মা’শূক্বে মাওলা, ছাহিবু ক্বাবা ক্বাওসাইনি আও আদনা, ছাহিবু লাওলাক, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশকালে প্রকাশিত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মু’জিযা শরীফসমূহ


মা’শূক্বে মাওলা, ছাহিবু ক্বাবা ক্বাওসাইনি আও আদনা, ছাহিবু লাওলাক, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশকালে অসংখ্য অগণিত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মু’জিযা শরীফ প্রকাশিত হয়েছেন, যা ভাষায় প্রকাশ করা কস্মিনকালেও সম্ভব নয়। সুবহানাল্লাহ! স্বয়ং যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজে আশিক্ব হয়ে উনার মাহবূব হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশকালে সমস্ত কায়িনাতবাসীকে নিয়ে খুশি মুবারক প্রকাশ করেছেন এবং সমস্ত কায়িনাতকে অপরূপ সাজে সুসজ্জিত করেছেন। সুবহানাল্লাহ! কিতাবে বর্ণিত রয়েছে-
“মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই রবী‘উল আউয়াল শরীফ উনার রাত্র মুবারক সম্পর্কে সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি ‘আলাল আলামীন, মালিকাতুল জান্নাত, মালিকাতুল কায়িনাত সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, এটা ছিলো চন্দ্রের আলোয় আলোকিত রাত। চারপাশে কোন প্রকার অন্ধকার ছিলো না। সে সময় জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্তালিব আলাইহিস সালাম তিনি উনার সম্মানিত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে নিয়ে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বাইতুল্লাহ শরীফ উনার ভাঙ্গা দেয়াল মুবারক মেরামত করার জন্য সম্মানিত হারাম শরীফ উনার দিকে যান। ফলে সে সময় আমার নিকট কোন পুরুষ-মহিলা কেউই ছিলেন না। আমার একাকিত্বের কারণে (নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক কে দিবেন, সে বিষয় চিন্তা করে) আমি কান্না মুবারক করছিলাম। হায়! কোন মহিলাই নেই যিনি আমার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিবেন। আমার জন্য কোন একান্ত সাথীও নেই, যিনি আমাকে সান্ত¡না দিবেন। কোন দাসীও নেই, যিনি আমার মনোবল অটুট রাখবেন।’ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, ‘অতঃপর আমি মহাসম্মানিত হুজরা শরীফ উনার এক কোণায় তাকালাম, হঠাৎ দেখি তা ফেটে সেখান থেকে চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল চারজন সুউচ্চ সম্মানিতা মহিলা বের হয়ে এলেন। উনারা সাদা সেলওয়ার পরিধান করেছিলেন- সেগুলো নূরে আচ্ছাদিত ছিলো এবং উনাদের ক্বমীছ মুবারক থেকে মেশকের সুরভী ছাড়াচ্ছিলো। উনারা ছিলেন আবদে মানাফ বংশীয় মহিলা উনাদের অনুরূপ। উনাদের প্রথমজন এগিয়ে এসে বললেন, হে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার মতো কে আছেন? আপনি যে সাইয়্যিদুল বাশার তথা সমস্ত জিন-ইনসান তামাম কায়িনাতবাসী সকলের সাইয়্যিদ এবং সম্মানিত রবী‘য়াহ ও মুদ্বার গোত্রের ফখর তথা সারা কায়িনাতের যিনি ফখর উনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খেদমত মুবারক-এ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রেহেম শরীফ-এ) ধারণ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! তারপর তিনি আমার ডান দিকে বসলেন। তখন আমি উনাকে বললাম, আপনি কে? তিনি বললেন, ‘আমি উম্মুল বাশার সাইয়্যিদাতুনা হযরত হাওওয়া আলাইহাস সালাম।’ অতঃপর উনাদের মধ্য থেকে দ্বিতীয়জন এগিয়ে এসে বললেন, হে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার মতো কে আছেন? আপনিতো (মুত্বহ্হার) পূত-পবিত্র এবং (মুত্বহ্হির) পবিত্রতাদানকারী উনাকে, স্বচ্ছ ইলম মুবারক উনার মালিক উনাকে, বদান্যতার সাগর উনাকে, উজ্জ্বল নূর মুবারক উনাকে এবং সম্মানিত মা’রিফাত মুবারক উনার রহস্য উনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক-এ গ্রহণ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! তারপর তিনি আমার বাম দিকে বসলেন। তখন আমি উনাকে বললাম, আপনি কে? তিনি বললেন, ‘আমি সাইয়্যিদুনা হযরত (ইবরাহীম) খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিতা আহ্লিয়া সাইয়্যিদাতুনা হযরত র্সারাহ আলাইহাস সালাম। অতঃপর উনাদের মধ্য থেকে তৃতীয়জন এগিয়ে এসে বললেন, হে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার তো কোন তুলনাই হয় না। আপনিতো চির আলোকিত হাবীব, যিনি সমস্ত প্রশংসা ও ছানা-ছিফত মুবারক উনাদের মালিক উনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক-এ গ্রহণ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর তিনি আমার পিঠ মুবারকের দিকে বসলেন। আমি উনাকে বললাম, আপনি কে? তিনি বললেন, ‘আমি সাইয়্যিদাতুনা হযরত আসিয়াহ্ বিনতে মুযাহিম আলাইহাস সালাম।’ এরপর উনাদের মধ্য থেকে চতুর্থজন এগিয়ে আসলেন। তিনি ছিলেন অন্যদের তুলনায় অধিক মর্যাদা সম্পন্না এবং ঔজ্জ্বল্য সৌন্দর্য মুবারক উনার অধিকারিণী। তিনি বললেন, হে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার সমকক্ষ কেউই নেই। আপনি তো এমন এক সমুহান মহাসম্মানিত ব্যক্তিত্ব মুবারক উনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক-এ গ্রহণ করেছেন, যিনি হচ্ছেন- অকাট্য দলীলসমূহ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মু’জিযা শরীফসমূহ এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আয়াত তথা নিদর্শন মুবারকসমূহ উনাদের ছাহিব, মালিক। যিনি সমস্ত যমীনবাসী এবং আসমানবাসী সকলের সাইয়্যিদ। উনার প্রতি দায়িমীভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার সর্বোত্তম ছলাত মুবারক এবং পরিপূর্ণ সালাম মুবারক। সুবহানাল্লাহ! তারপর তিনি আমার সম্মুখে বসলেন এবং বললেন, হে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি আমার উপর ভালোভাবে হেলান মুবারক দিন। তখন আমি উনাকে বললাম, আপনি কে? তিনি বললেন, ‘আমি হযরত মারইয়াম বিনতে ‘ইমরান আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ! আমরা আপনার সম্মানিত খাদিমাহ্ এবং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে গ্রহণকারিণী, উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দানকারিণী।’ সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, অতঃপর আমি উনাদের সাথে আন্তরিক হলাম অর্থাৎ উনাদের প্রতি সম্মানিত মুহব্বত মুবারক প্রকাশ করলাম। আর আমি লক্ষ্য করতে লাগলাম যে, অনেকেই দলে দলে আমার সম্মানিত খিদমত মুবারক আসছেন। সুবহানাল্লাহ! আমি আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হুজরা শরীফ উনার দিকে তাকালাম, হঠাৎ দেখি যে, তা একই রকম অনেক আওয়ায মুবারক এবং অনেক ভাষার কথা দ্বারা ভরে গেছে। তার মধ্যে সুরিয়ানী ভাষার প্রাধান্য ছিলো। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, অতঃপর আমি সে সময় লক্ষ্য করলাম, হঠাৎ অসংখ্য তারকা (তথা হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা) আমার ডানে-বামে উড়ছে। সুবহানাল্লাহ! তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত জিবরীল আমীন আলাইহিস সালাম উনাকে সম্মানিত আদেশ মুবারক করলেন, হে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম! (আমার মাহবূব হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের সম্মানার্থে) রূহসমূহকে ‘শারাবান ত্বহূরা’ পাত্রের নিকট শ্রেণীবদ্ধ করুন। হে (সম্মানিত জান্নাত উনার দায়িত্বশীল ফেরেশতা) হযরত রিদ্বওয়ান আলাইহিস সালাম! সমস্ত মাখলূক্বাতের, সারা কায়িনাতের সাইয়্যিদ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের সম্মানার্থে সম্মানিত জান্নাতী হুর উনাদেরকে নতুন সাজে সুসজ্জিত করুন এবং সর্বত্র পবিত্র মেশকের সুরভি ছড়িয়ে দিন।” সুবহানাল্লাহ!
হে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম! বিছিয়ে দিন নৈকট্য ও মহামিলনের গালিচা মুবারক সেই মহাসম্মানিত রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য, যিনি অধিকারী নূরের, উচ্চ মর্যাদার এবং মহামিলনের। হে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম! দোযখের দায়িত্বপ্রাপ্ত ফেরেশতা হযরত মালিক আলাইহিস সালাম উনাকে আদেশ করুন তিনি যেন দোযখের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেন। সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার তত্ত্বাবধায়ক ফেরেশতা হযরত রিদ্বওয়ান আলাইহিস সালাম উনাকে বলুন, তিনি যেন সমস্ত জান্নাত মুবারক উনাদের দরজা মুবারকসমূহ উন্মুক্ত করে দেন। সুবহানাল্লাহ! হে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম! আপনি জান্নাতী বিশেষ পোশাকে সুসজ্জিত হোন। হে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম! আপনি সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো সুসজ্জিত সকল হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে, মুক্বাররবীন ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে, নেকট্যপ্রাপ্ত তথা সম্মানিত ‘আরশে ‘আযীম মুবারক উনার চারপাশে অবস্থানকারী ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে এবং কাছের ও দূরের সমস্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে নিয়ে যমীনে অবতরণ করুন। সুবহানাল্লাহ!। হে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম! আপনি আসমান-যমীনের সর্বত্র এবং সমগ্র কায়িনাতে ঘোষণা করে দিন- সময় ঘনিয়ে এসেছে, মুহিব ও মাহবূব উনাদের মিলনের, ত্বালিব ও মাত্বলূব উনাদের সাক্ষাতের। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর মহান আল্লাহ পাক তিনি যা সম্মানিত হুকুম করেছেন, হযরত জিবরীল আমীন আলাইহিস সালাম তিনি তা হুবহু বাস্তবায়ন করলেন। সুবহানাল্লাহ! এক জামা‘য়াত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ উনার মধ্যে অবস্থিত পাহাড়সমূহে দাঁড় করিয়ে দায়িত্ব দিলেন। উনারা সম্পূর্ণ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হারাম শরীফ উনাকে বেষ্টন করে নিলেন। সুবহানাল্লাহ! উনাদের পাখা মুবারকগুলো ছিলো সুগন্ধিযুক্ত সাদা মেঘের টুকরার ন্যায়। তখন পাখিরা অতি সুমিষ্ট আওয়াজে সম্মানিত প্রশংসা মুবারক উনার সম্মানিত তাসবীহ মুবারক পাঠ করতে লাগলো এবং উন্মুক্ত প্রান্তরে বনের পশুগুলো আশার ডাক দিতে লাগলো। এ সবকিছুই সেই মহান মালিক জলীল জাব্বার মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত আদেশ মুবারক উনার প্রতিফলন। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, অতঃপর মহান আল্লাহ পাক তিনি আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র চোখ মুবারক উনার পর্দা মুবারক খুলে দিলেন । তখন আমি দেখতে পেলাম, শাম দেশের বছরা নগরীর প্রাসাদসমূহ। আমি তিনটি সম্মানিত পতাকা মুবারক স্থাপিত দেখলাম- একটি সম্মানিত পতাকা মুবারক পূর্ব প্রান্তে, আরেকটি সম্মানিত পতাকা মুবারক পশ্চিম প্রান্তে এবং তৃতীয় সম্মানিত পতাকা মুবারকটি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কা’বা শরীফ উনার ছাদ মুবারক-এ। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, তখন আমি আরো দেখতে পেলাম যে, পাখিদের একটি দল। যেই পখিগুলোর ঠোঁটগুলো ছিলো লাল স্বর্ণের ন্যায়, ডানাগুলো বিস্ময়াভিভূতকারী মাণিক্যের মতো। সেগুলো আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হুজরা শরীফ উনার মধ্যে প্রবেশ করে মণি-মুক্তা ছড়িয়ে দিলো। এরপর উক্ত পাখিগুলো আমার চারপাশে অবস্থান করে মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত তাসবীহ মুবারক পাঠ করতে লাগলো। এ অবস্থায় আমি প্রতি মুহূর্তে মুহূর্তে অত্যন্ত আনন্দিত হতে লাগলাম, বেমেছাল সম্মানিত খুশী মুবারক প্রকাশ করতে লাগলাম। আর হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা দলে দলে আমার নিকট আসতে লাগলেন। আর উনাদের হাত মুবারক-এ ছিলো উজ্জ্বল লাল স্বর্ণ এবং চকচকে সাদা রৌপ্য নির্মিত ধূপাধার (সুগন্ধি ছড়ানোর পাত্র) মুবারক। উনারা ধূপ, ঊদ (একপ্রকার সুগন্ধি কাঠ), আম্বর এবং লোবানের সুগন্ধি ছড়াচ্ছিলেন। সেই সাথে উনারা উচ্চকণ্ঠে অত্যন্ত তা’যীম-তাকরীম, সম্মান, মুহব্বত ও আদবের সাথে মহাসম্মানিত রসূল এবং মর্যাদাবান হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সম্মানিত ছলাত ও সালাম মুবারক পাঠ করছিলেন। আর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল সম্মান ও ইজ্জত মুবারক উনাদের বহিঃপ্রকাশ মুবারক ঘটছিলো। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, এ অবস্থায় চন্দ্র তাঁবুর ন্যায় আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মাথা মুবারক উনার উপর বিস্তৃত হলো। আর তারকারাজি সারিবদ্ধ হলো আমার মাথার উপর নয়নাভিরাম, মনোহর, উজ্জ্বল মোমবাতির ন্যায়। তখন আমার সামনে পরিবেশন করা হয়েছিলো দুধের চেয়ে সাদা ও সুগন্ধিময় এক প্রকার জান্নাতী পানীয় মুবারক। যা ছিলো মিষ্টান্ন ও মধুর চেয়ে অতি মিষ্টি এবং বরফের চেয়ে অধিক ঠা-া । আমার খুব পিপাসা লেগেছিলো। ফলে আমি উক্ত জান্নাতী বিশেষ পানীয় মুবারক গ্রহণ করলাম এবং পান করলাম। এতো অধিক সুস্বাদু কোন পানীয় বা খাবার আমি কখনো পান করিনি বা খাইনি। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর আমার থেকে প্রকাশিত হলেন এক মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক। সুবহানাল্লাহ! (আন নি’মাতুল কুবরা ‘আলাম ‘আলাম)
উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো বলেন-
اِنِّـىْ رَاَيْتُ خَرَجَ مِنِّـىْ نُوْرٌ اَضَاءَتْ مِنْهُ قُصُوْرُ الشَّامِ
অর্থ: “আমি নিশ্চতভাবে দেখলাম যে, আমার থেকে একখ- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক যাহির হলেন, যেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক উনার আলোতে শাম দেশের রাজপ্রাসাগুলো আলোকিত হয়ে গেলো।” সুবহানাল্লাহ! (মুসনাদে আহমদ ২৯/১৯৬, আল আহাদ ওয়াল মাছানী ৩/৫৬, মাজমাউয যাওয়াইদ ৮/২২২, আল খছায়িছুল কুবরা ১/১১০, ২/৩৩৬ ইত্যাদি)
অপর বর্ণনায় রয়েছে-
“তারজীহ তথা প্রাধান্যপ্রাপ্ত মতে, যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত অবস্থানকাল মুবারক উনার মহাসম্মানিত এবং মহাপবিত্র আম্মাজান সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ চন্দ্র মাস হিসেবে নয় মাস (অর্থাৎ মাস হিসেবে নয় মাস, আর দিন হিসেবে ৮ মাস ১২ দিন) পূর্ণ হলো এবং যামানা তথা সমস্ত জিন-ইনসান, সমস্ত সৃষ্টি জগত, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের ভীষণ পিপাসা দূর হওয়ার সম্মানিত সময় মুবারক এসে গেলো, (কেননা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের প্রতিক্ষায় সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা, সমস্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা, সমস্ত জিন-ইনসান, সমস্ত সৃষ্টি জগত, তামাম কায়িনাতবসী সকলে বেকারার-পেরেশান ছিলো, অধীর আগ্রহে অপেক্ষমান ছিলো, ভীষণ পিপাসায় পিপাসার্ত ছিলো। সুবহানাল্লাহ!) তখন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের সম্মানিত রাত্রি মুবারক-এ উনার মহাসম্মানিত এবং মহাপবিত্র হযরত আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার নিকট (উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়ার জন্য) সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল বাশার (হযরত হাওওয়া) আলাইহাস সালাম তিনি, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু যাবীহিল্লাহিল ঊলা আলাইহাস সালাম (হযরত হাজেরা আলাইহাস সালাম) তিনি, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু যাবীহিল্লাহিছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম (হযরত র্সারাহ আলাইহাস সালাম) তিনি, সাইয়্যিদাতুনা হযরত রব্বাতু কালীমিল্লাহ আলাইহাস সালাম (হযরত আছিয়াহ্ আলাইহাস সালাম) তিনি এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রূহিল্লাহ আলাইহাস সালাম (হযরত মারইয়াম আলাইহাস সালাম) তিনি অর্থাৎ উনারা সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার ‘হাজীরাতুল কুদসিয়্যাহ’ নামক সম্মানিত স্থান মুবারক থেকে আগত সম্মানিত জান্নাতী মহিলা (জান্নাতী হুর ও গেলমান) উনাদেরকেসহ উপস্থিত হলেন। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর মহান আল্লাহ পাক উনার মাহবূব হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত আলোক উজ্জ্বল নূর মুবারক হিসেবে দুনিয়ার যমীনে সম্মানিত তাশরীফ মুবারক আনলেন, যেই মহাসম্মানিত ও মহাপাবিত্র নূর মুবারক উনার উজ্জ্বলতা মুবারক জ্বলজ্বল করছিলেন।” সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র মীলাদ শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ পাঠ করার ছহীহ ও সুন্নতী তরতীব)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَبِـى الْعَجْفَاءِ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ عَنِ النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ رَاَتْ اُمِّـىْ حِيْـنَ وَضَعَتْنِـىْ سَطَعَ مِنْهَا نُوْرٌ اَضَاءَتْ لَهٗ قُصُوْرُ بُصْرٰى.
অর্থ: “হযরত আবুল ‘আজফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণনা করেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমি যখন যমীনে সম্মানিত তাশরীফ মুবারক নিলাম তখন আমার মহাসম্মানিত এবং মহাপবিত্র হযরত আম্মাজান আলাইহাস সালাম তিনি আপন জিসম মুবারক থেকে একখানা সুমহান নূর মুবারক জাহির হতে দেখেন যার ফলে সেই নূর মুবারক সিরিয়ার রাজপ্রাসাদসমূহ আলোকিত করে ফেললো। (খাছায়িছুল কুবরা, ইবনে সা’দ ১/১০২)
কিতাবে বর্ণিত রয়েছে-
“মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উনার দিনে এমন এক মহাসম্মানিত ব্যক্তিত্ব মুবারক তিনি দুনিয়ার যমীনে সম্মানিত তাশরীফ মুবারক নিয়েছেন, যিনি না হলে কায়িনাতের কিছুই সৃষ্টি করা হতো না। আকৃতিতে আসতো না কোনো পিতা ও সন্তান। তিনি ১২ই রবীউল আউয়াল শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! সেই মহান মাহবূব হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের শুভক্ষণে খুশির আনন্দে দুলেছিলেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ উনার কঙ্করময় মরুভূমি। সুবহানাল্লাহ! সীমাহীন খুশি আর আনন্দে মেতে উঠেছিলেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হারাম শরীফও। উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের খুশিতে আত্মহারা হয়ে উঠেছিলেন (আসমানবাসী তথা) সমস্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা।
উনার সৌভাগ্যে ধন্য হন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (সাইয়্যিদাতুনা হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম)। উনার আগমনে খান খান হয়ে ভেঙে পড়েছিলো প্রতিমাগুলো। জ্যোতিষীরা বুঝতে পেরেছিলো তাদের লাঞ্ছনা ও দুর্ভাগ্য অনিবার্য। উনার রিসালতের রহস্য জানিয়ে দিয়েছিলো গুঁইসাপ। উনার মহাসম্মানিত নুবুওওয়াত-রেসালাত মুবারক ও মহত্ত্বের কথা স্বীকার করেছিলো জঙ্গলের বাঘ। উনার বংশ অতি অভিজাত ও সম্মানিত। তিনি হযরত মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইবনে হযরত আব্দুল্লাহ আলাইহিস সালাম ইবনে হযরত আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম ইবনে হযরত হাশিম আলাইহিস সালাম; যিনি ছিলেন আদনান গোত্রের সাইয়্যিদ। তিনি একক বেমেছাল সম্মানিত ব্যক্তিত্ব মুবারক হিসেবে স্বীয় দাদা সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (হযরত আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম) উনার কাছে অত্যন্ত সসম্মানে লালিত-পালিত হন। উনাকে সম্মানিত দুগ্ধ মুবারক পান করান হযরত হালিমা সা’দিয়াহ আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হলেন অত্যন্ত ধৈর্যশীল। সুতরাং যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার মাহবূব হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদত শরীফ দিবস উনাকে তা’যীম-তাকরীম করবেন এবং এই উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করবেন, তিনি চির শান্তিময় জান্নাতের অধিকারী হবেন।” সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে হাক্বীক্বীভাবে দুনিয়ার যমীনে, কবর, হাশর-নশর, মীযান-পুলছিরাতে এবং জান্নাতে যেয়ে অনন্তকাল যাবৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়াফরহূ শরীফ’ সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!

Views All Time
1
Views Today
3
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে