মানবতার আড়ালে ইসলামবিদ্বেষী মুখোশ খুলতে শুরু করেছে


অং সান সুচি। যাকে মিয়ানমারের কুফরী গণতন্ত্রের নেত্রী বলা হয়ে থাকে। মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ইস্যুতে তাকে হর্তাকর্তা হিসাবে আর্বিভূত হতে দেখা যায় এবং বিশ্ব মিডিয়া প্রচার করে থাকে যে, এই ইস্যুতে সে অনেক নমনীয়। কিন্তু আসলেই কি তাই? আসলে তা নয়। কারণ মহান আল্লাহ পাক যেখানে বিধর্মীদেরকে মুসলমানদের শত্রু হিসেবে পরিগণিত করেছেন সেখানে এই সুচি কোনো সময় মুসলমানদের পক্ষে অবস্থান করতে পারে না। যার প্রমাণ হলো- সম্প্রতি এই মানবতা এবং নমনীয়তাধারী সুচির মূল যে মুখোশ (ইসলামবিদ্বেষ) সেটা প্রকাশ পেয়ে গেছে। গত কয়েকদিন আগে বিবিসি’র এক সাক্ষাতকারে উপস্থিত হয়েছিলো এই গিরগিটির ন্যায় খোলস বদলানো সুচি। সেই সাক্ষাতকারটি নিচ্ছিলো বিবিসি’র এক মুসলিম উপস্থাপক মিশেল হুসাইন। সাক্ষাতকারের এক পর্যায়ে যখন মায়ানমারের বৌদ্ধদের দ্বারা রোহিঙ্গা মুসলিমদের গণহত্যার ব্যাপারে তাকে প্রশ্ন করা হয়, তখন এই সুচি অত্যন্ত রেগে গিয়ে তার আসল রুপ নিজের অজান্তেই প্রকাশ করে দেয়। সে মন্তব্য করে বসে- “একজন মুসলিম যে আমার সাক্ষাতকার নিবে সেটা আমি কখনো ভাবিনি।” সুত্র:- (http://goo.gl/X10jcc)।
মূলত সে আগে থেকেই ইসলামবিদ্বেষী। স্বার্থ এবং ক্ষমতাজনিত কারণে তার ইসলামবিদ্বেষ চাপা পড়ে ছিলো। যা সুযোগ বুঝেই উতলে বের হয়ে গিয়েছে।
উল্লেখ্য, মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে এই বিধর্মীদের ব্যাপারে মুসলমানরা যাতে সাবধান থাকে এজন্য প্রায় ১৪০০ পবিত্র আয়াত শরীফ নাজিল করেছেন। তাই মহান আল্লাহ পাক উনার কালাম অনুসারে সুচির এই বক্তব্য করাটাই স্বাভাবিক। কারণ মহান আল্লাহ পাক উনার কালাম মুবারকে কোনো সময় অস্পষ্টতা এবং অবাস্তবতা থাকে না এবং থাকতে পারে না। তাই সূচির এই বেফাঁস ইসলামবিদ্বেষী মন্তব্যের ব্যাপারে চোখ বড় করার কিছু নেই।
এখানে মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে বড় শিক্ষনীয় যে বিষয় হলো, বর্তমানে সারা বিশ্বে যেসব কথিত মানবতাধারী বিধর্মী বা নামধারী মুসলিম নেতারা মুসলিমদের পক্ষে যেসব সাফাইসূলভ বক্তব্য দিচ্ছে সেক্ষেত্রে তাদের বিশ্বাস করা আর ইচ্ছে করে ফুটন্ত কড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া একই কথা। যার আরও একটি উদাহরণ হচ্ছে, কুখ্যাত ইসলামবিদ্বেষী এবং লাখ লাখ মুসলমান শহীদকারী আমেরিকার প্রেসিডেন্ট খ্রিস্টান ওবামা। বর্তমানে সে কিছুদিন পর পর মুসলমানদের পক্ষে একটি করে মন্তব্য করছে আর বিশ্ব মিডিয়া সেটা ফলাও করে প্রচার করছে। আর এতেও আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। কারণ কাক ময়ুরের খোলস পরিধান করলেও সে কাকই থেকে যায়। ময়ুর কোনো সময় সে হতে পারে না। লাখ লাখ মুসলিম শহীদকারী বিধর্মী কোনো সময় মুসলিম সূলভ আচরন করতে পারে না। এটা অবিশ্বাস্য এবং বানোয়াট। যা পূর্ব এবং বর্তমান ইতিহাস থেকে প্রমাণিত।
মূলত বর্তমানে মুসলমানরা বিধর্মীদের এসব ফাঁদে পা দিয়ে নির্যাতিত হওয়ার পেছনে মূল কারণ হলো, বর্তমান মুসলিম উম্মাহ পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ থেকে অনেক দূরে চলে গিয়েছে। যার কারণে আজকে তারা সারা বিশ্বে নির্যাতিত ও অবহেলিত। তাই বর্তমানে মুসলিম উম্মাহর জন্য করণীয় এবং ফরয হলো, এসব বিধর্মীদের ফাঁদে পা না দিয়ে পবিত্র কুরআন শরীফ এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ অনুসারে জীবন-যাপনের চেষ্টা করা। মহান মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি যেন কুল-মুসলিম উম্মাহকে সহিহ বুঝ এবং ঈমানী কুওয়াত দান করেন। আমীন!
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে