মিনহা খালাকনাকুম … আয়াতটির আলোকে মানুষের সৃষ্টিমূল উৎস মাটি হওয়ার প্রমাণ, ওহাবী সালাফীদের এই পোষ্টের খন্ডনমুলক জবাব:-


ওহাবী সালাফীদের লিংক:- www.markajomar.com/?p=963

 

ওহাবী সালাফীদের প্রশ্ন:-(১.)মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক সুষ্টির মুল উপাদান মাটি।নাউযুবিল্লাহ।

(২)পবিত্র কুরআন শরীফ উনার সূরা ত্বহার ৫৫ নং আয়াত শরীফ ও ফকীহুল উম্মত হয়রত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত হাদিস শরীফ উনার মাধ্যমে দিয়ে প্রমাণিত হয় যে, মহান আল্লাহপাক উনার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মদিনা শরীফ উনার মাটি মুবারক দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে, তাই বিছাল শরীফ গ্রহনের পর মহান আল্লাহপাক উনার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেখানেই সমধিস্হ হয়েছেন।নাউযুবিল্লাহ।

(৩)মাটির সৃষ্টি হয়রত আদম আলাইহিস সালাম উনার সন্তান হওযার কারনে মহান আল্লাহপাক উনার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ও মাটির সৃষ্টি।নাউযুবিল্লাহ।

(৪)মাটির সৃষ্টি হওয়ার কারনে মহান আল্লাহপাক উনার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ঘর-সঙসার, খাওযা-দাওয়া, প্রকৃতির ডাকে সাড়া, মানবীয় কারনে ভুলে যাওয়া এবং নানা কারনে কান্নাকাটি করেছেন। নাউযুবিল্লাহ।


প্রশ্ন:-মহান আল্লাহপাক উনার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক সুষ্টির মুল উপাদান মাটি। নাউযুবিল্লাহ।

জবাবে বলতে হচ্ছে মহান আল্লাহপাক উনার হাবিব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নুরে মুজাসসাম, হাবিবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সৃষ্টির মূল উপাদান হল সম্মানিত নুর মুবারক।সুবহানাল্লাহ।কারন যখন মহান আল্লাহপাক উনার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু পাক তিনি সুষ্টি মুবারক হয়েছেন,তখন মাটি ও পানির কোন অসিত্বই ছিল না।এ প্রসঙে

হাদিস শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- كنت نبيّا ولا ماء ولا طينঅর্থ মুবারক :-আমি তখনও নবী ছিলাম, যখন পানিও ছিল না, মাটিও ছিল না। সুবহানাল্লাহ।(মিরকাত শরীফ,খন্ড১১/৫৮)! এবং মাটি সহ সমস্ত কিছুই পয়ায়এুমে সে সম্মানিত নুর মুবারক থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে।সুবহানাল্লাহ।

এ প্রসঙে হাদিস শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হযেছে – اوّل ما خلق الله نورى وخلق كلّ شىّء من نّورىঅর্থ মুবারক : মহান আল্লাহ পাক সর্বপ্রথম আমার নূর মুবারক সৃষ্টি করেন এবং আমার নূর মুবারক থেকে সবকিছু সৃষ্টি করেন।” (তাফসীরে নিসাপুরী, মাকতূবাত শরীফ, নূরে মুহাম্মদী, ইনসানে কামিল, হাক্বীক্বতে মুহাম্মদী)

এছাড়াও মহান আল্লাহপাক উনার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে সৃষ্টিগতভাবে নুরের সৃষ্টি বলে উল্লেখ করা হয়েছ।সুবহানাল্লাহ। যে সম্মানিত হাদিস শরীফখানা এই উপমহাদেশের মশহুর ওলীআল্লাহ,হাদীয়ে বাগ্ঙাল,সুলতানুল ওয়াজেীন,আল্লামা হয়রত কারামত আলী্ জৌনপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার লিখিত বিখ্যাত নুরে মুহাম্মদী কিতাব উনার ৪৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে- عن حضرة على رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم قلت يا ربى مم خلقتنى قال الله تعالى يا محمد صلى الله عليه وسلم نظرت الى صفاء بياض نورى الذى خلقته بفدرتى وابدعته بحكمى واَضفته تشريفا الى عظمتى فستخرجت منه جزا فقسمته ثلاثة اقسام فخلقتك واهل بيتك من -القسم الاوّل وخلقت ……ازواجك واصحابك من القسم الثانى وخلقت من احبّك من القسم الثال অর্থ মুবারক: হযরত আলী কারামাল্লাহ ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্নিত, মহান আল্লাহ পাক উনর হাবীব হুজুর পাক ছল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি বলেন হে আমার রব! আমাকে কি দ্বারা সৃষ্টি মুবারক করেছেন? তখন জবাবে মহান আল্লাহ পাক উনি বললেন, “হে আমার হাবীব ছল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম!” আমি আমার,(সৃষ্টিকৃত) সাদা নুর মুবারক ( যা নুরে মুজাসসাম হাবীবি ছল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) উনার সচ্চতা নির্মলতার প্রতি লক্ষ্য করলাম যে নুর মুবারককে আমি আমার কুদরতের দ্বারা আমার হুকুমেই প্রথমেই সৃষ্টি মুবারক করে রেখে ছিলাম আমি সম্মান প্রকাশার্থে উক্ত নুর মুবারককে মিন নু..রী আমার নুর মুবারক বলে সম্বোধন করি।সুবহানাল্লাহ।

অত:পর উত্ত নুর মুবারক থেকে একটি অংশ বের করে নিলাম অর্থ্যৎ “নুরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম” উনাকে তিন ভাগে ভাগ করলাম। প্রথম ভাগ দ্বারা আপনাকে অর্থ্যৎ আপনার মহাসম্মানিত আকৃতি মুবারক ও আপনার আহলে বাইতকে সৃষ্টি করি, দ্বিতীয় ভাগ দ্বারা আপনার আজওয়াজ মুবারক বা উম্মুহাতুল মু‘মিনীন ও হযরত সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে সৃষ্টি করি, তৃতীয় ভাগ দ্বারা যারা আপনার প্রতি মুহববত রাখেন,তাদেরকে সৃষ্টি মুবারক করেছি…. ৤সুবহানাল্লাহ।

অতএব প্রমাণিত হল যে, মহান আল্লাহপাক উনার হাবিব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নুরে মুজাসসাম, হাবিবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সৃষ্টির মূল উপাদান সম্মানিত নুর মুবারক। সুবহানাল্লাহ। আর মাটি সহ সমস্ত কিছু পর্যায়ক্রমে সে সম্মানিত নুর মুবারক থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে।সুবহানাল্লাহ৤্

প্রশ্ন:-পবিত্র কুরআন শরীফ উনার সূরা ত্বহার আয়াত শরীফ নং ৫৫ ও ফকীহুল উম্মত হয়রত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত হাদিস শরীফ উনার মাধ্যমে দিয়ে প্রমাণিত হয় যে, মহান আল্লাহপাক উনার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মদিনা শরীফ উনার মাটি মুবারক দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে, তাই বিছাল শরীফ গ্রহনের পর মহান আল্লাহপাক উনার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেখানেই সমধিস্হ হয়েছেন।

জবাবে বলতে হচ্ছে সুরা ত্বহার ৫৫ নং আয়াত শরীফ দ্বারা কখনও প্রমাণিত হয় না যে, মহান আল্লাহপাক উনার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মাটি মুবারক দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে কারন পবিএ কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ১৪খানা মাটির আয়াত শরীফ বনিত রয়েছে, যে আয়াত শরীফ উনাদের তাফসীরে, চার মাযহাবে গ্রহনযোগ্য একজন মুফাসসীর ও বলেন নিই যে, সাধারন কোন মানুষকে মাটি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে, একমাএ সাইয়্যিদুনা আদম আলাইহিস সালাম তিনি ব্যাতিত। আর সাইয়্যিদুনা আদম আলাইহিস সালাম উনার আওলাদ সাধারন মানূষরা নুতফা, থেকে মায়ের রেহেমে কুদরতীভাবে সুষ্টি হয়। তাহলে মহান মহান আল্লাহপাক উনার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সৃষ্টি মুবারক যে কতটা কুদরতময় তা জ্বীন-ইনসানের চিন্তা চেতনার লক্ষ্য কোটিগুন উদ্বে। অতএব মহান আল্লাহপাক উনার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মাটি মুবারক দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে এই কথা বলা তাহলে কিভাবে শরীয়ত সম্মত হতে পারে। কারন উসুলের প্রায় সমস্ত কিতাবে বণিত রয়েছে, তাফসীর না জেনে পবিএ কুরআন শরীফ উনার সরাসরি অর্থ করা হারাম।নাঅুযুবিল্লাহ। আর ফকীহুল উম্মত হয়রত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত হাদিস শরীফ খানার ব্যাখ্যা বিশ্লেষন রয়েছে।

তবে সে ব্যাখ্যা বিশ্লেষন দেওয়ার আগে আমরা পবিএ কুরআন শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত ১৪খানা মাটির আয়াত শরীফ থেকে তিন খানা পবিএ আযাত শরীফ উনার তাফসীর বিশ্বখ্যাত ও সবজনমান্য মুফাসসীরের কিতাব থেকে হাওলা এনে প্রমাণ করে দিব, একমাএ সাইয়্যিদুনা আদম আলাইহিস সালাম তিনি সরাসরি মাটি মুবারক থেকে সৃষ্টি আর উনার আওলাদ বা আমরা সাধারন মানুষরা নুতফা, রক্ত, গোস্ত কয়েকটি স্তরে কুদরতীভাবে তেরী। আর নুরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আপাদমস্তক নুর মুবারক হওয়ার কারনে মদিনা শরীফ উনার সম্মানিত সে মাটি মুবারককে নুর করে মহান আল্লাহপাক উনার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে সঙযোজন মুবারক করা হয়েছে।সুবহানাল্লাহ।

এখন পবিএ কুরআন শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত মাটির ১৪ খানা আযাত শরীফ হল:-إِنَّ مَثَلَ عِيسَىٰ عِندَ اللَّـهِ كَمَثَلِ آدَمَ ۖ خَلَقَهُ مِن تُرَابٍ ثُمَّ قَالَ لَهُ كُن فَيَكُونُ ﴿٥٩﴾ ٰ নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট হয়রত ঈসা আলাইহিস সালাম উনার দৃষ্টান্ত মুবারক হয়রত আদম আলাইহিস সালাম উনার ন্যায়,তিনি উনাকে(হয়রত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে)মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন।অতপর বলেছেন, হয়ে যাও,সংগে সংগে হয়ে গেলেন।(সুরায়ে আল ইমরান শরীফ,পবিএ আয়াত শরীফ নং-৫৯)

(২)قَالَ لَهُ صَاحِبُهُ وَهُوَ يُحَاوِرُهُ أَكَفَرْتَ بِالَّذِي خَلَقَكَ مِن تُرَابٍ ثُمَّ مِن نُّطْفَةٍ ثُمَّ سَوَّاكَ رَجُلًا ﴿٣٧﴾ উনার সঈী উনাকে কথা প্র বললো,তুমি তাকে অস্বীকার করছো যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে,অতপর বীর্য থেকে অতপর পৃনাঈ করেছেন তোমাকে মানবাকৃতিতে। (সুরায়ে কাহাফ শরীফ,পবিএ আয়াত শরীফ নং-৩৭)

(৩)يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِن كُنتُمْ فِي رَيْبٍ مِّنَ الْبَعْثِ فَإِنَّا خَلَقْنَاكُم مِّن تُرَابٍ ثُمَّ مِن نُّطْفَةٍ ثُمَّ مِنْ عَلَقَةٍ ثُمَّ مِن مُّضْغَةٍ مُّخَلَّقَةٍ وَغَيْرِ مُخَلَّقَةٍ لِّنُبَيِّنَ لَكُمْ ۚ وَنُقِرُّ فِي الْأَرْحَامِ مَا نَشَاءُ إِلَىٰ أَجَلٍ مُّسَمًّى ثُمَّ نُخْرِجُكُمْ طِفْلًا ثُمَّ لِتَبْلُغُوا أَشُدَّكُمْ ۖ وَمِنكُم مَّن يُتَوَفَّىٰ وَمِنكُم مَّن يُرَدُّ إِلَىٰ أَرْذَلِ الْعُمُرِ لِكَيْلَا يَعْلَمَ مِن بَعْدِ عِلْمٍ شَيْئًا ۚ وَتَرَى الْأَرْضَ هَامِدَةً فَإِذَا أَنزَلْنَا عَلَيْهَا الْمَاءَ اهْتَزَّتْ وَرَبَتْ وَأَنبَتَتْ مِن كُلِّ زَوْجٍ بَهِيجٍ ﴿٥﴾ (হে লোক সকল,যদি তোমরা পুনরুত্থানের ব্যাপারে সন্দীহান হও, তবে (ভেবে দেখ)আমি তোমাদেরকে মাটি থেকে,সৃষ্টি করেছি। অত:পর বীর্য থেকে, এরপর জমাট রক্ত থেকে, এরপর পূনাকৃতি বিশিষ্ট ও অপূনাকৃতি বিশিষ্ট গোস্ত পিন্ড থেকে। তোমাদের কাছে ব্যাক্ত করার জন্যে।(সুরায়ে হজ্জ শরীফ,পবিএ আয়াত শরীফ নং-৫)

(৪)وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَكُم مِّن تُرَابٍ ثُمَّ إِذَا أَنتُم بَشَرٌ تَنتَشِرُونَ ﴿٢٠﴾ তার নির্দশনাবলীর মধ্যে এক নিদর্শন এই যে, তিনি মাটি থেকে তোমাদের সৃষ্টি করেছেন। এখন তোমরা মানুষ পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছো।(সুরায়ে রুম শরীফ,পবিএ আয়াত শরীফ নং-২০)

(৫)وَاللَّـهُ خَلَقَكُم مِّن تُرَابٍ ثُمَّ مِن نُّطْفَةٍ ثُمَّ جَعَلَكُمْ أَزْوَاجًا ۚ وَمَا تَحْمِلُ مِنْ أُنثَىٰ وَلَا تَضَعُ إِلَّا بِعِلْمِهِ ۚ وَمَا يُعَمَّرُ مِن مُّعَمَّرٍ وَلَا يُنقَصُ مِنْ عُمُرِهِ إِلَّا فِي كِتَابٍ ۚ إِنَّ ذَٰلِكَ عَلَى اللَّـهِ يَسِيرٌ ﴿١١﴾ মহান আল্লাহ পাক তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, অতপর বীর্য থেকে, তারপর তোমাদেরকে করেছেন যুগল।(সুরায়ে ফাতির শরীফ,পবিএ আয়াত শরীফ নং-১১)

(৬)مُسْتَكْبِرِينَ بِهِ سَامِرًا تَهْجُرُونَ ﴿٦٧﴾ أَ এ মহান আল্লাহ পাক যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, অতপর নুতফা(বীর্য)থেকে,অতপর জমাট রত্ত থেকে,অতপর তোমাদেরকে বের করেন শিশুরুপে।(সুরায়ে মুমিন শরীফ,পবিএ আয়াত শরীফ নং-৬৭)

(৭)هُوَ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن طِينٍ ثُمَّ قَضَىٰ أَجَلًا ۖ وَأَجَلٌ مُّسَمًّى عِندَهُ ۖ ثُمَّ أَنتُمْ تَمْتَرُونَ ﴿٢﴾ সেই মহান আল্লাহ পাক যিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন,অতপর নিদিষ্টকাল নির্ধারন করেছেন।আর এক নিদিষ্টকাল মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে রযেছে,তথাপি তোমরা সন্দেহ কর।(সুরায়ে আনয়াম শরীফ,পবিএ আয়াত শরীফ নং-২)

(৮)وَلَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنسَانَ مِن سُلَالَةٍ مِّن طِينٍ ﴿١٢﴾ নিসন্দেহে আমি মানুষকে মাটির সারাংশ থেকে সৃষ্টি করেছি।(সুরায়ে মুমিনুন শরীফ,পবিএ আয়াত শরীফ নং-১২)

(৯)الَّذِي أَحْسَنَ كُلَّ شَيْءٍ خَلَقَهُ ۖ وَبَدَأَ خَلْقَ الْإِنسَانِ مِن طِينٍ ﴿٧﴾ যিনি তার প্রত্যেকটি সৃষ্টিকে সুন্দর করেছেন এবং কাদামাটি থেকে মানব সৃষ্টির সূচনা করেছেন।(সুরায়ে সিজদাহ শরীফ,পবিএ আয়াত শরীফ নং-৭)

(১০)الَّذِي أَحْسَنَ كُلَّ شَيْءٍ خَلَقَهُ ۖ وَبَدَأَ خَلْقَ الْإِنسَانِ مِن طِينٍ ﴿٧﴾ নিসন্দেহে আমি তাদেরকে সৃষ্টি করেছি এটেল মাটি থেকে।(সুরায়ে সাফফাত শরীফ,পবিএ আয়াত শরীফ নং-১১)

(১১)إِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَائِكَةِ إِنِّي خَالِقٌ بَشَرًا مِّن طِينٍ ﴿٧١﴾ যখন আপনার পালনকর্তা হয়রত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে বললেন,আমি মাটির মানুষ সৃষ্টি করবো।থেকে।(সুরায়ে ছোয়াদ শরীফ,পবিএ আয়াত শরীফ নং-৭১)

(১২)وَلَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنسَانَ مِن صَلْصَالٍ مِّنْ حَمَإٍ مَّسْنُونٍ ﴿٢٦﴾ আমি মানুষকে পচা কাদা থেকে তেরী শুকনো ঠন ঠনে মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছি।(সুরায়ে হিজর শরীফ,পবিএ আয়াত শরীফ নং-২৬)

(১৩)خَلَقَ الْإِنسَانَ مِن صَلْصَالٍ كَالْفَخَّارِ ﴿١٤﴾ তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন পোড়া মাটির ন্যায় শুকনো মাটি দ্বারা।(সুরায়ে আর রহমান শরীফ,পবিএ আয়াত শরীফ নং-১৪)

(১৪)مِنْهَا خَلَقْنَاكُمْ وَفِيهَا نُعِيدُكُمْ وَمِنْهَا نُخْرِجُكُمْ تَارَةً أُخْرَىٰ ﴿٥٥﴾ মাটি থেকে তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি।উহাতেই তোমাদেরকে ফিরাবো এবং উহা থেকে পুনরায় উঠাবো।(সুরায়ে ত্ব হা শরীফ,পবিএ আয়াত শরীফ ৫৫)

এখন মাটির চৌদ্দ খানা আয়াত শরীফ থেকে পবিএ তিন খানা আয়াত শরীফ উনার তাফসীর উল্লেখ করা হল:-(৩)يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِن كُنتُمْ فِي رَيْبٍ مِّنَ الْبَعْثِ فَإِنَّا خَلَقْنَاكُم مِّن تُرَابٍ ثُمَّ مِن نُّطْفَةٍ ثُمَّ مِنْ عَلَقَةٍ ثُمَّ مِن مُّضْغَةٍ مُّخَلَّقَةٍ وَغَيْرِ مُخَلَّقَةٍ لِّنُبَيِّنَ لَكُمْ ۚ وَنُقِرُّ فِي الْأَرْحَامِ مَا نَشَاءُ إِلَىٰ أَجَلٍ مُّسَمًّى ثُمَّ نُخْرِجُكُمْ طِفْلًا ثُمَّ لِتَبْلُغُوا أَشُدَّكُمْ ۖ وَمِنكُم مَّن يُتَوَفَّىٰ وَمِنكُم مَّن يُرَدُّ إِلَىٰ أَرْذَلِ الْعُمُرِ لِكَيْلَا يَعْلَمَ مِن بَعْدِ عِلْمٍ شَيْئًا ۚ وَتَرَى الْأَرْضَ هَامِدَةً فَإِذَا أَنزَلْنَا عَلَيْهَا الْمَاءَ اهْتَزَّتْ وَرَبَتْ وَأَنبَتَتْ مِن كُلِّ زَوْجٍ بَهِيجٍ ﴿٥﴾ অর্থ মুবারক:- (হে লোক সকল,যদি তোমরা পুনরুত্থানের ব্যাপারে সন্দীহান হও, তবে (ভেবে দেখ)আমি তোমাদেরকে মাটি থেকে,সৃষ্টি করেছি। অত:পর বীর্য থেকে, এরপর জমাট রক্ত থেকে, এরপর পূনাকৃতি বিশিষ্ট ও অপূনাকৃতি বিশিষ্ট গোস্ত পিন্ড থেকে। তোমাদের কাছে ব্যাক্ত করার জন্যে।(সুরায়ে হজ্জ শরীফ,পবিএ আয়াত শরীফ নং-৫)

এই আয়াত শরীফ উনার তাফসীরে আল্লামা আলাউদ্দিন আলী ইবনে মুহম্মদ ইবনে ইবরাহীম রহমতুল্রাহি আলাইহি “তাফসীরে খাযেন”-এর ৩য় জি:, ২৮১পৃষ্টায় উল্লেখ করেন- ( فانّا خلقنكم مّن تراب)يعنى اياكم الذى هوا اصل البشر (ثمّ من نطفة) يعنى ذريته من المنىঅর্থ মুবারক:-“(আমি তোমাদের মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি) অর্থ্যাৎ তোমাদের পিতা হযরত আদম আলাইহিস সালাম কে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি।যিনি মানব জাতির মূল।(অত:পর নুতফা থেকে ) অর্থ্যৎ হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার সন্তানদেরকে বীর্য থেকে সৃষ্টি করেছ্।”

আল্লামা হুসাইন ইবনে মাসউদ আল ফাররা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার “তাফসীরে বাগবী” এর ৩য় জি: ২৮১ পৃষ্টায় উল্লেখ করেন-( فانّا خلقنكم) اى اياكم(مّن تراب ثمّ)خلقتم (من نطفة ثمّ من علقة) اى قطعة دم جامدة(ثمّ من مّضغة) اى لحمة صغيرة فدر مايمضع- অর্থ মুবারক:-“আমি তোমাদেরকে অর্থ্যৎ তোমাদের পিতাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি।অত:পা তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি নুতফা ও ছোট গোস্তপিন্ড থেকে।”

(১২)وَلَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنسَانَ مِن صَلْصَالٍ مِّنْ حَمَإٍ مَّسْنُونٍ ﴿٢٦﴾ আমি মানুষকে পচাঁ কাদা থেকে তেরী শুকনো ঠন ঠনে মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছি।(সুরায়ে হিজর শরীফ,পবিএ আয়াত শরীফ নং-২৬)

এই আয়াত শরীফ উনার তাফসীরে, আল্লামা ইমাম কুরতবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার “তাফসীরে কুরতবী”-এর ৫ম জি:,২১ পৃষ্টায় উল্লেখ করেন- ولقد خلقنا الانسان) اى ادم عليه السلام(من صلصال)طين يابس-অর্থ মুবারক:- “(নি:সন্দেহে আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি) অর্থ্যৎ হযরত আদম আলাইহিস সালাম কে সৃষ্টি করেছি শুকনো মাটি থেকে। হয়রত ইবনে আব্বাছ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও অন্যান্য মুফাসসীর থেকে এরুপ ব্যাখ্যাই বর্ণিত রয়েছে।”

আল্লামা আবুল লাইছ সামারকান্দি রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার “তাফসীরে সামারকান্দি”-এর ২য় জি:,২১৮ পৃষ্টায় উল্লেখ করেছেন- (ولقد خلقنا الانسان من صلصل منّ حما مّسنون) اى ادم عليه السلام অর্থ মুবারক:- “নি:সন্দেহে আমি ইনসান অর্থ্যৎ হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে ঠনঠনে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি।”

প্রশ্নে উল্লেখিত, আয়াত শরীফ খানা-(১৪)مِنْهَا خَلَقْنَاكُمْ وَفِيهَا نُعِيدُكُمْ وَمِنْهَا نُخْرِجُكُمْ تَارَةً أُخْرَىٰ ﴿٥٥﴾ মাটি থেকে তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি।উহাতেই তোমাদেরকে ফিরাবো এবং উহা থেকে পুনরায় উঠাবো।(সুরায়ে ত্ব হা শরীফ,পবিএ আয়াত শরীফ ৫৫)-

এই আয়াত শরীফ উনার তাফসীরে, আল্লামা ইসমাঈল হাক্কী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার “তাফসীরে রুহুল বয়ান”-এর ৫ম জি:,৩৯৬ পৃষ্টায় উল্লেখ করেছেন-منها) اى من الارض (خلقناكم) بواسطة اصلكم ادم والافمن عدا ادام وحواء مخلوق من النطفة)(উহা থেকে) অর্থ্যৎ যমিন থেকে (তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি)তোমাদের মূল হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি করার মাধ্যমে।আর হয়রত আদম আলাইহিস সালাম ও হয়রত হাওযা আলাইহাস সালাম ব্যতিত সকলেই ‘নুতফা’ থেকে সৃষ্টি।”

আল্লামা আলাউদ্দিন আলী ইবনে মুহম্মদ ইবনে ইবরাহীম রহমতুল্রাহি আলাইহি “তাফসীরে খাযেন”-এর ৩য় জি:, ২৪০ পৃষ্টায় উল্লেখ করেন (منها خلقنكم ) اى من الارض خلقنكم ادم عليه السلام -অর্থ মুবারক:-“(তোমাদেরকে উহা থেকে) অর্থ্যৎ জমিন থেকে হয়রত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি করেছি।”

আল্লামা হুসাইন ইবনে মাসউদ আল ফাররা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার “তাফসীরে বাগবী” এর ৩য় জি:, ২৪০ পৃষ্টায় উল্লেখ করেন-(منها)من الارض (خلقناكم)اى اياكم ادم عليه السلامঅর্থ মুবারক:-“(উহা থেকে) অর্থ্যৎ জমিন থেকে (তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি) অর্থ্যৎ তোমাদের পিতা হয়রত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি করেছি।”

আল্লামা আবুল লাইছ সামারকান্দি রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার “তাফসীরে সামারকান্দি”-এর ২য় জি:,৩৪৬ পৃষ্টায় উল্লেখ করেছেন-(منها خلقنكم)يعنى ادم خلقناه من الارض (فيها نعيدكم) اى بعد موتكم (ومنها نخرجكم) يعنى نعيدكم ونخرجكم من الارض (تارة اخرى) অর্থ মুবারক:- “(উহা থেকে থেকে তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি) অর্থ্যৎ আমি হয়রত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি। (সেখানেই প্রত্যাবর্তন করবে) মৃত্যুর পর (সেখান থেকে তোমাদের পুনরায় উঠাব, অর্থ্যৎ জীবিত করা হবে।”

আল্লামা ইমাম কুরতবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার “তাফসীরে কুরতবী”-এর ৬ষ্ট জি:, ২১০ পৃষ্টায় উল্লেখ করেন-(منها خلقنكم)يعنى ادم عليه السلام لايه خلق من الارض قاله ابو اسحاق الزجاج وغيره অর্থ মুবারক:- “(উহা থেকে থেকে তোমাদেরকে) অর্থ্যৎ আমি হয়রত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি। কেননা হয়রত আদম আলাইহিস সালাম তিনি মাটি থেকে সৃষ্ট।”

তাজুল মুফাসসিরীন আল্লামা আবুল ফজল শিহাবুদ্দিন সাইয়্যিদ মাহমুদ আলুসী বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিখ্যাত তাফসীর গ্রন্হ “তাফসীরে রুহুল মায়ানী”-এর ৮ম জি:,২৭৬ পৃষ্টায়্ উল্লেখ করেছেন- (منها) اى الارض (خلقناكم)اى فى ضمن خلق ابيكم ادم عليه السلام منهاঅর্থ মুবারক:- “(উহা থেকে) অর্থ্যৎ (তোমাদেরকে)অর্থ্যৎ তোমাদের পিতা হয়রত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি করার মাধ্যমে তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি।”

উপরোক্ত দলিল ভিত্তিক আলোচনার মাধ্যম দিয়ে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হল যে, একমাএ সাইয়্যিদুনা হয়রত আদম আলাইহিস সালাম তিনি সরাসরি মাঠি মুবারক দ্বারা সৃষ্টি। আর আমরা সাধারন মানূষ কয়েকটি স্তরে কুদরতীভাবে সৃষ্টি হয়। এটাই হল বিশ্বখ্যাত ও অনুসরনীয় মুফাসসিরগনের সর্বসম্মত অভিমত। অর্থ্যৎ “পবিএ কুরআন শরীফ উনার মধ্যে যে সকল আয়াত শরীফ-এ “মানুষ” মাটির তৈরী বলা হয়েছে” সে সকল আয়াত শরীফে “মানুষ” দ্বারা উদ্দেশ্য হল “হয়রত আদম আলাইহিস সালাম।”এটাই হল বিশ্বখ্যাত ও অনুসরনীয় সমস্ত মুফাসসিরগনের সর্বসম্মত অভিমত।

এছাড়াও ফকীহুল উম্মত হয়রত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত হাদিস শরীফ উনার মধ্যে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত রয়েছে যে মহান আল্লাহপাক উনার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মাটি মুবারক দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে।সম্মানিত হাদিস শরীফ খানা হল-
عن عبد الله بن مسعود رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ما من مولود الا وفى سرته من تربته التى خلق منها حتى يدفن فيها وانا وابو بكر وعمر خلقنا من تربة واحدة وفيها ندفن.
অর্থঃ- “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। আখেরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্ নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, প্রত্যেক সন্তানের নাভীতে মাটির একটি অংশ রাখা হয়, যেখানকার মাটি তার নাভীতে রাখা হয়েছিল মৃত্যুর পর সে ঐ স্থানেই সমাধিস্থ হবে। আমি, হযরত আবূ বকর সিদ্দিক আলাইহিস ও হযরত উমর ফারুক আলাইহিস একই মাটি মুবারক থেকে সৃষ্টি হয়েছি এবং একই স্থানে সমাধিস্থ হবো। (মাযহারী, আল মুত্তাফিক ওয়াল মুফতারিক)।
উপরে বর্ণিত হাদীছ শরীফের ব্যাখ্যায় বলা হয়, মাতৃগর্ভে সন্তানের বয়স যখন চার মাস হয়, তখন নিয়োজিত ফেরেশতা উক্ত সন্তানের হায়াত-মউত ও মৃত্যুস্থান সম্পর্কে মহান আল্লাহ্ পাক-এর নিকট জিজ্ঞাসা করেন, তখন আল্লাহ্ পাক লওহে মাহফুজ দেখে নিতে বলেন। নিয়োজিত ফেরেশতা লওহে মাহফুজ দেখে যেখানে তার কবর হবে সেখান থেকে সামান্য মাটি এনে সন্তানের নাভীতে দিয়ে দেন। এটা মূলতঃ প্রতিটি মানুষের “কবরের স্থান” নির্ধারণের জন্যে দেয়া হয়। দেহ সৃষ্টির জন্য নয়। নিম্নে এর কতিপয় প্রমাণ পেশ করা হলো।

যেমন, আল্লামা জালালুদ্দীন সূয়ুতী রহমতুল্লাহি আলাইহি “শরহুছ্ ছুদুর” নামক কিতাবে উল্লেখ করেন, হাদীস শরীফে রয়েছে,
اخرج ابو نعيم عن ابى هريرة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ما من مولود الا وقد ذر عليه من تراب حفرته.
অর্থঃ- “হযরত ইমাম আবূ নঈম রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণনা করেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্ নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘এমন কোন সন্তান নেই যার উপর তার কবরের মাটি ছিটিয়ে দেয়া হয়না।”

আল্লামা শা’রানী রহমতুল্লাহি আলাইহি “তায্কেরায়ে কুরতুবী” কিতাবে উল্লেখ করেন,
روى الديلمى مرفوعا كل مولود ينشر على سرته من تراب حفرته فاذا مات رد الى تربته.
অর্থঃ- “ইমাম দায়লামী হতে মরফু’ হিসেবে বর্ণিত। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্ নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, প্রতিটি সন্তানের নাভীর উপর (মাতৃগর্ভে) তার কবরের মাটি ছিটিয়ে দেয়া হয় এবং মৃত্যুর পর তাকে উক্ত মাটিতেই ফিরিয়ে নেয়া হয়।”

হযরত আবূ আব্দুল্লাহ্ মুহম্মদ ইবনে আহমদ আল আনছারী আল কুরতুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার “তাফসীরে কুরতুবী-এর ৩য় খণ্ড ৩৮৭ পৃষ্ঠায় লিখেন,
عن ابن مسعود ان الملك الموكل بالرحم يأخذ النطفة فيضعها على كفه ثم يقول يارب مخلقة او غير مخلقة؟ فان قال مخلقة قال يارب ما الرزق ما الاثر ما الاجل؟ فيقول انظر فى ام الكتاب فينظر فى اللوح المحفوظ فيجد فيه رزقه وأثره واجله وعمله ويأخذ التراب الذى يدفن فى بقعته ويعجن به نطفته.
অর্থঃ- “হযরত আবূ নঈম হাফিজ মুররা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, নিশ্চয়ই রেহেম অর্থাৎ গর্ভের জন্য নির্ধারিত ফেরেশতা (মাতৃগর্ভে) নুত্ফা বা মনিকে নিজ হাতের তালুতে রাখেন। অতঃপর বলেন, হে প্রতিপালক! এই মনি দ্বারা সন্তান সৃষ্টি হবে কি হবেনা?’ যখন আল্লাহ্ পাক বলেন, ‘ইহা দ্বারা সন্তান সৃষ্টি হবে। তখন ফেরেশ্তা বলেন- তার রিযিকের ব্যবস্থা, মৃত্যুর আলামত কি ও মৃত্যু কোথায় হবে? প্রশ্নের উত্তরে আল্লাহ্ পাক বলেন, লওহে মাহ্ফুজে দেখে নাও। ফেরেশ্তা লাওহে মাহ্ফুজ দেখে সেখানে তার রিযিক, মৃত্যুর আলামত, মৃত্যুর স্থান ও আমল সম্পর্কে জেনে নেন। অতঃপর যেখানে তাকে দাফন করা হবে সেখান থেকে একটু মাটি নিয়ে তা নুত্ফা বা মনির সঙ্গে মিশিয়ে দেন।”

এখানে একটি বিষয় লক্ষণীয় তা হলো, এক হাদীছ শরীফে যদিও বলা হয়েছে যে, কবরের মাটি নাভীমূলে রেখে দেয়া হয়, কিন্তু অন্য হাদীছ শরীফে বলা হয়েছে, নুতফার সাথে মিশিয়ে দেয়া হয়। অর্থাৎ সন্তানের বয়স যখন মাতৃগর্ভে চার মাস হয় তথা সন্তানের দেহ বা আকার-আকৃতি যখন সৃষ্টি হয়ে যায়, তখন রূহ ফুঁকে দেয়ার সময় ফেরেশতা তার কবরস্থান থেকে মাটি এনে নাভীমূলে রেখে দেন। এতে বুঝা গেল যে, উক্ত মাটি মূলতঃ দেহ সৃষ্টির জন্যে নয় বরং কবরস্থান নির্ধারণের জন্যে। যদি দেহ সৃষ্টির জন্যই হতো তবে দেহ সৃষ্টির পরে উক্ত মাটি নাভীতে রাখা হলো কেন? উক্ত মাটি রাখার পূর্বেই তো দেহ সৃষ্টি হয়ে গেছে তাই এখন রূহ ফুঁকে দেয়া হবে।

সুতরাং বলার আর অপেক্ষাই রাখেনা যে, কবরের মাটি নাভীমূলে রেখে দেয়া হোক বা নুতফার সাথে মিশিয়ে দেয়া হোক তা দেহ সৃষ্টির জন্য নয় বরং কবরের স্থান নির্ধারণের জন্য।
আর নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালামগণের রওজা শরীফ চিহ্নিত করার জন্য নির্দিষ্ট স্থান থেকে মাটি যা তার হাক্বীক্বী ছূরতে এনে নূর বানিয়ে নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালামগণের (নুত্ফার সঙ্গে মিশ্রিত করা হয়না বরং তা) নাভী মুবারকের উপর রাখা হয়। এর মেছালস্বরূপ বলা হয়, হযরত আদম আলাইহিস্ সালাম এবং হযরত ঈসা আলাইহিস্ সালাম যারা বিনা নুত্ফাতে কুদরতীভাবে সৃষ্টি হয়েছেন। এছাড়াও হযরত হাওয়া আলাইহাস্ সালামও বিনা নুত্ফায় কুদরতীভাবে সৃষ্টি হয়েছেন।
আর আখিরী রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সৃষ্টি মুবারক তাঁদের চাইতেও অনেক বেশী রহস্যময় ও কুদরতের অন্তর্ভূক্ত।

এছাড়াও আল্লাহ্ পাক-এর কিছু খাছ বান্দা বা বান্দী রয়েছেন যাদের কবরস্থান চিহ্নিত করার জন্য তাঁদেরও নাভীমূলে মাটি রাখা হয়েছে। আর আওয়ামুন্ নাস বা সাধারণ লোকদের কবরস্থান চিহ্নিত করার জন্য তাদের নির্দিষ্ট স্থান থেকে মাটি এনে নুত্ফার সাথে মিশ্রিত করা হয়।
কাজেই “হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত ওমর ফারুক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং আমি (হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একই স্থানের মাটি দ্বারা সৃষ্টি” এ কথার অর্থ হলো “তাঁদের তিনজনের নাভী মুবারকে একই স্থানের মাটি রাখা হয়েছে, তাই তারা একই স্থানে শায়িত রয়েছেন।”

শুধু তাই নয়, হযরত ঈসা আলাইহিস্ সালামও সেই একই স্থানে শায়িত হবেন। তাই রওজা শরীফের পাশে হযরত ঈসা আলাইহিস্ সালামের জন্যে জায়গা খালি রাখা হয়েছে। আর “মাকতুবাত শরীফে” হযরত মুজাদ্দিদে আলফেছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন,“আমিও রওজা শরীফের মাটি দ্বারা সৃষ্ট। অর্থাৎ আমার নাভী মূলেও রওজা শরীফের মাটি রাখা হয়েছে। তবে উনার মাযার শরীফ সেরহিন্দ শরীফে হওয়ার কারণ হলো হযরত নূহ আলাইহিস্ সালাম-এর বন্যার সময় রওজা শরীফের কিছু মাটি সেরহিন্দ শরীফে আসে। তাই উনার মাযার শরীফ সেরহিন্দ শরীফেই হয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রতিটি সন্তানের কবরের স্থান নির্ধারণের জন্যে যেরূপ তাদের কবরের স্থান থেকে মাটি এনে নাভীতে দিয়ে দেয়া হয় ঠিক; তদ্রুপ আখেরী রসূল, সাইয়্যিদূল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর “রওজা শরীফ” নির্ধারণের জন্যেও উনার নাভী মুবারকে রওজা শরীফের যে নূরানী ও পবিত্র মাটি মুবারক রাখা হয়েছে প্রকৃতপক্ষে তা বেহেশতের পানি দ্বারা ধৌত করে এবং তার হাক্বীক্বী ছূরত অর্থাৎ নূরে পরিণত করে রাখা হয়েছে। তাই হাদীস শরীফেও রওজা শরীফের উক্ত মাটি মুবারককে “নূর” বলা হয়েছে।

যেমন এ প্রসঙ্গে হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে,
عن كعب الاحبار قال لما اراد الله تعالى ان يخلق محمدا صلى الله عليه وسلم امر جبريل ان ياتيه بالطينة التى هى قلب الارض وبهائها ونورها قال فهبط جبريل فى ملائكة الفردوس وملائكة الرفيع الاعلى فقبض قبضة رسول الله صلى الله عليه وسلم من موضع فبره الشريف وهى بيضاء منيرة فعجنت بماء التسنيم فى معين انهار الجنة حتى صارت كالدرة البيضاء …..
অর্থঃ- “হযরত কা’ব আহবার রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, যখন মহান আল্লাহ্ পাক আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সৃষ্টি করার ইচ্ছা করলেন, তখন হযরত জিবরীল আলাইহিস সালামকে (উনার নাভী মুবারকে রাখার জন্য) এমন খামীর নিয়ে আসার নির্দেশ দিলেন যা মূলতঃ যমীনের আত্মা, ঔজ্জ্বল্য ও ‘নূর’।

এ নির্দেশ পেয়ে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম জান্নাতুল ফিরদাউস ও সর্বোচ্চ আসমানের ফেরেশ্তাদেরকে নিয়ে পৃথিবীতে অবতরণ করেন। অতঃপর রওজা শরীফের স্থান থেকে এক মুষ্ঠি স্বচ্ছ নূরানী মাটি নেন। উক্ত মাটিকে বেহেশতের প্রবাহিত ঝরণা সমূহের মধ্যে ‘তাসনীম’ নামক ঝরণার পানি দ্বারা ধৌত করার পর তা একখানা শুভ্র মুক্তার আকার ধারণ করে। অর্থাৎ নূরে পরিণত হয়ে যায়। …”(সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ,১ম খন্ড,পৃষ্টা-৬৯,মুছান্নিফ-মুহম্মদ ইবনে ইউছুপ ছালেহ শামী রহমতুল্লাহি আলাইহি, বিছাল-৯৪২হিজরী। আল মুদখুল,২য় খন্ড,পৃষ্টা-৪১,মুছান্নিফ-আবু আব্দুল্লাহ মুহম্মদ ইবনে মুহম্মদ ইবনে হাজ্জ মালেকী রহমতুল্লাহি আলাইহি, বিছাল-৭৩৭হিজরী. মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়া,১ম খন্ড,পৃষ্টা-৪৬.শরহে যুরকানী আলাল মাওয়াহিব,১ম খন্ড,পৃষ্টা-৮২)

অতএব, প্রমাণিত হলো যে, আখেরী রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নাভী মুবারকে যে মাটি রাখা হয়েছে তা মাটির ছূরতে রাখা হয়নি। কারণ উনার নূরে মুজাস্সাম শরীর মুবারকে মাটিকে মাটির ছূরতে রাখা সম্ভব নয় বা রাখার কোন অবকাশ নেই। তাই তা পূনরায় তার পূর্বের হাক্বীক্বী ছূরতে পরিবর্তন করে অর্থাৎ মাটিকে নূর বানিয়ে সেই নূরকে নাভী মুবারকে রাখা হয়। সত্যিকার অর্থে তা হলো নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এরই একটা অংশ যা প্রকৃতপক্ষে “নূর।”

শুধু তাই নয়, বরং আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জিসম বা শরীর মুবারকের সব কিছুই যেমন রক্ত মুবারক, ইস্তিঞ্জা মুবারক, কেশ মুবারক ইত্যাদি সবই ‘নূর’।

যার কারণে ফতওয়া দেয়া হয়েছে “দুররুল মুখতার” কিতাবে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সমস্ত কিছু পাক বা পবিত্র। শুধু পাক বা পবিত্রই নয় বরং তা পান করলে বা খেলে যে পান করবে বা খাবে সে জান্নাতী হবে বা তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হবে।
তাই কবি বলেছেন, “আমরা যা খাই তা মল-মূত্র হয়ে বের হয়ে যায়। আর হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা খান তা ‘নূর’ হয়ে যায়।”

সুতরাং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্ নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাটির তৈরী হওয়ার প্রশ্নই আসেনা। কারণ উনার সৃষ্টি, আগমণ ও অবস্থান প্রত্যেকটিই ‘নূর’ হিসেবে। আর মাটিসহ সব কিছুই উনার সৃষ্টির পর উনারই ‘নূর মুবারক’ থেকে সৃষ্টি হয়েছে।
অতএব, “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্ নাবিয়্যীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাস্সাম, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হযরত আবু বকর ছিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত উমর ফারুক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু একই স্থানের মাটি দ্বারা সৃষ্টি” এর সরাসরি অর্থ গ্রহণ করলে আখিরী রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শান ও মানের খিলাফ হবে যা কুফরীর অন্তর্ভূক্ত।

তাই এর ছহীহ্ ও গ্রহণযোগ্য তা’বীল বা ব্যাখ্যা হলো, “রওজা শরীফ-এর স্থান নির্ধারণের জন্যে নাভী মুবারকে যা রাখা হয়েছে। তাই তা পূনরায় তার পূর্বের হাক্বীক্বী ছূরতে পরিবর্তন করে অর্থাৎ মাটিকে নূর বানিয়ে সেই নূরকে নাভী মুবারকে রাখা হয়। সত্যিকার অর্থে তা হলো নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এরই একটা অংশ যা প্রকৃতপক্ষে “নূর।”
এটাই আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদা আর এই আক্বীদাই পোষণ করা প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য ফরয।

প্রশ্ন”:-মাটির সৃষ্টি হয়রত আদম আলাইহিস সালাম উনার সন্তান হওযার কারনে মহান আল্লাহপাক উনার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ও মাটির সৃষ্টি। নাউযুবিল্লাহ।

জবাবে বলতে হচ্ছে উপরোক্ত বক্তব্য পবিএ কুরআন শরীফ ও হাদিস শরীফ উনাদের খিলাফ হওয়ার কারনে কাট্টা কুফরীর অর্ন্তভূক্ত হয়েছে। কারন আমরা ইতিপূর্বে অসংখ্য দলীল দ্বারা প্রমাণ করেছি, একমাত্র হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি শুধু মাটির তৈরী। আর মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি নুর মুবারক দ্বারা সৃষ্টি। এবং মাটি সহ সমস্ত সৃষ্টি পর্যায়ক্রমে উনার সম্মানিত নুর মুবারক দ্বারা সৃষ্টি হয়েছে। তাহলে মাটির সৃষ্টি হয়রত আদম আলাইহিস সালাম উনার সন্তান হওযার কারনে মহান আল্লাহপাক উনার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মাটির সৃষ্টি হয় কিভাবে? আর যদি মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি মাটির সৃষ্টিই হতেন তবে মহান আল্লাহপাক তিনি প্রথমে মহান আল্লাহপাক উনার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নুরী অজুদ মুবারক সৃষ্টি না করে সৃষ্টি করতেন মাটির তৈরী হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে মাটির সৃষ্টি হযরত সাইয়্যিদুনা আদম আলাইহিস সালাম উনার সৃষ্টির বহু পূর্বেই মহান আল্লাহপাক তিনি উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার নুরী অজুদ মুবারক সৃষ্টি করেছেন।সুবহানাল্লাহ। আর সে মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার যমীনে আগমনের মাধ্যম হিসেবে সাইয়্যিদুনা হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি মুবারক করা হয়েছে।

এ সর্ম্পকে হাদীস শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-عن حضرت ابى هريره رضى الله تعلى عنه قال قال ىسول الله صلّى الله عليه وسلّم كنت اوّل النبيّن فى الخلق واخرهم فى البعث অর্থ মুবারকঃ- হযরত আবু হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্নিত, তিনি বলেন,সাইয়্যিদুল মুরসালিন,ইমামুল মুরসালিন, খতামুন নাবিয়্যীন হুজুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-সৃষ্ট জীবের মধ্যে আমিই সর্বপ্রথম নবী হিসেবে সৃষ্টি হয়েছি। কিন্তু আমি প্রেরিত হয়েছি (যমীনে প্রকাশ পেয়েছি) সব নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদর শেষে।
(তাফসীরে বাগবী ৫/২০২,দুররে মানছুর ৫/১৮৪,শেফা ১/৪৬৬, মানাহিলুচ্ছফা ৫/৩৬,কানযুল উম্মাল/৩১৯১৬,দায়লামী/৪৮৫০)

হাদিস শরীফ উনার মধ্যে আরোও ইরশাদ মুবারক হয়েছে-عن حضرت ميسرت الفجر رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلّى الله عليه وسلّم كنت نبىّا وادم بين الرّوح والجسادঅর্থ মুবারকঃ-হযরত মাইসারাতুল ফাজর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালিন, ইমামুল মুরসালিন, খাতামুননাবিয়্যীন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-আমি তখনও নবী ছিলাম,যখন হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি রূহ ও শরীরে ছিলেন।(তারিখে বুখারী, মুসনাদে আহমদ, আলহাবী, ইত্তিহাফু্চ্ছাদাত, তাযকিরাতুল মাউদুয়াত, কানযুল উম্মাল/৩১৯১৭, দায়লামী শরীফ/৪৮৫৫, ত্ববরানী শরীফ, আবু নঈম শরীফ, মিশকাত শরীফ।)

হাদিস শরীফ উনার মধ্যে অন্যএ ইরশাদ মুবারক হযেছে- عن حضرت ابى هريرة رضى الله تعالى عنه قال قال يا ىسول الله صلّى الله عليه وسلّم متى وجبن لك النّبوّة قال وادام بين الرّوح والجسد-অর্থ মুবারকঃ- হযরত আবু হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্নিত,(একদা)হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা জিজ্ঞাসা মুবারক করলেন, ইয়া রসুলুল্লাহু ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!আপনি কখন থেকে নবী? উত্তরে সাইয়্যিদুল মুরসালিন, ইমামুল মুরসালিন, খতামুন নাবিয়্যীন হুজুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি বলেন, যখন হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি রূহ ও শরীরে মুবারক-এ ছিলেন,তখন থেকেই আমি নবী”।(তিরমিযী শরীফ, মিশকাত শরীফ/৫১১)

এপ্রসঙ্গে বিখ্যাত মুহাদ্দিস ইমাম দায়লামী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ফিরদাউস লিদদাইলমি-এর ২য় খন্ড ১৯১ পৃষ্টায় উল্লেখ করেন- عن حضرت سلمان الفرسىّ رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلّى الله عليه وسلّم كنت انا و حضرت علىّ رضى الله تعالى عنه نورا بين يدى الله معلّقا يسبّح الله ذالك النّور ويقدّسه قبل ان يخلق حضرت ادم عليه السّلام باربعة الف عام فلمّا خلق الله حضرت ادم عليه السلّام ركّب ذالك النّور فى صلبه অর্থ মুবারক-হযরত সালমান ফারসী রদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ননা মুবারক করেন,সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবিবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমি এবং হযরত আলী আলাইহিস সালাম আমরা মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট নুর হিসেবেই অবস্থান মুবারক করছিলাম৤উক্ত নুর মুবারক হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার সৃষ্টির চার হাজার বৎসর পূর্বে মহান আল্লাহ পাক উনার তাসবীহ ও পবিএতা বর্ননায় মশগুল ছিলেন৤ যখন হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি মুবারক করা হলো তখন উক্ত নুর মুবারক উনার পৃষ্ট মুবারকের মধ্যে রেখে দেওয়া হল।

এপ্রসঙ্গে বিখ্যাত মুহাদ্দিস, হাফিযুল হাদিস আল্লামা হয়রত ইমাম কুস্তলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিখ্যাত কিতাব মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়া ১ম খন্ডে লিখেছেন- الّذى لمّا خلق حضرت ادم عليه السّلام الهمه ان قال ياربّ لم كنّيتنى ابا محمّد صلّى الله عليه وسلّم قال الله تعالى يا دم عليه السلام ارفع راسك فرفع راسه فراى نور محمّد صلّى الله فى سرادق العرش المعلّى-فقال يا ربّ ما هذا النّوى قال هذا نور نبىّ من ذرّيتك اسمه فى السّماء احمد صلّى الله عليه وسلّم وفى الارض محمّد صلّى الله عليه وسلّم- لو لاه ما خلقتك ولا خلقت سماء ولا ارضا অর্থ মুবারক-মহান আল্লাহপাক তিনি হয়রত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি করার পর যখন ইলিম মুবারক দান করলেন, তখন হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, হে মহান আল্লাহপাক! আমার কুনিয়াত বা উপনাম কেন আবু মুহম্মদ রাখা হল? তখন মহান আল্লাহপাক তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, হে হয়রত আদম আলাইহিস সালাম! আপনার মাথা মুবারক উত্তোলন করুন এবং উপরের দিকে দৃষ্টি মুবারক করুন৤ তখন হয়রত আদম আলাইহিস সালাম তিনি উনার মাথা মুবারক উত্তোলন করে আরশে মুয়াল্লার পর্দায় নুরে হাবিবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখতে পেলেন৤ অত:পর হয়রত আদম আলাইহিস সালাম তিনি জিজ্ঞাসা মুবারক করলেন, হে বারে ইলাহি ! এটি কার নুর মুবারক ? মহান আল্লাহপাক কিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, হে হযরত আদম আলাইহিস সালাম ! এটি আমার যিনি হাবীব হুজুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নুর মুবারক, আপনার মাধ্যমে যাকে আমি যমীনে প্রেরন করবো, সে হিসেবে তিনি আপনার আওলাদগণের মধ্য হতে একজন নবী ও রসুল ছল্লাল্লাহু আলাআহি ওয়া সাল্লাম৤ আসমানে উনার নাম মুবারক আহমদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থ্যাৎ চরম প্রশাংসাকারী৤ সুবহাল্লাহ৤ এবং যমিনে উনার নাম মুবারক মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাআহি ওয়া সাল্লাম৤অর্থ্যাৎ চরম প্রশংসিত৤সুবহাল্লাহ৤ যদি তিনি না হতেন তবে আমি আপনাকে এবং আসমান ও যমিনকে পয়দা করতাম না৤সুবহানাল্লাহ৤

হাদীস শরীফ উনার মধ্যে আরো ও ইরশাদ মুবারক হয়েছে – قال حضرت ابن عبّاس رضى الله عنهما لما اراد الله تعالى خلق المخوقات وخفض الارض ورفع السموت قبض قبضة مّن نّوره ثمّ قال لها كونى حبيبى محمّدا صلّى الله عليه وسلّم بالعرش قبل ادم عليه السلام بخمس مائة عام وهو يقول الحمد لله فقال الله تعالى من اجل ذالك سمّيتك محمّد صلّى الله عليه وسلّم- অর্থ মুবারক-হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, মহান আল্লাহ পাক যখন সমস্ত মাখলুকাত সৃষ্টি, পৃথিবীকে নীচু ও আকাশকে উচুঁ করার ইচ্ছা করলেন তখন সেই নুর অর্থাৎ ‘‘নুরে মুহম্মদী’’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে নিয়ে বললেন, আপনি আমার হাবীব মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হয়ে যান। অর্থাৎ হে ‘‘নুরে মুহম্মদী’’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনি আমার হাবীব হয়ে যান। তখনই ‘‘নুরে মুহম্মদী’’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হয়ে সুমহান আরশে মুয়াল্লাহ তাওয়াফ করলেন,হযরত সাইয়্যিদুনা আদম আলাইহিস সালাম উনার ৫০০ বছর পুর্বে এবং আলহামদুলিল্লাহ বলে মহান আল্লাহপাক উনার প্রশংসা করলেন, তখন মহান আল্লাহপাক বললেন এই জন্যই আমি আপনার নাম মুবারক রেখেছি মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। (নুযহাতুল মাজালিস,নুরে মুহম্মদী)

উপরোক্ত দলীল আদীল্লাহর মাধ্যমে সুস্পষ্ট ভাবে প্রমাণিত হলো যে, মাটির সৃষ্টি হযরত আদম আলাইহিস উনার বহু পুর্বেই মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব হুজুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার মুল অজুদ মুবারক ‘‘নুরে হাবীবি’’ ছল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে মহান আল্লাহপাক সৃষ্টি মুবারক করেছিলেন এবং পর্যায়ক্রমে মাটির সৃষ্টি হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি এবং মাটি সহ সমস্ত সৃষ্টি সেই নুরে হাবীবি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার থেকে সৃষ্টি মুবারক করা হয়েছিলেন।

এখন যদি মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার বহু পুর্বেই সৃষ্টি মুবারক হয়ে থাকেন, তবে কেন মুসতাদারকে হাকীম এই হাদীস শরীফ উনার কিতাবে হযরত ফারুকে আযম আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্নিত হাদীস শরীফ উনার মধ্যে হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার জিজ্ঞাসা মুবারক উনার জবাবে, মহান আল্লাহপাক তিনি বললেন, আমি আমার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে এখনো সৃষ্টি মুবারক করিনি।

জবাবে বলতে হচ্ছে, যদি এই হাদিস শরীফ উনার অর্থ, তাবীলি বা ব্যাখ্যা মুলক না নিয়ে সরাসরি নেওয়া হয়, তবে মহান আল্লাহপাক উনার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মানের খিলাফ হচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ। অসংখ্য অগণিত হাদিস শরীফ উনাদের বিরুদ্বে মত পেশ করা হচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ। এবং আহলুস সুন্নত ওয়াল জামাযাত উনাদের ধ্যান ধারনা বা আক্বিদা বিশ্বাস অর্থ্যৎ মহান আল্লাহপাক উনার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাধ্যমে মাখলুকাতের সূচনা হয়েছে অর্থ্যৎ মহান আল্লাহপাক উনার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন মহান আল্লাহপাক উনার প্রথম সৃষ্টি!

এই আক্বিদা বা বিশ্বাসের বিপরীত মত পোষন করার কারনে কাট্টা কুফরীর অর্ন্তভূক্ত হচ্ছে। এই জন্য উসুলের কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, যে সমস্ত আয়াত শরীফ ও যে সমস্ত হাদিস শরীফ সরাসরি অর্থ,মুবারক করলে মহান আল্লাহপাক তিনি, নুরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও হয়রত নবী-রসুল আলাইহিমুস সালাম উনাদের শান মানের খিলাফ হবে সে সমস্ত আয়াত শরীফ ও হাদিস শরীফ সরাসরি অর্থ,মুবারক না করে তাবীলি বা ব্যাথ্যা মুলক অর্থ,মুবারক করতে হবে।

উদাহারন স্বরুপ বলা যেতে পারে- কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- ووجدك ضالّا فاهدى-এই আয়াত শরীফ উনার সরাসরি অর্থ করলে অর্থ দাড়াই, হে হাবীব আল্লাহপাক আপনাকে গোমরাহ, পথভ্রষ্ট ও বিভ্রান্ত পেয়েছেন অত;পর হেদায়েত দিয়েছেন।(সুরা দ্বোহা শরীফ, আয়াত শরীফ -৭)(নাউযুবিল্লাহ)এইরকম অর্থ যদি কেউ সরাসরি গ্রহণ করে, তাহলে সে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জাহান্নামী হবে। কারন পবিএ কুরআন শরীফ উনার অন্য জায়গায় ইরশাদ মুবারক হয়েছে-ما ضلّ صحبكم وما غوى তোমাদের সঈী হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম না কখনো গোমরাহ হয়েছেন না কখনো বিপদগামী হয়েছেন’’। (সুরা নজম শরীফ, আয়াত শরীফ-২)তাই সুরা দ্বোহা শরীফ উনার সরাসরি অর্থ না করে তাবিলী বা ব্যাখ্যামুলক অর্থ নিতে হবে।অতএব, ব্যাখ্যা মুলক অর্থ হচ্ছে, হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! মহান আল্লাহপাক আপনাকে কিতাবহীন পেয়েছেন, অত;পর আপনাকে কিতাব দান করেছেন।

এছাড়াও হযরত ফরুকে আজম আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত হাদিস শরীফ খানার যদি সরাসরি অর্থ মুবারক গ্রহন করি, তবে মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ইসিম মুবারক হল, “আসমানে” হযরত আহমদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বা চরম প্রশাংসাকারী অর্থ্যৎ মহান আল্লাহপাক উনার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টি মুবারক হওয়ার পর সমস্ত মাখলুকাতের মধ্যে সবচেয়ে বেশী মহান আল্লাহপাক উনার প্রশাংসা মুবারক করেছেন।সুবহানাল্লাহ।

যার কারনে তিনি হয়ে গেলেন চরম প্রশংসিত বা হযরত মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।সুবহানাল্লাহ। যদি বা মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কোন ছিফত মুবারকের কারনে নয় বরং তিনি সৃষ্টি হয়েছেন চরম প্রশংসিত হিসেবে। অর্থ্যাৎ স্বয়ং মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহপাক উনার যিকির মুবারক করার কারনে স্বয়ং মহান আল্লাহপাক উনার যিকির মুবারকই সম্মানিত হয়ে গেল।সুবহানাল্লাহ। আর তিনি এই প্রশংসা মুবারক করেছেন সমস্ত মাখলুকাত সৃষ্টির বহু পূর্বেই সম্মানিত আসমান উনার মধ্যে। তাই আসমানে তিনি প্রকাশিত হলেন বা উনার সম্মানিত ইসিম মুবারক বা নাম মুবারক হল হযরত আহমদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বা চরম প্রশাংসাকারী।সুবহানাল্লাহ।

এখন হযরত ফরুকে আজম আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত হাদিস শরীফ খানার যদি সরাসরি অর্থ মুবারক গ্রহন করি তবে মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নাম মুবারককেই অস্বীকার করা হবে কারন তিনি যদি হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার পরে সৃষ্টি মুবারক হয়ে থাকেন তবে আসমানে মহান আল্লাহপাক উনার প্রশংসা মুবারক করল কখন?এই জন্য হযরত হযরত ফরুকে আজম আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত হাদিস শরীফ খানার সরাসরি অর্থ মুবারক “আমি উনাকে সৃষ্টি মুবারক করি নি” না করে নিতে হবে তাবীলি অর্থ মুবারক “আমি উনাকে যমিনে পাঠায় নি।

এছাড়াও পবিএ হাদিস শরীফ উনার উসুল হল- যদি মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে একটি বিষয়ের দুই রকম বর্ননা মুবারক পাওয়া যায়। তবে যে বর্ননা মুবারকটি একাধিক রাবী কতৃক বর্ণিত হবে, সে বর্ননা মুবারকটি শাহেদ হওয়ার কারনে প্রধান্য প্রাপ্ত হয়ে গ্রহনযোগ্য মত হয়ে যাবে। অথবা যে মতটির উপর ইমাম-মুজতাহিদ উনারা আস্থা স্থাপন করবেন বা গ্রহন করবেন সে মতটিই হচ্ছে গ্রহনযোগ্য বিশুদ্ব মত।সুবহানাল্লাহ।

অতএব প্রমাণিত হল হযরত আদম আলাইহিস উনার বহু পুর্বেই মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব হুজুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার মুল অজুদ মুবারক ‘‘নুরে মুহম্মদী’’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি সৃষ্টি মুবারক করেছিলেন এবং সে অজুদ মুবারক উনার মাধ্যম দিয়ে সমস্ত মাখলুকাতের সৃষ্টির সূচনা হয়েছিলেন। এটাই হচ্ছে আহলুস সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের মূল আক্বিদা্। এর বিপরীত মত পেশ করা কাট্রা কুফরীর অন্তভূক্ত৤ নাউযুবিল্লাহ৤

(৪)মাটির সৃষ্টি হওয়ার কারনে মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ঘর-সংসার, খাওযা-দাওয়া, প্রকৃতির ডাকে সাড়া, মানবীয় কারনে ভুলে যাওয়া এবং নানা কারনে কান্নাকাটি করেছেন। নাউযুবিল্লাহ।
জবাবে বলতে হচ্ছে, উপরোক্ত কাজগুলো করলে যদি মাটির সৃষ্টি হতে হয় তবে জ্বীন জাতি উপরোক্ত সমস্ত কাজগুলো করে থাকে এবং হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা কান্না-কাটি করেছেন বলে পবিএ হাদিস শরীফ উনার মধ্যে প্রমাণ রয়েছে, তাই বলে কি উনারা সকলেই মাটির সৃষ্টি হয়ে গেল? মুলত: কোন মুসলমান উনাদের জন্য কখনও জায়িজ হবে না সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার কোন বিষয়ে পবিএ কুরআন শরীফ ও পবিএ হাদিস শরীফ উনাদের আলোকে ফায়সালা না করে ইবলিশের মত ভ্রান্ত ক্বিয়াস করা৤ প্রকৃতপক্ষে এটা কখনও কোন মুসলমান উনাদের কাজ হতে পারে না, একমাএ ওহাবী সালাফী ব্যাতীত৤ এছাড়াও কুকুর, শুকুর, গাধা বা বাক শক্তিহীন প্রাণীজগত ও খাওয়া-দাওয়া, বংশবিস্তার, প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া এবং নানা কারনে কান্নাকাটি ইত্যাদি কাজগুলো করে আবার ওহাবী সালাফী লানতপ্রাপ্ত গোস্টি ও করে, তাই বলে কি ওহাবী সালাফী কুকুর ,শুকর, গাধার বা বাক শত্তিহীন প্রানী জগতের অর্ন্তভুক্ত৤ এটা বলা যেমন শরীয়ত সম্মত হবে না ঠিক তেমনিভাবে মাটির সৃষ্টি হওয়ার কারনে মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ঘর-সংসার, খাওযা-দাওয়া, প্রকৃতির ডাকে সাড়া, মানবীয় কারনে ভুলে যাওয়া এবং নানা কারনে কান্নাকাটি করেছেন এই ধরনের বক্তব্য উপস্হাপন করা ও চরম জিহালতী, কঠিন নাফরমানি এবং ঈমান বিনষ্ট হয়ে চির জাহান্নামি হওযার কারন হবে৤নাউযুবিল্লাহ

তাহলে মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উপরোক্ত কাজ মুবারক গুলো কেন করেছেন? এর জবাবে বলতে হচ্ছে মহান আল্লাহপাক তিনি মানুষ ও জ্বীন জাতিকে যমিনে পাঠিয়েছেন যেন জ্বীন-ইনসান দুনিয়াতে এসে ইবাদত বন্দেগীর মাধ্যমে, দুনিযাবী জীবন পরিচালনার মাধ্যম দিয়ে মহান আল্লাহপাক ও উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওযা সাল্লাম উনাদের রেজা-মন্দি,সন্তুষ্ট মুবারক হাছিল করে৤ এখন মুসলমান উনারা এই ইবাদত বন্দেগী ও দুনিযাবী জীবন কিভাবে পরিচালনা করবে ? যদি এই বিষযে মহান আল্লাহপাক উনার তরফ থেকে জ্বীন-ইনসানের জন্য কোন আর্দশ মুবারক রাখা না হতো, তবে সারা দুনিয়ার মুসলমান উনাদের ইবাদত বন্দেগী ও জীবন পরিচালনা একেক রকম হত৤

ফলে এক অঞ্চলের মুসলমান উনাদের সাথে আরেক অঞ্চলের মুসলমান উনাদের প্রত্যেকটি বিষয়ে মত পার্থক্য দেখা দিত৤ যার ফলশ্রুতিতে মুসলমান উনাদের প্রত্যেকটি কাজের মধ্যে বিশৃংখলা দেখা দিত৤ তাই মহান আল্লাহপাক তিনি মুসলমান উনাদের মধ্যে সমস্ত অনৈক্য ভেদাভেদ দুর করার জন্য এবং মুসলমান উনাদের প্রত্যেকটির কাজ নিয়ম শৃংখলার মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য মহান আর্দশ হিসেবে পাঠালেন উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে৤ সুবহানাল্লাহ৤ আর মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সবকিছু থেকে বেনিয়াজ হওয়া সত্বেও শুধুমাএ উম্মত যেন সর্ব বিষয়ে মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক অনুসরণ করে হাক্বীকিভাবে কামিয়েবী লাভ করতে পারে এবং তাদের সমস্ত কাজগুলো আমলে ছলেহার অর্ন্তভুক্ত হতে পারে তার জন্য প্রয়োজন না থাকা সত্বেও ঘর-সংসার, খাওয়া-দাওয়া, প্রকৃতির ডাকে সাড়া, মানবীয় কারনে ভুলে যাওয়া এবং নানা কারনে কান্নাকাটি করেছেন। সুবহানাল্লাহ৤

মুলত; দুনিয়া এবং তার মধ্যেস্থিত যা কিছু রয়েছে সবকিছুই মহান আল্লাহপাক উনার হাবিব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি উনার মোহতাজ৤ সুবহানাল্লাহ৤ আর মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি তিনি শুধুমাএ মহান আল্লাহপাক উনার মোহতাজ৤ সুবহানাল্লাহ৤

এই প্রসঙে পবিএ হাদিস শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- يا حبيبى انا وانت وما سواك خلقت لاجلك قال النّبى صلى لله عليه وسلّم يا ربّى انت وما انا وما سواك تركت لاجلك- অর্থ মুবারক: হে আমার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমি এবং আপনি আর যা কিছু সৃষ্টি করেছি সব আপনার জন্য করেছি । সুবহানাল্লাহ্। মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, আয় বারে ইলাহী, আমি ও না, শুধু আপনি, এ ছাড়া যা কিছূ সৃষ্টি করা হয়েছে সব কিছু আপনার মুহব্বতে তরক বা ত্যাগ করেছি। সুবহানাল্লাহ্। অতএব প্রমাণিত হল যে মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মাটির সৃষ্টি হওয়ার কারনে নয় ববং উম্মতের প্রত্যেকটি কাজ ইবাদত হিসেবে গন্য হওয়ার জন্য ঘর-সংসার, খাওয়া-দাওয়া, প্রকৃতির ডাকে সাড়া, মানবীয় কারনে ভুলে যাওয়া এবং নানা কারনে কান্নাকাটি করেছেন। সুবহানাল্লাহ৤

অন্যথায় উম্মতের যদি উপরোক্ত কাজগুলোর প্রয়োজন না হত! তবে মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সৃষ্টি জগতের মধ্যে কোন কিছুরই প্রয়োজন হত না৤ কারন মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালিন, ইমামুল মুরসালিন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন পরিপূর্নভাবে মহান আল্লাহপাক উনার রং মুবারকে রঙিন. এই বিষয়টি আরো ও স্পষ্ট করার জন্য একটি ঘটনার উল্লেখ করতে হচ্ছে৤ হাজার বছরের যিনি মুজাদ্দিদ, হযরত মুজাদ্দিদ আলফে ছানী উনার আওলাদ বা ছেলে ইমাম মাছুম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি একবার চিন্তা মুবারক করলেন যে, মহান আল্লাহপাক তিনি হচ্ছেন ছমাদ অর্থ্যাৎ সমস্ত কায়েনাত থেকে বেনিয়াজ বা মানুষ যে সমস্ত কাজগুলো করে সমস্ত কিছু থেকে পবিএ৤ আর পবিএ কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করা হয়েছে, মহান আল্লাহপাক উনার রং মুবারকের রঙিন হওয়ার জন্য৤ তাই উনাকে ও দুনিয়ার সবকিছু থেকে বেনিয়াজ হয়ে মহান আল্লাহপাক ও উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মোহতাজ হয়ে যেতে হবে৤ সুবহানাল্লাহ

এই চিন্তা মুবারক করে তিনি একটি গুহার মধ্যে প্রবেশ করে একাধারে চল্লিশ দিন অবস্থান মুবারক করলেন কোন কিছু করা ব্যাতীত৤ অর্থ্যাৎ মানুষ বেচেঁ থাকার জন্য দুনিয়াবী যে সমস্ত কাজগুলো করে তিনি সবকিছু থেকে বেনিয়াজ হয়ে পরিপূর্নভাবে মহান আল্লাহপাক উনার রং মুবারকে রঙিন হয়ে গেলেন৤

সুবহানাল্লাহ৤ তখন ঐ যামানার যত মাখলুক ছিল সকলে মহান আল্লাহপাক উনার শাহী দরবারে আরজু করলেন যে ! আয় বারে ইলাহী, ইমাম মাছুম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হচ্ছেন এই যামানায় যত মাখলুকাত রয়েছে সকলের জন্য আপনাদের তরফ থেকে নিয়ামত ও রহমত৤ এখন তিনিই যদি সবকিছু থেকে বেনিয়াজ হয়ে দৃষ্টির অন্তরালে চলে যায় তাহলে আমরা রহমত, বরকত, ছাকিনা হাছিল করব কার মাধ্যম দিয়ে? তখন মহান আল্লাহপাক উনার নির্দেশে ইমাম মাছুম রহমতুল্লাহি আলাইহি চল্লিশ দিন পর গুহা থেকে বের হয়ে আসলেন৤

এছাড়াও জলিলুল ক্বদর রসুল হযরত ইউছুপ আলাইহিস সালাম উনার যামানায় র্দুভিক্ষের কারনে খাদ্যর সংকট দেখা দিল, তখন মহান আল্লাহপাক তিনি জানালেন যে নতুন খাদ্য আসতে চল্লিশ দিন সময় লেগে যাবে, তখন হযরত ইউছুপ আলাইহিস সালাম উনার উম্মতরা বলল! হে আমাদের রসুল এই চল্লিশ দিন আমরা খাবো কি? এই প্রশ্নের জবাবে মহান আল্লাহপাক তিনি উনার রসুল হযরত ইউছুপ আলাইহিস সালাম উনাকে জানালেন, তিনি যেন বড় এক কুদসীর মধ্যে বসে অবস্থান মুবারক করে৤ এরপর ক্ষুধার্ত অবস্থায় যে সমস্ত উম্মৎ হযরত ইউছুপ আলাইহিস সালাম উনার জিযারত মুবারক লাভ করবে তাদের পেট কুদরতীভাবে ভরে যাবে আর যে সমস্ত উম্মত উনার জিযারত মুবারকে আসতে পারবে না যারা জিয়ারত মুবারক লাভ করেছে তাদেরকে যারা দেখবে তাদের পেটও কুদরতীভাবে ভরে যাবে এইভাবে চল্লিশ দিন সময় অতিবাহিত হয়ে যাবে৤ সুবহানাল্লাহ৤

তাছাড়াও হাদিস শরীফ উনার মধ্যে বর্নিত হয়েছে, হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম উনার সময় যখন দা্জ্জাল প্রকাশ পাবে, তথন সে সারা দুনিয়া ব্যাপী একবছর কঠিন ফিতনা করবে৤ ঐ যামানায় যারা ঈমানদার থাকবে তাদের সমস্ত ধন সম্পত্তি খাবার দাবার দাজ্জাল নষ্ট করে দিবে৤ আর তখন দাজ্জালের ফিতনা কালে ঈমানদারদের খাদ্য হবে মহান আল্লাহপাক উনার যিকির মুবারক, অর্থাৎ ঐ সময় যে মুসলমান যত বেশী যিকির করবে তার পেট ততবেশী ভরা থাকবে৤ সুবহানাল্লাহ! এখন বলার বিষয় হলো যদি সাধারন উম্মৎ না খেয়ে চল্লিশ দিন, ছয়মাস অবস্থান করতে পারে, এবং মাতৃগর্বের মধ্যে সন্তান খাবার খেয়ে প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া না দিয়ে থাকতে পারে, ও মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার উম্মত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারাও যদি কোন কিছু গ্রহণ না করে দায়িম কায়িম থাকতে পারে তাহলে যিনি কুল মাখলুকাতের রসুল, সমস্ত সৃষ্টি জগতের রসুল, সমস্ত সৃষ্টির মুল, সমস্ত হাক্বীকত মুবারক উনার পর্দা মুবারক, সমস্ত আলম উনার দায়েমী কেন্দ্রস্থল মুবারক এবং মহান আল্লাহপাক উনারও মুহব্বত উনার কেন্দ্রস্থল মুবারক সে মহান আল্লাহপাক উনার রসুল সাইয়্যিদুল মুরসালিন, ইমামুল মুরসালিন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নুরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি কেন ঘর-সংসার, খাওযা-দাওয়া, প্রকৃতির ডাকে সাড়া, মানবীয় কারনে ভুলে যাওয়া এবং নানা কারনে কান্নাকাটি করা ইত্যাদি কাজ থেকে বেনিয়াজ হতে পারবেন না৤

অতএব, প্রমাণিত হলো মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালিন, ইমামুল মুরসালিন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নুরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি মাটির মানুষ হিসেবে নয়, বরং উম্মতের প্রতিটি কাজ আমলে ছলিহার অর্ন্তভুক্ত হওয়ার জন্য প্রয়োজন না থাকার সত্বেও শুধুমাত্র আদর্শ মুবারক স্থাপন করার জন্য উপরোক্ত কাজ মুবারক সমুহ করেছিলেন৤ এরপর ও যাদের বিষয়টি নিয়ে চু-চেরা কিল কাল রয়েছে এবং যারা বলতে চায় মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি মাটির মানুষ হওয়ার কারনে উপরোক্ত কাজ মুবারক সমুহ করেছিলেন৤ তবে তারা যেন সমস্ত মানুষের মধ্যে থেকে মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার অনুরুপ একটি দৃষ্টান্ত গুলো অনুধাবন করে! যেমন- (১) মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নুরুল গইব বা বড় ইস্তিণ্জা মুবারক, নুরুশ শিফা বা ছোট ইস্তিনজা মুবারক মেশক আম্বরের চেয়ে বেশী সুঘ্রান ময়৤সুবহানাল্লাহ৤

(২) মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নুরুল গইব মুবারক বা বড় ইস্তিনজা মুবারক কেউ কোন দিন দেখেনি৤ তা যমিনে প্রকাশ পাওয়া মাএ, যমিন বরকতের জন্য গিলে ফেলত৤ সুবহানাল্লাহ৤ আর মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নুরুশ শিফা মুবারক বা ছোট ইস্তিনজা মুবারক, নুরুন নাজাত মুবারক বা রক্ত মুবারক যারা পান মুবারক করেছেন তাদের সকলের জন্য জাহান্নাম হারাম হয়ে জান্নাত ওয়াজিব হয়ে গেছে৤ সুবহানাল্লাহ৤ এবং যারা পান মুবারক করেছে তা সকলেই চির সুস্হতা মুবারক গ্রহন করেছিলেন৤ সুবহানাল্লাহ৤

(৩) মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নুরুত ত্বীব বা ঘাম মুবারক হযরত সাহাবা কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সুঘ্রান হিসেবে ব্যাবহার মুবারক করতেন৤ এবং তা মেশক আম্বরের চেয়ে বেশী সুঘ্রানময় ছিল৤সুবহানাল্লাহ৤

(৪) মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জিসম মুবারক বা শরীর মুবারকে কখনও মশা, মাছি বসতোনা এবং তিনি কখনও হাই মুবারক দেন নিই৤ সুবহানাল্লাহ৤

(৫) মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে রাস্তা দিয়ে হেটে মুবারক যেতেন, সমস্ত রাস্তা দিয়ে আলাদা একটা সুবাস ছড়িয়ে পড়ত ফলে লোকজন বুঝতে পারত যে, এই রাস্তা দিয়ে মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কোথাও গিযেছেন৤এছাড়া মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি শিশু সন্তানের মাথায় হাত মুবারক বুলিয়ে দিতেন তখন সেই শিশু সন্তানটি অন্যান্য শিশু সন্তান থেকে আলাদা হয়ে যেত৤ এবং তার মাথা হতে সারা দিন সুবাস ছড়াইতো৤
(৬) মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি কোন পাথরের উপর ক্বদম মুবারক রাখলে পাথরে উনার ক্বদম মুবারকের চাপ পড়ে যেত৤ সুবহানাল্লাহ!

(৭)মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি অযু মুবারক দিযে নামাজ মুবারক পড়েছেন আবার অযু ছাড়া ও পডেছেন৤ মুলত; মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার অযু মুবারক কোন প্রয়োজন ছিলনা৤ কারন তিনি এসেছেন সারা আলমকে পবিত্র করার জন্য৤ আর জ্বিন ইনসানের যেহুতু পবিত্র হওয়ার জন্য অযু গোসলের দরকার, তাই মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দৃষ্টান্ত রাখার জন্য অযু মুবারক করেছিলেন৤ এরকম আরো শত শত হাজার হাজার দৃষ্টান্ত মুবারক উপস্থাপন করা যাবে, তবে উপলদ্ধির জন্য এতটুকু যথেষ্ট৤

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে