মানুষ যদি দ্বীনদারিকে দুনিয়াদারির উপরে প্রাধান্য দিত তাহলে তার সমস্ত কাজের কুদরতি ফায়সালা হয়ে যেত


“আযান হয়ে গেছে? আচ্ছা এইতো হাতের কাজটা সেরেই নামায পড়তে যাচ্ছি……ওয়াক্ত আর বেশিক্ষণ নেই? কিন্তু রান্না যে এখনও চুলার উপরে……ওয়াক্ত শেষ? কি আর করব, ছেলেমেয়েদের খাওয়াতে হবে, পরে ক্বাযা পরে নেব।” কথাগুলো কি পরিচিত লাগছে? লাগারই কথা। ম্যাক্সিমাম মহিলাদের এটাই প্রতিদিনের রুটিন। সংসারের কাজ গুছাতে গুছাতে ইবাদত বন্দেগী করার সময় আর হয়ে উঠে না। অথচ মানুষ যদি দ্বীনদারিকে দুনিয়াদারির উপরে প্রাধান্য দিত তাহলে তার সমস্ত কাজের কুদরতি ফায়সালা হয়ে যেত। একটা ওয়াকেয়া বলি।
 
একজন বুজুর্গ ব্যক্তি জুমুয়ার দিন মসজিদে যাবার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলেন। তখন মসজিদগুলো ছিল অনেক দূরে দূরে। যেতে হলে নামাযের বেশ কিছুক্ষন আগেই রওনা দিতে হত। তো সেই বুজুর্গ ব্যক্তির সেইদিন কয়েকটি জরুরি কাজ ছিল। আটা ভাঙ্গাতে দেয়া হয়েছিল। সেখান থেকে আটা আনতে হবে। নইলে বাসায় খাবার প্রস্তুত করা যাবে না। ক্ষেতে পানি দিতে হবে। নইলে ফসল নষ্ট হয়ে যেতে পারে। গাধাটা পাওয়া যাচ্ছে না। সেটাকে খুঁজে আনতে হবে। কিন্তু তিনি চিন্তা করলেন, এইসব কাজ যদি তিনি এখন করতে যান তাহলে ওয়াজিব জুমুয়া ছুটে যাবে। কাজেই তিনি সব মুলতবী রেখে মসজিদে রওনা হলেন। নামায পড়ে ফেরার পথে তিনি প্রথমে ক্ষেতের অবস্থা দেখতে গেলেন। সেখানে গিয়ে তিনি আশ্চর্য হয়ে দেখলেন উনার ক্ষেতে পানি দেওয়া আছে। কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখলেন, উনার ক্ষেতের লাগোয়া যে ক্ষেত, সেটাতে পানি দেয়া হয়েছে। আর পানি জমির আল ভেদ করে উনার ক্ষেতে চলে এসেছে। এবং জমিতে যতটুকু পানি সেচের প্রয়োজন ছিল ততটুকু সেচ হয়ে গেছে। সুবহানাল্লাহ! বুজুর্গ ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার শুকরিয়া আদায় করে বাসায় চলে গেলেন। আঙিনায় পৌঁছে দেখলেন উনার গাধাটা আস্তাবলে বাঁধা আছে। গাধা আসলো কিভাবে? তিনি বাড়ির ভিতরে গিয়ে উনার স্ত্রীকে সেটা জিজ্ঞেস করলেন। স্ত্রী উত্তরে বললেন, বাড়ির বাইরে গাধার ডাক শুনে তিনি বের হয়ে দেখেন যে একটা বাঘ গাধাটাকে তাড়িয়ে নিয়ে এসেছে। সুবহানাল্লাহ! তারপরে স্ত্রী খাবার এনে হাজির করলেন। বুজুর্গ ব্যক্তি অবাক হয়ে বললেন, রুটি প্রস্তুত করা গেল কিভাবে? স্ত্রী বললেন, উনাদের প্রতিবেশী নিজের ভাঙানো আটা আনতে গিয়ে ভূল করে উনাদের আটা নিয়ে এসেছেন। এবং সেটা বাসায় পৌঁছে দিয়ে গেছেন। সুবহানাল্লাহ! সমস্ত কাজের এরকম কুদরতি ফায়সালা হওয়া দেখে, বুজুর্গ ব্যক্তি কায়মনে মহান আল্লাহ পাক উনার শুকরিয়া আদায় করলেন।
 
হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, “হে আদম সন্তান, আমার ইবাদতের জন্য তুমি নিজের সময় বের করে নাও ও ইবাদতে আত্মনিয়োগ কর, তাহলে আমি তোমার অন্তরকে প্রাচুর্য দিয়ে ভরে দেব এবং তোমার হাত রিযিকে পরিপূর্ণ করে দিব। আর যদি তা না কর, তবে তোমার হাতকে ব্যস্ততায় ভরে দেব; তুমি রিযিকের পিছনে সারাদিন ছুটবে কিন্তু তোমার অভাব কখনোই দূর হবে না।’(তিরমিযী শরীফ, ইবন মাজাহ শরীফ) । মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন আমাদের সবাইকে দ্বীনদারিতে মশগুল থাকার তৌফিক দান করেন।
Views All Time
1
Views Today
3
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে