মহা সম্মানিত বিলাদত (সম্মানিত জন্মদিন) শরীফ ২০ জুমাদাল উখরা শরীফ উনার সুমহান সম্মানার্থে —


মহা সম্মানিত বিলাদত (সম্মানিত জন্মদিন) শরীফ ২০ জুমাদাল উখরা শরীফ উনার সুমহান সম্মানার্থে —
***********************************************************************
সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা,
(সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম) উনার কতিপয় বেমেছাল খুছূছিয়াত মুবারক। ধারবাহিক।
*************************************************************************
احبوا الله لـما يغذوكم من نعمة احبونى لحب الله واحبوا اهل بيتى لحبى
অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে খাওয়া পরার যে নিয়ামত মুবারক দিয়েছেন সেজন্য মহান আল্লাহ পাক উনাকে মুহব্বত করো। আর আমাকে মুহব্বত করো মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক লাভ করার জন্য। আর আমার হযরত আহলে বাইত শরীফ উনাদেরকে মুহব্বত করো আমার সন্তুষ্টি মুবারক উনার জন্য।” (তিরমিযী শরীফ, মিশকাত শরীফ)
 
সম্মানিত রেহেম শরীফ-এ তাশরীফ মুবারক রাখার পূর্বে বরকতময় ঘটনা:
***********************************************************************
আল্লামা হাফিয আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহম্মদ মুহিব্বুদ্দীন ত্ববারী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ ৬৯৪ হিজরী) তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব “যাখায়েরুল ‘উক্ববাহ ফী মানাক্বিবে যাওইল কুরবা শরীফ” উনার মধ্যে উল্লেখ করেন, ان النبي صلى الله عليه وسلم قال أتانى حَضْرَتْ جبريل عليه السلام بِتُفَّاحَةٍ من الجنة فأكلتها وواقعت حَضْرَتْ خديجة عليها السلام فحملت بـحَضْرَتْ فاطمة عليها السلام অর্থ: “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, একদা হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি জান্নাত থেকে একখানা আপেল মুবারক নিয়ে আমার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ উপস্থিত হন। অতঃপর আমি উক্ত জান্নাতী আপেল মুবারক খাই। এরপর সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি আমার সম্মানিত ছোহবত মুবারক গ্রহণ করেন। অতঃপর সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে উনার সম্মানিত রেহেম শরীফ-এ ধারণ মুবারক করেন।” সুবহানাল্লাহ! (যাখায়েরুল ‘উক্ববাহ, তারীখুল খমীস) এই সম্মানিত ওয়াকেয়া মুবারক দ্বারা সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার বেমেছাল খুছূছিয়াত বা বৈশিষ্ট্য মুবারক উনার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ!
 
সম্মানিত রেহেম শরীফ-এ অবস্থানকালীন সময়ে মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে সুসংবাদ মুবারক হাদিয়া:
**************************************************************
বর্ণিত রয়েছে যে, উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত রেহেম শরীফ-এ অবস্থানকালীন সময়ে, একদা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনাকে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ মুবারক করেন, হে হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম! হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে একখানা বিশেষ সুসংবাদ মুবারক নিয়ে এসেছেন। তিনি বলেছেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, আপনার সম্মানিত রেহেম শরীফ-এ আমার একজন মেয়ে আওলাদ আলাইহাস সালাম তিনি অবস্থান মুবারক করছেন। আমার সম্মানিত বংশ মুবারক উনার মাধ্যম দিয়ে দুনিয়ার যমীনে বিস্তার লাভ করবে এবং ক্বিয়ামত পর্যন্ত জারি থাকবে। সুবহানাল্লাহ! আর উনার বংশধরগণ অত্যন্ত দ্বীনদার, পরহেযগার এবং মহান আল্লাহ পাক উনার আখাচ্ছুল খাছ মাহবূব হবেন। সুবহানাল্লাহ! উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহিস সালাম তিনি এই সুসংবাদ মুবারক শুনে অত্যন্ত খুশি মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি সম্মানিত রেহেম শরীফ-এ অবস্থানকালীন সময়ে উনার সম্মানিতা আম্মাজান উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি কোনো প্রকার কষ্ট অনুভব করেননি: আমরা জানি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত রেহেম শরীফ-এ অবস্থান মুবারক করেন, তখন সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম তিনি কোনো প্রকার কষ্ট অনুভব করেননি। সুবহানাল্লাহ! ঠিক একইভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার লখতে জিগার সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি যখন উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত রেহেম শরীফ-এ অবস্থান মুবারক করেন, তখন উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনিও কোনো প্রকার কষ্ট অনুভব করেননি। সুবহানাল্লাহ! এই সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, فحملت بحضرت فاطمة عليها السلام فقالت انى حملت حملا خفيفا অর্থ: “অতঃপর সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে উনার সম্মানিত রেহেম শরীফ-এ ধারণ মুবারক করেন। উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, আমি উনাকে আমার সম্মানিত রেহেম শরীফ-এ অতি উত্তমভাবে এবং অতি সহজে ধারণ মুবারক করেছি। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ এতে আমার কোনো প্রকার কষ্ট অনুভব হয়নি।” সুবহানাল্লাহ! (যাখায়েরুল ‘উক্ববাহ ১/৪৫, তারীখুল খমীস) (ইনশাআল্লাহ চলবে)
Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে