মানুষকে আমলের প্রতি নিরুৎসাহিত করতেই পবিত্র হাদীছ শরীফ নিয়ে মওজু-জয়ীফ ইত্যাদি অপপ্রচার করছে বাতিল ফিরক্বারা


প্রকাশ থাকে যে, পবিত্র হাদীছ শরীফ ওহী মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ওহী মুবারক ব্যতীত নিজের থেকে কোন কথা মুবারক বলেন না।” (পবিত্র সূরা নজম শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৩, ৪)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, “হযরত মিক্বদাম ইবনে মা’দী কারিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, জেনে রাখো, আমাকে পবিত্র কুরআন শরীফ দেয়া হয়েছে এবং উনার সাথে উনার অনুরূপ বিষয় অর্থাৎ পবিত্র হাদীছ শরীফ দেয়া হয়েছে। (আবু দাউদ শরীফ, মিশকাত শরীফ)

উল্লেখ্য, মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার প্রিয়তম রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি যেসকল ওহী মুবারক নাযিল করেছেন তা দু’ প্রকার। এক- ওহীয়ে মাতলূ, তা হচ্ছে পবিত্র কুরআন শরীফ। দুই- ওহীয়ে গইরে মাতলূ, অর্থাৎ ওহী দ্বারা প্রাপ্ত মূল ভাবটিকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বীয় মুবারক ভাষায় প্রকাশ করেছেন, ইহাই পবিত্র হাদীছ শরীফ। ইহা ক্বিরায়াত হিসেবে পাঠের হুকুম নামাযে দেয়া হয়নি।

পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করাকে রেওয়ায়েত বলে এবং যিনি বর্ণনা করেন উনাকে রাবী বলে। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার রাবী পরম্পরাকে সনদ বলে। কোন হাদীছ শরীফ উনার সনদ বর্ণনা করাকে ইসনাদ বলে। কখনো ইসনাদ ‘সনদ’ অর্থেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে। সনদ বর্ণনা করার পর যে মূল হাদীছ শরীফ বর্ণনা করা হয়, উনাকে মতন বলে।
আরো উল্লেখ্য, পবিত্র হাদীছ শরীফ প্রথমত তিন প্রকারের। ক্বওলী, ফে’লী ও তাকরীরী। কথা জাতীয় পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাকে ক্বওলী, কার্যবিবরণ সম্বলিত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাকে ফে’লী এবং সম্মতিসূচক পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাকে তাকরীরী হাদীছ শরীফ বলে।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার আরো প্রকারভেদ রয়েছে। যেমন- মারফু, মাওকূফ, মাকতূ, মুত্তাসিল, মুনকাতি, মুরসাল, মুআল্লাক, মুদাল্লাস, মুদ্বতারাব, মুদরাজ, ছহীহ, হাসান, দ্বয়ীফ, মাওদূ, মাতরূক, মুবহাম, গরীব, আযীয, মাশহূর, মুতাওয়াতির ইত্যাদি। এ সমুদয় প্রকারভেদ রাবী বা বর্ণনাকারীর বর্ণনার উপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয়েছে। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার উপর ভিত্তি করে নয়। সুতরাং কোনো পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার সম্পর্কে এ কথা বলা কখনোই শুদ্ধ হবে না যে, অমুক হাদীছ শরীফখানা দ্বয়ীফ, বরং বলতে হবে যে, অমুক হাদীছ শরীফখানা উনার বর্ণনাকারী বা রাবী দ্বয়ীফ বা মাওদূ।
কারণ যা হাদীছ শরীফ তা হাদীছ শরীফই। তা রাবী বা বর্ণনাকারীর বর্ণনায় তারতম্য হতে পারে।
কাজেই, যা হাদীছ শরীফ তা হাদীছ শরীফ নয় বলা এবং যা হাদীছ শরীফ নয় তা হাদীছ শরীফ বলা উভয়টাই কুফরী। এ কুফরীর পরিণাম হচ্ছে জাহান্নাম। এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন। মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমার তরফ থেকে একখানা পবিত্র আয়াত শরীফ বা একখানা হাদীছ শরীফ হলেও তোমরা তা (মানুষের নিকট) পৌঁছে দাও। বনী ইসরাইলের নিকট থেকে শুনেও তোমরা হাদীছ শরীফ বর্ণনা করতে পার, এতেও কোনরূপ আপত্তি নেই। কিন্তু যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় আমার প্রতি মিথ্যারোপ করবে (অর্থাৎ আমি যা বলেছি তা বলি নাই বলে প্রচার করবে এবং যা বলি নাই তা বলেছি বলে প্রচার করবে, সে দুনিয়ায় থাকতেই) তার বাসস্থান জাহান্নামে প্রস্তুত করে নিলো। (বুখারী শরীফ, মিশকাত শরীফ)
এ হাদীছ শরীফ উনার আলোকে অনুসরণীয় উলামায়ে কিরামগণ উনারা মাসয়ালা প্রদান করেছেন যে, “কেউ যদি একখানা চুল মুবারক নিয়ে বলে যে, এ চুল মুবারকখানা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চুল মুবারক, তাহলে যার বা যাদের সামনে বলা হলো, তাদের সকলের উচিত তা বিশ্বাস করা। অবিশ্বাস করাটা কুফরী। তবে বক্তব্যদাতা মিথ্যা বললে সে দায়ী হবে এবং জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। নাউযুবিল্লাহ!
অতএব, যেই পবিত্র হাদীছ শরীফসমূহ স্বয়ং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা বর্ণনা করেছেন এবং যা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের বহু প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহে বর্ণিত হয়েছে, উক্ত হাদীছ শরীফসমূহকে বানোয়াট বলে অস্বীকার করার দুঃসাহস কোনো মুসলমান দেখাতে পারে না। যে দুঃসাহস দেখাবে বুঝতে হবে তার ঈমান নষ্ট হয়ে গেছে। সে মুনাফিক ও মুরতাদ হয়ে গেছে। অন্যথায় তাকে প্রমাণ করতে হবে উক্ত হাদীছ শরীফসমূহ যখন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা বর্ণনা করেছেন তখন উনাদের মধ্যে কেউ উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফসমূহকে বানোয়াট বলেছেন কিনা? উনারা যদি বানোয়াট বা মাওদূ বলে না থাকেন, তাহলে পরবর্তী কেউ বানোয়াট বললে তা কস্মিনকালেও গ্রহণযোগ্য হবে না। মূলত, পবিত্র হাদীছ শরীফসমূহ মাওদূ (বানোয়াট) বা দ্বয়ীফ (দুর্বল) বলে পবিত্র হাদীছ শরীফসমূহের প্রতি অসম্মান ও আমলের প্রতি নিরুৎসাহিত করণের চক্রান্ত হচ্ছে ৭২টি বাতিল ও জাহান্নামী ফিরক্বার লোকদের। এদের থেকে নিজেদের ঈমান-আমল হিফাযত করা অপরিহার্য কর্তব্য।

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে