মহিমান্বিত ৮ মুহররমুল হারাম শরীফ। উম্মাহর উচিত- এ দিনের মা’রিফত অর্জন ও হক্ব আদায়ে নিবেদিত হওয়া।


মুসলমান এবং আহলে কিতাব দাবিদারদের মধ্যে তথা ইহুদী, খ্রিস্টানদের মধ্যে পার্থক্যের মূল বিষয়টি কি? বলাবাহুল্য, প্রধান ফারাককারী বিষয়টি হলো- তারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মানে না। নাঊযুবিল্লাহ! এজন্য পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা যদি মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত-মা’রিফত, সন্তুষ্টি-রেযামন্দি মুবারক পেতে চাও, তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইত্তিবা বা অনুসরণ করো। তথা উনাকে মুহব্বত করো।” সুবহানাল্লাহ! উল্লেখ্য, মুহব্বতের পূর্বশর্ত হলো মা’রিফত অর্জন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মা’রিফত অর্জন তখনই হবে, যখন উনার পবিত্র আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মা’রিফতও অর্জন হবে। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হে মহান আল্লাহ পাক! আমার পবিত্র আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালামগণ উনারা নিশ্চয়ই মহান পবিত্র। সুবহানাল্লাহ! উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু সালামা আলাইহাস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, এ পবিত্র হাদীছ শরীফ যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করছিলেন তখনই নিম্নোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল হলো- “নিশ্চয়ই খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি চান হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে পবিত্র করার মতো পবিত্র করতে অর্থাৎ উনাদেরকে পবিত্র করার মতো পবিত্র করেই মহান আল্লাহ পাক তিনি সৃষ্টি করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৩) সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মুবারক সৃষ্টির মধ্যে একক ও বেমেছাল। উনার সাথে কারো তুলনা হয় না। কাজেই উনার সাথে নিসবতযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তিত্ব, বস্তু, বিষয় ইত্যাদিই সর্বশ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাবান। উনার পবিত্র ক্বদম মুবারক উনার স্পর্শধন্য মাটি মুবারক- পবিত্র কা’বা শরীফ, পবিত্র আরশ আযীম শরীফ, পবিত্র কুরসী মুবারক, পবিত্র লওহ, পবিত্র কলম মুবারক থেকে অধিকতর সম্মানিত ও মর্যাদাবান। সেক্ষেত্রে উনার আখাচ্ছুল খাছ নিসবতযুক্ত, তায়াল্লুক প্রাপ্ত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম ও আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মুবারক মর্যাদা, মর্তবা, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী, সম্মান কিরূপ হবে- তা সহজেই অনুমেয়। মশহুর মতে, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা ১৩ জন। উনাদের মধ্যে সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, ত্বাহিরা, ত্বইয়িবা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মাধ্যমে তাশরীফ মুবারক এনেছেন ৭ জন আওলাদ আলাইহিমুস সালাম ও আলাইহিন্নাস সালাম উনারা। উনাদের মধ্যে ৩ জন হচ্ছেন হযরত আবনা আলাইহিমুস সালাম। আর ৪ জন হচ্ছেন- হযরত বানাতু আলাইহিন্নাস সালাম। হযরত বানাতু আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মধ্যে সর্বপ্রথম তাশরীফ মুবারক এনেছেন সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা, আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব আলাইহাস সালাম। দুঃখজনক হলেও সত্যে যে, সাধারণ মুসলমান তো বটেই, এমনকি নামধারী আলিমরাসহ অনেক হক্ব দাবিদারও পবিত্র দ্বীন ইসলামের প্রথম যুগের খিদমতে শুধু হযরত পুরুষ ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের আলোচনাই করে থাকে। পাশাপাশি হযরত মহিলা ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্না উনাদের আলোচনা তো তারা করেই না; আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বতে বেমেছাল ফানা ও বাক্বা শান প্রকাশকারিনী তথা উনার খিদমতে সারাজীবন সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোচ্চ খিদমতের আঞ্জাম দানকারিনী বানাতু রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের বেমেছাল খিদমত এমনকি মহিমান্বিত শাহাদাত মুবারক সম্পর্কে তারা জানেই না। নাঊযুবিল্লাহ! উল্লেখ্য, পবিত্র দ্বীন ইসলাম গ্রহণের ক্ষেত্রে সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, ত্বাহিরা, ত্বইয়িবা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার পরেই বিনতু মিন বানাতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ঊলা আলাইহাস সালাম উনার স্থান। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ মহিলাদের মধ্যে তিনি পবিত্র দ্বীন ইসলাম গ্রহণে দ্বিতীয়া। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ঊলা আলাইহাস তিনি ‘শিয়াবে আবী তালিব’ থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিয়েছেন। মূলত উনার থেকেই সমস্ত হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা শিক্ষা গ্রহণ করেছেন যে- কিভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিতে হয়। সুবহানাল্লাহ! উনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমতের চিন্তায় সর্বদা এমন ব্যাকুল থাকতেন যে, স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে সান্ত¡না দিয়ে ইরশাদ মুবারক করেন, “আপনার পিতার জন্য এতো অধিক চিন্তা করা থেকে বিরত থাকুন।” সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি যখন পবিত্র মক্কা শরীফ থেকে পবিত্র মদীনা শরীফ উনার সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট হাযির হওয়ার জন্য রওয়ানা হন। পথিমধ্যে হাব্বার ইবনে আসওয়াদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি (তখনও ঈমান আনেননি) এবং অপর এক ব্যক্তি উনার উপর হামলা চালালে তিনি উটের পিঠ থেকে পড়ে যান। তিনি তখন হামেলা শান মুবারক-এ ছিলেন। আঘাতের কারণে উনার সম্মানিত আওলাদ তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক অবস্থায় দুনিয়ার যমীনে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেন এবং উনার অনেক ‘নূরুন নাজাত মুবারক’ (রক্ত) মুবারক প্রবাহিত হন। এর ফলে দীর্ঘ দিন তিনি মারিদ্বী শান মুবারক-এ ছিলেন এবং এই শান মুবারক-এ ৮ম হিজরী শরীফ ৮ মুর্হরমুল হারাম শরীফ পবিত্র মদীনা শরীফ উনার মধ্যে পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। যা মূলত মহিমান্বিত শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশেরই অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বয়ং নিজে পবিত্র জানাযা নামায পড়ান এবং তিনি স্বয়ং নিজে সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ঊলা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র রওযা শরীফ উনার মধ্যে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করে উনার লখতে জিগার উনার দাফন মুবারক করেন। উনার মহিমান্বিত শান মুবারক-এ স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজে ইরশাদ মুবারক করেন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি আমার শ্রেষ্ঠ বানাত। আমাকে মুহব্বত করার কারণে দুনিয়ায় উনাকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে।” সুবহানাল্লাহ! সঙ্গতকারণেই আজ উম্মাহর জন্য ফরয-ওয়াজিব হচ্ছে- সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল, আফদ্বালুন নিসা ওয়ান নাস বা’দা রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, বিনতু মিন বানাতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ঊলা আলাইহাস সালাম উনার মা’রিফত অর্জন করা। উনাকে অকৃত্রিম মুহব্বত করা। তা’যীম-তাকরীম করা। উনার শান মান আলোচনা করা। উনার সম্মানার্থে সর্বোচ্চ আর্থিক খিদমত করা এবং সমূহ হক্ব মুবারক আদায় করা। মহান মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি ও সম্মানিত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের উসীলায় মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন আমাদেরকে কবুল করেন ও কামিয়াব করেন এবং গায়েবী মদদ করেন। (আমীন)

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে