মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার ছোহবত মুবারক ব্যতীত হক্বের উপর থাকা অসম্ভব


সাইয়্যিদুল শোয়ারা হযরত মুসলিহুদ্দীন শেখ সা’দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “নেককারের ছোহবতে নেককার হয়, আর বদকারের ছোহবতে বদকার হয়।”
হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনার পুত্র কেনান, হযরত নবী আলাইহিস সালাম উনার পুত্র হওয়া সত্ত্বেও কাফির-মুশরিকদের ছোহবতে থাকার কারণে কাফির-মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেলো। আর আসহাবে কাহাফের কুকুর হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের ছোহবতে থাকার কারণে কুকুর হওয়া সত্ত্বেও পরকালে বনী ইসরাইলের মালউন দরবেশ বালআম বিন বাউরার ছুরতে জান্নাতে প্রবেশ করবে। অতএব, এই উদাহরণের মাধ্যমেই পরিষ্কারভাবে বুঝা যাচ্ছে যে, ছোহবতের গুরুত্ব কতটুকু। অর্থাৎ একজন মানুষের জন্য ছোহবতের (সৎসঙ্গ) প্রয়োজন কতটুকু। নেককারের ছোহবতের অভাবে কি বিপর্যয় ঘটে, আর নেককারদের ছোহবতের পরশে কতটুকু কল্যাণ লাভ করা সম্ভব। আমরা যদি গভীরভাবে একটু চিন্তা করি। বিবেককে একটু শাণিত করি। বিবেকের জবাব শুনি সে কি বলে? বিবেক এটাই বলে যে, আমাদের চারপাশে শুধু হারাম কাজে ভরপুর। কি ঘরে? কি বাইরে? কি রাস্তায়? কি মাঠে? কি বাজারে? কি শিক্ষাঙ্গনে? কি বাণিজ্যে? কি তথাকথিত রাজনীতিতে?
বর্তমানে সব জায়গায় ব্যাপক আকারে হারাম কাজ চলছে। সাধারণত মুসলমানগণ যে পোশাক পরিধান করে, তা বিজাতীয়। অনেকের ঘরের পরিবেশও ইসলামী পরিবেশ নয়। অনেকের ঘরে রয়েছে টিভি, ডিভিডি, ভিসিআরসহ বিভিন্ন রকমের বাদ্যযন্ত্র। রাস্তায় বের হলে দেখা যায় শত শত হারাম কাজ। বেপর্দা-বেহায়া, অশ্লীল-অশালীনতায় রাস্তা-ঘাট টুইটম্বুর। বিভিন্ন খারাপ অশ্লীল ছবিতে চারপাশ একাকার। সিনেমা হলগুলো হলো গুনাহের আখড়া।
যেখানে শিক্ষাঙ্গন লেখাপড়া শিক্ষা করা হয়, সেখানেও রয়েছে বিভিন্ন হারাম, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে নেই কোনো পর্দা। নেই শিক্ষক, মহিলা শিক্ষিকাদের মধ্যেও। কলেজ ইউনিভার্সিটিগুলোতে তো আরো খারাপ পরিবেশ। এমন কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেগুলোতে প্রায় নগ্ন পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধান করে ছাত্রীরা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হয়। নাঊযুবিল্লাহ!
ব্যবসা-বাণিজ্য করতে গেলে, মনে হচ্ছে সেখানে শুধু সুদ-ঘুষ, মিথ্যা কপটতা ছাড়া আর কোনো গত্যন্তর নেই। তথাকথিত ইসলামী রাজনীতির অবস্থা তো এখন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তারপরেও যদি কেউ ইসলামী মন-মানসিকতা নিয়ে কোনো আল্লামা মুফতীর দ্বারপ্রান্তে হাজির হয় তাহলে দেখতে পায় তারা হারাম কাজে আম জনতাকে হার মানিয়েছে। কি বেহাল অবস্থা মুসলমানদের? কি বেহাল দেশের? কি বেহাল বর্তমান পৃথিবীর? কিভাবে মুসলমানগণ হক্বের উপর থাকবে?
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন উনার অসংখ্য শুকরিয়া এবং অগণিত দুরূদ ও সালাম আখিরী নবী, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরে। উনারা দয়া করে ইহসান করে আমাদের উপহার দিয়েছেন পঞ্চদশ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, আল-মুজাদ্দিদুল আ’যম, জামিউল আউলিয়া, আওলাদে রসূল, রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাকে। সুবহানাল্লাহ!
তিনি এই কঠিন পরিস্থিতিতেও পরিপূর্ণ পবিত্র সুন্নত উনার পাবন্দ। পবিত্র সুন্নত উনার খিলাফ কোনো আমল করেন না। পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও পবিত্র ক্বিয়াস সম্মত উনার সমস্ত আমল-আখলাক, কথা-বার্তা।
তিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার গুণে গুণান্বিত। এই কঠিন ফিতনা-ফাসাদের যুগেও তিনি পরিপূর্ণ হক্বের উপর ইস্তিকামত। পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনার আমলে তিনি চরম-পরম দৃঢ়। তার থেকে তিনি এক চুলও বিচ্যুত হন না।
উনার মুবারক ছোহবতে যারা আসে তাদের মাঝেও সেই পবিত্র সুন্নত উনার আমল পরিলক্ষিত হয়। তারা নবী প্রেমে এ পবিত্র সুন্নত উনাকে দৃঢ়তার সাথে আঁকড়ে ধরেন। হক্বের পথে তারা পরিচালিত হন।
কাজেই এ ফিতনা বেষ্টিত সমাজে আল মুজাদ্দিদুল আ’যম মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার ছোহবত পেলেই, উনার রূহানী ফয়েয-তাওয়াজ্জুহ পেলেই সকলেই হক্ব পথে হক মতে থাকতে পারবে। অন্যথায় তা একেবারেই অসম্ভব।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে