মিসওয়াকের উপকারীতা ও সুন্নতী তরতীব


মিসওয়াকের উপকারিতা

=================

মিসওয়াক করে নামায পড়া মিসওয়াক বিহীন নামাযের চেয়ে ৭৫
গুন বেশী সওয়াব পাওয়া যায়। মিসওয়াকের ৭২ টি উপকারিতা রয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে ছোট ফায়দা হচ্ছে মউতের সময় কলেমা শরীফ নসীব হওয়া। মিসওয়াককারীর সাথে ফেরেশতা আলাইহিমুস সালামগণ মুছাফাহা করে।
মিসওয়াকের গুরুত্ব কতটুকু?
বর্ণিত আছে, হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম যতবার নূরে মুজাসসাম হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট আগমন করেছেন ততবারই মিসওয়াক করার নির্দেশ দিয়েছেন(মাসনাদে আহমদ শরীফ)।রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মিসওয়াক ব্যতীত কখনো ওযু করতেন না।
হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তিনি বলেছেন, মিসওয়াক দ্বারা মস্তিষ্ক সতেজ হয়।
কয়েক দশক আগে থেকেই মিসওয়াকের স্থান উন্নতমানের ব্রাশ, পেস্ট দখল করলেও দাঁতের সমস্যার কিন্তু শেষ নেই।এক জ্ঞানী ব্যক্তি বলেছেন, যেদিন থেকে আমরা মিসওয়াকের ব্যবহার ছেড়ে দিয়েছি,সেদিন থেকে ডেন্টাল সার্জন এর সূত্রপাত হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, কেউ যদি খাবার শেষে মিসওয়াক ও ওযু করে, তাহলে সে দাঁতের রোগ থেকে রেহাই পাবে।এছাড়াও মিসওয়াকের দ্বারা টনসীল, হার্ট,পাকস্থলী, চোখ, ব্রেইনের নানাবিধ দূরারোগ্য ব্যাধি থেকে বাচাঁ যায়।
মিসওয়াকের মাপঃ মিসওয়াক প্রত্যেক মিসওয়াককারীর কণিষ্ঠ আঙ্গুলির ন্যায় মোট হওয়া ও তার হাতের আধ হাত বা এক বিঘত পরিমাণ লম্বা হওয়া মুস্তাহাব।

*

অনেকে হয়ত মিসওয়াক করার পরও ফায়দা পায় না । সেক্ষেত্রে যা করণীয়
প্রথমে মিসওয়াককে পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে।তারপর চিবিয়ে তা নরম করে ফেলতে হবে। মিসওয়াকের অগ্রভাগের সূক্ষ্ম আশঁগুলো ভেঙে ভেঙে বা কেটে কেটে ব্যবহার করতে হবে, যেন প্রত্যেকবারই আশঁগুলো নতুন হয়। এটা সকলের জন্য বাঞ্চনীয়,নতুবা মিসওয়াকের কাঙ্ক্ষিত উপকার পাওয়া যাবে না।

মিসওয়াক করার সুন্নতি নিয়ম
=====================

মিসওয়াককারীর ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি মিসওয়াকের নীচ থেকে প্রায় মাঝ বরাবর থাকবে। আর কনিষ্ঠা অঙ্গুলি দ্বারা মিসওয়াকের নীচে পিছনের দিকে ধরবে । আর তর্জনী, মধ্যমা ও অনামিকা এ তিনটি অঙ্গুলি মিসওয়াকের উপর রেখে মিসওয়াক করা সুন্নত এবং মিসওয়াক করার সময় লম্বালম্বিভাবে মিসওয়াক করা ও বসে বসে মিসওয়াক করা খাছ সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত।

মিসওয়াকের সুন্নত সমূহ
==================
(১) মিসওয়াক অর্ধ হাতের বেশী লম্বা এবং কনিষ্ঠ আঙ্গুলের চেয়ে মোটা না হওয়া । (বাহরুর রায়েক)
(২) কমপক্ষে তিনবার মিসওয়াক করা এবং প্রত্যেক বার পানিতে ভিজিয়ে নেয়।
(৩)মিসওয়াকের অভাবে আঙ্গুলের দ্বারা মিসওয়াকের নিয়ম এই যে, মুখের ডানদিক বৃদ্ধাঙ্গুলি দ্বারা পরিষ্কার করবে এবং বাম দিক তর্জনী দ্বারা সাফ করবে।
(৪) দাঁতের প্রস্থ এবং জিহ্বায় দৈর্ঘ্য মেসওয়াক করা উচিত। দাঁতের বাহির ও ভেতর মেসওয়াক দ্বারা সাফ করা দরকার ।
(তাহাবী, উসওয়ায়ে রাসূলে আকরাম)।

মিসওয়াক দিয়ে দাঁত ঘষার নিয়ম
========================

প্রথমত: উপরের দন্তপাটির মধ্যভাগে মিসওয়াক স্থাপন করে ডান দিক থেকে ঘসে এনে বাম দিকে নিতে হবে। পরে নিচের পাটির মধ্যভাগে মিসওয়াক স্থাপন করে ডান দিক থেকে ঘসে এনে বাম দিকে নিতে হবে।
পূণ: বাম দিক থেকে ঘসে ডান দিকে আসতে হবে। এভাবে দাতের পৃষ্ঠও ঘসতে হবে । তৎসঙ্গে জিহ্বার অগ্রভাগ থেকে গোড়ার দিকে কয়েকবার ঘসে , পরে মিসওয়াকের যে দিক দ্বারা ঘর্ষন করা হয়েছে সেদিক ধৌত করতে হবে। এর নিয়মে তিনবার দাঁতন করতে হবে। প্রত্যেক বারেই দাঁত ঘষার দিকটা ধুয়ে নিতে হবে।
ঘসে তিনবার কুলি করে নিতে হবে। দাঁতের অগ্রভাগ থেকে গোড়ার দিকে ঘসবে না, আড়াআড়িভাবে ঘসবে।
(তরিকুল ইসলাম)

মিসওয়াকের উপকারীতা

==================

হেকিম এস.এম ইকবাল ‘জাহান’ নামক পত্রিকায় লিখেন : আমার নিকট রোগী এল। তার হৃদপিন্ডের ঝিল্লিতে জমা হয়েছিল পুঁজ।এর জন্য লোকটি চিকিৎসাও নিচ্ছি। কিন্তু কিছুতেই সে ফল পেল । অবশেষে অপারেশনের মাধ্যমে পুঁজ বের করা হল। কিছুদিন পর আবার পুঁজ জমা হয়ে গেল। অবশেষে সবদিক থেকে নিরাশ হয়ে সে আমার নিকট চলে এল। আমি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে পেলাম তার দাঁতের মাড়িতে ক্ষত আছে। তাতে পুঁজ ভর্তি ।
দাঁতের মাড়ির ওই পুঁজই তার হৃদপিণ্ডে গিয়ে জমা হচ্ছে। আমার(বইটির লেখক) এ রোগ নিরূপণ সকল ডাক্তারগণও একবাক্যে স্বীকার করে নিলেন। | এবার তার চিকিৎসার পালা। প্রথমে তার দাঁত ও মাড়ীর চিকিৎসা করা হল। সেবনের জন্য কিছু ঔষধ আর ব্যবহারের জন্য দেওয়া হল পীলু গাছের মিসওয়াক। ফলে অতি অল্পদিনের মধ্যেই তার রােগ নিরাময় হল।
সুবহানাল্লাহ
মিসওয়াকের উপকারিতা সম্পর্কিত শত শত ঘটনা রয়েছে। হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কোটি কোটি সুন্নত মুবারকের মাঝে মিসওয়াক একটি। মিসওয়াক কেবলই মুসলমান উনাদের শেয়ার। শাহীদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যা ১৪০০ বছর পূর্বে উম্মতদের শিক্ষা দিয়েছেন, শত শত বছর পর বিজ্ঞানীরা মাত্র গবেষণায় নেমেছে,যদি হাক্বীকতে পৌছানো আদৌ পসিবল নয়

*

সুইজারল্যান্ডের জনৈক ডাক্তার ও মিস্ওয়াক
==================
বন্ধবর মনসূর সাহেব ছিলেন একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সরল প্রকৃতির লোক। একদিন আমাকে (বইয়ের লেখককে) বলতে লাগলেন, আমি একসময় সুইজারল্যাণ্ডে ছিলাম। সেখানে সাক্ষাৎ হল একজন নও মুসলিমের সাথে। আমি তাকে (পিলু বৃক্ষ) একটি মিসওয়াক উপহার দিলাম। মিসওয়াক পেয়ে সে মহা আবেগে আপ্লুত হয়ে সেটি চোখে-মুখে লাগাতে লাগল এবং আনন্দের আতিশয্যে তার দু’চোখ বেয়ে অশ্রুধারা বইতে লাগল। তারপর সে পকেট থেকে একটা রুমাল বের করল। তাতে দুই ইঞ্চি পরিমাণ একটা মিস্ওয়াক সঙ্গে জড়ানাে ছিল। মিসওয়াকটি বের করে সে বলতে লাগল, আমি যখন মুসলমান হয়েছিলাম, তখন এক মুসলমান ভাই এটি আমাকে উপহার স্বরূপ দিয়েছিলেন। আমি অতি সাবধানতার সাথে এটি ব্যবহার করতে থাকি। এ খণ্ডটুক তারই অবশিষ্ট অংশ। এখন আপনি আমার উপর বিরাট বড় ইহসান করেছেন।
তারপর সে তার জীবনের একটি ঘটনা বলতে লাগল, এবার আমার দাঁতের মাড়িতে এমন কঠিন রোগের সৃষ্টি হয়েছিল, যার চিকিৎসা তদানিন্তন ডাক্তারদের নিকট ছিল দুরূহ ব্যাপার। অগত্যা আমি এ মিস্ওয়াক ব্যবহার শুরু করে দিলাম। কিছু দিন পর। গেলাম সেই ডাক্তার কে দাঁত দেখাতে। দাঁত দেখে তো ডাক্তার হতবাক।

জিজ্ঞেস করল, আপনি এমন কী ঔষধ ব্যবহার করেছেন, যার ফলে আপনি এত দ্রুত আরোগ্য লাভ করতে পারলেন? বললাম, আমি তা শুধু আপনার দেওয়া ঔষধই ব্যবহার করেছি। ডাক্তার বললেন, কখনােই না। আমার ঔষধে এত দ্রুত আরােগ্য লাভ সম্ভব নয় বরং আপনি চিন্তা করে বলুন। আমি গভীরভাবে চিন্তা করতেই স্মরণ হল আমি তাে মুসলমান, আমি মিসওয়াক ব্যবহার করছি। তারপর যখন ডাক্তার কে মিসওয়াক দেখালাম। ডাক্তার খুবই আশ্বস্ত হলেন এবং নতুনভাবে রিসার্চ শুরু করে দিলেন।
সুবহানাল্লাহ

মিসওয়াকের উপকারিতা সম্পর্কিত শত শত ঘটনা রয়েছে। হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কোটি কোটি সুন্নত মুবারকের মাঝে মিসওয়াক একটি। মিসওয়াক কেবলই মুসলমান উনাদের শেয়ার। শাহীদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যা ১৪০০ বছর পূর্বে উম্মতদের শিক্ষা দিয়েছেন, শত শত বছর পর বিজ্ঞানীরা মাত্র গবেষণায় নেমেছে,যদি হাক্বীকতে পৌছানো আদৌ সম্ভব নয়

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে