“মাজার যিয়ারত খাছ সুন্নত,বিরোধিতা কুফরী, পূজা হারাম, সিজদা শিরক”


মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, هَاتُوا بُرْهَانَكُمْ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ٥ অর্থ: “যদি তোমরা সত্যবাদী হও তাহলে দলিল পেশ কর।” (সম্মানিত সূরা বাক্বারা শরীফ : সম্মানিত আয়াত শরীফ ১১১)

মনে রাখা দরকার-
“মাজারকে পূজা করা হয় না জিয়ারত করা হয়।”
দলীল আদীল্লাহ দ্বারা প্রমানিত মাজার শরীফ যিয়ারত করা খাছ সুন্নত এবং মাযার শরীফের বিরোধিতাকারীরা হচ্ছে ইহুদী এজেন্ট বাতিল ফের্কা ওহাবী ,সালাফী দেওবন্দী, কাদিয়ানী কাফির। এরা মাজার যিয়ারতকে বিদয়াত, শিরিক বলে থাকে , শুধু তাই নয় তারা যিয়ারতকে কবর পূজা বলেও আখ্যায়িত করে থাকে ! শুধু তাই নয়, তারা সারা বিশ্বে সকল মাযার শরীফ ভেঙ্গে ফেলার জন্য চেষ্টা করছে এবং অনেক মাযার শরীফ ভেঙ্গেও ফেলেছে।
নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক !
তাই এ সকল বিষয়কে সামনে রেখে এই লিখনীর প্রয়াস। আশাকরি এ দলীল সমূহ বাতিল ওহাবীদের মোকাবিলায় আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের অনুসারীদের কাজে আসবে ইনশাআল্লাহ।
আসুন আমরা বিস্তারিত দলীল আদিল্লা দ্বারা প্রমান পেশ করি মাজার শরীফ বা কবর যিয়ারত করা খাস সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত !
সহীহ হাদীস শরীফের মধ্যে এরশাদ হয়েছে–
عن ابن عمر رضي الله عنه قال قال رسول الله صلي الله عليه و سلم من زار قبري وجبت له شفاعتي
অর্থ: হযরত ইবনে ওমর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্নিত, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এরশাদ করেছেন, যে ব্যাক্তি আমার কবর ( রওজা শরীফ) যিয়ারত করলো তার জন্য আমার শাফায়াত ওয়াজিব হয়ে গেল।”
দলীল–
√ জামে ছগীর ১৭১ পৃষ্ঠা
√ শিফাউস সিকাম ২
√ ওফাউল ওফা ৩৯৪ পৃষ্ঠা !
হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রওজা শরীফ যিয়ারত প্রসঙ্গে শতাধিক হাদীস শরীফ আছে।
প্রয়োজনে সেগুলা পরে উল্লেখ করা যেতে পারে !
আরো একটি গুরুত্বপূর্ন সহীহ হাদীস শরীফে বর্নিত আছে-
قال رسول الله صلي الله عليه و سلم لامدينت بها قبري و بها بيتي و تربتي وحق علي كل مسلم زيارتها
অর্থ: হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, মদীনা শরীফ আমার ঘর, আর আমার কবরও মদীনা শরীফই হবে। তাই প্রত্যেক মানুষের উচিত এর যিয়ারত করা।”
দলীল-
√ মিশকাত শরীফ।
√ মিরকাত শরীফ।
√ আশয়াতুল লুময়াত।
√ শরহূত ত্বীবি।
এসকল হাদীস শরীফের ব্যাখ্যায় আল্লামা মুহম্মদ ইউসুফ বিন নূরী বলেন-
دهب جمرة الامة الي ان ريارة قبره صلي الله عليه و سلم اعظع القربات
والسفر اليها جاءز بل مندوب مسر وعيتها محل اجماع بلا نزاع
অর্থ: জমহুর উম্মত এর মাযহাব হল রওজা মুবারক যিয়ারত করা উত্তম ইবাদত, আর নিয়ত করে সফর করা শুধু জায়েজই নয় বরং মুস্তাহাব হওয়ার ব্যাপারে সকলেই একমত এতে কোন প্রকার অসুবিধা নেই।”
দলীল-
√ শরহে তিরমিযী ৩য় খন্ড ৩২৯ পৃষ্ঠা।
√ মা’আরিফুস সুনান।
এবার আসুন কবর যিয়ারত প্রসঙ্গে অন্যান্য হাদীস শরীফ গুলা লক্ষ্য করি।
বিখ্যাত হাদীস শরীফের কিতাব ” মিশকাত শরীফে ” কবর যিয়ারত প্রসঙ্গে ” যিয়ারাতুল কুবুর” বা কবর যিয়ারত নামক একটা অধ্যায় রচনা করা হয়েছে !
সেখান থেকে কিছু দলীল পেশ করা হলো –
عن بريدة رضي الله عنه قال قال رسول الله صلي الله عليه و سلم كنت نهيتكم عن زيارة القبور فزوروها
অর্থ : হযরত বুরায়দা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্নিত, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন, আমি তোমাদের কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম, এখন তোমরা তা করতে পারো।”
দলীল-
√ মুসলিম শরীফ
√ মিশকাত শরীফ ১৬৭০ ( বাংলা অনুবাদ, সুবিধার জন্য হাদীস নম্বর বাংলা অনুবাদ কিতাব থেকে দেয়া হলো যাতে সবাই সহজেই খুজে পায় )
كنت نهيتكم عن زيارة القبور فزوروها فا نها نزهد في الدنيا وتذكرة الاخرة
অর্থ : হযরত ইবনে মাসুদ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্নিত, নিশ্চয়ই হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন, আমি তোমাদের কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম , এখন তোমরা তা করতে পারো। কেননা উহা দুনিয়ার আসক্তি কমায় এবং আখিরাতকে স্মরন করায় !”
দলীল-
√ ইবনে মাজাহ
√ মিশকাত শরীফ ১৬৭৭
হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, একদিন নবী করিম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনা শরীফের কিছু কবরের নিকট গেলেন অতঃপর তাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন, সালাম হোক তোমাদের প্রতি হে কবরবাসী !”
দলীল-
√ তিরমীযি শরীফ
√ মিশকাত শরীফ ১৬৭৩
সহীহ হাদীস শরীফে বর্নিত আছে-
عن محمد بن النعمان يرفع الحديث الي النبي صلي الله عليه و سلم قال من زار قبر ابويه او احدهما في كل جمعة غفر له و كتب برا
অর্থ: হযরত ইবনে নোমান রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ননা করেন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যাক্তি প্রত্যেক জুমুয়ার দিন নিজ পিতা-মাতা অথবা তাদের মধ্যে একজনের কবর যিয়ারত করবে তাকে মাফ করে দেয়া হবে |”
দলীল–
√ শুয়াইবিল ঈমান লিল বায়হাক্বী
√ মিশকাত ১৬৭৬
এ পবিত্র হাদীস শরীফেও একক ভাবে কবর যিয়ারত করার কথা বলা হয়েছে। যে ব্যক্তি তাঁর পিতা মাতার যিয়ারত করতে যাবে সে বাড়ী থেকে নিয়ত করেই রওয়ানা হবে অর্থাৎ যিয়ারতকারী একমাত্র কবর যিয়ারত করার উদ্দেশ্যে কবরস্থানে গমন করবে। আর এ ক্ষেত্রে দূরবর্তী কিংবা নিকটবর্তী দূরত্বের কোন পার্থক্য নাই। নিকটেও যে হুকুম দূরেও একই হুকুম।
এ প্রসংগে আল্লামা আব্দুর রহমান যাফীরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-
ولا فرق في الزيارة بين كون المقابر قريبة او بعيدة
অর্থ: কবর যিয়ারতের ক্ষেত্রে নিকট ও দূরের কোন পার্থক্য নাই।”
দলীল-
√ কিতাবুল ফিক্বাহ আলা মাযাহিবিল আরবায়া ১ম খন্ড ৫৪০ পৃষ্ঠা।
হযরত আল্লামা ইবনে আবেদীন শামী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-
ندب الزيارة وان بعد محلها
অর্থ: দূরবর্তী স্থানেও (কবর) যিয়ারতের জন্য গমন করা মোস্তাহাব।”
দলীল-
√ শামী ২য় খন্ড ২৪২ পৃষ্ঠা।
এছাড়া আরো অসংখ্য সহীহ হাদীস শরীফে কবর যিয়ারত করার ব্যাপারে বলা হয়েছে। এসকল হাদীস শরীফের ব্যাখ্যায় বিখ্যাত মুহাদ্দিস , হাফিযে হাদিস , আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী রহমাতুল্

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে