মাত্র ১৬ (ষোল) বছর বয়সী একজন সম্মানিত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহু উনার হুসনুল খুলুক্ব বা সচ্চরিত্রতা। যা সমস্ত মুসলমান বিশেষ করে যাদের চারিত্রিক ত্রুটি রয়েছে তাদের জন্য এক মহান ইবরত ও নছীহত।


মাত্র ১৬ (ষোল) বছর বয়সী একজন সম্মানিত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহু উনার হুসনুল খুলুক্ব বা সচ্চরিত্রতা।
যা সমস্ত মুসলমান বিশেষ করে যাদের চারিত্রিক ত্রুটি রয়েছে তাদের জন্য এক মহান ইবরত ও নছীহত।

মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিইয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একজন কম বয়সী ছাহাবী উনার নাম মুবারক ছিলেন- হযরত ছালাবা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। উনার বয়স ছিলেন মাত্র ১৬ (ষোল) বছর। তিনি প্রায় সময়েই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বার্তাবাহক হিসেবে এখানে সেখানে ছুটোছুটি করে বেড়াতেন।

একদিন তিনি সম্মানিত মদীনা শরীফ উনার পথ ধরে চলছেন, এমন সময় একটা বাড়ির পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় হঠাৎ উনার চোখ পড়ল দরজা খোলা একটি বাড়ির দিকে। সেই বাড়ির দরজা বরাবর গোসলখানায় একজন মহিলা গোসলরত ছিলেন এবং প্রবলবাতাসে সেই গোসলখানার কাপড়ের পর্দা উড়ছিল। সেই মুহূর্তে সেই ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহু উনার চোখ ঐ মহিলার উপর গিয়ে পড়লো। সঙ্গে সঙ্গে তিনি দৃষ্টি নামিয়ে ফেললেন। কিন্তু এই ঘটনার পর সেই ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহু উনার অন্তর মুবারক এক গভীর অপরাধবোধে ভরে গেল, প্রচন্ড দুঃখ উনাকে আচ্ছাদন করলো, উনার নিজেকে মুনাফিকের মতো লাগছিল। তিনি ভাবলেন, “নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ছাহাবী হয়েও কিভাবে আমি এতটা অপ্রীতিকর কাজ করতে পারি? মানুষের গোপনীয়তাকে নষ্ট করতে পারি? যেই আমি কিনা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বার্তাবাহক হিসেবে কাজ করি, কেমন করে এই ভীষণ আপত্তিজনক আচরণ আমার পক্ষে সম্ভব?” উনার অন্তর মুবারক মহান আল্লাহ পাক উনার ভয়ে কাতর হয়ে গেল। তিনি ভাবলেন, “না জানি মহান আল্লাহ পাক তিনি আমার এমন আচরণের কথা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে প্রকাশ করে দেন।” এই ভয়ে এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুখোমুখি হওয়ার লজ্জায় তিনি তৎক্ষণাৎ ঐ স্থান ত্যাগ করে অজানা গন্তব্যে অনেক দূরে চলে গেলেন।

এভাবে অনেকদিন চলে গেল। এদিকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রায় সময়েই উনার প্রিয় সেই কম বয়সী ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহু উনার অবস্থান সম্পর্কে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহুম উনাদের কাছে জানতে চাইতেন কিন্তু সকল হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহুম উনাদের নিকট দীর্ঘদিন যাবৎ সেই ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহু উনার কোন খোঁজ-খবর ছিলোনা, উনারা কেউ উনাকে দেখেননি।

এতদ্ব প্রক্ষিতে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই কিছুটা চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি আমীরুল মু’মিনীন হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম, হযরত সালমান ফারসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহুসহ কিছু হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে পাঠালেন সেই ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহু উনাকে খুঁজে বের করে আনার জন্য। উনারা সম্মানিত মদীনা শরীফ তন্ন তন্ন করে খুঁজেও সেই ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহু উনার কোন সন্ধান পেলেন না।

পরে সম্মানিত মদীনা শরীফ উনার একেবারে সীমান্তবর্তী পর্বতময় একটা জায়গায় পৌঁছার পর কিছু বেদুঈনের সাথে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহুম উনাদের দেখা হলো। এখানে এসে উনারা দেখলেন- কিছু বেদুঈন সেখানে মেষ চড়াচ্ছে। তাঁদের কাছে আমীরুল মু’মিনীন হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি জিজ্ঞেস করলেন যে, “হে বেদুঈনগণ! তোমরা লম্বা, তরুণ, কম বয়সী একটা ছেলে উনাকে কি এদিকে আসতে দেখেছ?” তারা জবাব দিল: ‘সে খবর আমরা জানিনা, তবে প্রতিদিন মাগরিবের সময় এখানে একজন কম বয়সী ছেলে আসেন। তিনি দেখতে খুব সুন্দর, বেশ লম্বা, কিন্তু খুব দুর্বল। তিনি শুধুই কাঁদতে থাকেন। মেষ দোহন করে আমরা উনাকে খাওয়ার জন্য এক বাটি দুধ দেই, দুধের বাটিতে চুমুক দেয়ার সময় উনার চোখের পানি টপটপ করে পড়ে দুধের সাথে মিশে যায় কিন্তু সেদিকে উনার কোন হুঁশ থাকেনা।’ তারা আরো জানালো,‘চল্লিশ দিন যাবৎ ছেলে তিনি এখানে আছেন। সম্ভবতঃ একটা পর্বতের গুহার মধ্যে তিনি থাকেন। কারো সাথে কোন কথা বলেন না। দিনে একবারই তিনি কাঁদতে কাঁদতে নিচে নেমে আসেন; আবার কাঁদতে কাঁদতে উপরে চলে যান।’

আগন্তুক হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহুম উনারা বর্ণনা শুনেই বুঝতে পারলেন, এ ছেলেটি আর কেউ নন- হযরত ছালাবা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনিই। তবে উনারা উপরে যেয়ে সেই ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহু উনাকে আর অপ্রস্তুত করতে চাচ্ছিলেন না। এজন্য উনারা নিচেই অপেক্ষা করতে লাগলেন। প্রতিদিনের মতো সেদিনও মাগরিবের সময় সেই ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি কাঁদতে কাঁদতে নিচে নেমে আসলেন। আগন্তুক হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহুম উনারা দেখলেন, সেই কম বয়সী ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহুম উনার শরীর অনন্ত দুর্বল হয়ে গেছে! কিন্তু উনার কোন দিকেই কোন খেয়াল নেই। বেদুঈনদের কথামতো উনারা দেখতে পেলেন- সেই ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহু তিনি দুধের বাটি হাতে নিয়ে কাঁদছেন আর উনার দুই চক্ষু মুবারক থেকে অঝোর ধারায় অশ্রু মুবারক প্রবাহিত হচ্ছে এবং বাটিতে থাকা দুধের সাথে মিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে। উনার চেহারা মুবারকে গভীর বিষাদের চিহ্ন স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হচ্ছে।

আমীরুল মু’মিনীন হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনিসহ উপস্থিত হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা নিজেদের আগমনের উদ্দেশ্য জানিয়ে উনাকে অনুরোধের স্বরে বললেন, “আপনি আমাদের সাথে সম্মানিত মদীনা শরীফ ফিরে চলুন।” কিন্তু সেই ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহু তিনি কোন মতেই ফিরে যেতে রাজি হচ্ছিলেন না। তিনি বারবার আগন্তুক হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের কাছে জিজ্ঞেস করতে লাগলেন,“মহান আল্লাহ পাক তিনি কি আমার মুনাফিকী সম্পর্কে কোনো সূরা শরীফ নাযিল করেছেন?” হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা উত্তরে বললেন : “না, আমাদের জানামতে এমন কোনো সূরা শরীফ বা কোনো আয়াত শরীফ নাযিল হয়নি।”

এভাবে বেশ কিছুক্ষণ কথোপকথনের পর হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি জালালী কন্ঠে বললেন : “হে হযরত ছালাবা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বয়ং আপনাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদেরকে পাঠিয়েছেন। এখন আপনি যদি আমাদের সাথে যেতে রাজি না হন, তাহলে আমরা আপনাকে জোর করে ধরে নিয়ে যাব।” নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কথা মুবারক অমান্য করার সাধ্য কারো নেই। কিন্তু সেই ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহু তিনি এতটাই লজ্জিত ছিলেন যে, উনার অন্তর মুবারক ফিরে যেতে চাচ্ছিলেন না। এরপর আগন্তুক হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহুম উনারা সেইই ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহু উনাকে সম্মানিত মদীনা শরীফে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে নিয়ে আসেন।

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে এসেই সেই ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহু তিনি বাচ্চা শিশুর মতো হুঁ হুঁ করে কেঁদে উঠেন এবং আবারও একই প্রশ্ন করেন-“ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! মহান আল্লাহ পাক তিনি কি আমাকে মুনাফিকদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন অথবা আমার মুনাফিকী সম্পর্কে কি কোন আয়াত শরীফ নাযিল করেছেন?”

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে আশ্বস্ত করে বললেন :“না, এমন কিছুই নাযিল হয়নি।” অতঃপর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেই ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহু উনার দুর্বল পরিশ্রান্ত মাথা মুবারক নিজের সম্মানিত কোল মুবারক উনার উপর রাখলেন।

সেই ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহু তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলে উঠলেন, “ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এমন গুনাহগার বালকের মাথা আপনার সম্মানিত কোল মুবারক থেকে সরিয়ে দিন।”

কেননা সেই ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহু উনার কাছে মনে হচ্ছিল যে, তিনি এমন স্নেহ মুবারক পাওয়ার উপযুক্ত নন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সান্তনা দিয়ে বললেন : “হে হযরত ছালাবা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! আপনি মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত মুবারক আর দয়া-ইহসান মুবারক উনাদের উপর ভরসা করুন এবং মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট ক্ষমা চান।”

এমন সময় সেই ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহু তিনি বললেন, “ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমার এমন মনে হচ্ছে; যেন আমার হাড় আর গোশতের মাঝখান দিয়ে পিঁপড়া হেঁটে বেড়াচ্ছে।” নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, “ওটা হলো মালাকুল মউত অর্থাৎ মৃত্যুর ফেরেশতা। আপনার সম্মানিত বিছালী শান মুবারক প্রকাশ উনার সময় ঘনিয়ে এসেছে। হে হযরত ছালাবা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! আপনি এখন কালিমায়ে শাহাদাত পাঠ করতে থাকুন।” তখন সেই ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহু তিনি উচ্চস্বরে কালিমায়ে শাহাদাত পাঠ করতে লাগলেন। পড়তে পড়তেই উনার শরীর মুবারক থেকে রূহ মুবারক বেরিয়ে গেলেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাযিউন)

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজে সেই ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহু উনাকে গোসল করিয়ে জানাজার পর কবর দিতে নিয়ে যাচ্ছিলেন। আরো অনেক হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারাও সেই ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার দেহ মুবারক বহন করে নিয়ে যাচ্ছিলেন।

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার সম্মানিত ক্বদম মুবারক টিপে টিপে অনেক সাবধানে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন :“ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি সম্মানিত ক্বদম মুবারক টিপে টিপে এমনভাবে হাঁটছেন কেন; যেন ভিড়ের মাঝে হেঁটে চলছেন। অথচ সামনে কত রাস্তা ফাঁকা পড়ে আছে। ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি আরাম করে চলুন।” উত্তরে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, “হে ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম! আমাকে অনেক সাবধানে পথ চলতে হচ্ছে। সমস্ত রাস্তা ফেরেশতা উনাদের দ্বারা ভরেগেছে। হযরত ছালাবা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার মাগফিরাতের জন্য এত ফেরেশতা এসেছেন যে, আমি ঠিকমতো আমার সম্মানিত ক্বদম মুবারক ফেলার জায়গা পাচ্ছি না।”(সুবহানাল্লাহ)

এখানে ফিকিরের বিষয় হচ্ছে, সেই ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহু উনার কিন্তু অনিচ্ছাকৃত দৃষ্টি পড়েছিলো এবং দৃষ্টি পড়ার সাথে সাথে তিনি দৃষ্টিকে অবনত করেছিলেন। তিনি সেদিকে আর এক মূহুর্তও দৃষ্টিপাত করেননি।

যেখানে সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, “প্রথম দৃষ্টি ক্ষমা করা হবে যা অনিচ্ছাকৃত পতিত হয়।”

সেখানে অনিচ্ছাকৃত মাত্র একবার দৃষ্টিপাত করার পরও তিনি নিজেকে অপরাধী মনে করলেন, তিনি প্রচন্ড ব্যথিত-মর্মাহত হলেন, অনেক কান্নাকাটি-রোনাজারি করলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সামনে উপস্থিত হতে অত্যন্ত লজ্জিত হলেন, এমনকি উনার মাথা মুবারক নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত কোল মুবারকে রাখার উপযুক্ত মনে করলেন না। উনার এই সর্বোচ্চ তাক্বওয়া-আল্লাহভীতির কারণে উনার জন্য সর্বোত্তম ফয়সালা করা হলো। স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সন্তুষ্টি মুবারক প্রকাশ করলেন এবং জানাযা, গোসল, কাফন-দাফনের ব্যবস্থা করলেন। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহুম উনারা সহ লক্ষ-লক্ষ কোটি-কোটি ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা জানাযায় শরীক হলেন। যা নিন্মোক্ত সম্মানিত আয়াত শরীফ উনার বহিঃপ্রকাশ। ইরশাদ মুবারক হয়েছে,

ﻭَﻟَٰﻜِﻦَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺣَﺒَّﺐَ ﺇِﻟَﻴْﻜُﻢُ ﺍﻟْﺈِﻳﻤَﺎﻥَ ﻭَﺯَﻳَّﻨَﻪُ ﻓِﻲ ﻗُﻠُﻮﺑِﻜُﻢْ ﻭَﻛَﺮَّﻩَ ﺇِﻟَﻴْﻜُﻢُ ﺍﻟْﻜُﻔْﺮَ ﻭَﺍﻟْﻔُﺴُﻮﻕَ ﻭَﺍﻟْﻌِﺼْﻴَﺎﻥَ ۚ ﺃُﻭﻟَٰﺌِﻚَ ﻫُﻢُ ﺍﻟﺮَّﺍﺷِﺪُﻭﻥَ.

অর্থ: মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাদের (হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহুম উনাদের) নিকট সম্মানিত ঈমান উনাকে প্রিয় পছন্দনীয় করেছেন এবং সম্মানিত ঈমান দ্বারা অন্তর মুবারককে সৌন্দর্যমন্ডিত করেছেন। আর আপনাদের নিকট কুফরী, ফাসিকী ও নাফরমানীকে অপ্রিয় ও ঘৃণ্য করেছেন। আপনারাই হাক্বীক্বী হিদায়েতপ্রাপ্ত (সম্মানিত সূরা হুজরাত শরীফ : সম্মানিত আয়াত শরীফ ৭)

মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন,

فَإِنْ آمَنُواْ بِمِثْلِ مَا آمَنتُم بِهِ فَقَدِ اهْتَدَواْ
অর্থ: যদি তারা (পরবর্তী উম্মত) হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহুম উনাদের মতো ঈমান আনতে পারে, তাহলে অবশ্যই তারা হিদায়েত লাভ করবে। (সম্মানিত সূরা বাক্বারা শরীফ : সম্মানিত আয়াত শরীফ ১৩৭)

উপোরোক্ত আলোচনা থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহুম উনারা যে, মিয়া’রে হক্ব বা সত্যের মাপকাঠি তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। উনারাই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ছাহাবী হওয়ার উপযুক্ত। উনারা দুনিয়াতে থেকেই মহান আল্লাহ পাক উনার এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের খাছ রিযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক অর্জন করেছেন।

সুতরাং সমস্ত মুসলমান, পুরুষ-মহিলা, জ্বিন-ইনসান, আমাদের সকলের দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহুম উনাদের অনুসরনে হাক্বীক্বী ঈমান আনা, উনাদের পরিপূর্ণ অনুসরণ অনুকরণ করার কোশেশে মশগুল থাকা। সুবহানাল্লাহ্

খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার সম্মানার্থে আমাদের সবাইকে সেই তৌফিক দান করুন। আমীন

Views All Time
1
Views Today
5
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে