মুখোশের অন্তরালে জামাত-২


 

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)


এভাবে ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগ  পর্যন্ত মওদুদী ও তার দল জামাতে ইসলামী বৃটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির দালালী করতে থাকে। পাকিস্তান হওয়ার পর সে লাহোরে চলে আসে। পাকিস্তান বিরোধী ভূমিকার জন্য মওদুদী ও তার জামাতে ইসলামী কঠোর সমালোচনার সম্মুখীন। মওদুদী তার অতীত ভূমিকা বেমালুম ভুলে যায়। সে বলে, “জামাত মুসলমানদের জন্য একটি স্বাধীন রাষ্ট্র চায়নি তা নয়। পাকিস্তান দাবি সমর্থন না করার কারণ ছিল, যদি মুসলিম লীগ ব্যর্থ হয়, জামাত মুসলমানদের স্বার্থরক্ষায় এগিয়ে আসবে। এজন্য জামাতকে সংরক্ষিত শক্তি হিসেবে রাখা হয়েছিলো। কী অদ্ভুদ যুক্তি।
বাংলাদেশে জামাতে ইসলামীও তাদের গুরু মওদুদীর সে নীতিই অনুসরণ করেছে। মুক্তিযুদ্ধে জামাতীদের ভূমিকা কারো অজানা নয়। কিন্তু তারা এখন বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। যে দল মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দান করেছে, যেসব বীর মুক্তিযোদ্ধা এদেশকে স্বাধীন করেছেন উল্টো তাদেরকেই জামাতীরা আসামীর কাঠগড়ায় দাড় করানোর চেষ্টা করছে।
পাকিস্তানে এসে মওদুদী ও তার দল জামাতে ইসলামী পাকিস্তানী কায়েমী স্বার্থবাদীদের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করে। এজন্যই জামাতীরা মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকার, আলবদর গঠন করে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর প্রতি সশস্ত্র সমর্থন জানায়। এক্ষেত্রেও তারা পবিত্র ইসলামকে হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করে। তারা মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোতে অপপ্রচার করতে থাকে, পাকিস্তান না টিকলে এদেশে ইসলাম থাকবে না। ভারত এদেশ নিয়ে যাবে তাদের বিরোধীতা সত্ত্বেও আল্লাহ পাক এর রহমতে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। এদেশে ইসলাম আছে, থাকবে। ভারতও এদেশ নিয়ে যায়নি।
ইসলামের প্রাথমিক যুগে যুদ্ধবন্দীদের তাদের অপরাধের ধরণ অনুযায়ী হত্যা কিংবা দাস-দাসীতে পরিণত করা হতো। কাউকে মুক্তিপণের বিনিময়ে ছেড়ে দেয়া হতো। কিন্তু যুদ্ধে পরাজিতদেরকে কখনো রাজনৈতিক অধিকার দেয়া হয়নি আর যারা বিনাযুদ্ধে মুসলমানদের সাথে সন্ধি স্থাপন করতো, তাদের জিম্মি হিসেবে গণ্য করা হতো। তাদেরকে জিযিয়া কর দিতে হতো। বাংলাদেশে বর্তমানে জামাতসহ যারা পবিত্র ইসলামকে রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে, তাদের প্রায় সবাই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছে। মুক্তিযুদ্ধে তারা পাক হানাদার বাহিনীকে সর্বোতভাবে সহযোগিতা করেছে। ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলেও জামাত, মুসলিম লীগ প্রভৃতি স্বাধীনতাবিরোধী দলগুলোর বাংলাদেশে রাজনৈতিক অধিকার লাভের কথা নয়।


(পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন………….)

 

 

 

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+