মহা সম্মানিত ১৩-ই রজবুল হারাম শরীফ মুবারক হো।


মহা সম্মানিত ১৩-ই রজবুল হারাম শরীফ মুবারক হো।
*******************************************************
ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার ব্যাপক ইলম মুবারক উনার অনুপম দৃষ্টান্ত ।
 
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি সর্বপ্রকার নাজ নিয়ামতের মালিক বানিয়েছেন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সমস্ত নিয়ামতের মালিক এবং মহাসম্মানিত বণ্টনকারী। তিনি যাবতীয় নিয়ামত কায়িনাতের মাঝে বণ্টন করেন। তিনি আখাছছুল খাছ ব্যক্তিত্বগণ উনাদেরকে বিশেষ খুছুছিয়ত মুবারকে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত করেছেন। তেমনিভাবে ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাকে অগণিত বৈশিষ্ট্য মুবারকে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত করা হয়েছে।
হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার মুবারক শানে অসংখ্য হাদীছ শরীফ বর্ণিত হয়েছে। তন্মধ্যে একখানা বিশেষ হাদীছ শরীফে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
انا مدينة العلم و حضرة على عليه السلام بابها
অর্থ: আমি হলাম ইলমের শহর তথা ভান্ডার। হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি সেই ভান্ডার মুবারক উনার দরজা বা দ্বার।
অর্থাৎ হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি যেহেতু বাবুল ইলম, সেহেতু অনেক অজানা ও গোপন বিষয় উনার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। কিতাবে অসংখ্য ঘটনা বর্ণিত হয়েছে, যা দ্বারা সুস্পষ্টভাবে উনার বাবুল ইলম হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ‘কিতাবু কালয়ুবী’তে একখানা বিশেষ ঘটনা মুবারক বর্ণিত হয়। যা নি¤œরূপ-
একদা একদল ইহুদী পাদ্রী হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার মুবারক খিদমতে উপস্থিত হয়ে আরজ করলো হে আমীরুল মু’মিনীন! আমাদের কতিপয় সুওয়াল রয়েছে। আপনি যদি সেগুলোর জওয়াব দিতে পারেন, তাহলে আমরা ইসলাম গ্রহণ করবো। অন্যথায় আমরা ধরে নিবো আপনারা বাতিল। আমাদের প্রশ্ন হলো, আসমানসমূহ হতে বড় কোন বিষয়? কোন বিষয় যমীন হতে অধিক প্রশস্ত? আগুন হতে অধিক গরম কোন জিনিস? কোন বিষয় বাতাস হতে অধিক দ্রুতগতি সম্পন্ন? কোন বিষয় সাগর হতে অধিক ধনী? কোন বিষয় পাথর হতে অধিক শক্ত? কোন বিষয় আমরা দেখি কিন্তু মহান আল্লাহ পাক তিনি সেদিকে মুবারক নজর দেন না? কোন বিষয় মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য? আর কোন বিষয় বান্দাদের জন্য? কোন বিষয় মহান আল্লাহ পাক এবং বান্দাদের মাঝে বিদ্যমান?
তারা বললো, ঘোড়া, উট, গরু, গাধা বকরী, কুকুর, শিয়াল, বিড়াল, সিংহ, ঈগল, কাক, চিল, কবুতর, ব্যাঙ, হুদহুদ, তিতির, ঘুঘু, কুমবুরাহ বা ভরত পাখি, চড়ুই, বুুলবুলি, মোরগ, মুরগি প্রভৃতি প্রাণী ও পাখি তারা তাদের ডাকে কি বলে? অর্থাৎ তাদের ডাকের অর্থ কি?
তারা বললো, আগুন ও বাতাস তাদের শো শো শব্দে কি ব্যক্ত করে? তাছাড়া যমীন, আসমান, সমুদ্র, সূর্য এবং চন্দ্র তারা কি বলে?
আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, নিশ্চয়ই আমার নিকট ইলমের ষাটটি দরজা মুবারক রয়েছে। প্রত্যেক দরজার ইলম বহনে কমপক্ষে এক হাজার বাহন প্রয়োজন। অর্থাৎ উনার ইলম মুবারক উনার কোনো সীমা নির্ধারণ অসম্ভব বিষয়। কাজেই হে ইহুদী সম্প্রদায়! তোমরা আমাকে যে কোনো বিষয়ে সুওয়াল করতে পারো। তোমাদের সুওয়ালের জওয়াব আমার নিকট অত্যধিক সহজ।
অতঃপর তিনি বললেন, তোমরা শুনে রাখো। সৎ ব্যক্তির উপর অপবাদ আসমান হতে বড়। হক্ব যমীন হতে প্রশস্ত। সম্পদ জমা করার ক্ষেত্রে লোভীর অন্তর আগুন হতে গরম। মজলুমের দোয়া কবুলের ক্ষেত্রে বাতাস হতে অধিক দ্রুতগতি সম্পন্ন। অল্পে তুষ্ট অন্তর সমুদ্র হতেও অধিক ধনী। আর বদকার ব্যক্তির অন্তর পাথর হতেও অধিক শক্ত। আমাদের রূহ মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য আর আমাদের আমল আমাদের নিজেদের জন্য। আমাদের দায়িত্ব দোয়া করা। মহান আল্লাহ পাক তিনি কবুল করার মালিক।
 
হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ঘোড়া তার হ্রেষা ধ্বনিতে বলে- “আয় আল্লাহ পাক! মুসলিম উম্মাহকে সম্মানিত করুন এবং কাফিরদেরকে লাঞ্ছিত করুন।” উট বলে, “পরকালীন পাথেয় না থাকা সত্ত্বেও যে আমলের ক্ষেত্রে নিষ্ক্রীয় থাকে, তার জন্য আশ্চর্য।” গরু বলে, “হে গাফিল ব্যক্তি! মৃত্যু তোমার জন্য অবধারিত। তাই তুমি আমলে মশগুল হও। হে গাফিল ব্যক্তি! তুমি অতি অল্প সময়ের জন্য দুনিয়াতে আগমনকারী। হে গাফিল ব্যক্তি! যা তুমি পরকালের জন্য প্রেরণ করেছ, সেটাই কেবল তোমার জন্য রয়ে যাবে। অতি শীঘ্রই তুমি তোমার আমলের বদলা লাভ করবে।” গাধা বলে, আয় আল্লাহ পাক! সুদ প্রদানকারী এবং সুদের মাধ্যমে উপার্জনকারীর উপর লা’নত বর্ষণ করুন।” বকরী বলে, “হে মৃত্যু! কে তোমাকে বেদনাদায়ক করলো। কে তোমাকে পরিতৃপ্ত করলো। কে তোমাকে কর্তিত করলো। হে বনী আদম! কে তোমাকে গাফিল বানালো।” কুকুর বলে, “আয় আল্লাহ পাক! আমি রহমত হতে মাহরুম। তাই যে আমার উপর রহম করে আপনিও তার উপর রহম করুন।” শিয়াল বলে, “হে রিযিকের বণ্টনকারী! আমার জন্য যা নির্ধারণ করেছেন, তা আমার জন্য যথেষ্ট করুন।” বিড়াল তার ডাকে পবিত্র তাওরাত শরীফ উনার দশখানা আয়াত শরীফ তিলাওয়াত করে। সিংহ বলে, “আয় আল্লাহ পাক! যে ব্যক্তি আপনার নাফরমানী করে, আমাকে তার উপর কর্তৃত্ব দিন।”
হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন, ঈগল বলে, “যত দিন ইচ্ছা বেঁচে থাকো কিন্তু একদিন মৃত্যুবরণ করতে হবে। যা ইচ্ছা সঞ্চয় করো কিন্তু একদিন তরক করতে হবে। যাকে ইচ্ছা মুহব্বত করো কিন্তু একদিন পৃথক হতে হবে।” কাক বলে, “হে উম্মত! নিয়ামত সরে যাওয়াকে ভয় করো। গযব নাযিল হওয়াকে ভয় করো।” কবুতর বলে, “যে ব্যক্তি তোমার সাথে সম্পর্ক বিচ্ছেদ করেছে, তার সাথে সদাচরণ করো। যে ব্যক্তি তোমার উপর যুলুম করেছে, তাকে ক্ষমা করো। যে তোমাকে বঞ্চিত করেছে, তাকে তুমি দান করো। যে তোমার সাথে পর্দা করেছে, তার সাথে কথা বলো। তাহলে জান্নাত হবে তোমার আবাস্থল।” ব্যাঙ বলে, “সুবহানাল্লাহ! সমুদ্রের তলদেশে, পাহাড়ের চূড়ায় এবং গর্তে অবস্থানকারী সকলেই মহান আল্লাহ পাক উনার তাসবীহ মুবারক পাঠ করে। জিব্বা ও জবানওয়ালা সকলেই মুবারক তাসবীহতে মশগুল রয়েছে।” (ইনশাআল্লাহ চলবে)
 
Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে