মাতৃভূমির স্বার্থ বিলিয়ে এ কেমন বন্ধুত্ব?


সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “স্বদেশের প্রতি মুহব্বত পবিত্র ঈমান উনার অঙ্গ।” বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান নিজের জীবন থেকে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে বেশি ভালবাসতেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের স্বার্থের বিষয়ে বিদেশী রাষ্ট্রের সাথে কোনো আপোস করেনি।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ভারতে নেমেই তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে সর্ব প্রথম বলেছিলেন- তোমার দেশের সেনাবাহীনিকে আমাদের দেশ থেকে তাড়াতাড়ি সরাও। কিন্তু বর্তমানে দেশের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের থেকে মাতৃভূমির ভালোবাসা গায়েব হয়ে গেল নাকি? বর্তমানে দেশের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের উচিত- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের জীবন থেকে দেশপ্রেমের শিক্ষা নেয়া।

বর্তমানে আমরা দেখছি- ভারত থেকে ৬০ শতাংশ বেশি খরচে ডিজেল আমদানি করছে বাংলাদেশ। প্রথম দফায় ২২০০ মেট্রিক টন ডিজেল আসছে। তবে ডিজেল আমদানিতে খরচ পড়ছে ৬০ শতাংশ বেশি। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে সম্পর্কের বন্ধন মজবুত করতে আরো একধাপ এগোলো বাংলাদেশ ও ভারত। তাহলে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের বন্ধন মজবুত করতে বাংলাদেশকে দেশের স্বার্থ বিলিয়ে খেসারত দিতে হবে কেন?

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ১৩৫ কিলোমিটারের একটি তেলের পাইপলাইন স্থাপন করা হচ্ছে। ইন্দো-বাংলা ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন নামের এই লাইন দিয়ে ভারত থেকে ডিজেল আমদানি করবে বাংলাদেশ। প্রাথমিকভাবে এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে ২০ বছরের জন্য চুক্তি হবে। পাইপলাইন স্থাপনের বিষয়ে সম্প্রতি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও ভারতের নুমালীগড় রিফাইনারি লিমিটড (এনআরএল) এর মধ্যে এ বিষয়ে একটি সমঝোতা চুক্তি হয়েছে। মোট ১৩৫ কিলোমিটার পাইপলাইন হবে। এর ১৩০ কিলোমিটার থাকবে বাংলাদেশে। মাত্র পাঁচ কিলোমিটার থাকবে ভারতে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সূত্র জানিয়েছে, ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন এই ডিজেলের প্রতি ব্যারেলের জন্য পরিবহন খরচ, ইন্স্যুরেন্স বাবদ রাখছে সাত মার্কিন ডলার। অথচ কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, চীন, ফিলিপাইন, তুরস্ক, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া বা ব্রুনাই থেকে এই তেল আনতে খরচ পড়ে ৪ দশমিক ৪ মার্কিন ডলার। টেন্ডারের মাধ্যমে ডিজেল আমদানি করলে অনেক সময় আরো কম দাম পড়ে। অর্থাৎ মধ্যপ্রাচ্য বা পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো থেকে যে খরচে ডিজেল পরিবহন করা হয়, তার চেয়ে ৬০ শতাংশ বেশি খরচে ভারত থেকে ডিজেল আনতে হচ্ছে।
যেখানে আমরা ৪ দশমিক ৪ মার্কিন ডলারে এবং টেন্ডারের মাধ্যমে আরো কম দামে ডিজেল আমদানি করতে পারি। সেখানে ভারত থেকে সাত মার্কিন ডলারে ডিজেল আমদানি করার রহস্য কি? মাতৃভূমির স্বার্থ বিলিয়ে এ কেমন বন্ধুত্ব?

লিখেছেন: -আসআদ ইবনে আমির

 

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে