মাছ- রক্ত,স্মৃতি ও দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়


সমগ্র পৃথিবীতে প্রায় ২৫ হাজার প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ৫০০ প্রজাতিরও বেশি মাছের সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে শতাধিক ধরনের মাছ সাগরীয়। ১৯৬২ সালে ড. এমপি মাতোয়ারি নামের এক মাছ বিশেষজ্ঞের সমীক্ষা মতে, শুধু ব্রহ্মপুত্রেই ৫০ প্রজাতির মাছ রয়েছে।
মাছে এ এবং ডি ভিটামিন পাওয়া যায়। এছাড়াও মাছে চর্বি, খনিজ তেল, আয়রন, ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস পাওয়া যায়। নিয়মিত মাছ খেলে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, চোখের অসুখ, হাত পা ব্যথা, শরীরের দুর্বলতা ইত্যাদি রোগ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়। প্রতিদিন একশো গ্রাম করে তাজা মাছ খেলে পাঁচ থেকে ছয় পয়েন্ট উচ্চ রক্তচাপ কমে যায়। মাছের তেলে থাকা ডকসা হেক্সেনিক অ্যাসিড এবং এলকোসা পেন্টাএনাইক অ্যাসিড মগজের বিকাশ ঘটায়। মাছ শরীরের রক্ত বাড়ায়, স্মৃতিশক্তি এবং দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়। মাছ রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বাড়ায়। মাছে ওমেগা থ্রি নামের এক ধরনের ফ্যাটি অ্যসিড থাকে, যা হৃদযন্ত্রের ধমনীগুলোকে নমনীয় করে রাখতে সাহায্য করে এবং দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়। এই ধরনের অ্যাসিড বেশি থাকা কয়েকটি মাছ হল ইলিশ, ভেটকি, পমফ্রেট, শিঙি এবং হ্রদে থাকা মাছ। রোজ মাছ খেলে বাতের ব্যথা কমে। বাতের ব্যথায় হওয়া জ্বরের উপশম ঘটায়। বায়ুশ্বাসী মাছ যেমন শিঙি, মাগুর ইত্যাদি মাছে যথেষ্ট পরিমাণে আয়রন ও তামা থাকায় এটি রক্তে হিমোগ্লোবিন সংশ্লেষণ করে রক্ত বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। রক্তহীনতায় ভোগা মানুষদের শিঙি, মাগুর মাছ খেতে হয়। এছাড়া খলসে, গড়াই ইত্যাদি মাছে অ্যাখোসিড অ্যাসিড থাকায়, আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে রক্তক্ষরণ হলে সহজে রক্ত বন্ধ হয়। মাছ ঘা শুকাতে সাহায্য করে। যে কোনও মাছে অতি প্রয়োজনীয় ডিএইচএ এবং ইপিএ থাকে। গর্ভবতী মহিলাদের জন্য উপযুক্ত ডিএইচ এবং ইপি সেবন করা অতি উপকারী। নিয়মিত মাছ খেলে মগজে ডিএইচ-এর পরিমাণ বাড়ে। এতে হতাশা ও আত্মহত্যার প্রবণতা কমে, ইতিবাচক দিকের বিকাশ হয় এবং স্মৃতিশক্তি অক্ষুণœ থাকে। এছাড়া মাছের তেল ক্যানসারসহ যে কোনো ধরনের ব্যথা ও রোগ নিরাময় করতে পারে। প্রতিদিন ২.৫ গ্রাম করে মাছের তেল খেলে স্তন ক্যান্সার থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। সামুদ্রিক মাছে যথেষ্ট পরিমাণে আয়োডিন থাকে, তাই এই মাছ খেলে মানুষের গলগন্ড রোগ হয় না। আর্য়ুবেদিক এবং ইউনানি চিকিৎসায় বেশ কয়েক প্রকার মাছের অঙ্গ প্রত্যঙ্গকে ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ধর্মশাস্ত্রেও মাছের ওষুধীয় গুণের কথা উল্লেখ রয়েছে। সার্ক মাছ খেলে গলার ঘা শুকায়। এছাড়া একাংশ এমন মাছ রয়েছে, যা খেলে ত্বকের রোগ সারে। পাশাপাশি রাতকানা রোগ, শরীর দুর্বল লাগা, খিদে না পাওয়া, সর্দি, কাশি, কফ, হাঁপানি, যক্ষা ইত্যাদি রোগে নির্দিষ্ট পরিমাণের মাছ খেলে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং আরোগ্য হয়।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে