়া যাবে।
বৈশিষ্টসমুহ:
ঈমান: বিশুদ্ধ থেকে বিশুদ্ধতম। এমন বিশুদ্ধতার উদাহরণ দুনিয়ার আর কোথাও নেই। আমরা মহান আল্লাহ পাক উনার নাম মুবারকই ভালভাবে উচ্চারণ করতে পারতাম না। মামদূহ হযরত মুরশীদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি আমাদের শিখিয়েছেন-খালিক, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক। সুবাহানাল্লাহ! তারপর হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক উচ্চারণ করতে শিখিয়েছেন-সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বতামুন নাবিয়্যিন, নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সুবাহানাল্লাহ! এছাড়া হযরত উম্মাহাতুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম, হযরত সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম এবং সমস্ত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের কারও নাম মুবারক তো তিনি উচ্চারণই করেন না। সকলের ল্বকব মুবারক ধরে ডাকেন। সুবাহানাল্লাহ! নাম মুবারক থেকে শুরু করে উনাদের আক্বিদাগত প্রত্যেকটা বিষয় ‍তিনি আমাদেরকে সূক্ষ থেকে সূক্ষতম বিশুদ্ধতা দান করেছেন। সুবাহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক — হযরত মুআবিয়া রদ্বিআল্লাহু তা’লা আনহু।
রফে দারাজাত — হযরত আউলিয়া ক্বিরাম রহমাতুল্লাহি আলাইহি
হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম; হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম; খুলাফায়ে রাশেদীন আলাইহিমুস সালাম; হযরত সাহাবা-ই-ক্বিরাম রদ্বিআল্লাহু তা’লা আনহুম।
আমল: পরিপূর্ণ শরীয়তসম্মত। শুধুমাত্র কিতাবে নয়, বাস্তবে পায়ের তলা থেকে মাথার তালু পর্যন্ত, সুন্নত অনুসরণ বাধ্যতামূলক। “আল্লাহওয়ালা” হওয়ার জন্য শরীয়ত ও তাসাউফ উভয় প্রকার ইলম অর্জন। ছাত্রদেরকে “আপনি” সম্বোধন । হরতাল, লংমার্চ, রাজনীতি, মৌলবাদ ইত্যাদি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। হালালকে হালাল এবং হারামকে হারামই রাখা হয়েছে। যেমন গান-বাজনা, ছবি তোলা ইত্যাদি হারাম। কাফির মুশরিক মুসলমানদের শত্রু। কাজেই তাদেরকে কোন প্রকার অনুসরণ করা হয় না। হালাল ষ্পষ্ট, হারাম ষ্পষ্ট, ১০০/১০০০ কোটি টাকার চ্যালেঞ্জ।
মুত্তাকী-পরহেযগার: শরয়ী পর্দা বাধ্যতামূলক: ছেলেরা মহিলাদের দিকে তাকায় না, বালিকা শাখা সম্পূর্ণ পৃথক, ৫ বছরের বালক বেগানা মহিলাদের সামনে যায়না। তাহাজ্জুদ নামায বাধ্যতামূলক। ছোট ছোট শিশুরাও রাতে উঠে তাহাজ্জুদ নামায আদায় করে। কোরবানী, বিশেষ রাত, বিশেষ দিবস, ‘আইয়ামুল্লাহ’ দোয়া-মোনাজাত।
“আল্লাহওয়ালা” হওয়া মূল উদ্দেশ্য: আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি। শুধু সন্তুষ্টিই নয় আমরা মহান আল্লাহ পাক স্বয়ং উনাকেই চায়। সুবাহানাল্লাহ! এ জন্য যা যা দরকার মামদূহ হযরত মুরশীদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম সব জারী করছেন। কোটি কোটি মসজিদ, মাদরাসা, লাইব্রেরী, গবেষণাগার নির্মাণের কথা বলছেন। সম্মানিত ‘ফালইয়াফরহু’ সর্বশ্রেষ্ঠ আমল, ঘরে ঘরে জারী করার কোশেশ করা হচ্ছে। সুবাহানাল্লাহ! ঘরে ঘরে Reader’s Forum
যারা এখানে যাকাত, ফিতরা, উশর দিবেন তারা প্রত্যেকেই এই সমস্ত ‍নিয়ামত লাভ করবেন। সদকায়ে জারিয়ার সওয়াব লাভ করবেন। সুবাহানাল্লাহ!

না হক্ব যত নিকটই হোক কোন হক্ব নাই “কেনান”: না হক্ব যত নিকটজনই হোক না কেন তার কোন হক্ব নাই। যার অন্যতম উদাহরণ হচ্ছে কেনান। কেনান ছিল হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনার পূত্র। তার মধ্যে নবুয়তী খানদানের রক্ত ছিল। কিন্তু সে কাফিরদের সাথে মিশে কাফির হয়ে গিয়েছিল। হযরত নূহ আলাইহিস সালাম যখন তাকে তওবা করে উনার কিস্তিতে ডাকলেন সে যেতে রাজি হলো না। সে পাহাড়ের উপর উঠলো, গাছের উপর উঠলো। কিন্তু মহান আল্লাহ পাক তাকে পানিতে চুবিয়ে মারলেন।
কাজেই কোন নিকট আত্মীয় যদি কাফির-মুশরীকদের পথ অনুসরণ করে তাহলে তাদেরকে কোন যাকাত, ফিতরা, উশর দেওয়া যাবে না।

***বিশেষ-অদ্বিতীয়:
(১) একক মাদরাসা নয়, বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম চলছে। ছদকায়ে জারিয়ার এত অধিক ছাওয়াব ২য় কোন প্রতিষ্ঠানের নাই।
(২) নি:সন্দেহে কবুলকৃত, কারণ ১০০% শরীয়ত সম্মত এবং নিছবতপ্রাপ্ত (ডান/বাম, পা ফেলা); ১০০ কোটি টাকার চ্যালেঞ্জ, শরীয়ত অনুসরণ বাধ্যতামূলক। অন্য প্রতিষ্ঠান অধিকাংশই সন্দেহযুক্ত।
(৩) সর্বশ্রেষ্ঠ নাম মুবারক: একমাত্র প্রতিষ্ঠান যা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারকে রাখা হয়েছে। ফিরিয়ে দিলে- সালাবা ইবনে হাতীব।
(৪) সমস্ত খরচ কার শান মুবারকে? “ফালইফরাহু” কোথায় জারী? ৪টি বিশেষ ফযীলত লাভ।

***আদায় করার ফযিলত:
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِم بِهَا وَصَلِّ عَلَيْهِمْ ۖ إِنَّ صَلَاتَكَ سَكَنٌ لَّهُمْ ۗ وَاللهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ
অর্থ: ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আপনি তাদের ধন-সম্পদ থেকে দান-ছদকা (যাকাত, ফিতরা, উশর) গ্রহণ করুন। এই দান-ছদকা গ্রহণ করাটা তাদের জাহিরকে পাক-সাফ করবে, আর আপনার এই দান-ছদকা গ্রহণ করাটা তাদের অন্তরকে পরিশোধিত করে দেবে। আপনি তাদের জন্য দোয়া করুন। কেননা আপনার দোয়া তাদের জন্য শান্তির কারণ হবে। মহান আল্লাহ পাক সব কিছু শোনেন এবং সব কিছু জানেন। (পবিত্র সুরা তওবা শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ ১০৩)
এটি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে একমাত্র আয়াত শরীফ যেখানে মহান আল্লাহ পাক হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে যারা যাকাত, ফিতরা, উশর পৌছাবেন তাদের জন্য দোয়া করার কথা বলেছেন। সুবাহানাল্লাহ! সুতরাং আমাদের যাচাই-বাছাই করে হক্ব স্থানে যাকাত, ফিতরা, উশর প্রদান করতে হবে তাহলেই তা কবুল হবে এবং হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দোয়া মুবারক লাভ করা সম্ভব হবে।
১. আদায় করা: ফরয এবং খাছ সুন্নত।
২. সমান ফযীলত: যত হাত ঘুরে আসবে প্রত্যেকেই সমান ফযীলত পাবে। ফরয ইবাদতের সমান সওয়াব পাওয়া যাবে।
৩. খাছ স্হানে প্রদান: ত্বহারাত ও তাযকীয়া হাছীল হবে, বেমেছাল দুয়া মুবারক লাভ এবং প্রশান্তি লাভ করা যাবে।
৪. প্রতিবাদ: হক্ব স্থানে প্রদানের ফলে সমস্ত প্রকার শরীয়তের খিলাফ/ জুলুমের প্রতিবাদ হবে।
সংকোচ করা যাবে না: হযরত আমর ইবনে শু’আইব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনার সম্মানিত পিতা থেকে তিনি উনার সম্মানিত দাদা থেকে বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট এক মহিলা ছাহাবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি আগমন করেন, উনার সাথে উনার একজন কন্যা ছিলেন। উনার কন্যার হাত মুবারক-এ সোনার দুটি মোটা চুরি ছিল। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, আপনি কি এর পবিত্র যাকাত প্রদান করেন? তিনি বলেন, না। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, আপনি কি পছন্দ করেন যে, আপনাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি কিয়ামতের দিন এই দুটির পরিবর্তে আগুনের দুটি চুড়ি পরাবেন? তখন তিনি চুড়ি দুটি খুলে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রদান করেন এবং বলেন, এগুলো মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের জন্য। (আবূ দাঊদ শরীফ, নাসায়ী শরীফ, তিরমিযী শরীফ)
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বয়ং নিজে চেয়ে যাকাত আদায় করেছেন। কখনও হযরত সাহাবায়ে রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে বিভিন্ন স্থানে পাঠিয়ে এবং কখনও বিভিন্ন জায়গায় চিঠি প্রদান করে যাকাত, ফিতরা, উশর আদায় করেছেন। সুতরাং আমাদেরকেও যাকাত, ফিতরা, উশর আদায় করতে হবে এবং এ ব্যাপারে কোন প্রকার সংকোচ করা যাবে না।
যাকাত সংক্রান্ত ওয়াকিয়া: একদল ক্বওম, জিহাদ

– হযরত উবাই বিন কা’ব রদ্বিআল্লাহু তা’লা আনহু
عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ، قَالَ بَعَثَنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مُصَدِّقًا فَمَرَرْتُ بِرَجُلٍ فَلَمَّا جَمَعَ لِي مَالَهُ لَمْ أَجِدْ عَلَيْهِ فِيهِ إِلاَّ ابْنَةَ مَخَاضٍ فَقُلْتُ لَهُ أَدِّ ابْنَةَ مَخَاضٍ فَإِنَّهَا صَدَقَتُكَ ‏.‏ فَقَالَ ذَاكَ مَا لاَ لَبَنَ فِيهِ وَلاَ ظَهْرَ وَلَكِنْ هَذِهِ نَاقَةٌ فَتِيَّةٌ عَظِيمَةٌ سَمِينَةٌ فَخُذْهَا ‏.‏ فَقُلْتُ لَهُ مَا أَنَا بِآخِذٍ مَا لَمْ أُومَرْ بِهِ وَهَذَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْكَ قَرِيبٌ فَإِنْ أَحْبَبْتَ أَنْ تَأْتِيَهُ فَتَعْرِضَ عَلَيْهِ مَا عَرَضْتَ عَلَىَّ فَافْعَلْ فَإِنْ قَبِلَهُ مِنْكَ قَبِلْتُهُ وَإِنْ رَدَّهُ عَلَيْكَ رَدَدْتُهُ ‏.‏ قَالَ فَإِنِّي فَاعِلٌ فَخَرَجَ مَعِي وَخَرَجَ بِالنَّاقَةِ الَّتِي عَرَضَ عَلَىَّ حَتَّى قَدِمْنَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَهُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ أَتَانِي رَسُولُكَ لِيَأْخُذَ مِنِّي صَدَقَةَ مَالِي وَايْمُ اللَّهِ مَا قَامَ فِي مَالِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلاَ رَسُولُهُ قَطُّ قَبْلَهُ فَجَمَعْتُ لَهُ مَالِي فَزَعَمَ أَنَّ مَا عَلَىَّ فِيهِ ابْنَةُ مَخَاضٍ وَذَلِكَ مَا لاَ لَبَنَ فِيهِ وَلاَ ظَهْرَ وَقَدْ عَرَضْتُ عَلَيْهِ نَاقَةً فَتِيَّةً عَظِيمَةً لِيَأْخُذَهَا فَأَبَى عَلَىَّ وَهَا هِيَ ذِهِ قَدْ جِئْتُكَ بِهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ‏.‏ خُذْهَا فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ ذَاكَ الَّذِي عَلَيْكَ فَإِنْ تَطَوَّعْتَ بِخَيْرٍ آجَرَكَ اللَّهُ فِيهِ وَقَبِلْنَاهُ مِنْكَ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ فَهَا هِيَ ذِهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدْ جِئْتُكَ بِهَا فَخُذْهَا ‏.‏ قَالَ فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِقَبْضِهَا وَدَعَا لَهُ فِي مَالِهِ بِالْبَرَكَةِ ‏.
অর্থ : “হযরত উবাই ইবনে কাআ’ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে যাকাত আদায় করার জন্য প্রেরন করলেন। আমি এক ব্যক্তির কাছে পৌছলাম। তিনি আমার সামনে উনার সম্পদ হাজির করলেন। সে সম্পদ ছিলো এতটুকু যে উনার উপর একটি এক বছরের উট যাকাত দেয়া জরুরী ছিলো। আমি বললাম, এক বছরের একটি বাচ্চা উষ্ট্রী দিয়ে দিন। তিনি বললেন, সে তো দুধও দিবে না এবং তার উপর সওয়ারও হওয়া যাবে না। কাজেই আমার এই উস্ট্রী গ্রহণ করুন এটি যৌবনে পদার্পন করেছে এবং এটি মোটা তাজা রয়েছে। অতএব আপনি এটিই গ্রহণ করুন।
হযরত উবাই ইবনে কাআ’ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক অনুমতি ছাড়া এটি গ্রহণ করতে পারবো না। তবে তিনি আপনার নিকটে পবিত্র মদীনা শরীফ অবস্থান মুবারক করছেন। আপনি ইচ্ছা হলে আপনার যে উট আমাকে দিতে চেয়েছেন, তা উনার কাছে পেশ করতে পারেন। যদি তিনি গ্রহণ করেন তাহলে আমিও তা গ্রহণ করবো। আর যদি তিনি গ্রহণ না করেন, তাহলে আমিও গ্রহণ করবো না। অতঃপর তিনি তৈরি হলেন এবং উটটি নিয়ে আমার সাথে ওয়ানা হলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট উপস্থিত হয়ে তিনি বললেন, হে মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার নিয়োজিত উসূলকারী আমার কাছে যাকাত আদায়ের উদ্দেশ্যে এসেছিলেন। আর মহান আল্লাহ পাক উনার শপথ! প্রথমবারের মতো কেউ আপনার পক্ষ থেকে আমার কাছে আসলো। আমি উনার সামনে আমার সম্পদ পেশ করলে তিনি বললেন এক বছরের একটি বাচ্চা উট দিন। অথচ সেটি না দুধ দিবে না তার উপর সাওয়ার হওয়া সম্ভব হবে।
আমি বললাম, এটি মোটা তাজা যুবক উট এটিই গ্রহণ করুন। কিন্তু তিনি নিচ্ছেন না। এখন আমি সেই উট নিয়ে আপনার কাছে হাজির হলাম। আপনি তা সানন্দে গ্রহণ করুন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, আপনার উপর ওয়াজীব ছিলো তাই যা তিনি বলেছেন। কিন্তু যদি আপনি নিজের খুশিতে ভালোকাজ করতে চান তাহলে মহান আল্লাহ পাক আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিবেন। আর আমরাও তা গ্রহণ করবো। তিনি বললেন- এই উট উপস্থিত এটিই গ্রহণ করুন।
সুতরাং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেটি গ্রহণ করার নির্দেশ মুবারক দিলেন এবং উনার সম্পদ বরকতের জন্য দুআ মুবারক করলেন। (সহীহ সুনানে আবু দাউদ শরীফ, প্রথম খণ্ড)

– সালাবা ইবনে হাতিব:
পবিত্র সূরা তওবা শরীফ: ১০৩) উক্ত আয়াত শরীফ নাযীল হওয়ার পর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ২ জন সাহাবী ‘সালিম গোত্রে’ এবং ‘জোহাইনা গোত্রে’ যাকাতে হুকুম-আহকাম লিখে পাঠালেন। সালাবা ইবনে হাতিবের কাছে এবং আরেক জন ‘সালিম গোত্রের’ ব্যাক্তির কাছে। যিনি অনেক সম্পদশালী ছিলেন, উনার অনেক গরু-ছাগল, দুম্বা-বকরী ছিলো।
দুইজন ছাহাবী প্রথমে সালাবা ইবনে হাতিবের নিকট গেলেন। সেখানে গিয়ে তাকে যখন যাকাতের কথা বললেন এবং আয়াত শরীফ বললেন এবং সেই কাগজ মুবারক দেখালেন যেখানে কিভাবে যাকাত দিতে হবে দুম্বা, ভেড়া, মেষ ইত্যাদির। এটা দেখে সে বললো- আপনার বলেন কি? এটা দেখি কাফেরদের মতো ‘জিযিয়া কর’ (নাউযূবিল্লাহ)। এটা কেমন কথা! মুসলমানদের কাছ থেকে এটা কেন নেয়া হবে? এটা বলে সে অনেক চু-চেরা করলো। শেষে বললো আপনারা যেখনে যাওয়ার যান। যাওয়ার সময় দেখা করে যাবেন।
উনারা যখন দ্বিতীয় ব্যাক্তি ‘সালিম গোত্রের” নিকট গেলেন সেই ব্যাক্তি অত্যান্ত খুশি হলেন। খুশি হয়ে উনার যত টুকু যাকাত দেয়ার কথা ছিলো তার চেয়ে বেশি দিতে চাইলো। হযরত সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা বললেন- আমাদেরকে যেভাবে আদেশ মুবারক করা হয়েছে আমরাতো সেভাবেই নিবো। কিন্তু আপনি তো বেশি দিচ্ছেন। সেই ব্যাক্তি বললেন- আমার তো ইচ্ছে করছে আরো বেশি দেয়ার জন্য । উনারা বললেন আমরা এটা কিভাবে নিবো? তাহলে আপনি আমাদের সাথে চলুন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বিষয়টি জানাতে হবে। ওই ব্যাক্তি সমস্ত উত্তম উত্তম দুম্বা, বকরী, ভেড়া ইত্যাদি দিলেন। ফিরার পথে সালাবার নিকট আবার গেলেন। সালাবা বললো- কই আপনাদের কাগজটি আমাকে দেখান। কাগজটি নিয়ে সে আবারও চু-চেরা করলো। বললো আচ্ছা- কি দিতে হবে না হবে সেটা আমি চিন্তা করে সিন্ধান্ত নিবো। (নাউযূবিল্লাহ) সে বার বার বলতে লাগলো এটা জিযিয়া করের মতো হয়ে গেলো! (নাউযূবিল্লাহ)। এটা মুসলমানদের কাছ থেকে নেয়া ঠিক হবে না। (নাউযূবিল্লাহ)। তখন ওই দুই সাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম এবং আরেক সাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনার যাকাতসহ ফিরে আসলেন। যখন উনারা দরবারে নববী শরীফ প্রবেশ করলেন, প্রবেশ করা মাত্রই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন- আফসোস! সালাবার জন্য। আর যিনি দ্বিতীয় ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনি তো অনেক বেশি বেশি দিয়েছেন যাকাত, তিনি এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! ইত্যাদি ইত্যাদি নিয়ে এসেছি। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন- ঠিক আছে বেশি দিলে গ্রহণ করা হবে। যেহেতু আপনি খুশি হয়ে দিচ্ছে। আর সালাবার জন্য আফসুস। পরবর্তিতে এই আমলের জন্য পবিত্র আয়াত শরীফ নাযীল হলো-
وَمِنْهُم مَّنْ عَاهَدَ اللَّـهَ لَئِنْ آتَانَا مِن فَضْلِهِ لَنَصَّدَّقَنَّ وَلَنَكُونَنَّ مِنَ الصَّالِـحِينَ ﴿٧٥﴾ فَلَمَّا آتَاهُم مِّن فَضْلِهِ بَـخِلُوا بِهِ وَتَوَلَّوا وَّهُم مُّعْرِضُونَ ﴿٧٦﴾ فَأَعْقَبَهُمْ نِفَاقًا فـِي قُلُوبِـهِمْ إِلَىٰ يَوْمِ يَلْقَوْنَهُ بِـمَا أَخْلَفُوا اللَّـهَ مَا وَعَدُوهُ وَبِـمَا كَانُوا يَكْذِبُونَ ﴿٧٧﴾
অর্থ: তাদের মধ্যে কেউ কেউ রয়েছে যারা মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে ওয়াদা করেছিল যে, তিনি যদি তাদের প্রতি অনুগ্রহ দান করেন, তবে অবশ্যই তারা মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় ব্যয় করবে এবং সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত থাকবে। অতঃপর যখন তাদেরকে স্বীয় অনুগ্রহের মাধ্যমে দান করা হলো, তখন তাতে কার্পণ্য করেছে এবং কৃত ওয়াদা থেকে ফিরে গেছে তা ভেঙ্গে দিয়ে। তারপর এরই পরিণতিতে তাদের অন্তরে নিফাকী (কপটতা) স্থান করে নিয়েছে সেদিন পর্যন্ত, যেদিন তারা মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে গিয়ে মিলিতি হবে। তা এজন্য যে, তারা মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে কৃত ওয়াদা লংঘন করেছিল এবং এজন্যে যে, তারা মিথ্যা কথা বলতো। (পবিত্র সূরা তওবা শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ ৭৫-৭৭)
এই আয়াত শরীফ যখন নাযীল করা হলো- তখন মসজিদে নববী শরীফ-এ সালাবার এক আত্মীয় ছিলো। সে তা শুনতে পেল। সে শুনে তাড়াতাড়ি সালাবার কাছে গেল। গিয়ে বললো তুমি কি করেছো। তোমার উপরতো আয়াত শরীফ নাযীল হয়ে গোলে। তোমার এই কুফরী আর নেফাকীর উপর। তুমি তাড়াতাড়ি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দরবার শরীফ যাওয়া। গিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করো। যাকাত দাও। যখন তাকে বলা হলো তখন সে বুঝতে পারলো। সে তার সবকিছু নিয়ে আসলো। নিয়ে এসে বললো- ইয়া রাসূল্লাল্লাহু! ইয়া হাবীবাল্লাহ! ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি দয়া করে আমার যাকাতগুলো কবুল করুন।
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন- তোমার এই যাকাত, এই টাকা পয়সা নেয়ার জন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি নিষেধ করেছেন। তোমার টা নেয়া যাবেনা। তখন সে ব্যক্তি তার মাথায় ধুলা-বালি নিক্ষেপ করতে করতে চলে গেলো।
পরবর্তীতে সে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সাাম উনার কাছে যাকাত নিয়ে আসলে তিনিও তার যাকাত গ্রহণ করেন নি। তিনি বলেছিলেন- স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সল্লাম তিনি তোমার যাকাত গ্রহণ করেন নি তাহলে আমি কিভাবে গ্রহণ করবো। তার পর যথাক্রমে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম এবং সাইয়্যিদুনা হযরত যুন-নূরাইন আলাইহিস সালাম উনাদের খিলাফত কালেও সে যাকাত নিয়ে গেলে উনারাও তার যাকাত গ্রহণ করেন নি। সাইয়্যিদুনা হযরত যুন-নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার খিলাফত কালেই তার মৃত্যু হয়। নাউযূবিল্লাহ!

– চুড়ি:
عَنْ حَضَرَتْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالى عَنْهُ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدّهِ أَنَّ امْرَأَةً أَتَتْ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَعَهَا ابْنَةٌ لَـهَا وَفِى يَدِ ابْنَتِهَا مَسَكَتَانِ غَلِيظَتَانِ مِنْ ذَهَبٍ فَقَالَ لَـهَا أَتُعْطِينَ زَكوةَ هَذَا؟ قَالَتْ لَا قَالَ أَيَسُرُّكِ أَنْ يُسَوّرَكِ اللهُ بِـهِمَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ سِوَارَيْنِ مِنْ نَار. قَالَ فَخَلَعَتْهُمَا فَأَلْقَتْهُمَا إِلَى النَّبِىّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَالَتْ هُـمَا للهِ عَزَّ وَجَلَّ وَلِرَسُوْلِه صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
অর্থ : “হযরত আমর ইবনে শু’আইব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনার সম্মানিত পিতা থেকে তিনি উনার সম্মানিত দাদা থেকে বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট এক মহিলা ছাহাবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি আগমন করেন, উনার সাথে উনার একজন কন্যা ছিলেন। উনার কন্যার হাত মুবারক-এ সোনার দুটি মোটা চুরি ছিল। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, আপনি কি এর পবিত্র যাকাত প্রদান করেন? তিনি বলেন, না। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, আপনি কি পছন্দ করেন যে, আপনাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি কিয়ামতের দিন এই দুটির পরিবর্তে আগুনের দুটি চুড়ি পরাবেন? তখন তিনি চুড়ি দুটি খুলে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রদান করেন এবং বলেন, এগুলো মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের জন্য।” (আবূ দাঊদ শরীফ, নাসায়ী শরীফ, তিরমিযী শরীফ)
আল্লাহপাক আমাদেরকে সম্মানীত যাকাত ,ওশর ,ফিতরার কাজ করার তৌফিক দান করুন । আমীন !!!

Views All Time
1
Views Today
3
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে