মাহে মুহররমুল হারাম ও আশুরা শরীফ উনার ফাযায়িল-ফযীলত এবং প্রসঙ্গ কথা


আরবী বছরের প্রথম মাস মুহররম। আরবী বারোটি মাসের মধ্যে যে চারটি মাসকে হারাম বা সম্মানিত বলে কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এ ঘোষণা করা হয়েছে, মুহররম মাস তার মধ্যে অন্যতম। আসমান-যমীন সৃষ্টিকাল হতেই এ মাসটি বিশেষভাবে সম্মানিত হয়ে আসছে।
হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “তোমরা মুহররম মাসকে এবং এর মধ্যস্থিত আশূরার দিনকে সম্মান কর। যে ব্যক্তি মুহররম মাস তথা আশূরার দিনকে সম্মান করবে, আল্লাহ পাক তিনি তাকে জান্নাত দ্বারা সম্মানিত করবেন এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করবেন।”
মুহররম মাসেরই দশ তারিখ অর্থাৎ ১০ই মুহররম “আশূরা” দিনটি বিশ্বব্যাপী এক আলোচিত দিন। সৃষ্টির সূচনা হয় এই দিনে এবং সৃষ্টির সমাপ্তিও ঘটবে এ দিনেই। বিশেষ বিশেষ সৃষ্টি এ দিনেই করা হয় এবং বিশেষ বিশেষ ঘটনা এ দিনেই সংঘটিত হয়। আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে শুরু করে প্রথম নবী ও রসূল হযরত আদম আলাইহিস সালাম পর্যন্ত প্রায় সকল নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের কোনো না কোনো উল্লেখযোগ্য ঘটনা এদিনে সংঘটিত হয়েছে। সঙ্গতকারণেই এ দিনটি সবার জন্য এক মহান আনুষ্ঠানিকতার দিন, রহমত, বরকত, ছাকীনা, মাগফিরাত হাছিল করার দিন।

আশূরা-এর দিন সংঘটিত ঘটনাবলী ও এর নামকরণ

‘আশূরা’ শব্দটি আরবী; আশারুন শব্দ থেকে আশূরা শব্দটি উদগত। যার অর্থ দশ (১০)। শরীয়তের পরিভাষায় মুহররমের দশ তারিখকে আশূরা বলা হয়। আশূরার নামকরণের ব্যাপারে উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ বিভিন্ন মত পোষণ করেছেন। তবে অধিকাংশ উলামায়ে কিরাম উনারা বলেন যে, এ দিনটি মুহররম মাসের দশ তারিখ বলেই এটার নাম আশূরা হয়েছে।
কোনো কোনো আলিম বলেন যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি উম্মতে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে যে দশটি বুযূর্গ দিন উপহার দিয়েছেন, তন্মধ্যে আশূরার দিনটি দশম স্থানীয়। এ কারণেই এটার নাম আশূরা রাখা হয়েছে।
আবার কারো মত এই যে, এই দিনটিতে যেহেতু মহান আল্লাহ পাক স্বীয় দশজন নবীকে দশটি ভিন্ন ভিন্ন রহমত বর্ষণ করেছেন। তাই এটার নাম আশূরা হয়েছে। আবার কারো মত এই যে, দিনটিতে যেহেতু মহান আল্লাহ পাক স্বীয় দশজন নবীকে দশটি ভিন্ন ভিন্ন রহমত দান করেছিলেন, তাই এটার নাম হয় আশূরা।
* এ দিনেই মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র মর্যাদা, সম্মান ও খুছূছিয়ত ও হাবীবুল্লাহ হওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়।* এ দিনে হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার দোয়া কবুল করা হয়। * এ দিন মহান আল্লাহ পাক রব তায়ালা তিনি হযরত ইদরীস আলাইহিস সালাম উনাকে আকাশে তুলে নেন। * এ দিন মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনার কিস্তিকে জুদি পাহাড়ে ভিড়িয়েছিলেন। * এ দিন হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার বিলাদত শরীফ হয় এবং এই দিন উনাকে খলীল উপাধি দেয়া হয় এবং উনাকে নমরূদের আগুন থেকে বের করে আনা হয় অর্থাৎ হিফাযত করা হয়। * এ দিন হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম উনার মর্যাদা বৃদ্ধির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়। * এ দিন হযরত আইয়ূব আলাইহিস সালাম তিনি অসুস্থতা থেকে আরোগ্য লাভ করেন। * এ দিন হযরত মূসা আলাইহিস সালাম উনার সাথে মহান আল্লাহ পাক তিনি কথা বলেছিলেন এবং তাওরাত শরীফ নাযিল করেছিলেন। এ দিনেই হযরত মূসা আলাইহিস সালাম ও উনার সম্প্রদায় লোহিত সাগর পার হয়েছিলেন। * এ দিন হযরত ইউনুস আলাইহিস সালাম তিনি মাছের পেট থেকে বের হয়েছিলেন। * এ দিনই হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনাকে আসমানে উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। * এ দিনেই মহান আল্লাহ পাক তিনি দুনিয়া সৃষ্টি করেন এবং এ দিনেই ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে। এ দিনেই মহান আল্লাহ পাক তিনি সর্বপ্রথম যমীনে বৃষ্টি নাযিল করেন। * এ দিনেই হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি রহমতসহ সর্বপ্রথম যমীনে নাযিল হন। আর এদিনেই মহান আল্লাহ পাক তিনি সর্বপ্রথম পৃথিবীতে রহমত বর্ষণ করেন।
মূলকথা হলো- আগত মুহররমুল হারাম মাস সকলের জন্যই রহমত, বরকত, ছাকীনা ও মাগফিরাত-এর মাস। তাই সকলের জন্য দায়িত্ব কর্তব্য হচ্ছে মুহররমুল হারাম মাসে বেশি বেশি ইস্তিগফার করে মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের খাছ রেযামন্দি হাছিলের কোশেশ করা।

মুহররম মাস পবিত্র আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম ও আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে মুহব্বত করার মাস

“আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদের মর্যাদা-মর্তবা সম্পর্কে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, তিনি চান আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে পবিত্র করার মতো পবিত্র করতে।” অর্থাৎ এ কথার অর্থ হলো মহান আল্লাহ পাক তিনি আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে পবিত্র করেই সৃষ্টি করেছেন।
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বংশধারা সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত ফাতিমা আলাইহাস সালাম ও উনার আওলাদদ্বয় হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম ও হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাদের মাধ্যমে বিশ্বময় জারি রয়েছে।(‘তাফসীরে ইবনে হাতেম, ইবনে কাছির, মাযহারী)
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, “আমি তোমাদের জন্য দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি। প্রথমটি হলো, আল্লাহ পাক উনার কিতাব। যার মধ্যে রয়েছে হিদায়েত ও নূর। তোমরা কিতাবুল্লাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়িয়ে ধর।” তিনি কিতাবুল্লাহ-এর প্রতি উৎসাহ প্রদান করলেন। অতঃপর বললেন, “দ্বিতীয়টি হলো, আমার আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম বা (আওলাদগণ) বংশধরগণ। উনাদের ব্যাপারে তোমাদের সতর্ক করছি। উনাদের ব্যাপারে তোমাদের সতর্ক করছি।” (মুসলিম শরীফ ও মিশকাত শরীফ)
যাঁরা হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম ও হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাদের বংশের বা উনাদের আওলাদ উনারাই আওলাদুর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “আল্লাহ পাক উনার কসম। ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো মুসলমান ব্যক্তির অন্তরে ঈমান দাখিল হবে না (হাক্বীক্বীভাবে ঈমানদার হবে না) যতক্ষণ পর্যন্ত সে ব্যক্তি আল্লাহ পাক উনার সন’ষ্টির জন্য আমার বংশধর হওয়ার কারণে কুরাঈশদেরকে মুহব্বত না করবে।” আওলাদুর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা কুরাঈশ-এর অন্তর্ভুক্ত অর্থাৎ আওলাদুর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মুহব্বতই ঈমানের অঙ্গ।(তাফসীরে আহমদ ও ইবনে কাছির)
আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম তথা আওলাদুর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের খুছুছিয়ত, মর্যাদা, মর্তবা, বৈশিষ্ট্য ও ফযীলত সম্পর্কে অন্য হাদীছ শরীফ-এ রহমতুল্লিল আলামীন, রউফুর রহীম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “নিশ্চয়ই আমার আওলাদগণ উনাদের উদাহরণ হলো- হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনার কিশতীর ন্যায়। যে তাতে প্রবশে করেছে (অর্থাৎ যে আমার আওলাদ উনাদেরকে মুহব্বত করেছে) সেই নাজাত পেয়েছে।” (সিররুশ শাহাদাতাইন)
অন্য হাদীছ শরীফ-এ উল্লেখ করা হয়েছে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, “মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে যে নিয়ামত দান করেছেন তার জন্য আল্লাহ পাক উনাকে মুহব্বত করো। আর আমাকে মুহব্বত করো আল্লাহ পাক উনার সন’ষ্টি লাভ করার জন্য। আর আমার আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করো আমার সন্তুণ্টি লাভের জন্য।” সেজন্যই অতীতের সকল ইমাম-মুজতাহিদ ও ওলীআল্লাহ উনারা আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে প্রাণ উজাড় করে মুহব্বত করেছেন।
এ সম্পর্কে ইমামুল আইম্মাহ, ইমামুল আ’যম, হাকিমুল হাদীছ হযরত ইমাম আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার জীবনী মুবারক-এর একটি ঘটনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। একবার তিনি একস্থানে বসে স্বীয় ছাত্রদেরকে দর্স দিচ্ছিলেন। দর্স প্রদানরত অবস্থায় তিনি কিছুক্ষণ পর পরই দর্স বন্ধ করে দাঁড়িয়ে যাচ্ছিলেন। যখন দর্স শেষ হলো, তখন ছাত্ররা প্রশ্ন করলো, “হে হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি! বেয়াদবী ক্ষমা করবেন, আমরা লক্ষ্য করেছি যে, আপনি বারবার দর্স বন্ধ করে দাঁড়িয়ে যাচ্ছিলেন, এর পিছনে কি কারণ রয়েছে?” উত্তরে তিনি বললেন যে, “তোমরা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছো যে, আমাদের দরসগাহের পাশেই কিছু ছোট ছেলেরা দৌড়াদৌড়ি করছিলো। তন্মধ্যে অমুক ছেলেটি বার বার আমার নিকটবর্তী হলেই আমি দাঁড়িয়ে যেতাম।” ছাত্ররা জানতে চাইলো, সেই ছোট ছেলেটি আপনার নিকটবর্তী হলে কেনো দাঁড়িয়ে যেতেন? তখন ইমামে আ’যম হযরত আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন যে, “দেখ, সেই ছেলেটি আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বা রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বংশধর। উনার সাথে রসূল পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রক্ত মুবারক-এর সম্পর্ক রয়েছে। সেজন্য যখনই তিনি আমাদের দর্সগাহের নিকটবর্তী হয়েছেন তখনই আমি উনার সম্মানার্থে দাঁড়িয়েছি। কেননা আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে তা’যীম-তাকরীম ও সম্মান প্রদর্শন করা ঈমানের অঙ্গ তথা আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের নির্দেশ।” সুবহানাল্লাহ!
মূলকথা হলো- মুহররমুল হারাম মাস আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম ও আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে মুহব্বত করার মাস। তাই প্রত্যেকের দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে খাছ করে এ মাসে আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম ও আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে মুহব্বত করে ও উনাদের ছানা-ছিফত বর্ণনা করে মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের খাছ রেযামন্দি হাছিল করা।

পবিত্র মুহররম মাসের তথা আশূরার শ্রেষ্ঠ আমল পবিত্র আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম ও আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের শান-মান মুবারক আলোচনা করা

যদিও সারা বছরই আলোচনা করা দায়িত্ব-কর্তব্য তারপরও যেমন পবিত্র রবীউল আউয়াল শরীফ আসলে আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত, শান-মান আলোচনার বিশেষ জজবা পয়দা হয়, মাহে রমাদ্বান শরীফ আসলে মুসলমানদের মধ্যে কুরআন শরীফ পাঠের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়; ঠিক তেমনি হযরত আহলে বাইত শরীফ, বিশেষ করে আহলে বাইতের অন্যতম ব্যক্তিত্ব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার লখতে জিগার, জান্নাতে যুবকদের সাইয়্যিদ হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার শান মান মুবারক আলোচনার বিশেষ মাস পবিত্র মুহররম মাস।
কারণ, এ মাসের ১০ই মুহররম তথা আশূরার দিনেই ইসলামের মর্যাদাকে সমুন্নত রাখতে, নাহক্বকে দুনিয়া থেকে নিশ্চিহ্ন করতে কারবালার প্রান্তরে কাট্টা কাফির ইয়াযীদ বাহিনীর হাতে জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়ে শহীদ হয়েছিলেন সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম।
হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র সত্তা ও গুণাবলী সম্পর্কে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন: “হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম আমা হতে এবং আমি হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম হতে। আল্লাহ পাক তিনি তাকে ভালবাসেন যে হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাকে ভালবাসে। হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম আমার সন্তানের সন্তান।” (তিরমিযী শরীফ)
আর পবিত্র আহলে বাইত উনাদের শানে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি আপনার উম্মতদেরকে বলে দিন, আমি তোমাদের কাছে হিদায়েত দানের কোনো বিনিময় চাই না; তবে তোমরা আমার আহলে বাইত উনাদের (বংশধর) প্রতি সদাচরণ করবে।” (সূরা শূরা : আয়াত শরীফ ২৩)
উল্লেখ্য, কিয়ামত পর্যন্ত পৃথিবীতে নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বংশধারা তথা আহলে বাইত উনাদের আগমন জারি থাকবে। আর উনারা আওলাদে রসূল বা সাইয়্যিদ হিসেবে পরিচিত হবেন। মুসলিম উম্মাহ উনাদেরকে মুহব্বত করার মাধ্যমে, তা’যীম-তাকরীমের মাধ্যমে রহমত, নিয়ামত, সন্তুষ্টি লাভ করবে।
বর্তমান যামানায় আল্লাহ পাক উনার লক্ষ্যস্থল, যামানার ইমাম ও মুজাদ্দিদ, ইমামে আ’যম, মুজাদ্দিদে আ’যম, হাবীবুল্লাহ, রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি একজন খাছ আওলাদে রসূল বা সাইয়্যিদ।
মহান আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মুবারক ছোহবতে এসে আহলে বাইতগণকে মুহব্বত করার, যথাযথ তা’যীম-তাকরীম, অনুসরণ-অনুকরণ করার এবং বেশি বেশি উনাদের শান-মান মুবারকের আলোচনার মাধ্যমে আল্লাহ পাক ও হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মুহব্বত ও সন্তুষ্টি দান করুন। (আমীন)

হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম ও হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাদেরকে যারা শহীদকারী তারা যমীনের মধ্যে সবচেয়ে বড় যালিম কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী

হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একদা এমন অবস্থায় বাইরে তাশরীফ আনলেন যে, উনার এক কাঁধ মুবারকের উপর হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম এবং অন্য কাঁধ মুবারকে হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাকে বসিয়ে ছিলেন। এভাবে আমাদের কাছে তাশরীফ এনে ইরশাদ করলেন, “যে এ দু’ জনকে মুহব্বত করলো, সে আমাকে মুহব্বত করলো। আর যে উনাদের সাথে দুশমনী করলো, সে আমার সাথে দুশমনী করলো।”
উল্লেখ্য যে, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যদি সৃষ্টি না করতেন তাহলে আরশ-কুরশী, লৌহ-কলম, বেহেশত-দোযখ, মানুষ-জ্বিন ও আসমানে-যমীন তথা কোনো কিছুই করতেন না। উনার উসীলায় গোটা কুল-কায়িনাত তৈরি। অথচ সেই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সবচেয়ে আপন, প্রিয়জন, আহাল, লখতে জিগার, প্রিয় দৌহিত্র চোখের মণি হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিমুস সালাম এবং উনার আহাল ও সঙ্গীদের কারবালার প্রান্তরে মর্মান্তিকভাবে শহীদ করা হয়েছে।
হায় আফসুস! এই দুনিয়াবাসীর তথা কূফাবাসীর জন্য- যারা হাবীবুল্লাহ, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাতিমা আলাইহাস সালাম ও হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার কলিজাকে শহীদ করেছে। যারা এই কুফরী কাজ করেছে তারা চরম গুমরাহ শ্রেণীর মুরতাদ, কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী। এরা মানুষ নয়; বন্য জানোয়ার, দাজ্জালে কায্যাব।
হে আল্লাহ পাক! ইয়াযীদ ও তার অনুসারীদের কঠিন আযাব-গযবে নিক্ষেপ করুন।

রমাদ্বান শরীফ-এর পর সবচেয়ে ফযীলতপূর্ণ রোযা আশুরা শরীফ-এর রোযা

আশূরার একটি অন্যতম আমল হচ্ছে আশূরার রোযা। রমাদ্বান শরীফ-এর পর সবচেয়ে ফযীলত

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+