মানুষ অভ্যাসের দাস নয় বরং অভ্যাসই মানুষের দাস!


মানুষ তার মধ্যে থাকা খারাপ স্বভাবগুলোকে লালন করতে চায়।এটা  ডিজিটাল পোলাপানের বলা হোক বা নিউ জেনারেশনের ছেলেমেয়ে বলা হোক তাদের অনেকেরই বৈশিষ্ট্য।তারা মনে করে থাকে আমি খারাপ খারাপই থাকবো।আমি এমনই।অনেকে মনে করে থাকে মানুষের ভালো গু্ণের সাথে খারাপ কিছু দোষ থাকবে ।হ্যাঁ,অবশ্যই দোষে গু্ণেই তো মানুষ।তাই বলে বদ স্বভাবের পরিবর্তন করা যাবে না তাতো না।

মানুষের অন্তরে ৩৮ প্রকার বদ খাছলত রয়েছে,এগু্লোকে বলা হয় মুহলিকাত।যেমনঃ রিয়া (লোক দেখানো),তাকাব্বু্র (বড়ত্ব),ফখর (গর্ববোধ),চোগলখু্রী, ইত্যাদি।আর 44 প্রকার নেক খাছলত রয়েছে যাকে মু্নজিয়াত বলা হয়।যেমনঃ তওবা,বিনয়,তাওয়াক্কুল ইত্যাদি।

দেখা যাচ্ছে অন্তরে নেক খাছলতই বেশি রয়েছে ,কিন্তু যেহেতু অধিকাংশই মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশ অমান্য করে,শয়তানের নির্দেশ মানে তাই শয়তানের উপাসনা করে,শয়তানকে ইলাহ বানিয়ে গান-বাজনা,ছবি,টিভি,খেলাধূলা ইত্যাদি হারাম কাজে মশগুল থাকে ।নাঊযুবিল্লাহ্‌।অথচ মানুষ যদি চায় সে কিন্তু তার মধ্য থেকে বদ খাছলতগুলো দূর করে নেক খাছলতগুলো জারী করতে পারে।এটা সম্ভব।

অবশ্য এজন্য তরতীব হচ্ছে ইলমে তাসাউফ চর্চা করা অর্থাৎ হক্বানী রব্বানী ওলী আল্লাহ উনাদের সোহবতে গিয়ে যিকির ফিকির করা।হয়তো একটু সময় লাগবে তার জন্য  ধৈর্যধারণ করতে হবে তাহলে চেষ্টায় থাকলেই এক সময়  ফল পাওয়া যাবে।

এখন অনেকে মনে করে মন না চাইলেও ভালো কাজ করা বা ভালো স্বভাব দেখানোটা মানুষকে দেখানোর জন্য/ আমি তো আসলে এমন না ,কেন এমন ভালো সাজবো!?এরকম চিন্তা অনেকেই করে থাকে।কিন্তু অভ্যাস তো করতে হবে।একটু করে প্র্যাকটিস করতে করতে সেটা তো আর লোক দেখানো থাকবে না,অভ্যাসে পরিণত হবে,স্বভাবে পরিণত হবে।তাহলে এক্টু এক্টু করে নেক কাজের চেষ্টা করতে,নেক স্বভাব অর্জন করতে সমস্যা কোথায়?হতে পারে আমার মধ্যে ৯৯% বদ খাছলত রয়েছে।এজন্য কি ১% নেক স্বভাবের জন্য আনইজি ফিল করতে হবে?ভালো স্বভাব বর্জন করতে হবে??নাকি এক্টু এক্টু করে নেক স্বভাবের পার্সেন্টেজ বাড়াতে হবে?এখন ভালো হতে গেলে যেহেতু বাধা আসে,লোকে অনেক কথাই বলে,খোচাও কম দেয় না সেক্ষেত্রে উত্তম হবে সেগু্লো পাত্তা না দিয়ে,লোকের মনোরঞ্জন না করে,তাদের খুশি না করে মহান আল্লাহ পাক উনার পছন্দের পাত্র হওয়ার চেষ্টায় রত থাকা।নিজের কঠিন সময়ে এই আশে পাশের লোকগুলোকে কিন্তু পাওয়া যাবে না।সু্তরাং নিজের বিষয়ে নিজেকেই চিন্তা করতে হবে,নিজের ভালোটাও নিজেকেই দেখতে হবে।বদ স্বভাবগুলোকে নেক স্বভাবে পরিণত করতে হবে। স্মর্তব্য যে,মানুষ অভ্যাসের দাস না বরং অভ্যাসই মানুষের দাস।আল্লাহ পাক উনার কাছে ভালো হওয়ার চেষ্টা করুন,মানুষ আগেও পেরেছে,এখনো পারছে,মহান আল্লাহ পাক যদি তৌফিক দানেন তাহলে আমরাও পারবো।ইনশা আল্লাহ্‌।

মহান আল্লাহ পাক যেন আমাদের সকলকে সাহায্য করেন,আমরা সকলেই যেন  উনার পছন্দনীয় সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত বান্দা-বান্দী  হতে পারি।আমীন।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে