মাহে রমযানঃ ফাযায়েল ও আ’মাল


আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আ’লামীন ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা হাবীবিহি সায়্যিদিল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালিন ওয়ালা আলিহি ওয়াসহাবিহি আজমা’য়িন। আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামীন তার বান্দাদের যত রকমের নিয়ামত দিয়ে ধন্য করেছেন তার মধ্যে পবিত্র রমযান অন্যতম, অফুরন্ত নিয়ামতের আধার এ মাস রামযান। যার ফাযায়েল বর্ণনা করে শেষ করা সম্ভব নয়। এ মাস আল্লাহ তাআলার অধিক থেকে অধিকতর নৈকট্য লাভের উত্তম সময়, পরকালীন পাথেয় অর্জনের উৎকৃষ্ট মৌসুম। ইবাদত-বন্দেগী, যিকির-আযকার এবং তাযকিয়া ও আত্মশুদ্ধির ভরা মৌসুম। এই মাসের প্রতিটি দিবস-রজনীতে দান করা হয়েছে মুষলধারা বৃষ্টির মত অশেষ খায়ের-বরকত এবং অফুরন্ত কল্যাণ। মুমিনের কর্তব্য, এই মহা নেয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত হওয়া। ইরশাদ হয়েছে-
قُلْ بِفَضْلِ اللَّهِ وَبِرَحْمَتِهِ فَبِذَلِكَ فَلْيَفْرَحُوا هُوَ خَيْرٌ مِمَّا يَجْمَعُونَ
(তরজমা) (হে নবী) আপনি বলুন! এটা আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর রহমতেই হয়েছে। সুতরাং এতে তারা যেন আনন্দিত হয়। তারা যা কিছু সঞ্চয় করে, এটা তার চেয়ে উত্তম।-সূরা ইউনুস -৫৮
পরবর্তী আলোচনায় এই মহিমান্বিত বরকতময় মাস ও এর আমল সম্পর্কে যথাসাধ্য আলোচনা উপস্থাপন করা হবে ।
সিয়াম সাধনার মাসঃ প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক ও সুস্থ সামর্থ্যবান নর-নারীর জন্য রমযান মাসে রোযা রাখা ফরয।
তাই প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য, পূর্ণ নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে এ বিষয়ে যত্নবান হওয়া। ইরশাদ হচ্ছে-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
হে মুমিনগণ! তোমাদের উপর রোযা ফরয করা হয়েছে, যেমন ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের প্রতি; যাতে তোমরা তাক্বওয়া অবলম্বনকারী (মুত্তাকী) হতে পার।-সূরা বাকারা ১৮৩
অন্য আয়াতে ইরশাদ করেছেন,
فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ وَمَنْ كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ
সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাস (রমযান) পাবে, সে যেন অবশ্যই তার রোযা রাখে। আর তোমাদের মধ্যে কেউ যদি অসুস্থ হয় বা সফরে থাকে, তবে অন্য সময় সে সমান সংখ্যা পূরণ করবে।-সূরা বাকারা-১৮৫
রোযার ফযিলত সম্পর্কে হাদীস শরীফে ইরশাদ হচ্ছে
عَنْ جَابِرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِنَّمَا الصِّيَامُ جُنَّةٌ، يَسْتَجِنُّ بِهَا الْعَبْدُ مِنَ النَّارِ
হযরত জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, সিয়াম প্রবৃত্তির তাড়না থেকে বাঁচার জন্য ঢাল এর মাধ্যমে বান্দা আগুন থেকে মুক্তি পায় । [মুসনাদে আহমদ,হাদীস নং- ১৫২৬৪,] অপর বর্ণনায় এসেছে-
قَالَ رَبُّنَا عَزَّ وَجَلَّ: الصِّيَامُ جُنَّةٌ يَسْتَجِنُّ بِهَا الْعَبْدُ مِنَ النَّارِ، وَهُوَ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ
আমার রব ইরশাদ করেন নিশ্চই সিয়াম তথা রোযা ঢাল স্বরূপ এর মাধ্যমে বান্দা আগুন থেকে মুক্তি পায়। আর তা আমার জন্য আর আমিই এর প্রতিদান দিব । [মুসনাদে আহমদ,হাদীস নং-১৪৬৬৯]
হাদীস শরীফে আরও ইরশাদ হচ্ছে-
عَنْ سَهْلٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: ” إِنَّ فِي الجَنَّةِ بَابًا يُقَالُ لَهُ الرَّيَّانُ، يَدْخُلُ مِنْهُ الصَّائِمُونَ يَوْمَ القِيَامَةِ، لاَ يَدْخُلُ مِنْهُ أَحَدٌ غَيْرُهُمْ، يُقَالُ: أَيْنَ الصَّائِمُونَ؟ فَيَقُومُونَ لاَ يَدْخُلُ مِنْهُ أَحَدٌ غَيْرُهُمْ، فَإِذَا دَخَلُوا أُغْلِقَ فَلَمْ يَدْخُلْ مِنْهُ أَحَدٌ
হযরত সাহল বিন সা’দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, নিশ্চই জান্নাতে একটি দরজা আছে যার নাম রাইয়ান। কিয়ামত দিবসে সেখান দিয়ে সিয়াম পালনকারী প্রবেশ করবে। সে দরজা দিয়ে অন্য কেহ প্রবেশ করবে না। বলা হবে, সিয়াম পলনকারী কোথায়? তারা দাঁড়াবে, তারা ছাড়া আর কেউ প্রবেশ করবে না। তারা প্রবেশ করার পর দরজা বন্ধ করে দেয়া হবে। আর কেহ সে স্থান দিয়ে প্রবেশ করবে না । [সহীহ আল বুখারী,কিতাবুস সওম,হাদীস নং-১৮৯৬/১৭৯৭, সহীহ মুসলিম,কিতাবুস সিয়াম,হাদীস নং-১১৫২, সুনানে ইবনে মাজাহ,হাদীস নং-১৬৪০, সুনানে নাসাঈ-২২৩৭, মুসনাদে আহমদ-২২৮১৮, তাবরানী আল মু’জামুল কবীর,৬:১৩৪-৫৭৫৪,৬:১৫২- ৫৮১৯, সহীহ ইবনে হিব্বান-৩৪২১, বায়হাক্বী শো’আবুল ঈমান- ৩৩১২] অপর বর্ণনায় এসেছে-
فِي الجَنَّةِ ثَمَانِيَةُ أَبْوَابٍ، فِيهَا بَابٌ يُسَمَّى الرَّيَّانَ، لاَ يَدْخُلُهُ إِلَّا الصَّائِمُونَ
নিশ্চয়ই জান্নাতের আটটি দরজা রয়েছে,যার মধ্যে একটির নাম রাইয়ান, যে দরজা দিয়ে সিয়াম পালন কারী ব্যতীত আর কেউ প্রবেশ করবে না। [সহীহ আল বুখারী,কিতাবুস সওম,হাদীস নং-৩২৫৭/৩০৮৪, তাবরানী আল মু’জামুল কবীর,৬:১৪৬-৫৭৯৫, বায়হাক্বী শো’আবুল ঈমান-৩৩১১]
হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত-
لَمَّا حَضَرَ رَمَضَانُ، قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: قَدْ جَاءَكُمْ رَمَضَانُ، شَهْرٌ مُبَارَكٌ، افْتَرَضَ اللهُ عَلَيْكُمْ صِيَامَهُ، تُفْتَحُ فِيهِ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ، وَتُغْلَقُ فِيهِ أَبْوَابُ الْجَحِيمِ، وَتُغَلُّ فِيهِ الشَّيَاطِينُ، فِيهِ لَيْلَةٌ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ، مَنْ حُرِمَ خَيْرَهَا، فَقَدْ حُرِمَ
যখন রমযান মাসের আগন ঘটলো, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন, তোমাদের নিকট বরকতময় মাস রমযান এসেছে। আল্লাহ তাআলা তোমাদের জন্য এ মাসের রোযা ফরয করেছেন। এ মাসে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর শয়তানদেরকে শিকলে বন্দী করা হয়। এ মাসে এমন একটি রাত আছে, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। যে এর কল্যান থেকে বঞ্চিত হল, সে তো প্রকৃতপক্ষেই বঞ্চিত।-[মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং-৭১৪৮,৮৯৯১,৯৪৯৭]
হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে আরও বর্ণিত-
إِذَا دَخَلَ شَهْرُ رَمَضَانَ فُتِّحَتْ أَبْوَابُ السَّمَاءِ، وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ جَهَنَّمَ، وَسُلْسِلَتِ الشَّيَاطِينُ
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যখন রমযান মাস আগমন করে, তখন আসমানের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানদেরকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। [সহীহ বুখারী,হাদীস নং-১৮৯৯/১৮০০,৩২৭৭/৩১০৩, সহীহ মুসলিম,হাদীস নং-১০৭৯, সুনানে নাসাঈ-২০৯৮,২০৯৯,২১০০, মুয়াত্তা ইমাম মালিক,১:৩১০-৫৯, মুসনাদে আহমদ-৭৭৮০,৭৭৮১, সহীহ ইবনে খুযাইমাহ-১৮৮২, মুসান্নাফে আবী শায়বাহ-৮৮৬৯, বায়হাক্বী শো’আবুল ঈমান-৩২২৬]

রোযার ফযিলত সম্পর্কে হাদিস শরিফে আরও ইরশাদ হচ্ছে-
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: مَنْ صَامَ يَوْمًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ، بَعَّدَ اللَّهُ وَجْهَهُ عَنِ النَّارِ سَبْعِينَ خَرِيفًا
হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাআহি ওয়াসাল্লামকে ইরশাদ করতে শুনেছি, তিনি ইরশাদ করেন, “যে বান্দা আল্লাহর রাস্তায় একদিন মাত্র রোযা রাখবে সেই বান্দার চেহারাকে আল্লাহ্ (ঐ রোযার বিনিময়ে) জাহান্নাম থেকে সত্তর বছরের পথ পরিমাণ দূরত্বে রাখবেন । [সহীহ বুখারি,কিতাবুস সওম,হাদীস নং-২৮৪০/২৬৮৫, সহীহ মুসলিম,হাদীস নং-১১৫৩, জামে আত তিরমিযি-১৬২৩, সুনানে নাসাঈ-২২৪৫,২২৪৭, সুনানে ইবন মাজাহ-১৭১৭, মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক-৯৬৮৫, মুসনাদে আবু দাউদ তাইয়ালসি-২৩০০, মুসনাদে আহমদ-১১৪০৬,১১৫৬০, সহীহ ইবনে খুযাইমাহ-২১১৩, তাবরানী আল মু’জামুল আওসাত-৬৫১২, বায়হাক্বী শো’আবুল ঈমান-৩৫৯২]

রোযা রাখার মাধ্যমে এবং রোযা রাখা অবস্থার আমল সমুহের মাধ্যমে বান্দা সহজেই আল্লাহর নিকটবর্তী হয়ে যায় এবং আল্লাহর অফুরন্ত রহমতের ভাগীদার হয়। হাদীস শরীফে হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা হচ্ছে- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন
كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ يُضَاعَفُ، الْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا إِلَى سَبْعِمِائَةِ ضِعْفٍ إِلَى مَا شَاءَ اللَّهُ، يَقُولُ اللَّهُ: إِلَّا الصَّوْمَ؛ فَإِنَّهُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ
আদম সন্তানের প্রতিটি নেক আমলের দশগুণ থেকে সাতশ গুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়, আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামীন বলেন, একমাত্র ব্যতিক্রম হল রোযা। রোযা আমারই জন্য আর আমিই তার (আগণিত-আফুরন্ত) প্রতিদান প্রদান করব । উক্ত হাদীসেই রোযা পালন কারীদের মুখের গন্ধ সম্পর্কে ইরশাদ হয়-
وَلَخُلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ
সিয়াম পালনকারীর মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মিশক আম্বরের চেয়ে অধিক প্রিয় ।
[সহীহ বুখারী,হাদীস নং-১৯০৪/১৮০৫, সহীহ মুসলিম-১১৫১, সুনানে ইবন মাজাহ-১৬৩৮,৩৮২৩, সুনানে নাসাই-২২১৬,২২১৭,২২১৮, মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক-৭৮৯১, সুনানে দারেমী-১৮১১, মুসনাদে আহমদ-৭৪৯৪,৭৬৯৩,৯৭১৪,১০৬৯২, সহীহ ইবনে খুযাইমাহ-১৮৯৬,১৮৯৯, সহীহ ইবনে হিব্বান-৩৪২২,৩৪২৩]

হযরত আবু মুসা আশয়ারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হয়েছে-
إِنَّ اللَّهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى قَضَى عَلَى نَفْسِهِ أَنَّهُ مَنْ أَعْطَشَ نَفْسَهُ لَهُ فِي يَوْمٍ صَائِفٍ سَقَاهُ اللَّهُ يَوْمَ الْعَطَشِ
আল্লাহ রাববুল আলামীন নিজের উপর অবধারিত করে নিয়েছেন, যে ব্যক্তি তার সন্তুষ্টির জণ্য গ্রীষ্মকালে (রোযার কারণে) পিপাসার্ত থেকেছে, তিনি তাকে তৃষ্ণার দিন (কিয়ামতের দিন) পানি পান করাবেন।-[মুসনাদে বাযযার, হাদীস নং- ১০৩৯, হায়ছামী মাজমাউয যাওয়াইদ- ৫০৯৫]

রমযান মুসলমানদের জন্য সর্বোত্তম মাস। যে মাসে সিয়াম সাধনা ও অধিক ইবাদতের মাধ্যমে মুসলমানগণ নিজেদের ঈমান মজবুত করতে সক্ষম হবে। অধিক ইবাদতের মাধ্যমে অন্তরে বৃদ্ধি পাবে তাকওয়া।
হযরত আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
مَا أَتَى عَلَى الْمُسْلِمِينَ شَهْرٌ خَيْرٌ لَهُمْ مِنْ رَمَضَانَ، وَلَا أَتَى عَلَى الْمُنَافِقِينَ شَهْرٌ شَرٌّ لَهُمْ مِنْ رَمَضَانَ، وَذَلِكَ لِمَا يُعِدُّ الْمُؤْمِنُونَ فِيهِ مِنَ الْقُوَّةِ لِلْعِبَادَةِ، وَمَا يُعِدُّ فِيهِ الْمُنَافِقُونَ مِنْ غَفَلَاتِ النَّاسِ وَعَوْرَاتِهِمْ، هُوَ غنْمٌ الْمُؤْمِنُ يَغْتَنِمُهُ الْفَاجِرُ
মুসলমানদের জন্য রমযানের চেয়ে উত্তম কোনো মাস আসেনি এবং মুনাফিকদের জন্য রমযান মাসের চেয়ে অধিক ক্ষতির মাসও আর আসেনি। কেননা মুমিনগণ এ মাসে (গোটা বছরের জন্য) ইবাদতের শক্তি ও পাথেয় সংগ্রহ করে। আর মুনাফিকরা তাতে মানুষের উদাসীনতা ও দোষত্রুটি অন্বেষণ করে। এ মাস মুমিনের জন্য গনীমত আর মুনাফিকের জন্য ক্ষতির কারণ।-[মুসনাদে আহমদ, হাদীস ৮৩৬৮,৮৮৭০, মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হাদীস-৮৯৬৮,৮৮৭৬, সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীস-১৮৮৪, তাবারানী মু’জামুল আওসাত হাদীস-৯০০৪, বাইহাকী শুয়াবুল ঈমান, হাদীস-৩৩৩৫]
মুমিন বান্দাগণ যাতে রমযান মাসের অতি মূল্যবান ও বরকতপূর্ণ সময় নেক কাজে ব্যয় করতে পারে এবং মুনাফিকদের মত খায়ের ও বরকত থেকে বঞ্চিত না থাকে, তাই আল্লাহ তাআলা এ মাসের শুরু থেকেই সৃষ্টিজগতে এমন আবহ সৃষ্টি করেন, যা পুরো পরিবেশকেই রহমত-বরকত দ্বারা আচ্ছাদিত করে দেয় এবং মুমিনদেরকে ইবাদত-বন্দেগী ও নেক আমলের উৎসাহ-উদ্দীপনা জোগাবে। তাদের পূণ্য ও প্রতিদানের সুসংবাদ দিতে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয় এবং পাপাচার ও খারাপ কাজ হতে বিরত রাখতে জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। সব ধরনের ফিতনা-ফাসাদ ও অনিষ্ট হতে রক্ষা করতে কুমন্ত্রণাদাতা দুষ্ট জ্বিন ও শয়তানদেরকে শিকল লাগিয়ে আবদ্ধ করা হয়। তারপর কল্যাণের পথে অগ্রগামী হওয়ার ও অন্যায় থেকে নিবৃত্ত থাকার আহবান জানানো হয়।
হাদীস শরীফে ইরশাদ হচ্ছে-
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا كَانَ أَوَّلُ لَيْلَةٍ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ صُفِّدَتِ الشَّيَاطِينُ، وَمَرَدَةُ الجِنِّ، وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ النَّارِ، فَلَمْ يُفْتَحْ مِنْهَا بَابٌ، وَفُتِّحَتْ أَبْوَابُ الجَنَّةِ، فَلَمْ يُغْلَقْ مِنْهَا بَابٌ، وَيُنَادِي مُنَادٍ: يَا بَاغِيَ الخَيْرِ أَقْبِلْ، وَيَا بَاغِيَ الشَّرِّ أَقْصِرْ، وَلِلَّهِ عُتَقَاءُ مِنَ النَّارِ، وَذَلكَ كُلُّ لَيْلَةٍ
হযরত আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যখন রমযান মাসের প্রথম রাতের আগমন ঘটে, তখন দুষ্ট জ্বিন ও শয়তানদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয়, তার একটি দরজাও খোলা হয় না এবং জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়, তার একটি দরজাও বন্ধ করা হয় না। আর একজন ঘোষক ঘোষণা করতে থাকে-হে কল্যাণের প্রত্যাশী! অগ্রসর হও, হে অকল্যাণের প্রার্থী! থেমে যাও। আর আল্লাহ তাআলা এ মাসের প্রতি রাতে অসংখ্য জাহান্নামীকে মুক্তি দান করেন । [জামে আত তিরমিযি-৬৮২, সুনানে ইবন মাজাহ-১৬৪২, সহীহ ইবনে খুযাইমাহ-১৮৮৩, হাকিম আল মুস্তাদরাক-১৫৩২, সহীহ ইবনে হিব্বান-৩৪৩৫, বায়হাক্বী শো’আবুল ঈমান-৩৩২৭]

হযরত আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে আরও বর্ণিত হচ্ছে-
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لِكُلِّ شَيْءٍ زَكَاةٌ، وَزَكَاةُ الْجَسَدِ الصَّوْمُ زَادَ مُحْرِزٌ فِي حَدِيثِهِ: وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الصِّيَامُ نِصْفُ الصَّبْرِ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, প্রত্যেক বস্তুর যাকাত রয়েছে, আর শরীরের যাকাত হচ্ছে রোযা। হাদীসে আর অতিরিক্ত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, রোযা ধৈর্যের অর্ধেক । [সুনানে ইবনে মাজাহ-১৭৪৫, মুসান্নাফে আবী শায়বাহ-৮৯০৮, বায়হাক্বী শো’আবুল ঈমান-৩২৯৯,৩৩০০]

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হয়েছে-
أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِنَّ الْجَنَّةَ لتَزَّخْرَفُ لِرَمَضَانَ مِنْ رَأْسِ الْحَوْلِ إِلَى حَوْلٍ قَابِلٍ ، قَالَ: فَإِذَا كَانَ أَوَّلُ يَوْمٍ مِنْ رَمَضَانَ هَبَّتْ رِيحٌ مِنْ تَحْتِ الْعَرْشِ فنَشَرَتْ مِنْ وَرَقِ الْجَنَّةِ عَلَى الْحُورِ الْعِينِ، فَيَقُلْنَ: يَا رَبِّ، اجْعَلْ لَنَا مِنْ عِبَادِكَ أَزْوَاجًا تَقَرُّ بِهِمْ أَعْيُنُنَا وَتُقِرُّ أَعْيُنَهُمْ بِنَا
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, বৎসরের প্রথম হতে পরের বৎসর পর্যন্ত রমযানের জন্য বেহেশত সুসজ্জিত করা হয়।যখন রমযান মাসের প্রথম দিন হয় আরশের নিচে বেহেশতের বৃক্ষের পাতা হতে ডাগর চক্ষু বিশিষ্টা হুরদের প্রতি এক বাতাশ প্রবাহিত হয় তখন তারা বলেন, হে প্রতিপালক আপনার বান্দাদের মধ্য হতে এমন আমাদের জন্য এমন সব সাক্ষী নিরধারন করুন যাদের দেখে আমাদের চক্ষু শীতল হবে আর আমাদের দেখে তাদের চক্ষু শীতল হবে । [তাবরানী আল মু’জামুল আওসাত-৬৮০০,মুসনাদে শামেয়ীন-৯১, বায়হাক্বী শো’আবুল ঈমান-৩৩৬০,ফাযায়িলুল আওকাত-৪৫]

ইবাদত ও আমলের মাসঃ রমযান মাস আমাদের মাঝে আসে অফুরন্ত নিয়ামতের ভাণ্ডার নিয়ে। মুসলমানরা এ মাসে অধিক হারে নফল ইবাদত, নেক আমল, দান-খয়রাতের মধ্যে লিপ্ত থাকে। হাদীস শরীফে আবু মাসউদ গিফারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত দীর্ঘ হাদীসের এক পর্যায়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
لَوْ يَعْلَمُ الْعِبَادُ مَا رَمَضَانُ لَتَمَنَّتْ أُمَّتِي أَنْ يَكُونَ السَّنَةَ كُلَّهَا
বান্দারা যদি জানত রমযান কি জিনিস তাহলে আমার উম্মতরা পূর্ণ বৎসর রমযান হওয়াটা কামনা করত। [সহীহ ইবনে খুযাইমাহ-১৮৮৬]
এমনিভাবে হাদীস শরীফে ইরশাদ হচ্ছে-
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا، غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
হযরত আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি ঈমান ও ইহতেসাবের সাথে রমজানের রাত্রে দাড়িয়ে নামাজ আদায় করবে আল্লাহ তাআলা তার পূর্বের গোনাহ মাফ করে দেবেন। [সহীহ বুখারী,হাদীস নং-২০০৯/১৯০৫,৩৭,২০০৮/১৯০৪, সহীহ মুসলিম-৭৫৯, জামে আত তিরমিযি-৮০৮, সুনানে আবু দাউদ-১৩৭১, সুনানে নাসাঈ-১৬০২,১৬০৩,২১৯৭, মুসনাদে আহমদ-৭৭৮৭,৯২৮৮,১০৩০৪, সহীহ ইবনে হিব্বান-২৫৪৬, বায়হাক্বী শো’আবুল ঈমান-২৯৯৮]
এ মাসের প্রতিটি নেক আমল আল্লাহর নিকট অধিক গ্রহণযোগ্য এবং বান্দার জন্য রয়েছে অধিক প্রতিদান। হাদীস শরীফে ইরশাদ হচ্ছে-
سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ، يُحَدِّثُنَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لِامْرَأَةٍ مِنَ الْأَنْصَارِ سَمَّاهَا ابْنُ عَبَّاسٍ فَنَسِيتُ اسْمَهَا مَا مَنَعَكِ أَنْ تَحُجِّي مَعَنَا؟ قَالَتْ: لَمْ يَكُنْ لَنَا إِلَّا نَاضِحَانِ فَحَجَّ أَبُو وَلَدِهَا وَابْنُهَا عَلَى نَاضِحٍ وَتَرَكَ لَنَا نَاضِحًا نَنْضِحُ عَلَيْهِ، قَالَ: فَإِذَا جَاءَ رَمَضَانُ فَاعْتَمِرِي، فَإِنَّ عُمْرَةً فِيهِ تَعْدِلُ حَجَّةً
وفي رواية أخرى لمسلم : فعمرة في رمضان تقضي حجة أو حجة معي
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক আনসারী মহিলাকে বললেন, বর্ণনাকারী বলেন, তার নাম ইবনে আববাস রা. উল্লেখ করেছিলেন কিন্তু আমি তা ভুলে গিয়েছি-(অন্য বর্ণনায় তার নাম উম্মে সিনান উল্লেখ করা হয়েছে) তুমি কেন আমাদের সাথে হজ্ব করতে যাওনি? তিনি বললেন, আমাদের পানি বহনকারী দুটি মাত্র উট রয়েছে। একটিতে আমার ছেলের বাবা (স্বামী) ও তাঁর ছেলে হজ্ব করতে গিয়েছেন, অন্যটি পানি বহনের জন্য আমাদের কাছে রেখে গিয়েছেন। তিনি বলেন, রমযান মাস এলে তুমি উমরা করবে। কেননা এ মাসের উমরা একটি হজ্বের সমতুল্য। সহীহ মুসলিমের অন্য বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, রমযান মাসের উমরা একটি হজ্বের সমতুল্য। অথবা বলেছেন, আমার সাথে একটি হজ্বের সমতুল্য (সওয়াবের হিসাবে)। [সহীহ বুখারী,হাদীস নং-১৭৮২১৬৯০, সহীহ মুসলিম-১২৫৬]

হযরত উম্মে মাকিল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন- عُمْرَةٌ فِي رَمَضَانَ تَعْدِلُ حَجَّةً
রমযান মাসে উমরা হজ্বের সমতুল্য। [সুনানে তিরমিযী-৯৩৯, সুনানে আবু দাউদ- ১৯৮৮, মুসনাদে আহমদ-২৭২৯১] অপর বর্ণনায় এসেছে-
أَنَّهَا قَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنِّي أُرِيدُ الْحَجَّ، وَجَمَلِي أَعْجَفُ، فَمَا تَأْمُرُنِي؟ قَالَ: «اعْتَمِرِي فِي رَمَضَانَ، فَإِنَّ عُمْرَةً فِي رَمَضَانَ تَعْدِلُ حَجَّةً
হযরত উম্মে মাকিল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা আরজ করেম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমি তো হজ্ব করতে ইচ্ছুক। কিন্তু আমার উটটি দুর্বল। তিনি বললেন, তুমি রমযান মাসে উমরা করো। কেননা রমযান মাসে উমরা (সওয়াব হিসেবে) হজ্বের সমতুল্য। [মুসনাদে আহমদ-২৭২৮৫, ইবনে আসেম আল আহাআসানী-৩২৩৮,৩২৩৯, তাবরানী আল মু’জামুল কবীর,২৫:১৫৫,হাদীস-৩৭]

হাদীস শরীফে আরও ইরশাদ হচ্ছে-
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ قَالَ: أَتَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ: مُرْنِي بِعَمَلٍ يُدْخِلُنِي الْجَنَّةَ. قَالَ: عَلَيْكَ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَا عِدْلَ لَهُ ثُمَّ أَتَيْتُهُ الثَّانِيَةَ فَقَالَ لِي عَلَيْكَ بِالصِّيَامِ
হযরত আবু উমামা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে আগমন করে বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমাকে এমন একটি আমল বলে দিন, যার দ্বারা আমি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারব। তিনি বলেন, তুমি রোযা রাখ, কেননা এর সমতুল্য কিছু নেই। আমি পুনরায় তার নিকট এসে একই কথা বললাম। তিনি বললেন, তুমি রোযা রাখ। [মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং-২২১৪৯, সহীহ ইবনে হিব্বান-৩৪২৫,৩৪২৬, সহীহ ইবনে খুযাইমাহ-১৮৯৩, বায়হাক্বী শো’আবুল ঈমান-৩৫৮৭]

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত-
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَجْوَدَ النَّاسِ وَكَانَ أَجْوَدُ مَا يَكُونُ فِي رَمَضَانَ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মানুষের মাঝে সর্বশ্রেষ্ঠ দাতা। তাঁর দানশীলতা (অন্য সময় হতে) অধিকতর বৃদ্ধি পেত রমযান মাসে । [সহীহ বুখারী,হাদীস নং-৬,১৯০২/১৮০৩,৩২২০/৩০৪৮,৩৫৫৪/৩৩৬১, সহীহ মুসলিম-২৩০৮, সুনানে নাসাঈ-২০৯৫, মুসনাদে আহমদ-২৬১৬,৩৪২৫, সহীহ ইবনে হিব্বান-৩৪৪০,৬৩৭০, বায়হাক্বী শো’আবুল ঈমান-৩৩৫৮]

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে আরও বর্ণিত-
كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا دَخَلَ شَهْرُ رَمَضَانَ أَطْلَقَ كُلَّ أَسِيرٍ، وَأَعْطَى كُلَّ سَائِلٍ
যখনই রমযান মাস আসত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকল বন্দীকে মুক্ত করে দিতেন এবং সকল প্রার্থনাকারীকে দান করতেন । [বায়হাক্বী শো’আবুল ঈমান-৩৩৫৭]
এমনিভাবে মন্দ কাজের দ্বারা রোযা নষ্ট হয়ে যায় মূল্যহীন হয়ে যায় ।
হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন- مَنْ لَمْ يَدَعْ قَوْلَ الزُّورِ وَالعَمَلَ بِهِ وَالجَهْلَ، فَلَيْسَ لِلَّهِ حَاجَةٌ فِي أَنْ يَدَعَ طَعَامَهُ وَشَرَابَهُ
যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও মন্দ কাজ/কথা ও এর উপর আমল বর্জন করল না তার পানাহার পরিত্যাগে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই । [সহীহ বুখারী-১৯০৩/১৮০৪,৬০৫৭/৫৭১০, জামে আত তিরমিযি-৭০৭ সুনানে আবু দাউদ-২৩৬২, সুনানে ইবনে মাজাহ-১৬৮৯, মুসনাদে আহমদ-৯৮৩৯,১০৫৬২, সহীহ ইবনে খুযাইমাহ-১৯৯৫, সহীহ ইবনে হিব্বান-৩৪৮০, বায়হাক্বী শো’আবুল ঈমান-৩৩৬৮]
তাঁর থেকে আরও বর্ণনা হয়-রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
وَإِذَا كَانَ يَوْمُ صَوْمِ أَحَدِكُمْ فَلاَ يَرْفُثْ وَلاَ يَصْخَبْ، فَإِنْ سَابَّهُ أَحَدٌ أَوْ قَاتَلَهُ، فَلْيَقُلْ إِنِّي امْرُؤٌ صَائِمٌ
যখন তোমাদের কেউ রোযা থাকে সে যেন অশ্লীল কথাবার্তা না বলে এবং মূর্খের ন্যায় কাজ না করে। কেউ যদি তাকে গালি দেয় বা ঝগড়া বিবাদে লিপ্ত হয় তাহলে সে যেন বলে, আমি রোযাদার, আমি রোযাদার।
[সহীহ বুখারী,হাদীস নং-১৯০৪/১৮০৫,১৮৯৪/১৭৯৫ সহীহ মুসলিম-১১৫১, সুনানে ইবন মাজাহ-১৬৩৮,৩৮২৩, সুনানে নাসাই-২২১৬,২২১৭,২২১৮, মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক-৭৮৯১, সুনানে দারেমী-১৮১১, মুসনাদে আহমদ-৭৪৯৪,৭৬৯৩,৯৭১৪,১০৬৯২, সহীহ ইবনে খুযাইমাহ-১৮৯৬,১৮৯৯, সহীহ ইবনে হিব্বান-৩৪২২,৩৪২৩]
আরও ইরশাদ হচ্ছে- الصِّيَامُ جُنَّةٌ مَا لَمْ يَخْرِقْهُ» قِيلَ: وَبِمَ يَخْرِقُهُ؟ قَالَ: «بِكَذِبٍ، أَوْ غِيبَةٍ
রোযা একটি সেতু/ঢাল যদি তাঁর মধ্যে ফাটল না হয়, আরজ করা হল কিসে ফাটল হয় ? ইরশাদ করেন, মিথ্যা অথবা গীবত দ্বারা । [তাবরানী আল মু’জামুল আওসাত-৪৫৩৬,৭৮১৪ ]
দু’আ কবুল ও গুনাহ মাফের মাসঃ রমযান মাস এমন একটি মাস যে মাসে আল্লাহ্‌ তায়ালা তার অসংখ্য গুনাহগার বান্দাদের ক্ষমা করে দেন। কবুল করেন বান্দার ফরিয়াদ। সুতরাং আমাদের কর্তব্য, বেশি বেশি নেক আমল এবং তাওবা-ইস্তিগফারের মাধ্যমে নিজেদেরকে এই শাহী ফরমানের অন্তর্ভুক্ত করা।
হাদীস শরীফে ইরাশাদ হচ্ছে- হযরত আবু হুরাইরা অথবা সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত
قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ لِلَّهِ عُتَقَاءَ فِي كُلِّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ، لِكُلِّ عَبْدٍ مِنْهُمْ دَعْوَةٌ مُسْتَجَابَةٌ
অবশ্যই আল্লাহ তাআলা রমযান মাসের প্রত্যেক দিবস ও রাত্রিতে অসংখ্য ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করেন। এবং প্রত্যেক মুমিন বান্দার একটি করে দুআ কবুল করেন। [মুসনাদে আহমদ হাদীস নং- ৭৪৫০]

উসমান ইবনে আবিল আস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি- الصِّيَامُ جُنَّةٌ كَجُنَّةِ أَحَدِكُمْ مِنَ الْقِتَالِ
রোযা হল জাহান্নাম থেকে রক্ষাকারী ঢাল, যুদ্ধক্ষেত্রে তোমাদের (শত্রুর আঘাত হতে রক্ষাকারী) ঢালের মত। [মুসনাদে আহমদ- ১৬২৭৮,১৬২৭৩, সহীহ ইবনে খুযাইমা-২১২৫, সহীহ ইবনে হিববান-৩৬৪৯, সুনানে ইবনে মাজাহ- ১৬৩৯, ইবনে আসেম আল আহাদ ওয়াল মাসানী-১৫৪২, তাবরানী আল মু’জামুল কবীর-৮৩৬০, মুসান্নাফে আবী শায়বাহ-৮৮৯১]

হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন- مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় রমযান মাসের রোযা রাখবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৩৮/৩৫, ২০১৪/১৯১০, সহীহ মুসলিম -৭৬০, সুনানে তিরমিযি-৬৮৩, সুনানে ইবনে মাজাহ-১৩২৬,১৬৪১, সুনানে নাসাঈ-২২০৩,২২০৪, সুনানে আবু দাউদ-১৩৭২, মুসনাদে আহমদ- ৭১৭০,৭২৮০, মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা- ৮৯৬৮, সহীহ ইবনে হিব্বান-৩৪৩২]
রমযান মাসের রোযা, ইবাদত ও নেক আমল বান্দাকে নিষ্পাপ বানিয়ে দেয় । হাদীস শরীফে হযরত আবদুর রহমান ইবনে আওফ রআদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ فَرَضَ صِيَامَ رَمَضَانَ وَسَنَنْتُ قِيَامَهُ، فَمَنْ صَامَهُ وَقَامَهُ إِيمَانًا واحْتِسَابًا خَرَجَ مِنَ الذُّنُوبِ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ
আল্লাহ তাআলা তোমাদের উপর রমযানের রোযা ফরয করেছেন, আর আমি কিয়ামুল লাইল অর্থাৎ তারাবীহ’র নামাযকে সুন্নত করেছি। সুতরাং যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় রমযানের সিয়াম ও কিয়াম আদায় করবে, সে ঐ দিনের মতো নিষ্পাপ হয়ে যাবে যেদিন সে মায়ের গর্ভ থেকে সদ্যভূমিষ্ঠ হয়েছিল । [মুসনাদে আহমদ-১৬৬০, সুনানে আবনে মাজাহ-১৩২৮, সুনানে নাসাঈ-২১১০, মুস্নাদে আবু ইয়ালা-৮৬৫, মুসান্নাফে আবী শায়বাহ-৭৭০৫, মুসনাদে আবু দাউদ তাইয়ালসি-২২১, সহীহ ইবনে খুযাইমাহ-২২০১, বায়হাক্বী শো’আবুল ঈমান-৩৩৪২,৩৩৪৩]

হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
ثَلَاثَةٌ لَا تُرَدُّ دَعْوَتُهُمْ: الصَّائِمُ حَتَّى يُفْطِرَ، وَالإِمَامُ العَادِلُ، وَدَعْوَةُ المَظْلُومِ يَرْفَعُهَا اللَّهُ فَوْقَ الغَمَامِ وَيَفْتَحُ لَهَا أَبْوَابَ السَّمَاءِ وَيَقُولُ الرَّبُّ: وَعِزَّتِي لَأَنْصُرَنَّكِ وَلَوْ بَعْدَ حِينٍ
তিন ব্যক্তির দুআ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না (অর্থাৎ তাদের দুআ কবুল করা হয়) ন্যায়পরায়ন শাসকের দুআ; রোযাদার ব্যক্তির দুআ ইফতারের সময় পর্যন্ত ও মজলুমের দুআ। তাদের দুআ মেঘমালার উপরে উঠিয়ে নেওয়া হয় এবং এর জন্য সব আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়। তখন আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন, আমার ইয্যতের কসম! বিলম্বে হলেও অবশ্যই আমি তোমাকে সাহায্য করব। [সুনানে তিরমিযি-৩৫৯৮, সুনানে ইবনে মাজাহ-১৭৫২, মুসনাদে আবু দাউদ তাইয়ালসি-২৭০৭, মুসনাদে আহমদ-৮০৪৪, তাবরানী আদ দু’আ-১৩১৫,মু’জামুল আউসাত ৭:১৪৫, সহীহ ইবনে হিব্বান-৩৪২৮]

হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, الصَّائِمُ لَا تُرَدُّ دَعْوَتُهُ
রোযাদারের দুআ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।-[মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৮৯৯৫, মুসনাদে আহমদ-১০১৮৯]

হযরত জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
إِنَّ لِلَّهِ فِي كُلِّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ عُتَقَاءَ مِنَ النَّارِ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ، وَإِنَّ لِكُلِّ مُسْلِمٍ دَعْوَةً يَدْعُو بِهَا فَيُسْتَجَابُ لَهُ
রমযান মাসের প্রতিটি দিবস ও রজনীতে আল্লাহ তাআলা অসংখ্য ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করেন। প্রত্যেক মুসলিমের একটি দুআ, যা সে করে, কবুল করা হয়। [মুসনাদে বাযযার-৩১৪১,৩১৪২, হায়ছামী মাজমাউয যাওয়াইদ-১৭২১৫]
হযরত আমর ইবনে মুররা আলজুহানী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত-
جَاءَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلٌ مِنْ قُضَاعَةَ، فَقَالَ لَهُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ إِنْ شَهِدْتُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّكَ رَسُولُ اللَّهِ، وَصَلَّيْتُ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسَ، وَصُمْتُ الشَّهْرَ، وَقُمْتُ رَمَضَانَ، وَآتَيْتُ الزَّكَاةَ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ مَاتَ عَلَى هَذَا كَانَ مِنَ الصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ
এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে এসে বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি যদি একথার সাক্ষ্য দিই যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই এবং অবশ্যই আপনি আল্লাহর রাসূল, আর আমি যদি পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করি, যাকাত প্রদান করি, রমযান মাসের সিয়াম ও কিয়াম (তারাবীহসহ অন্যান্য নফল) আদায় করি তাহলে আমি কাদের দলভুক্ত হব? তিনি বললেন, সিদ্দীকীন ও শহীদগণের দলভুক্ত হবে। [সহীহ ইবনে খুযাইমাহ-২২১২, বায়হাক্বী শো’আবুল ঈমান-৩৩৪৫]

হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
الصَّلَوَاتُ الْخَمْسُ، وَالْجُمْعَةُ إِلَى الْجُمْعَةِ، وَرَمَضَانُ إِلَى رَمَضَانَ، مُكَفِّرَاتٌ مَا بَيْنَهُنَّ إِذَا اجْتَنَبَ الْكَبَائِرَ
পাঁচ ওয়াক্ত নামায, এক জুমুআ থেকে আরেক জুমুআ এবং এক রমযান থেকে আরেক রমযান মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহসমূহকে মুছে দেয় যদি সে কবীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে।-[সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-২৩৩ (৩), সুনানে তিরমিযি-২১৪, মুসনাদে আবু দাউদ তাইয়ালসি-২৫৯২, মুসনাদে আহমদ-৮৭১৫,৯১৯৭, সহীহ ইবনে খুযাইমাহ-১৮১৪, বায়হাক্বী শো’আবুল ঈমান-৩৩৪৭,৩৩৪৮, সহীহ ইবনে হিব্বান-২৪১৮,১৭৩৩]
রমযান মাস হল মাগফিরাত লাভের মাস, যে মাসে সকলের জন্য ক্ষমার দুয়ার উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। ক্ষমা লাভের এমন সূবর্ণ সুযোগ পেয়ে যে ব্যক্তি নিজের পাপসমূহ ক্ষমা করাতে পারে না সে সত্যিই ক্ষতিগ্রস্ত। হাদীস শরীফে তাকেই তিরস্কার করা হয়েছে।
হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
رَغِمَ أَنْفُ رَجُلٍ ذُكِرْتُ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيَّ، وَرَغِمَ أَنْفُ رَجُلٍ دَخَلَ عَلَيْهِ رَمَضَانُ ثُمَّ انْسَلَخَ قَبْلَ أَنْ يُغْفَرَ لَهُ، وَرَغِمَ أَنْفُ رَجُلٍ أَدْرَكَ عِنْدَهُ أَبَوَاهُ الكِبَرَ فَلَمْ يُدْخِلَاهُ الجَنَّةَ
ধুলায় মিশে যাক ঐ ব্যক্তির নাক যার সম্মুখে আমার নাম মুবারক উপস্থাপিত হল অথচ সে আমার উপর দরূদ পেশ করল না, ধুলায় মিশে যাক ঐ ব্যক্তির নাক যার সামনে রমযান মাস উপস্থিত হল সে তা তার গুনাহ মাফ করা ব্যতিত অতিবাহিত হতে দিল, ধুলায় মিশে যাক ঐ ব্যক্তির নাক যার নিকট তার পিতামাতা বৃদ্ধাবস্থায় উপস্থিত অথচ সে তাদের হক আদায় করল না, অতঃপর তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবেনা । [জামে আত তিরমিযি-৩৫৪৫, মুসনাদে আহমদ-৭৪৫১, বুখারী আল আদাবুল মুফরাদ-৬৪৬, ইবনে আ’সেম আসসালাতু আ’লান নাবিয়্যি-৬৫, সহীহ ইবনে হিব্বান-৯০৮, তাবরানী আল মু’জামুল আওসাত-৮৯৯৮, হাকেম আল মুস্তাদরাক-১৯৫২]
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
الصِّيَامُ وَالْقُرْآنُ يَشْفَعَانِ لِلْعَبْدِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، يَقُولُ الصِّيَامُ: أَيْ رَبِّ، مَنَعْتُهُ الطَّعَامَ وَالشَّهَوَاتِ بِالنَّهَارِ، فَشَفِّعْنِي فِيهِ وَيَقُولُ الْقُرْآنُ: مَنَعْتُهُ النَّوْمَ بِاللَّيْلِ، فَشَفِّعْنِي فِيهِ قَالَ فَيُشَفَّعَانِ
রোযা ও কুরআন কিয়ামতের দিন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোযা বলবে, হে রব! আমি তাকে খাদ্য ও যৌন সম্ভোগ থেকে বিরত রেখেছি। অতএব তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ গ্রহণ করুন। কুরআন বলবে, আমি তাকে রাতের ঘুম থেকে বিরত রেখেছি, (অর্থাৎ না ঘুমিয়ে সে তেলাওয়াত করেছে) অতএব তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, অতঃপর তাদের উভয়ের সুপারিশ গ্রহণ করা হবে। [মুসনাদে আহমদ-৬৬২৬, তাবরানী আল মু’জামুল কবীর ১৩:৩৮,হাদীস নং-৮৮, হাকেম আল মুস্তাদরাক-২০৩৬]

কুরআনের মাসঃ রমাযানুল মুবারকের আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হল তা কুরআন নাযিলের মাস। এই পবিত্র মাসেই আল্লাহ তাআলা পূর্ণ কুরআন মজীদ লওহে মাহফুয থেকে প্রথম আসমানে অবতীর্ণ করেন। অতপর রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট কুরআনের সর্বপ্রথম অহীও এ মাসেই নাযিল হয়। রমযান মাসের অন্য কোনো ফযীলত যদি উল্লেখিত না হত, তবে এই এক ফযীলতই তার মর্যাদা ও বিশেষত্বের জন্য যথেষ্ট হতো। রমযান মাসের পরিচয় ও গুরুত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে আল্লাহ তাআলা সর্বপ্রথম এই বৈশিষ্ট্যের কথাই উল্লেখ করেছেন। ইরশাদ হয়েছে-
شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآَنُ هُدًى لِلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ
রমযান মাস, যাতে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সুপথ প্রাপ্তির সুস্পষ্ট পথনির্দেশ আর হক্ব-বাতিলের মধ্যে পার্থক্যকারী । [সূরা বাকারা : ১৮৫]
সুরা কদরে ইরশাদ হচ্ছে- إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ
নিশ্চই আমি এই মহান কিতাবকে (কুরআন) ক্বদরের রাত্রে অবতীর্ণ করেছি । [আয়াত-১]
নিঃসন্দেহে কোরআন সকল যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানী কিতাব যা সর্বশ্রেষ্ঠ নবীর উপর অবতীর্ণ হয়েছে। আর কুরআন তিলাওয়াতের ফযিলত অত্যাধিক। সবচেয়ে উত্তম নফল ইবাদতই হচ্ছে কুরআন তিলাওয়াত। আর রমযান মাসে কুরআন তিলাওয়াতের চাইতে উত্তম আমল আর কিছুই হতে পারে না।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
مَنْ قَرَأَ حَرْفًا مِنْ كِتَابِ اللَّهِ فَلَهُ بِهِ حَسَنَةٌ، وَالحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا، لَا أَقُولُ الم حَرْفٌ، وَلَكِنْ أَلِفٌ حَرْفٌ وَلَامٌ حَرْفٌ وَمِيمٌ حَرْفٌ
যে ব্যক্তি কুরআনের একটি হরফ পাঠ করে, তাকে একটি নেকি প্রদান করা হয়। প্রতিটি নেকি দশটি নেকির সমান। আমি বলি না যে, আলিফ-লাম-মীম একটি হরফ। বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ, মীম একটি হরফ । [সুনানে আত তিরমিযি-২৯১০, মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক-৫৯৯৩, তাবরানী আল মু’জামুল কবীর-৮৬৪৭, বায়হাক্বী শো’আবুল ঈমান-১৮৩১]

সাহরী ও ইফতারঃ হাদীস শরীফে হযরত আনাস ইবনে মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হয়-
قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: تَسَحَّرُوا فَإِنَّ فِي السَّحُورِ بَرَكَةً
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমরা সাহরী আহার কর, কেননা সাহরী গ্রহনের মধ্যে বরক্ত রয়েছে । [সহীহ আল বুখারী,হাদীস নং-১৯২৩/১৮২৩, সহীহ মুসলিম-১০৯৫, সুনানে তিরমিযি-৭০৮, সুনানে নাসাঈ-২১৪৬, সুনানে ইবনে মাজাহ-১৬৯২, মুসনাদে আহমদ-১১৯৫০,১৩২৪৫, সহীহ ইবনে খুযাইমাহ-১৯৩৫, সহীহ ইবনে হিব্বান-৩৪৬৬, মুসান্নাফে আবী শায়বাহ-৮৯১৩, সুনানে দারেমী-১৭৩৮]

হযরত আমর ইবনুল আ’স রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত-
أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: فَصْلُ مَا بَيْنَ صِيَامِنَا وَصِيَامِ أَهْلِ الْكِتَابِ، أَكْلَةُ السَّحَرِ
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, অন্য হাদীসে আছে, আমাদের রোযা ও আহলে কিতাবীদের রোযার মাঝে পার্থক্য হল সেহরী খাওয়া (আমরা সেহরী খাই তারা খায় না)।- [সহীহ মুসলিম হাদীস নং- ১০৯৬, সুনানে তিরমিযি-৩:৭৯, সুনানে আবু দাউদ-২৩৪৩, সুনানে নাসাঈ-২১৬৬, মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক-৭৬০২, মুসনাদে আহমদ-১৭৮০১,১৭৭৬২, সুনানে দারেমী-১৭৩৯, তাবরানী আল মু’জামুল আওসাত-৩২৩৮, সহীহ ইবনে হিব্বান-৩৪৭৭]
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى الْمُتَسَحِّرِينَ
নিশ্চই আল্লাহ্‌ এবং ফেরেশতারা সাহরী ভক্ষণকারীদের উপর রহমত বর্ষণ করেন । [সহীহ ইবনে হিব্বান-৩৪৬৭, তাবরানী আল মু’জামুল আওসাত-৬৪৩৪, আবু নুয়াইম হিল্যাতুল আউলিয়া ৮:৩২০]
হাদীস শরীফে ইরশাদ হচ্ছে- এক সাহাবী হতে বর্ণিত
دَخَلْتُ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يَتَسَحَّرُ، فَقَالَ: إِنَّهَا بَرَكَةٌ أَعْطَاكُمُ اللَّهُ إِيَّاهَا فَلَا تَدَعُوهُ
আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে উপস্থিত হলাম, তিনি সাহরী খাচ্ছিলেন, ইরশাদ করলেন, এটা বরকত, আল্লাহ্‌ তা’য়ালা তোমাদেরকে দিয়েছেন তোমরা তা ছাড়বে না । [সুনানে নাসাঈ-২১৬২, মুসনাদে আহমদ-২৩১১৩, মুসনাদে আবী শায়বাহ-৯৯৭]
হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
السَّحُورُ أَكْلُهُ بَرَكَةٌ، فَلَا تَدَعُوهُ، وَلَوْ أَنْ يَجْرَعَ أَحَدُكُمْ جُرْعَةً مِنْ مَاءٍ، فَإِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى الْمُتَسَحِّرِينَ
সেহরীর সম্পূর্ণটাই বরকত, তা পরিত্যাগ করবে না, যদিও এক অঞ্জলি পানিও হয়, তা পান কর। কেননা সেহরী ভক্ষণকারীর উপর আল্লাহ্‌ ও তাঁর ফেরেশতারা রহমত বর্ষণ করেন । [মুসনাদে আহ্মদ-১১২৮৬,১১৩৯৬]
এমনিভাবে ইফতারের মধ্যেও রয়েছে কল্যাণ ও মুক্তি। হাদীস শরীফে হযরত সাহল বিন সা’দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হচ্ছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
لاَ يَزَالُ النَّاسُ بِخَيْرٍ مَا عَجَّلُوا الفِطْرَ
মানুষ সর্বদা কল্যাণের সাথে থাকবে যতদিন তারা ইফতার শীঘ্র শীঘ্র করবে । [সহীহ আল বুখারী,কিতাবুস সওম-১৯৫৭/১৮৫৬, সহীহ মুসলিম-১০৯৮, সুনানে তিরমিযি-৬৯৯, সুনানে ইবনে মাজাহ-১৬৯৭, মুসনাদে আবী শায়বাহ-৯১, মুসনাদে আহমদ-২২৮০৪,২২৮২৮,২২৮৪৬, মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক-৭৫৯২, সহীহ ইবনে খুযাইমাহ-২০৫৯, সুনানে দারেমী-১৭৪১, তাবরানী আল মু’জামুল কবীর-৫৭৬২,৫৭৪২, বায়হাক্বী শো’আবুল ঈমান-৩৬৩০,৩৬৩১, সহীহ ইবনে হিব্বান-৩৬০২,৩৬০৬]
হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে আরও বর্ণিত হচ্ছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: إِنَّ أَحَبَّ عِبَادِي إِلَيَّ أَعْجَلُهُمْ فِطْرًا
আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন, আমার বান্দাদের মধ্যে আমার কাছে তারাই বেশি প্রিয় যারা শীঘ্রই ইফতারী করে । [সুনানে তিরমিযি-৭০০, মুসনাদে আহমদ-৭২৪১,৮৩৬০, সহীহ ইবনে খুযাইমাহ-২০৬২, তাবরানী আল মু’জামুল আওসাত-১৪৯০, সহীহ ইবনে হিব্বান-৩৫০৭, মুসনাদে আবু ইয়ালা-৫৯৭৪]
ইফতারের সময় দু’আ কবুলের অন্যতম সময়, হযরত আমর ইবনু আ’স রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হচ্ছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- إِنَّ لِلصَّائِمِ عِنْدَ فِطْرِهِ لَدَعْوَةً مَا تُرَدُّ
ইফতারের সময় রোযাদারের দুআ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না ।[ সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস নং- ১৭৫৩, তাবরানী আদ দু’আ-৯১৯, বায়হাক্বী ফাযায়িলুল আওকাত-১৪২]
হযরত জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হচ্ছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
إِنَّ لِلَّهِ عِنْدَ كُلِّ فِطْرٍ عُتَقَاءَ، وَذَلِكَ فِي كُلِّ لَيْلَةٍ
প্রতিদিন ইফতারের সময় অসংখ্য জাহান্নামীকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং এটা প্রতি রাতে ।-[ সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস নং- ১৬৪৩]
হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হচ্ছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- لِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ يَفْرَحُهُمَا: إِذَا أَفْطَرَ فَرِحَ، وَإِذَا لَقِيَ رَبَّهُ فَرِحَ بِصَوْمِهِ
রোযাদারের জন্য দুটি আনন্দের মুহূর্ত রয়েছে, যখন সে আনন্দিত হবে। এক. যখন সে ইফতার করে তখন ইফতারের কারণে আনন্দ পায়। দুই. যখন সে তার রবের সাথে মিলিত হবে তখন তার রোযার কারণে আনন্দিত হবে । [সহীহ বুখারী, হাদীস নং- ১৯০৪, ১৮৯৪, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং- ১১৫১ (১৬৩, ১৬৪, ১৬৫), মুসনাদে আহমদ- ৯৪২৯,৭১৭৪,১০১৪৫, সুনানে তিরমিযী-৭৬৬, মুসনাদে আবু ইয়ালা-৬০২০]
হযরত সালমান বিন আমের দাব্বী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হচ্ছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- إِذَا أَفْطَرَ أَحَدُكُمْ فَلْيُفْطِرْ عَلَى تَمْرٍ، فَإِنْ لَمْ يَجِدْ فَلْيُفْطِرْ عَلَى مَاءٍ فَإِنَّهُ طَهُورٌ
যখন তোমাদের মধ্যে কেউ ইফতার করে সে যেন খেজুর দ্বারা ইফতার করে। কেননা, তা বরকতের খাদ্য। যদি তা না থাকে তাহলে পানি দ্বারা ইফতার করে। কেননা তা পবিত্রকারী । [সুনানে তিরমিযি-৬৯৫, সুনানে ইবনে মাজাহ-১৬৯৯, সুনানে আবু দাউদ-২৩৫৫, মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক-৭৫৮৬, সুনানে দারেমী-১৭৪৩, নাসাঈ সুনানুল কুবরা-৩৩০৬,৩৩০৭, মুসনাদে আহমদ-১৬২২৫,১৬২২৮,১৬২৩১, তাবরানী আল মু’জামুল কবীর-৬১৯২,৬১৯৪, সহীহ ইবনে হিব্বান-৩৫১৫ বায়হাক্বী শো’আবুল ঈমান-৩৬১৫]
হাদীস শরীফে ইবনে উমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত-
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، إِذَا أَفْطَرَ قَالَ: ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ، وَثَبَتَ الْأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইফতার করতেন তখন বলতেন, পিপাসা নিবারিত হল, শিরা উপশিরা সতেজ হল আর সওমের ছাওয়াব প্রাপ্তির খাতায় লিখিত হয়ে গেল । [সুনানে আবু দাউদ-২৩৫৭, হাকে আল মুস্তাদরাক-১৩৩৬, নাসাঈ সুনানুল কুবরা-৩৩১৫,১০০৫৮, দারে ক্বুতনী-২২৭৯]
হযরত আনাস ইবনে মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত-
كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَفْطَرَ قَالَ: بِسْمِ اللَّهِ، اللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ، وَعَلَى رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইফতার করতেন তখন দু’আ করতেন, বলতে, আল্লাহর নামে আরম্ভ, হে আল্লাহ! আমি তোমার জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমার রিযিক দিয়ে ইফতার করছি। তুমি আমার এই রোযাকে কবুল কর। নিশ্চয় তুমি সর্বজ্ঞ, সর্বশ্রোতা । [তাবরানী আল মু’জামুল আওসাত-৭৫৪৯, আদ দু’আ-৯১৮, মু’জামুস সগীর-৯১২]

হাদীস শরীফে আরও ইরশাদ হয়-
أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا أَفْطَرَ قَالَ: اللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ، وَعَلَى رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইফতার করতেন তখন দু’আ করতেন, হে আল্লাহ! আপনার সন’ষ্টির উদ্দেশ্যেই রোযা রেখেছি এবং আপনার দেওয়া রিযিক দিয়ে ইফতার করছি । [সুনানে আবু দাউদ-২৩৫৮, বায়হাক্বী শো’আবুল ঈমান ৫:৪০৬, সুনানুস সগীর-১৩৯১, ফাযায়িলুল আওকাত-১৪৩]
এমনিভাবে রোযাদারদের ইফতার করানোতে রয়েছে সাওয়াব। হযরত যায়েদ ইবনে খালেদ আলজুহানী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
مَنْ فَطَّرَ صَائِمًا كَانَ لَهُ مِثْلُ أَجْرِهِ، غَيْرَ أَنَّهُ لَا يَنْقُصُ مِنْ أَجْرِ الصَّائِمِ شَيْئًا
যে ব্যক্তি কোনো রোযাদারকে ইফতার করাবে, সে তার (রোযাদারের) অনুরূপ প্রতিদান লাভ করবে। তবে রোযাদারের প্রতিদান হতে বিন্দুমাত্রও হ্রাস করা হবে না। [সুনানে তিরমিযি-৮০৭, সুনানে ইবনে মাজাহ-১৭৪৬, মুসান্নাফে আব্দির রাযযাক-৭৯০৫, সুনানে দারেমী-১৭৪৪, নাসাঈ আস সুনানুল কুবরা-৩৩১৭, মুসনাদে আহমদ-১৭০৩৩,২১৬৭৬, তাবরানী আল মু’জামুল আওসাত-১০৪৮, আল মু’জামুল কবীর-৫২৬৯, সহীহ ইবনে হিব্বা-৩৮২৭, বায়হাক্বী শো’আবুল ঈমান-৩৬৬৬]

তারাবীহ’র নামাযঃ তারাবীহ নারী পুরুষ সকলের জন্য সর্বসম্মতভাবে সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। তারাবীহ ছেড়ে দেওয়া জায়েয নেই। খোলাফায়ে রাশেদীন ও সাহাবা এবং পরবর্তীগণ এর উপর আমল করেছেন। স্বয়ং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তারাবীহ আডায় কোড়েছেণ এবং অত্যন্ত পছন্দ করতেন । হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত , নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا، غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
যে ব্যক্তি ঈমান ও ইহতেসাবের/পূন্যলাভের আশার সাথে রমজানের রাত্রে দাড়িয়ে নামাজ আদায় করবে আল্লাহ তাআলা তার পূর্বের গোনাহ মাফ করে দেবেন। [সহীহ বুখারী,হাদীস নং-২০০৯/১৯০৫,৩৭,২০০৮/১৯০৪, সহীহ মুসলিম-৭৫৯, জামে আত তিরমিযি-৮০৮, সুনানে আবু দাউদ-১৩৭১, সুনানে নাসাঈ-১৬০২,১৬০৩,২১৯৭, মুসনাদে আহমদ-৭৭৮৭,৯২৮৮,১০৩০৪, সহীহ ইবনে হিব্বান-২৫৪৬, বায়হাক্বী শো’আবুল ঈমান-২৯৯৮]
হযরত উমর ফারুক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর যামানায় মসজিদে জামাত সহকারে তারাবীহ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়। ইরশাদ হয়- عَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ
তোমাদের জন্য আমার সুন্নাত ও খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নত পালনীয় । [সুনানে তিরমিযি-২৬৭৬, সুনানে আবু দাউদ-৪৬০৭, সুনানে ইবনে মাজাহ-৪২,৪৩, সুনানে দারেমী-৯৬, মুসনাদে আহমদ-১৭১৪২,১৭১৪৪, হাকেম আল মুস্তাদরাক-৩২৯,৩৩০, সহীহ ইবনে হিব্বান-৫]
বুখারী শরীফে তাবেঈ আব্দুর রহমান ইবনে আবদ হতে বর্ণিত-
خَرَجْتُ مَعَ عُمَرَ بْنِ الخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، لَيْلَةً فِي رَمَضَانَ إِلَى المَسْجِدِ، فَإِذَا النَّاسُ أَوْزَاعٌ مُتَفَرِّقُونَ، يُصَلِّي الرَّجُلُ لِنَفْسِهِ، وَيُصَلِّي الرَّجُلُ فَيُصَلِّي بِصَلاَتِهِ الرَّهْطُ، فَقَالَ عُمَرُ: إِنِّي أَرَى لَوْ جَمَعْتُ هَؤُلاَءِ عَلَى قَارِئٍ وَاحِدٍ، لَكَانَ أَمْثَلَ ثُمَّ عَزَمَ، فَجَمَعَهُمْ عَلَى أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ، ثُمَّ خَرَجْتُ مَعَهُ لَيْلَةً أُخْرَى، وَالنَّاسُ يُصَلُّونَ بِصَلاَةِ قَارِئِهِمْ، قَالَ عُمَرُ: «نِعْمَ البِدْعَةُ هَذِهِ

আমি রমযান মাসের এক রাত্রিতে উমর ইবনুল খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর সাথে মসজিদের দিকে বের হই। আমরা দেখতে পাই লোকজন বিভিন্ন ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে রয়েছে। কেউ একাকী সালাত আদায় করছে কেউ বা নিজে সালাত আদায় করছে এবং তাঁর পেছনে কয়েকজন সালাত আদায় করছে। উমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমার মনে হয়, যদি এ সকল মানুষকে একজন কারীর (হাফিয ইমামের) পেছনে একত্রিত করতাম, তাহলে ভালো হত। এরপর তিনি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন। অতঃপর তিনি তাদেরকে উবাই ইবনে কা’ব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর এর পেছনে একত্রিত করেন। এরপর অন্য এক রাতে আমি উমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর সাথে বের হই, তখন মানুষেরা তাদের কারীর পেছনে সালাত আদায় করছিল, উমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বললেন, এই আমলটি (রমযানে জাম’আতে তারাবীহ) কতই না সুন্দর/উত্তম বিদআত! [সহীহ আল বুখারী-২০১০/১৯০৬, মুয়াত্তা ইমাম মালিক ১:১১৪, মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক-৭৭২৩, বায়হাক্বী শো’আবুল ঈমান-২৯৯৯]

“তারাবীহ” বহুবচন হলো “তারবীহাতুন”-এর। যার অর্থ হলো বসা, অর্থাৎ রমাদ্বান শরীফ মাসে (তারাবীহ নামাযে) ৪ রাকায়াত পর বিশ্রাম নেয়ার জন্য বসা। প্রত্যেক ৪ রাকায়াত নামাযকে “তারবীহাতুন” বলে। আর পুরো ২০ রাকায়াত নামাযকে “তারাবীহ” বলে, যা রমাদ্বান শরীফ মাসে পড়া হয়। [মিছবাহুল লোগাত, পৃষ্ঠা ৩২২,লিসানুল আরব ১ম জিলদ্‌, পৃষ্ঠা ১৭৬৮] অনুরূপ আল মুনজিদ–এও উল্লেখ আছে। যেহেতু প্রত্যেক ৪ রাকায়াত পর পর কিছু বিলম্ব এবং বিশ্রাম নিতে হয়, তাই এটাকে “তারাবীহ” নামায বলে। [ফিরুযুল লোগাত, পৃষ্ঠা ৩৫৩] এ প্রসঙ্গে বুখারী শরীফ-এর বিখ্যাত শরাহ্‌ “উমাদুল ক্বারী” তে উল্লেখ আছে যে, “প্রতি ৪ রাকায়াত নামাযকে “তারবীহাতুন” বলা হয়, আর উহা মূলতঃ বিশ্রাম নেওয়ার জলসা।
তারাবীহ অর্থ আরাম,অবসর,বিশ্রাম,বিরতি। শরীয়তের পরিভাষায় রমজানুল মোবারকের রাতে এশার নামাজের পর যে নামায পড়া হয় তাকে তারাবীহ’র নামায বলা হয় । তারবীহের নামাযে চার রাকাতের পর কিছুণের জন্য বসে আরাম করা হয়। সেই বসাটার নাম তরবীহা। এ জন্য এই নামাযকে তারাবীহ অর্থাৎ আরামের সমষ্টি বলা হয়। আরবীতে কমপক্ষে তিনটাকে বহুবচন বলা হয়। যদি আট রাকাত তারাবীহ হয়, তাহলেতো এর মধ্যে মাত্র একবার তরবীহা পাওয়া যাচ্ছে এবং এর নাম তারাবীহ (বহুবচন) হতো না। তিন তরবীহার (বিশ্রাম) জন্য কমপক্ষে ষোল রাকাত তারাবীহ হওয়া বাঞ্ছনীয় অর্থাৎ প্রতি চার রাকাত পর এক তরবীহা। বিতরের আগে কোন তরবীহা বা বিশ্রাম নেওয়া হয় না। তাই তারাবীহের নামই আট রাকাত তারাবীহের দাবীকে অপ্রমাণ করে ।
والتراويح جمع ترويحة وهى فى الاصل مصدر بمعنى الستراحة سميت به الاربع ركعات المخصوصة لاستلزامها استراحة بعدها كما هوا السنة فيها
অর্থাৎ-প্রতি চার রাকাত নামাযের পর সম পরিমাণ সময় আরাম বা বিশ্রাম নেয়া হয় বলে একে সালাতুত তারাবীহ্‌ বলা হয়। এ সময়টুকু বিশ্রাম নেয়া বা বিরতি দিয়ে পড়া সুন্নত। দ্রঃ বাহরুর রাঈক্ব খন্ড ২ পৃষ্ঠা ৬৬
তারাবীহ’র নামায বিশ রাকাত যা রাসুলুল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবা কেরাম জমহুহ আইম্মা ও উলামাদের সুন্নাত । এ সম্পর্কিত দলীল নিম্নে উপস্থাপ্ন করা হল।
১) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত-
أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُصَلِّي فِي رَمَضَانَ عِشْرِينَ رَكْعَةً سِوَى الْوِتْرِ
নিশ্চই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান মাসে বিতর ব্যতীত বিশ রাকাত তারাবীহ আদায় করতেন । [তাবরানী আল মু’জামুল আওসাত-৭৯৮,মু’জামুল কবীর-১২১০২, মুসান্নাফে আবী শায়বাহ-৭৬৯২, বায়হাক্বী আস সুনানুল কুবরা-৪২৮৬, আলমুনতাখাব মিন মুসনাদি আবদ ইবনে হুমাইদ-৬৫৩]
২) ইমাম মালিক রাহঃ ইয়াযিদ ইবনে রুমান হতে বর্ণনা করেন-
كَانَ النَّاسُ يَقُومُونَ فِي زَمَانِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فِي رَمَضَانَ بِثَلَاثٍ وَعِشْرِينَ رَكْعَةً
হযরত ওমর (রাঃ) এর জামানায় লোকজন ২০ এবং তিন রাকাত অর্থাৎ তারাবীহ ও বেতের সহ ২৩ রাকাত পড়তেন আর তা রমজান মাসে । [মুয়াত্তা ইমাম মালিক-৫(আব্দুল বাকী) ৩৮০ (আল আ’জামী),/৪০, বায়হাক্বী মা’রেফাতুস সুনানি ওয়াল আছার-৫৪৪১, আস সুনানুল কুবরা-৪২৮]
৩) ইমাম বায়হাক্বী মা’রিফাহ কিতাবে সাইব বিন ইয়াযিদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেন-
كُنَّا نَقُومُ فِي زَمَانِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ بِعِشْرِينَ رَكْعَةً وَالْوِتْرِ
আমরা সাহাবীরা হযরত উমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর যামানায় বিশ রাকা’ত এবং বিতর পরতাম ।[বায়হাক্বী মা’রেফাতুস সুনানি ওয়াল আছার-৫৪০৯]
৪) অনুরূপ সুনানে কুবরায় ইমাম বায়হাক্বী (রঃ) হযরত সায়িব ইবনে ইয়াযিদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন-
كَانُوا يَقُومُونَ عَلَى عَهْدِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ بِعِشْرِينَ رَكْعَةً ” قَالَ: ” وَكَانُوا يَقْرَءُونَ بِالْمَئِينِ، وَكَانُوا يَتَوَكَّئُونَ عَلَى عِصِيِّهِمْ فِي عَهْدِ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ مِنْ شِدَّةِ الْقِيَامِ
হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর জামানায় রমজানুল মুবারকে ২০ রাকাত তারাবীহ্‌ প্রতিষ্ঠিত ছিল। তিনি আরো বলেছেন যে, তাঁরা নামাযে শতাধিক আয়াত বিশিষ্ট সূরাসমূহ পড়তেন এবং উসমান ইবনে আফফান রা.-এর যুগে দীর্ঘ নামাযের কারণে তাঁদের (কেউ কেউ) লাঠি ভর দিয়ে দাঁড়াতেন।। [বায়হাক্বী আস সুনানুল কুবরা-৪২৮৮]
মা আরেফুস সুনান ৬ ষ্ঠ খন্ডের ২২ পৃষ্ঠায় আল্লামা আযমী সুনানে কুবরা বায়হাক্বী ২য় খন্ডের ৪৯৬ পৃষ্ঠার উদৃতি দিয়ে লিখেছেন যে এই বিবরণী ইমাম বায়হাক্বী (রঃ) অন্যরকম ভাবে মা আরেফুস সুনান এ বর্ণনা করেছেন। প্রথম সনদকে ইমাম নববী (রঃ)[আল খুলাসা আল আহকাম-১৯৬১] ইমাম হরাক্বী (রঃ) এবং আল্লামা ইমাম সুয়ুতী প্রমুখ সহীহ বলেছেন। ২য় সনদকে সাবাকি (রঃ) এবং মোল্লা আলী ক্বারী (রঃ) সহীহ বলেছেন।
৫) তাবেঈ আব্দুল আযীয বিন রুফাই হতে বর্ণিত-
كَانَ أُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ يُصَلِّي بِالنَّاسِ فِي رَمَضَانَ بِالْمَدِينَةِ عِشْرِينَ رَكْعَةً، وَيُوتِرُ بِثَلَاثٍ
হযরত উবাই ইবনে কা’ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মদীনা শরীফ-এ রমাদ্বান শরীফ মাসে বিশ রাকায়াত তারাবীহ পড়াতেন এবং বিতর করতেন তিন রাক’আত দিয়ে । [মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ-৭৬৮৪, ফাকেহী আখবারে মক্কা-১৩৪৫]
৬) ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল আনসারী রঃ হতে বর্ণিত
أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ أَمَرَ رَجُلًا يُصَلِّي بِهِمْ عِشْرِينَ رَكْعَةً
নিশ্চয়ই হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম তিনি এক ব্যক্তিকে সকল লোকদের নিয়ে বিশ রাকায়াত তারাবীহ নামায পড়ার আদেশ দিয়েছেন । [মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ-৭৬৮২]
৭) তাবেঈ আতা ইবনে আবী রাবাহ রঃ হতে বর্ণিত-
أَدْرَكْتُ النَّاسَ وَهُمْ يُصَلُّونَ ثَلَاثًا وَعِشْرِينَ رَكْعَةً بِالْوِتْرِ
হযরত আতা ইবনে আবী রিবাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমি লোকদের এরূপ অবস্থায় পেয়েছি যে, উনারা বিতরসহ তেইশ রাকায়াত তারাবীহ নামায পড়েন । [মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ-৭৬৮৮]
৮) তাবে তাবেঈ নাফি’ ইবনে উমর রঃ বলেন-
كَانَ ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ يُصَلِّي بِنَا فِي رَمَضَانَ عِشْرِينَ رَكْعَةً، وَيَقْرَأُ: بِحَمْدِ الْمَلَائِكَةِ فِي رَكْعَةٍ
হযরত ইবনে আবী মুলাইকাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি, রমযান মাসে আমাদেরকে নিয়ে বিশ রাকায়াত তারাবীহ নামায পড়েন । [মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ-৭৬৮৩]
৯) তাবে তাবেঈ সাঈদ ইবনে উবায়দ বলেন-
أَنَّ عَلِيَّ بْنَ رَبِيعَةَ كَانَ يُصَلِّي بِهِمْ فِي رَمَضَانَ خَمْسَ تَرْوِيحَاتٍ، وَيُوتِرُ بِثَلَاثٍ
নিশ্চয়ই হযরত আলী ইবনে রাবী’আহ রমাদ্বান শরীফ মাসে লোকদের নিয়ে পাঁচ তারাবীহ তথা বিশ রাকায়াত তারাবীহ ও তিন রাকায়াত বিতর নামায পড়েন। [মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ-৭৬৯০]
১০) ইবনে আবী হাসনা রঃ হতে বর্ণিত-
أَنَّ عَلِيًّا أَمَرَ رَجُلًا يُصَلِّي بِهِمْ فِي رَمَضَانَ عِشْرِينَ رَكْعَةً
হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম একজন সাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে ইমাম নিযুক্ত করে উনাকে নির্দেশ দিলেন, তারাবীহ নামায বিশ রাকায়াত পড়াবেন । [মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ-৭৬৮১]
১১) তাবেঈ আবু বুখতারী রঃ হতে বর্ণিত-
أَنَّهُ كَانَ يُصَلِّي خَمْسَ تَرْوِيحَاتٍ فِي رَمَضَانَ، وَيُوتِرُ بِثَلَاثٍ
তিনি রমাদ্বান শরীফ মাসে পাঁচ তারবীহা অর্থাৎ বিশ রাকায়াত তারাবীহ ও তিন রাকায়াত বিতর নামায পড়তেন । [মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ-৭৬৮৬]
১২) ইমাম তিরমিযি রঃ তাঁর সুনানে বলেন-
وَأَكْثَرُ أَهْلِ العِلْمِ عَلَى مَا رُوِيَ عَنْ عُمَرَ، وَعَلِيٍّ، وَغَيْرِهِمَا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عِشْرِينَ رَكْعَةً، وَهُوَ قَوْلُ الثَّوْرِيِّ، وَابْنِ المُبَارَكِ، وَالشَّافِعِيِّ ” وقَالَ الشَّافِعِيُّ: وَهَكَذَا أَدْرَكْتُ بِبَلَدِنَا بِمَكَّةَ يُصَلُّونَ عِشْرِينَ رَكْعَةً
আহলে ইলমের আমল ওটার উপর, যা হযরত আলী, উমর ও অন্যান্য সাহাবায়ে কিরাম থেকে বর্ণিত আছে অর্থাৎ বিশ রাকাত। এটাই হযরত সুফিয়ান ছুরী, ইবনে মুবারক ও ইমাম শাফেঈর অভিমত। ইমাম শাফেঈ স্বীয় শহর পবিত্র মক্কায় এরই অনুশীলন দেখতে পান অর্থাৎ মুসলমানেরা বিশ রাকাত তারাবীহ পড়তেন। [সুনানে তিরমিযি-৮০৬, ৩:১৬০]
১৩) ইবনে মুনী হযরত উবাই ইবনে কা’ব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত-
أن عمر بن الخطاب أمره أن يصلي بالليل في رمضان فقال: إن الناس يصومون النهار ولا يحسنون أن يقرأوا فلو قرأت عليهم بالليل، فقال: يا أمير المؤمنين هذا شيء لم يكن، فقال: قد علمت ولكنه حسن فصلى بهم عشرين ركعة
হযরত উমর ইবনে খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাকে (উবাই ইবনে কা’ব) রমযানের রত্রিতে তারাবীহ পড়তে নির্দেশ দিলেন। তিনি বললেন, লোকেরা দিনে রোযা রাখার কারণে ভালভাবে কুরআন তিলাওয়াত করতে পারে না। তুমি তাদেরকে রাত্রিতে কুরআন তিলাওয়াত করালে ভাল হয়। তখন উবাই ইবনে কা’ব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, হে আমীরুল মু’মিনীন! এ রেওয়াজ তো ইতিপূর্বে ছিলনা। উমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বললেন তাতো আমি জানি, কিন্তু এটা তো একটা উত্তম কাজ। এরপর হযরত উবাই ইবনে কা’ব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাদেরকে বিশ রাকা’ত পড়ালেন । [কানযুল উম্মাল-২৩৪৭১ ]
১৪) বায়হাক্বী সহীহ সনদে সায়িব বিন ইয়াযিদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেন-
كَانُوا يقومُونَ على عهد عمر، رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ، بِعشْرين رَكْعَة، وعَلى عهد عُثْمَان وَعلي، رَضِي الله تَعَالَى عَنْهُمَا، مثله
লোকেরা হযরত উমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর যামানায় বিশ রাক’আত তারাবীহ আদায় করত, তদ্রূপ হযরত উসমান যিন নূরাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ও হযরত আলী মার্তুজা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর যামানায় আদায় করা হত । [আইনী উমদাতুল ক্বারী শরহে সহীহ বুখারী, ৫:২৬৭,৭:১৭৮]
১৫) বায়হাক্বী আবুল হাসানা হতে বর্ণনা করেন-
أَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ ” أَمَرَ رَجُلًا أَنْ يُصَلِّيَ، بِالنَّاسِ خَمْسَ تَرْوِيحَاتٍ عِشْرِينَ رَكْعَةً
হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এক ব্যক্তিকে লোকদেরকে পাঁচ তারাবীহ তথা বিশ রাক’আত পড়াতে নির্দেশ দিলেন । [বায়হাক্বী আস সুনানুল কুবরা-৪২৯২, কানযুল উম্মাল-২৩৪৭৪]
১৬) আব্দুর রহমান সুলাইমী হতে বায়হাক্বী শরীফে বর্ণনা করা হয়েছে
دَعَا الْقُرَّاءَ فِي رَمَضَانَ فَأَمَرَ مِنْهُمْ رَجُلًا يُصَلِّي بِالنَّاسِ عِشْرِينَ رَكْعَةً قَالَ: وَكَانَ عَلِيٌّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ يُوتِرُ بِهِمْ
রমযান মাসে হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ক্বারীদের ডাকতেন অতপর তাদের মধ্য হতে একজনকে লোকদের ইমাম বানিয়ে বিশ রাক’আত তারাবীহ আদায়ের নির্দেশ দিতেন। বর্ণনাকারী আরও বলে, আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তারাবীহ’র পর বিতর পড়াতেন । [বায়হাক্বী আস সুনানুল কুবরা-৪২৯১]
১৭) শুতাইর বিন শেকাল যিনি হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর সাথী ছিলেন, বর্ণনা করেন-
أَنَّهُ كَانَ يُصَلِّي فِي رَمَضَانَ عِشْرِينَ رَكْعَةً وَالْوِتْرَ
নিশ্চই তিনি রমযান মাসে বিশ রাক’আত তারাবীহ ও বিতর পড়াতেন । [মুসান্নাফে আবী শায়বাহ-৭৬৮০, বায়হাক্বী আস সুনানুল কুবরা-৪৩৯৫]
১৮)আবু ইসহাক্ব রহমতুল্লাহি আলাইহি হারিস রহমতুল্লাহ আলাইহি হতে বর্ণনা করেন-
أَنَّهُ كَانَ يَؤُمُّ النَّاسَ فِي رَمَضَانَ بِاللَّيْلِ بِعِشْرِينَ رَكْعَةً، وَيُوتِرُ بِثَلَاثٍ، وَيَقْنُتُ قَبْلَ الرُّكُوعِ
তিনি রমযান শরীফ মাসে লোকদের ইমামতি করাতেন ও বিশ রাকায়াত তারাবীহ ও তিন রাকায়াত বিতর নামায পড়াতেন এবং রুকুর পূর্বে কুনুত পড়তেন । [মুসান্নাফে আবী শায়বাহ-৭৬৮৫]

তারাবীহ বিশ রাকাত মাসনুন হওয়ার ব্যাপারে শুধু মুহাজির ও আনসার নয়, সকল সাহাবীর ঐকমত্য রয়েছে।
মসজিদে নববীতে ১৪ হিজরী থেকেই হযরত উবাই ইবনে কাব রা.-এর ইমামতিতে প্রকাশ্যে বিশ রাকাত তারাবীহ পড়া হত। সেই সময়ের মুসল্লি ও মুক্তাদি কারা ছিলেন? বলাবাহুল্য, মুহাজির ও আনসারী সাহাবীগণই সেই মুবারক জামাতের মুসল্লি ও মুক্তাদি ছিলেন। শীর্ষস্থানীয় সাহাবায়ে কেরাম-যাদের নিকট থেকে অন্যান্য সাহাবী দ্বীন শিখতেন, যাঁরা কুরআনের শিক্ষা, হাদীস বর্ণনা ও ফিকহ-ফতওয়ার স্তম্ভ ছিলেন তাঁদের অধিকাংশই তখন মদীনায় ছিলেন। দু একজন যাঁরা মদীনার বাইরে ছিলেন তাঁরাও মক্কা-মদীনার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করতেন এবং খলীফায়ে রাশেদের কর্ম ও সিদ্ধান্ত সম্পর্কে ওয়াকিফহাল থাকতেন; তাঁদের একজনও কি বিশ রাকাত তারাবীহর বিষয়ে আপত্তি করেছেন? আপত্তি তো দূরের কথা, তাঁদের কর্মও তো অভিন্ন ছিল। খুলাফায়ে রাশেদীনের জীবদ্দশায়ও এবং তাঁদের ইন্তেকালের পরেও। বর্তমানে আমরা সেই ইজমা অস্বীকার করি কেমনে ? আমরা কুরুনে সালাসার ইলম,ইজতেহাদ সহ যাবতীয় মর্যাদাকে অস্বীকার করছি না ?
উমদাতুল কারী তে বলা হয়েছে-
قَالَ ابْن عبد الْبر: وروى الْحَارِث بن عبد الرَّحْمَن بن أبي ذُبَاب عَن السَّائِب بن يزِيد، قَالَ: كَانَ الْقيام على عهد عمر بِثَلَاث وَعشْرين رَكْعَة. قَالَ ابْن عبد الْبر: هَذَا مَحْمُول على أَن الثَّلَاث للوتر
ইবনে আব্দুল বার রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, হারিছ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আবু জুবার রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত সায়িব ইবনে ইয়াযীদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম উনার সময়তেইশ রাকায়াত তারাবীহ নামায পড়া হতো। হযরত আব্দুল বার রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, উহার তিন রাকায়াত বিতর নামায। [উমদাতুল কারী,১১:১২৭, ৫:৩৫৫]
قَالَ ابْن عبد الْبر: وَهُوَ قَول جُمْهُور الْعلمَاء، وَبِه قَالَ الْكُوفِيُّونَ وَالشَّافِعِيّ وَأكْثر الْفُقَهَاء، وَهُوَ الصَّحِيح عَن أبي بن كَعْب من غير خلاف من الصَّحَابَة
ইবনে আব্দুল বার রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, বিশ রাক’আত তারাবীহ জমহুরের অভিমত। এটাই কুফাবাসীগণ, ইমাম শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি ও অধিকাংশ ফকীহ বলেছেন। এবং এটাই সহীহ তথা বিশুদ্ধ যা উবাই ইবনে কা’ব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। এ ব্যাপারে সাহাবা কেরামের মধ্যে কোন মতানৈক্য নেই । [উমদাতুল কারী,১১:১২৭, ৫:৩৫৫, ইবনে আব্দুল বার,আল ইস্তিযকার, ২:৭০]

وَقَالَ الثَّوْرِيُّ وَأَبُو حَنِيفَةَ وَالشَّافِعِيُّ قِيَامُ رَمَضَانَ عِشْرُونَ رَكْعَةً سِوَى الْوِتْرِ
ইমাম সুফিয়ান সওরী, ইমাম আজম আবু হানীফা,ইমাম শাফেয়ী রঃ এর মতে রমযানের নামায তথা তারাবীহ বিতর ব্যতীত বিশ রাক’আত [ইবনে আব্দুল বার,আল ইস্তিযকার, ২:৭০]
ইমাম নববী রঃ বলেন-
আমার অনুসরন হচ্ছে তারাবীহ’র নামায বিতর ব্যতীত বিশ রাক’আত যা ইমাম আবু হানীফা তাঁর সাথীগণ,ইমাম আহমদ,দাউদ রঃ এর মতের অনুসারে। আর যা কাযী আয়ায রঃ উল্লেখ করেছেন ।
ইবনে তায়্যিমাহ বলেন-
فَإِنَّهُ قَدْ ثَبَتَ أَنَّ أبي بْنَ كَعْبٍ كَانَ يَقُومُ بِالنَّاسِ عِشْرِينَ رَكْعَةً فِي قِيَامِ رَمَضَانَ وَيُوتِرُ بِثَلَاثِ. فَرَأَى كَثِيرٌ مِنْ الْعُلَمَاءِ أَنَّ ذَلِكَ هُوَ السُّنَّةُ؛ لِأَنَّهُ أَقَامَهُ بَيْن الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ
এ বিষয়টি প্রমাণিত যে, উবাই ইবনে কাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু রমযানের তারাবীতে মুসল্লিদের নিয়ে বিশ রাকাত পড়তেন এবং তিন রাকাত বিতর পড়তেন। আর এ ব্যাপারে অসংখ্য উলামা কেরাম মওত দিয়েছেন যে, নিশ্চই এটা সুন্নাত। কেননা তা মুহাজির ও আনসার সাহাবীদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত । [মাজমাউল ফাতাওয়া, ২৩:১১২]
বিশ রাকাত তারাবীহ সম্পর্কে তিনি আরো বলেন- لِمَا ثَبَتَ مِنْ سُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ وَعَمَلِ الْمُسْلِمِينَ
খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহ এবং মুসলিম জাতির সম্মিলিত কর্ম দ্বারা এটি প্রমাণিত । [মাজমাউল ফাতাওয়া, ২৩:১১৩]
আল্লামা মোল্লা আলী কারী রঃ বলেন, أَجْمَعَ الصَّحَابَةُ عَلَى أَنَّ التَّرَاوِيحَ عِشْرُونَ رَكْعَةً
বিশ রাক’আত তারাবীহ’র ব্যাপারে সাহাবা কেরামের ঐক্যমত্য রয়েছে । [মিরকাত শরহে মিশকাত, ৩:৯৭৩]
আট রাকা’ত তারাবীহ’র দলীল ও জবাব-
এক নং দলিল ‎

عن أبي سلمة بن عبد الرحمن أنه أخبره : أنه سأل عائشة رضي الله عنها كيف كانت صلاة رسول الله صلى الله عليه و سلم ‏في رمضان ؟ فقالت ما كان رسول الله صلى الله عليه و سلم يزيد في رمضان ولا في غيره على إحدى عشرة ركعة يصلي أربعا ‏فلا تسل عن حسنهن وطولهن ثم يصلي أربعا فلا تسل عن حسنهن وطولهن ثم يصلي ثلاثا . قالت عائشة فقلت يارسول الله ‏أتنام قبل أن توتر ؟ . فقال يا عائشة إن عيني تنامان ولا ينام قلبي‎ ‎‏ (صحيح البخارى- أبواب التهجد، باب قيام النبي صلى ‏الله عليه و سلم بالليل في رمضان وغيره1/154) ‏
হযরত আবু সালমা বিন আব্দুর রহমান থেকে বর্ণিত তিনি আয়েশা রাঃ এর কাছে জানতে চান নবীজী সাঃ এর নামায কেমন ‎হত রামাযান মাসে? তিনি বললেন-রাসূল সাঃ রামাযান ও রামাযান ছাড়া ১১ রাকাত থেকে বাড়াতেন না। তিনি ৪ রাকাত ‎পড়তেন তুমি এর সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জানতে চেওনা। তারপর পড়তেন ৪ রাকাত তুমি এর সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা বিষয়ে ‎জানতে চেওনা, তারপর পড়তেন ৩ রাকাত। হযরত আয়েশা রাঃ বলেন-তখন আমি বললাম-হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি ‎বিতর পড়ার পূর্বে শুয়ে যান? তিনি বললেন-হে আয়েশা! নিশ্চয় আমার দু’চোখ ঘুমায় আমার কলব ঘুমায়না। (সহীহ বুখারী-‎১/১৫৪)‎

জবাব
১. এই হাদিসে ইযতিরাব তথা অস্পষ্টতা ও পরস্পর বিরোধিতা থাকায় এ দিয়ে দলিল দেয়া ঠিক নয়। আল্লামা কুরতুবী রহঃ ‎বলেন-আমি আয়েশা রাঃ এর এই বর্ণনাটি অনেক আহলে ইলমদের কাছে জিজ্ঞাসা করেছি অনেকেই এতে অস্পষ্টতা ও ‎পরস্পর বিরোধিতা আছে বলে মত প্রকাশ করেছেন। (ফাতহুল বারী শরুহুল বুখারী-৩/১৭)‎

২. খোদ হযরত আয়েশা রাঃ থেকে ১৩ রাকাত তারাবীহের কথা সহীহ সনদে বর্ণিত আছে। সুতরাং হাফেজ ইবনে হাজার ‎আসকালানী অস্পষ্টতা ও পরস্পর বিরোধিতা দূর করতে এই পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন-“সঠিক কথা হল এ ব্যাপারে আমি যা ‎উল্লেখ করেছি এগুলো সব ভিন্ন সময় ও ভিন্ন পরিস্থিতির উপর নির্ভরশীল” অর্থাৎ নবীজী একেক সময় একেক রাকাত নামায ‎পড়েছেন তারাবীহের ক্ষেত্রে।(ফাতহুল বারী-৩/১৭)‎

এর মাধ্যমে কথিত আহলে হাদিসদের “৮ রাকাতের মাঝেই তারাবীহ নামায সীমাবদ্ধ এরচে’ বেশী তারাবীহ নামায নেই” এই ‎দাবিটি বাতিল হয়ে যাচ্ছে। খোদ আহলে হাদিসদের আলেম মাওলানা আব্দুর রহমান মুবারকপুরী বলেন-নিশ্চয় একথা ‎প্রমাণিত যে রাসূল সাঃ ১৩ রাকাত তারাবীহ পড়েছেন ফজরের দু’রাকাত সুন্নত ছাড়াই।(তুহফাতুল আহওয়াজী-২/৩)‎

৩. এই হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হল নবীজী সাঃ এক সালামে ৪, ৪ রাকাত করে তারাবীহ আর শেষে এক সালামে ৩ রাকাত বিতর ‎পড়েছেন, অথচ কথিত আহলে হাদিসদের আমল এর বিপরীত। তারা তারাবীহ দুই দুই রাকাত করে পড়েন। আর বিতর এক ‎রাকাত বা তিন রাকাত দুই সালামে পড়েন। সুতরাং যেই হাদিস দলিলদাতাদের কাছে আমলহীন এর দ্বারা দলিল দেয়া যায়?‎

৪. আসল কথা হল এই যে, এই হাদিসটি তাহাজ্জুদ নামাযের সাথে সংশ্লিষ্ট। এতে তারাবীহের কথা বর্ণিত নয়। নিম্নে এ ‎ব্যাপারে কিছু প্রমাণ উপস্থাপন করা হল।

“হাদিসে মূলত তাহাজ্জুদের বর্ণনা এসেছে” একথার দলিল
১. হাদিসের শব্দ ‎ما كان رسول الله صلى الله عليه و سلم يزيد في رمضان ولا في غيره‎ (নবীজী সাঃ রামাযান ও রামাযান ছাড়া অন্য ‎সময় বাড়াননা) এটাই বুঝাচ্ছে যে, প্রশ্নটি করা হয়েছিল রামাযান ছাড়া অন্য সময়ে যে নামায নবীজী পড়তেন তা রামযানে ‎বাড়িয়ে দিতেন কিনা? এই প্রশ্নটি এজন্য করা হয়েছে যেহেতো বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে রাসূল সাঃ রামাযানে আগের তুলনায় ‎অনেক নামায পড়তেন ও ইবাদত করতেন, তাই এই প্রশ্নটি করাটা ছিল স্বাভাবিক। আর রামযান ছাড়া কি তারাবীহ আছে? যে ‎রামাযানের আগেই তারাবীহ আর বিতর মিলিয়ে ১৩ রাকাত নবীজী পড়তেন? নাকি ওটা তাহাজ্জুদ? তাহাজ্জুদ হওয়াটাই কি ‎সঙ্গত নয়? সুতরাং এটাই স্পষ্ট বুঝা যায় তারাবীহ নয় প্রশ্ন করা হয়েছে তাহাজ্জুদ নিয়ে যে, নবীজী তাহাজ্জুদের নামায ‎রামাযান ছাড়া যে ক’রাকাত পড়তেন তা থেকে রামাযানে বাড়িয়ে পড়তেন কিনা? এর জবাবে আয়েশা রাঃ বললেন-১৩ ‎রাকাত থেকে বাড়াতেননা তাহাজ্জুদ নামায।

২. এই হাদিসের শেষাংশে এই শব্দ আছে যে ‎قالت عائشة فقلت يارسول الله أتنام قبل أن توتر ؟‎ (তারপর আয়েশা রাঃ বললেন-‎হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি বিতর পড়ার আগে ঘুমান?) এই বিষয়টি তারাবীহ এর ক্ষেত্রে কল্পনাতীত যে নবীজী সাঃ ‎তারাবীহ নামায পড়ে ঘুমিয়ে পড়েন আর সাহাবীরা বিতর পড়ার জন্য নবীর জন্য অপেক্ষমাণ থাকেন। বরং এটি তাহাজ্জুদ এর ‎ক্ষেত্রে হওয়াটাই যুক্তিসঙ্গত নয়কি?‎

৩. মুহাদ্দিসীনে কিরাম এই হাদিসকে তারাবীহ এর অধ্যায়ে উল্লেখ করেননি। বরং তাহাজ্জুদ অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন। ইমাম ‎মুহাম্মদ বিন নসর মারওয়াজী তার কিতাব “কিয়ামুল লাইল” এর ‎‏ “عدد الركعات التى يقوم بها الامام للناس فى رمضان”‏‎(রামযানে ‎ইমাম কত রাকাত তারাবীহ পড়বে) অধ্যায়ে অনেক হাদিস আনলেও আয়েশা রাঃ থেকে বর্ণিত এই হাদিসটি সহীহ হওয়া ‎সত্বেও তিনি আনেননি। সাথে এদিকে কোন ইশারাও করেননি।

৪. মুহাদ্দিসীনে কিরাম এই হাদিসকে তারাবীহ এর রাকাত সংখ্যার অধ্যায়ের পরিবর্তে তাহাজ্জুদের অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন। ‎যেমন ইমাম বুখারী রহঃ তার প্রণিত বুখারী শরীফে এই হাদিসটি নিম্ন বর্ণিত অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন-‎

‎(ক) বিতর অধ্যায়-(১/১৩৫)‎
‎(খ) নবীজী সাঃ এর রাতে (নামাযের উদ্দেশ্যে) দান্ডয়মানতা রামযানে ও রামযান ছাড়া-(১/১৫৪)‎
‎(গ) রামযানে (নামাযের উদ্দেশ্যে) দান্ডয়মানতার ফযীলত অধ্যায়-(১/২৬৯)‎
‎(ঘ) নবীজী সাঃ এর দু’চোখ ঘুমায় মন ঘুমায়না-(১/৫০৩)‎
প্রথম অধ্যায়ে বিতরের রাকাত সংখ্যা আর দ্বিতীয় অধ্যায়ে তাহাজ্জুদ রামাযানে বেশি পড়তেন কিনা তা জানা আর তৃতীয় ‎অধ্যায়ে রামাযানে বেশি বেশি নামাযের ফযীলত আর চতুর্থ অধ্যায়ে নবীজী ঘুমালে যে তার অযু ভাঙ্গেনা তার কারণ বর্ণনা জন্য ‎হাদিস আনা হয়েছে। তারাবীহের রাকাত সংখ্যা বুঝানোর জন্য কোথায় এসেছে এই হাদিস???‎

৫. আল্লামা হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী এই হাদিসের ব্যাক্ষায় বলেন-আর আমার কাছে এটি প্রকাশিত হয়েছে যে, ১১ ‎রাকাতের থেকে না বাড়ানোর রহস্য এটি যে, নিশ্চয় তাহাজ্জুদ ও বিতরের নামায রাতের নামাযের সাথে খাস। আর দিনের ‎ফরয যোহর ৪ রাকাত আর আসর সেটাও ৪ রাকাত আর মাগরীব হল ৩ রাকাত যা দিনের বিতর। সুতরাং সাযুজ্যতা হল-‎রাতের নামায দিনের নামাযরের মতই সংখ্যার দিক থেকে সংক্ষিপ্ত ও বিস্তারিতভাবে। আর ১৩ রাকাতের ক্ষেত্রে সাযুজ্যতা ‎হল-ফযরের নামায মিলানোর মাধ্যমে কেননা এটি দিনের নামাযই তার পরবর্তী নামাযের জন্য।(ফাতহুল বারী শরহুল বুখারী-‎৩/১৭)‎

ইবনে হাজার রহঃ এর এই রহস্য বা হিকমত বর্ণনা কি বলছেনা এই হাদিস দ্বারা তাহাজ্জুদ উদ্দেশ্য তারাবীহ নামায নয়? এই ‎বক্তব্যে তাহাজ্জুদের কথা স্পষ্টই উল্লেখ করলেন ইবনে হাজার রহঃ।
তাহাজ্জুদ ও তারাবীহের মাঝে পার্থক্য

কথিত আহলে হাদিসরা বলেন “তাহাজ্জুদ আর তারাবীহ একই” তাদের এই দাবিটি নিম্নবর্ণিত কারণে ভুল-
১. তাহাজ্জুদের মাঝে ডাকাডাকি জায়েজ নয় তারাবীহতে জায়েজ।
২. তারাবীহের সময় ঘুমানোর আগে তাহাজ্জুদের সময় নির্ধারিত নয় তবে উত্তম ঘুমের পর।
৩. মুহাদ্দিসীনে কিরাম তাহাজ্জুদ ও তারাবীহের অধ্যায় ভিন্ন ভিন্ন লিখেছেন। ‎
৪. তাহাজ্জুদ নামাযের হুকুম কুরআন দ্বারা প্রমাণিত যথা সূরা ইসারার ৭৯ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ‎‏ وَمِنَ اللَّيْلِ فَتَهَجَّدْ بِهِ ‏نَافِلَةً لَّكَ عَسَى أَن يَبْعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامًا مَّحْمُودًا‎ অর্থাৎ আর রাতে তাহাজ্জুদ পড় এটি তোমার জন্য নফল, অচিরেই তোমাকে ‎তোমার রব প্রশংসিত স্থানে অধিষ্ঠিত করবেন।

আর তারাবীহের ব্যাপারে আল্লাহর নবী বলেন-নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা রামযানের রোযা তোমাদের উপর ফরয করেছেন আর ‎আমি তোমাদের উপর এতে কিয়াম করাকে সুন্নত করেছি (সুনানে নাসায়ী-১/৩০৮)‎
সুতরাং বুঝা গেল তাহাজ্জুদ আল্লাহর আয়াত আর তারাবীহ নবীজীর বক্তব্য দ্বারা প্রমাণিত।

৫. তাহাজ্জুদের হুকুম মক্কায় হয়েছে আর তারাবীহের হুকুম মদীনায় হয়েছে।
৬. ইমাম আহমাদ রহঃ ও তারাবীহ তাহাজ্জুদ আলাদা বিশ্বাস করতেন(মাকনা’-১৮৪)‎
৭. ইমাম বুখারী রহঃ এর ক্ষেত্রে বর্ণিত তিনি রাতের প্রথমাংশে তার সাগরীদদের নিয়ে তারাবীহ পড়তেন আর শেষ রাতে ‎একাকি তাহাজ্জুদ পড়তেন। (ইমাম বুখারী রহঃ এর জীবনী)‎
৮. তাহাজ্জুদ এর নির্দিষ্ট রাকাত সংখ্যা রাসূল সাঃ থেকে প্রমাণিত অর্থাৎ বিতরসহ বেশি থেকে বেশি ১৩ রাকাত আর কমপক্ষে ‎৭ রাকাত। আর তারাবীহ এর রাকাত সংখ্যার ক্ষেত্রে খোদ আহলে হাদিস ইমামদের স্বাক্ষ্য যে এর কোন নির্দিষ্ট সংখ্যা নবীজী ‎সাঃ থেকে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত নয়।

২ নং দলিল ‎

عن جابر بن عبد الله قال : صلى بنا رسول الله صلى الله عليه و سلم في رمضان ثمان ركعات والوتر فلما كان من القابلة اجتمعنا في ‏المسجد ورجونا أن يخرج إلينا فلم نزل في المسجد حتى أصبحنا فدخلنا على رسول الله صلى الله عليه و سلم فقلنا له : يا رسول الله ‏رجونا أن تخرج إلينا فتصل بنا فقال : كرهت أن يكتب عليكم الوتر (قيام الليل-90) ‏
হযরত জাবের রাঃ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন-রাসূল সাঃ আমাদের সাথে রামযানে ৮ রাকাত নামায ও বিতর নামায পড়লেন, ‎তারপর যখন পরদিন হল আমরা মসজিদে একত্রিত হলাম এবং আকাংখা করলাম নবীজী সাঃ আমাদের কাছে আসবেন। ‎আমরা মসজিদে অবস্থান করতে লাগলাম। প্রভাত হয়ে গেল। তখন আমরা গেলাম নবীজী সাঃ এর কাছে। তাকে বললাম-হে ‎আল্লাহর রাসূল! আমরা আকাংখী ছিলাম আপনি আমাদের কাছে যাবেন এবং আমাদের নিয়ে নামায পড়বেন, তখন তিনি ‎বললেন-আমি এটি পছন্দ করছিলামনা যে, তোমাদের উপর বিতর ফরয হয়ে যাক।(কিয়ামুল লাইল-৯০)‎
জবাব
এই হাদিসটি নিয়ে কথিত আহলে হাদিসরা সবচে’ বেশি খুশি হতে দেখা যায়। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হল এই হাদিসটি দুর্বল। ‎শুধু একজন নয় এই হাদিসের তিনজন রাবীর ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসীনে কিরাম বলেছেন তারা গ্রহণযোগ্য নয়। দেখুন মুহাদ্দিসীনে ‎কিরাম কি বলে এই হাদিসের বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে।
ইবনে হুমাইদ রাজী

১. হাফেজ জাহাবী রহঃ বলেন-তিনি দুর্বল
২. ইয়াকুব বিন শি’বা রহঃ বলেন-তিনি অনেক অগ্রহণীয় হাদিস বর্ণনা করেন।
৩. ইমাম বুখারী রহঃ বলেন-এতে আপত্তি আছে।
৪. আবু জুরআ রহঃ বলেন-তিনি মিথ্যাবাদী।
৫. ইসহাক কু’সজ রহঃ বলেন-আমি স্বাক্ষ্য দিচ্ছি তিনি মিথ্যাবাদী।
৬. সালেহ জাযরাহ রহঃ বলেন-প্রত্যেক বিষয়ে সে হাদিস বর্ণনা করে। আল্লাহর উপর অধিক অপবাদ আরোপকারী আমি তাকে ‎ছাড়া কাউকে দেখিনি। সে লোকদের হাদিস পরিবর্তন করে ফেলে।
৭. আল্লামা ইবনে খারাশ রহঃ বলেন-আল্লাহর কসম সে মিথ্যাবাদী
৮. ইমাম নাসায়ী রহঃ বলেন-সে গ্রহণযোগ্য নয়। (মিযানুল ই’তিদাল-৩/৪৯-৫০)‎
ইয়াকুব বিন আব্দুল্লাহ আশআরী
# ইমাম দারা কুতনী রহঃ বলেন-সে শক্তিশালী নয় (মিযানুল ই’তিদাল-৩/৩২৪)‎
ঈসা বিন জারিয়া

১. আল্লামা ইয়াহইয়া বিন মায়ীন রহঃ বলেন-তার কাছে অগ্রহণীয় হাদিস আছে।
২. ইমাম নাসায়ী বলেন-তার হাদিস অগ্রহণীয়।
৩. ইমাম নাসায়ী বলেন-তার হাদিস পরিত্যাজ্য।
৪. আবু দাউদ রহঃ বলেন-তার হাদিস অগ্রহণীয়।
৫. আল্লামা জাহাবী বলেন-তিনি দুর্বলদের মাঝে শামীল (মিযানুল ই’তিদাল-২/৩১১)‎

এছাড়া এ হাদিসটি “বুলুগুল মারাম” কিতাবে হযরত জাবের রাঃ থেকেই বর্ণিত কিন্তু সেখানে রাকাত সংখ্যার কথা উল্লেখ নেই। ‎দেখুন বুলুগুল মারাম-৪২-৪৩

এছাড়াও এ হাদিসে আরেকটি সমস্যা আছে, তাহল-এই হাদিসে বিতর ফরয হবার আশংকার কথা বলা হয়েছে অথচ অন্য ‎সহীহ হাদিসে তারাবীহ ফরয হয়ে যাবার আশংকা উল্লেখে করা হয়েছে। (মিযানুল ই’তিদাল-২/৪২-৪৩)‎

প্রিয় পাঠক/পাঠিকাদের হাতেই ছেড়ে দিলাম এই হাদিস দিয়ে হুকুম প্রমাণিত করার ভার। এরকম দুর্বল হাদিস দিয়ে এরকম ‎মতবিরোধপূর্ণ বিষয় কি প্রমাণিত হয়? ‎

৩ নং দলিল

و حدثني عن مالك عن محمد بن يوسف عن السائب بن يزيد أنه قال‎ ‎أمر عمر بن الخطاب أبي بن كعب وتميما الداري‎ ‎أن يقوما ‏للناس بإحدى عشرة ركعة‎ ‎‏( موطأ مالك-98)‏
মুহাম্মদ বিন ইউসুফ সায়েব বিন ইয়াজীদ রহঃ থেকে বর্ণনা করেন যে, নিশ্চয় ওমর রাঃ ওবাই বিন কাব রাঃ ও তামীমে দারী ‎রাঃ কে মানুষের সাথে ১১ রাকাত নামায পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন।(মুয়াত্তা মালিক-৯৮)‎

জবাব

এই হাদিস দিয়েও দলিল দেয়া ঠিক নয়। কারণ-‎

১. হাদিসটির শব্দে পরস্পর বিরোধীতা রয়েছে। যেমন এই হাদিসের সূত্রের একজন বর্ণনাকারী মুহাম্মদ বিন ইউসুফ তার ‎সাগরীদ ৫ জন। তার মধ্যে ৩জন ১১ রাকাত আর ১জন ১৩ রাকাত ও ১জন ২১ রাকাতের বর্ণনা নকল করেন। এছাড়া যারা ‎১১রাকাতের কথা বর্ণনা তাদের বর্ণনার শব্দেও রয়েছে বিস্তর ফারাক। যথা-‎
‎ ক. ইমাম মালিক এনেছেন ওমর রাঃ ওবাই বিন কাব রাঃ ও তামীমে দারী রাঃ কে মানুষের সাথ ১১ রাকাত নামায পড়ার ‎নির্দেশ দিয়েছেন। ‎
খ. হযরত ইয়াহইয়া আল কাত্তান বর্ণনা করেন-ওমর রাঃ ওবাই বিন কাব ও তামিমে দারী এর কাছে লোকদের একত্র করেন ‎আর তারা দু’জন ১১ রাকাত নামায পড়াতেন। ‎
গ. আব্দুল আজীজ বিন মুহাম্মদ রহঃ এর বর্ণনায় এসেছে-আমরা হযরত ওমর রাঃ এর আমলে ১১ রাকাত নামায পড়তাম।
বর্ণনাকারীর বর্ণনার ঠিক নেই, সাথে সাথে যারা এক কথা বলেছেন তাদের বক্তব্যটিও পরস্পর বিরোধী এমন বর্ণনা ‎পরিত্যাজ্য। (ইলাউস সুনান-৭/৪৮)‎

২. এই বর্ণনাটি হযরত ওমর রাঃ থেকে আরেকটি সহীহ ও শক্তিশালী বর্ণনার বিপরিত। হযরত ওমর রাঃ থেকে ২০ রাকাত ‎তারাবীহের কথা ইমাম মালিক রাহঃ তার মুয়াত্তার ৪০ নং পৃষ্ঠায় ও হাফেজ ইবনে হাজার ফাতহুল বারীর ৪ নং খন্ডের ২১৯ নং ‎পৃষ্ঠায় বর্ণনা করেন। সুতরাং বুঝা গেল এই বর্ণনাটি আমলযোগ্য নয়।
৩. ইমাম মালিক রাহঃ নিজেই এই বর্ণনাটি আমলযোগ্য মনে করেননি, তাই তিনি নিজে ৮ রাকাতের কথা বলেননা।
৪. যদি হযরত ওমর রাঃ থেকে ১১ রাকাতের বর্ণনাটি সহীহ হত তাহলে পরবর্তীতে হযরত উসমান রাঃ ও আলী রাঃ থেকে ‎এরকম বর্ণনা ও আমল প্রমাণিত হত, অথচ তাদের থেকে এরকম বর্ণনা প্রমাণিত নয়।

৫. এটাও হতে পারে যে, প্রথমে হযরত ওমর রাঃ এর কাছে নবীজী থেকে ৮ রাকাতের বর্ণনা এসেছিল কিন্তু পরবর্তীতে ২০ ‎রাকাতের বর্ণনাটি পৌঁছলে তিনি ৮ রাকাতের বর্ণনাটি পরিত্যাগ করেন।
এই সকল কারণে এই হাদিসটি আমলযোগ্য হিসেবে বাকি থাকেনা।
আহলে হাদিস ইমামদের বক্তব্য তারাবীহের রাকাত সংখ্যার ব্যাপারে

১. শায়েখ ইবনে তাইমিয়া রহঃ বলেন-আর যারা ধারণা করে যে, নিশ্চয় রামযানের দন্ডায়মানতার নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রমাণিত ‎আছে নবীজী সাঃ থেকে যার উপর বাড়ানো কমানো যাবেনা সে ভুলের মাঝে আছে।(ফাতওয়া ইবনে তাইমিয়া-২/৪০১)‎
২. আল্লামা ইবনে সুবকী রহঃ বলেন-জেনে রাখ! নিশ্চয় রাসূল সাঃ কি বিশ রাকাত তারাবীহ পড়েছেন না তার চে’ কম ‎পড়েছেন তা তার থেকে বর্ণিত নেই (শরহুল মিনহাজ)‎
৩. আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ুতী রহঃ বলেন-নিশ্চয় ওলামায়ে কিরাম মতান্যৈক্য করেছেন এর সংখ্যার ক্ষেত্রে, যদি তা নবীজী ‎সাঃ থেকে প্রমাণিত বিষয় হত তাহলে তাতে মতবিরোধ হতনা।(আল মিসবাহ-৭৪)‎
৪. মাওলানা ওয়াহীদুজ্জামান বলেন-তারাবীহ নামাযের নির্দিষ্ট রাকাত নেই।( নাজলুল আবরার-১/১২৬)‎
৫. আবুল খায়ের নুরুল হাসান খাঁ বলেন-মোটকথা হল নির্দিষ্ট সংখ্যা নবী থেকে প্রমাণিত নয়।( আল উরফুল জাদি-৮৪)‎
৬. নওয়াব সিদ্দীক হাসান খান বলেন-নিশ্চয় তারাবীহ নামায সুন্নত মৌলিকভাবে। যেহেতো নবীজী সাঃ তা রাতে পড়তেন ‎তার পর তা ছেড়ে দিয়েছেন উম্মতের প্রতি দরদে যেন তা ফরয না হয়ে যায়, আর এর কোন নির্দিষ্ট রাকাতের কথা সহীহ ‎হাদিসে নেই, কিন্তু নবীজী সাঃ এর একথা জানা যায় যে, তিনি রামাযানে এত ইবাদত করতেন যা অন্য সময়ে ‎করতেননা।(আল ইনতিকাদুর রাজী’-৬১)‎

প্রতি দিন বিশ রাকাত নামায অত্যাবশ্যক-সতের রাকাত ফরয ও তিন রাকাত বিতর, যথা- ফজরে দু’রাকাত, যুহরে চার রাকাত, আসরে চার রাকাত, মাগরিবে তিন রাকাত এবং ইশায় চার রাকাত ফরয ও তিন রাকাত বিতর। পবিত্র রমযান মাস এ বিশ রাকাতের পরিপূর্ণতার জন্য আরও বিশ রাকাত তারাবীহের নামায নিয়ে এসেছে।[আল বাহরুর রায়িক ২:৬৭] লা মযহাবীরা সম্ভবতঃ পাঁচ ওয়াক্তিয়া নামাযেও আট রাকাত পড়ে থাকেন নতুবা আট রাকাতের সাথে ঐ বিশ রাকাতের কি সামঞ্জস্য থাকতে পারে?

বিশ রাকাত তারাবীহর ব্যাপারে মুহাজির ও আনসারের ঐকমত্য, সাহাবায়ে কেরামের ইজমা এবং খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নতের মূলে রয়েছে তারাবীহ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোনো ফরমান-যা মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ব্যাপক ও অবিচ্ছিন্নভাবে আজ পর্যন্ত বিদ্যমান রয়েছে। একেই সুন্নতে মুতাওয়ারা বলে-যা হাদীস ও সুন্নাহর একটি উন্নত প্রকার এবং যার অনুসরণ করার আদেশ মুমিনদেরকে করা হয়েছে।
লাইলাতুল কদরের মাসঃ আল্লাহ রাববুল আলামীনের পক্ষ হতে মুসলিম উম্মাহর জন্য আরেকটি বিশেষ দান হল এক হাজার রাত অপেক্ষা উত্তম লাইলাতুল কদর। এই রাত এত মর্যাদাশীল ও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ যে, এক হাজার রাত ইবাদত করলে যে সওয়াব হতে পারে, এই এক রাতের ইবাদতে তার চেয়েও বেশি সওয়াব পাওয়া যায়।
আল্লাহ তাআলা এ রাত সম্পর্কে ইরশাদ করেছেন-
لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ تَنَزَّلُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِمْ مِنْ كُلِّ أَمْرٍ سَلَامٌ هِيَ حَتَّى مَطْلَعِ الْفَجْرِ
(তরজমা) লাইলাতুল কদর এক হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। এ রাতে ফেরেশতাগণ ও রূহ (জিব্রীল আলাইহিস সালাম) তাদের পালনকর্তার আদেশক্রমে প্রত্যেক কল্যাণময় বস্ত্ত নিয়ে পৃথিবীতে অবতরন করেন। যে রাত পুরোটাই শান্তি, যা ফযর হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।-সূরা কদর : ৩-৫
হাজার মাসের চেয়ে উত্তম এই মাস, সহজেই বুঝা যায় যে, এ রাতের প্রতিটি নফল ইবাদতের হাজার গুন প্রতিদান রয়েছে। এই রাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হওয়া চরম দুর্ভাগ্যের বিষয়।
হযরত আনাস ইবনে মালেক রাদ্বিয়াল্লাহু বর্ণনা করেন-
دخل رمضان، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم : إن هذا الشهر قد حضركم، وفيه ليلة خير من ألف شهر، من حرمها فقد حرم الخير كله، ولا يحرم خيرها إلا محروم.
রমযান মাসের আগমন ঘটলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের উদ্দেশে বললেন, তোমাদের নিকট এই মাস সমাগত হয়েছে, তাতে এমন একটি রাত রয়েছে, যা এক হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। যে ব্যক্তি এ রাতের কল্যান থেকে বঞ্চিত হল, সে প্রকৃতপক্ষে সকল কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত। একমাত্র (সর্বহারা) দুর্ভাগাই এ রাতের কল্যান থেকে বঞ্চিত হয়।-[সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস-১৬৪৪]
উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত-
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «تَحَرَّوْا لَيْلَةَ القَدْرِ فِي الوِتْرِ، مِنَ العَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমরা রমযানের শেষ দশকের বেজোড় রাত্রিগুলোতে শবে কদর তালাশ কর। [সহীহ বুখারী-২০১৭/১৯১৩, সহীহ মুসলিম-১১৬৯, ]
তাই প্রত্যেক মুসলমানের উচিত, ইবাদত-বন্দেগী, যিকির-আযকার, তাসবীহ-তাহলীল ও অন্যান্য নেক আমলের মাধ্যমে এ রাতের খায়ের-বরকত লাভে সচেষ্ট থাকা।

ই’তিকাফের মাসঃ রমযানুল মুবারকের আরেকটি মর্যাদাপূর্ণ আমল হচ্ছে শেষ দশদিনে মসজিদে ই’তিকাফ। পুরুষরা মসজিদে এবং স্ত্রীলোকেরা আপন ঘরে একটি স্থান ঘিরে নিয়ে তথায় এতেকাফ করবে। অন্তত একজনকে ই’তিকাফ আদায় করতে হবে সক্লে বরজন করলে গুনাহগার হবে। হাদীস শরীফে ইরশাদ হচ্ছে-উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে
كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعْتَكِفُ الْعَشْرَ الْأَوَاخِرَ مِنْ رَمَضَانَ
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান মাসের শেষ দশকে ই’তিকাফ করতেন। [সহীহ মুসলিম-১১৭২, মুসনাদে আহ্মদ-২৬৩৮০]
উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে আরও বর্ণিত-
أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، كَانَ يَعْتَكِفُ العَشْرَ الأَوَاخِرَ مِنْ رَمَضَانَ حَتَّى تَوَفَّاهُ اللَّهُ، ثُمَّ اعْتَكَفَ أَزْوَاجُهُ مِنْ بَعْدِهِ
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানের শেষ দশকে এতেকাফ করতেন, যাবৎ না আল্লাহ তাকে উঠিয়ে নিয়েছেন এবং তাঁর পর তাঁর পবিত্র স্ত্রীগণও এতেকাফ করেছেন। [সহীহ আল বুখারী-২০২৬/১৯৯২, সহীহ মুসলিম-১১৭২, সুনানে আবু দাউদ-২৪৬২, মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক-৭৬৮২, মুসনাদে আহমদ-২৪৬১৩,২৫৩৫৫ ]
হযরত হোসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
مَنِ اعْتَكَفَ عَشْرًا فِي رَمَضَانَ حَجَّتَيْنِ وَعُمْرَتَيْنِ
যে রমযান মাসে শেষ দশ দিনে ই’তিকাফ করল, সে যেন দুইটি হজ্জ্ব ও দুইটি উমরা আদায় করল । [বায়হাক্বী শো’আবুল ঈমান-৩৬৮১, তাবরানী আল মু’জামুল কবীর-২৮৮৮]
ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ই’তিকাফকারী সম্পর্কে ইরশাদ করেন- هُوَ يَعْكِفُ الذُّنُوبَ، وَيُجْرَى لَهُ مِنَ الْحَسَنَاتِ كَعَامِلِ الْحَسَنَاتِ كُلِّهَا
ই’তিকাফকারী যে গুনাহসমুহ হতে বিরত থাকে (বাইরে থেকে) যারা নেক কাজ করে এবং এর দ্বারা যে পরিমাণ সাওয়াব পাবে যেন সে নেক কাজ গুলো করেছ । [সুনানে ইবনে মাজাহ-১৭৮১]

মাহে রমযনের ফাযায়েল এত যে, বর্ণনা করে শেষ করা সম্ভব নয়। এই ফযীলত পূর্ণ মাস যে হেলায় হারায় তাঁর চেয়ে দুর্ভাগা আর কেউ নেই। আল্লাহ্‌ আমাদের এই মহান মাস রহমত, মাগফেরাত নাজাতের মাস রমযানের সকল বরকত নসীব করুন। বিহুরমাতি সায়্যিদিল মুরসালীন।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

  1. বাব্বাহং বিশাাাাাল পোস্ট………. Broken Heart

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে