মুজাদ্দিদে আলফে সানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট সম্রাট জাহাঙ্গীরের বায়াত গ্রহন


আকবরের মৃত্যুর পর সম্রাট জাহাঙ্গীর সিংহাসন লাভ করেন। জীবনের প্রথমাবস্থায় তার চরিত্র, চেহারায়, পোশাক-পরিচ্ছেদ পুরোপুরি ইসলাম বিরোধী ছিল। তার শাসনামলে একবার একাদশ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ বা  মুজাদ্দিদ আলফে সানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে কারাগারে বন্দী করেছিলেন।

সে সময় আশফজাহ নামক এক ব্যক্তির পরামর্শ  দিলেন, বাদশাহী কর্মচারী, উজীর-নাজীর যেভাবে মুজাদ্দিদ সাহেবের শিষ্য হতে শুরু করেছেন তাতে একদিন রাজ্যে বিপ্লব আসতে পারে, তাই তারঁ দিকে লক্ষ্য রাখা দরকার।এরপর মুজাদ্দিদ  আলফে সানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে রাজ দরবারে আসতে সংবাদ পাঠালেন। তিনি জানতেন জাহাঙ্গীরের দরবারে প্রত্যেককে সেজদা বা প্রণিপাত এবং সম্মুখে নত হয়ে দুহাত কপালে ঠেকিয়ে কুর্নিশ করতে হত।

জেনে শুনেই মুজাদ্দিদ আলফে সানী রহমতুল্লাহি আলাইহি ঘৃণাভরে মাথা উচুঁ করে গিয়ে দাড়াঁলেন।জাহাঙ্গীর জানতে চাইলো ,তিনি কেন  দরবারের আইন অনুসারে  সেজদা বা কুর্নিশ করলেন না? অন্ততঃ আসসালামু আলাইকুম তো বলতে পারতেন?

হযরত আলফে সানী রহমতুল্লাহি আলাইহি  বললেন, আমি জাহাঙ্গীরের দরবানে ভৃত্য নই, আমি মহান আল্লাহপাক উনার দরবারে ভৃত্য।আর তোমাকে সালাম দেই নাই এই জন্য যে তুমি অহঙ্কারী, হয়তো সালামের উত্তর দিবে না। তখন আমার সালাম দেওয়ার অর্থ হবে নবীজী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একটি সুন্নতকে পদদলিত করানো।

জাহাঙ্গীর রেগে  উনাকে বন্দী করে গোয়ালিয়র দুর্গের কারাগারে পাঠায়।এর  সংবাদ চারদিকে ছড়িয়ে লোকজন আরও জাহাঙ্গীরের উপর অসন্তুষ্ট হয়ে উঠলো।  ‍মুহব্বত খান নামে একজন রাজকর্মী, যিনি মুজাদ্দিদ সাহেবের মুরীদ ছিলেন।।তিনি ক্রোধে আগুন হয়ে বিদ্রোহ করলেন ।জাহাঙ্গীরকে বন্দী করলেন।এদিকে মুজাদ্দিদ সাহেব মুহব্বত খানকে জাহাঙ্গীরের সাথে ভাল ব্যবহার করতে জানালেন এবং কারাগার থেকে মুক্তি দিতে বললেন। মুহব্বত খান তাই করলেন।

জাহাঙ্গীর আবার মুজাদ্দিদ সাহেবেকে সম্মানে দরবারে আমন্ত্রণ জানালেন। কিন্তু মুজাদ্দিদ সাহেব কতকগুলো শর্ত দিলেন, শর্ত পালন করলে সাক্ষ্যাৎ করবেন নচেৎ কখনো দেখা হবে না।

শর্তগুলো

*দরবার হতে ইসলাম বিরোধী সেজদা ও কুর্নিশ প্রথার উচ্ছেদ করতে হবে।

*ধ্বংস করে দেওয়া মসজিদগুলো প্রননির্মান করতে হবে।

*যুদ্ধ করের পুণপ্রবর্তন করতে হবে।

*জাহাঙ্গীরকে নিওজ েইসলাম ধর্ অনুযায়ী চলতে হবে এবং রাজ্যও ইসলামের আইনমত চলবে।

*বিচার আগের মতই কাজী বা মুফতি মৌলবীরা করবে।

জাহাঙ্গীর সমস্ত শর্ত মেনে নিলেন, নিজে মুজাদ্দিদ সাহেবের মুরীদ হলেন এবং মদ্যপান ত্যাগ করলেন।পাচঁওয়াক্ত নামায, কুরআন শরীফ পাঠ ইত্যাদি উপসনা শুরু করলেন। অর্থ্যাৎ  মুজাদ্দিদ  হযরত আলাফে সানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সংস্পর্শে  ইসলামেরি আলোকে নব শিশুর মত নির্মল জীবন আরম্ভ করলেন।

সুবহানাল্লাহ্

Views All Time
2
Views Today
5
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে