মহিমান্বিত ২রা মুহররমুল হারাম শরীফ। আবু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, যবিহুল্লাহ, খয়রুল বাশার, সাইয়্যিদুল আরব, আবুল বাশার, ছহিবু নূরে মুজাসসাম হযরত খাজা আব্দুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার সুমহান দিন।


মহিমান্বিত ২রা মুহররমুল হারাম শরীফ।
আবু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, যবিহুল্লাহ, খয়রুল বাশার, সাইয়্যিদুল আরব, আবুল বাশার, ছহিবু নূরে মুজাসসাম হযরত খাজা আব্দুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার সুমহান দিন।
উম্মাহর উচিত এ দিনের মা’রিফত অর্জন ও হক্ব আদায়ে নিবেদিত হওয়া।

সমস্ত প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সকল সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত পবিত্র দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক।
যামানার লক্ষ্যস্থল, খলীফাতুল্লাহ, যামানার লক্ষ্যস্থল আওলাদে রসূল, যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার সুমহান তাজদীদ প্রতিদিন, প্রতিক্ষণ প্রকাশিত হচ্ছে এবং তাজদীদী দৈনিক, দৈনিক আল ইহসান শরীফ উনার মাঝে তা প্রচারিত হচ্ছে। সুবহানাল্লাহ! তবে সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি ২রা মুহররমুল হারাম শরীফ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ওয়ালিদ সাইয়্যিদুনা হযরত খাজা আব্দুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার দিবস উপলক্ষে পৃথিবীতে সর্বপ্রথম মাহফিল অনুষ্ঠিত করছেন। সুবহানাল্লাহ! পাশাপাশি প্রকাশ করছেন ‘দৈনিক আল ইহসান শরীফ’ উনার বিশেষ সংখ্যা মুবারক। সুবহানাল্লাহ! যা ইতিহাসের সর্বপ্রধান ও সর্বশ্রেষ্ঠ তাজদীদ। সুবহানাল্লাহ!
মূলত, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সন্তুষ্টি, মুহব্বত মা’রিফাত, নিসবত তাওয়াল্লুক হাছিল করার প্রধান দুটি উসীলা। প্রথমত, উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম এবং উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান সাইয়্যিদাতুনা হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম উনাদের প্রতি এবং দ্বিতীয়ত, উনার আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্পর্কে চরম হুসনে যন রাখা তথা মুহব্বত, মা’রিফাত, নিসবত, তায়াল্লুক রাখা এবং চূড়ান্ত তা’যীম, তাকরীম করা ও সর্বোচ্চ আর্থিক খিদমত করা। সুবহানাল্লাহ!
কিন্তু অতীব দুঃখজনক হলেও সত্য যে, সাধারণ মুসলমান তো বটেই, এমনকি আলিম ও মাওলানা পরিচয়ধারীরাও হযরত আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সম্পর্কে যৎকিঞ্চিত ধারণা এবং তদাপেক্ষা কম তা’যীম, তাকরীম করলেও যাবীহুল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত খাজা আব্দুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্পর্কে তেমন কোনো ধারণাই রাখে না। নাঊযুবিল্লাহ! এমনকি অনেকে অজ্ঞতাবশতঃ উনাদের জান্নাতে যাওয়া নিয়েও সংশয় প্রকাশ করে। নাঊযুবিল্লাহ!
অথচ পবিত্র আয়াত শরীফ ও ছহীহ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের দ্বারা প্রমাণিত যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত পিতা-মাতা উনারা জান্নাতী।
আর সাধারণ আকলের প্রেক্ষিতেও বলা যায়, একজন বনী ইসরাইলীকে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নাম মুবারককে চুম্বন করার কারণে উনাকে জান্নাত দেয়া হলো, উনার জন্য জাহান্নাম হারাম করা হলো। শুধু তাই নয়, বরং উনার মর্যাদা আরো বৃদ্ধির জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার জলীলুল ক্বদর নবী ও রসূল হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে উনার গোছল, কাফন ও দাফন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। অর্থাৎ তিনি জান্নাতী হয়েছিলেন। তাহলে যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কয়েক মাস রেহেম শরীফ উনার মধ্যে ধারণ করেছেন ও যিনি সরাসরি চুম্বন করেছেন, উনার জান্নাতী হওয়া সম্পর্কে এরপরও কি প্রশ্ন উঠতে পারে?
বরং স্বয়ং পবিত্র জান্নাতই উদগ্রীব হয়ে আছে কখন মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম উনারা জান্নাতে প্রবেশ করবেন!
মূলত, শুধু এ বিষয়ই নয়, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আব্বা-আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনাদের পবিত্র শান-মান সম্পর্কে জানা এবং উনাদের তা’যীম, তাকরীম করা পৃথিবীর সর্বপ্রধান ও সর্বোচ্চ ফরয। সুবহানাল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম উনাদের নাম মুবারক সাইয়্যিদুনা হযরত ‘আব্দুল্লাহ’ আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদাতুনা হযরত ‘আমিনা’ আলাইহাস সালাম হওয়ার হাক্বীক্বত-
“আব্দ” অর্থ ‘আনুগত্য স্বীকারকারী’ আর এর সাথে মহান আল্লাহ পাক উনার নাম মুবারক যুক্ত হয়ে ‘আব্দুল্লাহ’ অর্থৎ তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার বশ্যতা স্বীকার করতেন। তিনি যদি মূর্তিপূজারী হতেন তাহলে উনার নাম হতো ‘আব্দুল উজ্জা’। নাঊযুবিল্লাহ! অথচ উনার নাম মুবারক হলো সাইয়্যিদুনা হযরত ‘আব্দুল্লাহ’ আলাইহিস সালাম। তেমনিভাবে ‘আমিনা’ শব্দ মুবারকটির অর্থ হলো, ‘ঈমান আনয়নকারী বা নিরাপদ’। অর্থাৎ তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি ঈমান এনে জাহান্নাম থেকে নিরাপদ হয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মনিত পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম উনারা ফিতরাত যুগের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং উনারা দ্বীনে হানিফের উপর কায়িম ছিলেন।
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “হে আমার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার স্থানান্তরিত হওয়ার বিষয়টিও ছিল সিজদাকারীগণ উনাদের মাধ্যমে।” (পবিত্র সূরা শুয়ারা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ২১৯)
আলোচ্য পবিত্র আয়াত শরীফ উনার তাফসীরে আল্লামা হযরত ইমাম ইবনে হিববান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র নূর মুবারক সিজদাকারীগণ উনাদের মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন।” (সীরাতুল হালাবিয়া- ১/৪৫)
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দেহস্থিত সবকিছু পাক ও তা গলধঃকরণ করা নাজাত হাছিলের কারণ হলে, যাঁদের মাধ্যমে তিনি দুনিয়াতে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেছেন উনাদের দেহাবয়বের কি হুকুম?
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার স্পর্শধন্য পবিত্র রওযা শরীফ উনার ধূলি মুবারক উনাদের মর্যাদা পবিত্র আরশে আযীম উনার চেয়ে শ্রেষ্ঠ হলে নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ধারক-বাহক উনার সম্মানিত পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম উনাদের ফায়সালা কি?
উল্লেখ্য, স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিই উনার সম্মানিত পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম উনারা পবিত্র ঈমান উনার অধিকারী সে বিষয়ে তাছদিক করেছেন।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম উনাদের এবং উনাদের পূর্বতন কেউই ব্যভিচারী, বেপর্দা, কাফির, মুশরিক এবং অশ্লীল ও অশালীন কাজে লিপ্ত ছিলেন না। বরং উনারা সকলেই পবিত্র থেকে পবিত্রতম ছিলেন। উনাদের মধ্যে কেউ ছিলেন যামানার হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম আবার কেউ ছিলেন যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ। সুবহানাল্লাহ!
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বিদায় হজ্জের সময় যখন লক্ষ লক্ষ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বেমেছাল তা’যীম, তাকরীম করে দণ্ডায়মান; তখন উনার দুধমাতা সাইয়্যিদাতুনা হযরত হালিমা সাদিয়া আলাইহাস সালাম তিনি আসলে স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার চাদর মুবারক বিছিয়ে দিলেন উনাকে বসার জন্য। উনার প্রতি এ তা’যীম-তাকরীম দেখে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ সবাই মহা আশ্চার্যান্বিত হলেন।
সঙ্গতকারণেই উপলব্ধি করা উচিত যে, দুধমাতা সাইয়্যিদাতুনা হযরত হালিমা সাদিয়া আলাইহাস সালাম উনাকেই যদি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এত সম্মান দান করেন, তাহলে সাইয়্যিদুনা হযরত খাজা আব্দুল্লাহ আলাইহিস সালাম এবং উনার সম্মানিত আম্মাজান হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম উনাদেরকে তিনি কত সম্মান ও নিয়ামত এবং শান-মান, মর্যাদা-মর্তবা, ফযীলত বণ্টন করেছেন। সুবহানাল্লাহ! কাজেই উনাদের স্মরণ, মূল্যায়ন, বিলাদত শরীফ ও বিছাল শরীফ অত্যন্ত মুহব্বত, খুলুছিয়ত, জওক, শওক ও আদবের সাথে পালন করলে তা উম্মাহর জন্য কত ফযীলত, নাজাত, নিয়ামতের কারণ তা কল্পনা করা দুঃসাধ্য। বিপরীত দিকে যারা উনাদের সম্পর্কে অজ্ঞতা ও আদবহীনতার পরিচয় দিবে তারাও যে কত হালাক তা চিন্তা করাও দুঃসাধ্য। নাঊযুবিল্লাহ মিন যালিক!

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে