মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আফদ্বলুন নাস ওয়ান নিসা বা’দা রসূলিল্লাহ ইবনাতু আবীহা, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আর রবি‘য়াহ্ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত সংক্ষিপ্ত জীবনী মুবারক


যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
اَلنَّبِـىُّ اَوْلـٰى بِالْمُؤْمِنِيْنَ مِنْ اَنْفُسِهِمْ وَاَزْوَاجُهۤٗ اُمَّهٰتُهُمْ.
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন মু’মিন উনাদের নিকট উনাদের জানের চেয়ে অধিক প্রিয়, উনাদের মহাসম্মানিত পিতা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং উনার মহাসম্মানিত ‘আযওয়াজুম মুত্বহহারাত’ (মহাসম্মানিত হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম) উনারা হচ্ছেন সমস্ত মু’মিন উনাদের মহাসম্মানিতা মাতা আলাইহিন্নাস সালাম।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৬)
হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা ছিলেন মোট মহাসম্মানিত ১৩ জন। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত খিদমত মুবারক-এ সম্মানিত তাশরীফ মুবারক নেয়ার ধারাবাহিকক্রম মুবারক অনুযায়ী ইবনাতু আবীহা, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আর রবি‘য়াহ্ আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন ‘আর রবি‘য়াহ্ তথা ৪র্থ’। এ জন্য উনাকে ‘উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আর রবি‘য়াহ্ আলাইহাস সালাম’ বলা হয়। সুবহানাল্লাহ! তিনি সকলের মাঝে ‘উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আর রবি‘য়াহ্ আলাইহাস সালাম’ হিসেবেই মহাসম্মানিত পরিচিতি মুবারক গ্রহণ করেন। সুবহানাল্লাহ! উনার মূল মহাম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসম বা নাম মুবারক হচ্ছেন ‘সাইয়্যিদাতুনা হযরত হাফছাহ্ আলাইহাস সালাম’। সুবহানাল্লাহ! তিনি শুধু যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং উনার মাহবূব হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারিনী। সুবহানাল্লাহ! উনার সম্মানিত মুহব্বত মুবারকই হচ্ছেন সম্মানিত ঈমান। সুবহানাল্লাহ! উনাকে সম্মানিত মুহব্বত মুবারক করা, উনার সম্মানিত তা’যীম-তাকরীম মুবারক করা, সম্মানিত ছানা-ছিফত মুবারক করা এবং উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়া সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের জন্য ফরযে আইন। সুবহানাল্লাহ! তাই উনার সম্মানিত জীবনী মুবারক জানাও সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের জন্য ফরযে আইন। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম:
ইবনাতু আবীহা, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আর রবি‘য়াহ্ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত পিতা হচ্ছেন আশিদ্দাউ ‘আলাল কুফ্ফার, আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! তিনি ছিলেন খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে দ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব মুবারক এবং মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ! উনার সবচেয়ে বড় পরিচয় মুবারক হচ্ছে, তিনি হচ্ছেন ইবনাতু আবীহা, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আর রবি‘য়াহ্ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ! ইবনাতু আবীহা, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আর রবি‘য়াহ্ আলাইহাস সালাম তিনি মহাসম্মানিত পিতা আলাইহিস সালাম উনার দিক থেকে ১১তম পুরুষে যেয়ে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে মিলিত হয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!
ইবনাতু আবীহা, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আর রবি‘য়াহ্ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান হচ্ছেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব বিনতে মায‘ঊন আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ! তিনি ছিলেন জলীলুল ক্বদর ছাহাবী হযরত উছমান ইবনে মায‘ঊন রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার মহাসম্মানিতা বোন। সুবহানাল্লাহ!
এই সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
زَيْنَبُ بِنْتُ مَظْعُوْنٍ عَلَيْهَا السَّلَامُ أُخْتُ عُثْمَانَ بنِ مَظْعُوْنِ ۣ الجُمَحِيِّ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ.
অর্থ: “সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব বিনতে মায‘ঊন আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন জলীলুল ক্বদর ছাহাবী হযরত ‘উছমান ইবনে মায‘ঊন জামুহী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার মহাসম্মানিতা বোন।” সুবহানাল্লাহ! (উস্দুল গবাহ্ ৩/৩৩১, সিয়ারু আ’লামিন নুবালা’ ৫/১৯৯)
কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে,
زينب بِنْت مَظْعون بن حبيب بن وهب بن حُذافة بن جُمَح القُرَشِيَّة الجمحية عَلَيْهَا السَّلَامُ أخت عُثْمان بن مَظْعون رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ وهي زوج عُمر بن الخطاب وأم ولده عَبْد الله بن عُمر رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ وأم حفصة بِنْت عُمر عَلَيْهَا السَّلَامُ وعَبْد الرَّحْمَن بن عُمر رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ.
অর্থ: “সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব বিনতে মায‘ঊন ইবনে হাবীব ইবনে ওয়াহাব ইবনে হুযাফাহ্ ইবনে জুমাহ্ কুরাশীয়্যাহ্ জুমাহিয়্যাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন সাইয়্যিদুনা হযরত ‘উছমান ইবনে মায‘ঊন রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার বোন। সুবহানাল্লাহ! তিনি হচ্ছেন আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিতা জাওযাতুম মুকাররমাহ্ আলাইহাস সালাম। আর তিনি হচ্ছেন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার, ইবনাতু আবীহা, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আর রবি‘য়াহ্ আলাইহাস সালাম উনার এবং হযরত আব্দুর রহমান ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার অর্থাৎ উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম।” সুবহানাল্লাহ! (উসদুল গ¦বাহ শরীফ ৩/৩৬১)
কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
أنها كانت من المهاجرات.
অর্থ: “সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব বিনতে মায‘ঊন আলাইহাস সালাম তিনি ছিলেন মুহাজির ছাহাবীয়া রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুন্না উনাদের অন্যতমা।” সুবহানাল্লাহ! (উস্দুল গ¦বাহ্ ৩/৩৬১)
কেউ কেউ বলেছেন,
إنها ماتت مسلمة بمَكَّة قبل الهجرة،
অর্থ: “তিনি হিজরতের পূর্বে মহাসম্মানিত মক্কা শরীফ মুসলমান অবস্থায় সম্মানিত বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন।” সুবহানাল্লাহ!
কোন কোন বর্ণনা রয়েছে,
أن عَبْد الله بن عُمر هاجر مع أبويه.
অর্থ: “হযরত ‘আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি উনার মহাসম্মানিত আব্বা-আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনাদের সাথে সম্মানিত হিজরত মুবারক করেছেন।” সুবহানাল্লাহ!
এ সকল বর্ণনা থেকে বোঝা যায় যে সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব বিনতে মায‘ঊন আলাইহাস সালাম তিনি মহাসম্মানিত মদীনা শরীফ-এ সম্মানিত হিজরত মুবারক করার পর বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

ইবনাতু আবীহা, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আর রবি‘য়াহ্ আলাইহাস সালাম উনার আপন ভাই
আল্লামা হযরত ইবনুল আছীর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘উসদুল গ¦বাহ্ শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ করেন,
عبد الرحمن الأكبر بن عمر بن الخطاب. أخو عبد الله وحفصة، أمهم زينب بنت مظعون،
অর্থ: “হযরত আব্দুর রহমান আকবর ইবনে উমর ইবনে খত্ত্বাব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি এবং ইবনাতু আবীহা, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আর রবি‘য়াহ্ আলাইহাস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের মহাসম্মানিতা আম্মাজান হচ্ছেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব বিনতে মায‘ঊন আলাইহাস সালাম তিনি।” সুবহানাল্লাহ! (উস্দুল গবাহ্ ২/২০৭)
কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে,
ام المؤمنين سيدتنا حضرت حفصة عليها السلام أخوها لأبيها وأمها عبد الله بن عمر رضى الله تعالى عنه وعبد الرحمن الأكبر رضى الله تعالى عنه ؛
অর্থ: “ইবনাতু আবীহা, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আর রবি‘য়াহ্ আলাইহাস সালাম উনার আপন ভাই হচ্ছেন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি এবং হযরত আব্দুর রহমান আকবর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি অর্থাৎ উনারা।” সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ:
কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
عَنْ عُمَرَ قَالَ وُلِدَتْ حَفْصَةُ وَقُرَيْشٌ تَبْنِي الْبَيْتَ قَبْلَ مَبْعَثِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِخَمْسِ سِنِينَ.
অর্থ: “ইবনাতু আবীহা, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আর রবি‘য়াহ্ আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসম্মানিত নুবুওওয়াত ও রিসালাত মুবারক প্রকাশের ৫ বছর পূর্বে মহাসম্মানিত বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! তখন কুরাইশরা মহাসম্মানিত কা’বা শরীফ নির্মাণ করছিলেন।” সুবহানাল্লাহ! (ইবনে সা’দ)
তবে ইবনাতু আবীহা, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আর রবি‘য়াহ্ আলাইহাস সালাম তিনি কোন মাসে, কোন বারে এবং তারীখে মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন এটা পৃথিবীর কোনো কিতাবে উল্লেখ নেই। এটা মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত আফসোসের বিষয় যে, মুসলমানরা ইবনাতু আবীহা, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আর রবি‘য়াহ্ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের মহাসম্মানিত তারীখ মুবারক সংরক্ষণ করতে পারেনি। না‘ঊযুবিল্লাহ!
উল্লেখ্য যে, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি হচ্ছেন একমাত্র যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার মাহবূব হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা ব্যতীত সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ মহাসম্মানিত নি‘য়ামত মুবারক। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে, আখাছ্ছুল খাছভাবে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সাথে উনার রয়েছেন বেমেছাল হাক্বীক্বী দায়িমী তা‘য়াল্লুক্ব-নিসবত মুবারক এবং যিয়ারত মুবারক। সুবহানাল্লাহ! যার কারণে একমাত্র উনার পক্ষেই সম্ভব হয়েছে, মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের, আখাছ্ছুল খাছভাবে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মহাম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক, মহাসম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশের মহাসম্মানিত তারীখ মুবারক এবং মহাসম্মানিত ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হওয়ার মহাসম্মানিত তারীখ মুবারকসমূহ প্রকাশ করা। সুবহানাল্লাহ!
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন যে, “ ইবনাতু আবীহা, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আর রবি‘য়াহ্ আলাইহাস সালাম তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসম্মানিত নুবুওওয়াত ও রিসালত মুবারক প্রকাশের ৫ বছর পূর্বে ৩রা রজবুল হারাম শরীফ ইয়াওমুল আহাদ শরীফ মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন।” সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত শৈশবকাল মুবারক
ইবনাতু আবীহা, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আর রবি‘য়াহ্ আলাইহাস সালাম তিনি উনার মহাসম্মানিত শৈশবকাল মুবারক উনার মহাসম্মানিত পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম উনাদের এবং উনার সম্মানিত ভাই-বোন উনাদের সাথে মহাসম্মানিত মক্কা শরীফ অতিবাহিত করেন। সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ
ইবনাতু আবীহা, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আর রবি‘য়াহ্ আলাইহাস সালাম তিনি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার শুরুর দিকে সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!
কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
أسلمت حفصة في مكة
অর্থ: “ইবনাতু আবীহা, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আর রবি‘য়াহ আলাইহাস সালাম তিনি মহাসম্মানিত মক্কা শরীফ-এ আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেন।” সুবহানাল্লাহ!
অপর বর্ণনায় রয়েছে,
وأسلمت هي وخنيس
অর্থ: “আর ইবনাতু আবীহা, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আর রবি‘য়াহ আলাইহাস সালাম তিনি এবং সাইয়্যিদুনা হযরত খুনাইস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি অর্থাৎ উনারা উভয়ে একসাথে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেন।” সুবহানাল্লাহ!
‘ইবনে সা’দে’ বর্ণিত রয়েছে,
أسلم خُنَيْسُ بْنُ حُذَافَةَ قَبْلَ دُخُولِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَارَ الأَرْقَمِ.
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ‘দারুর আরক্বামে’ সম্মানিত তাশরীফ মুবারক নেয়ার পূর্বে সাইয়্যিদুনা হযরত খুনাইস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেন।” সুবহানাল্লাহ! (ইবনে সা’দ ৩/৩৩০)
অপর বর্ণনায় রয়েছে,
كان من السابقين إلى الإسلام، وهاجر إلى أرض الحبشة،
অর্থ: “প্রথম দিকে যাঁরা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত খুনাইস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি উনাদের অন্যতম।” সুবহানাল্লাহ! (উস্দুল গ¦বাহ্ ১/৩৩১)

সম্মানিত প্রথম শাদী মুবারক
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ তাশরীফ মুবারক নেয়ার পূর্বে ইবনাতু আবীহা, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আর রবি‘য়াহ্ আলাইহাস সালাম উনার প্রথম শাদী মুবারক হয়েছিলো কুরাইশ বংশীয় সাহ্মী শাখার বিশেষ ব্যক্তিত্ব মুবারক বিশিষ্ট ছাহাবী সাইয়্যিদুনা হযরত খুনাইস ইবনে হুযাফাহ্ সাহ্মী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার সাথে।
এ সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
وكانت قبل أن يتزوجها النبيّ صلّى اللَّه عليه وسلّم عند خنيس بن حذافة.
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত খিদমত মুবারক সম্মানিত তাশরীফ মুবারক নেয়ার পূর্বে ইবনাতু আবীহা, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আর রবি‘য়াহ্ আলাইহাস সালাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত খুনাইস ইবনে হুযাফাহ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার নিকট ছিলেন।” সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত হিজরত মুবারক
হযরত ইবনে সা’দ রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত ‘আত ত্ববাক্বাতুল কুবরা শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ করেন,
وَهَاجَرَ خُنَيْسٌ إِلَى أَرْضِ الْحَبَشَةِ الْهِجْرَةَ الثَّانِيَةَ
অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত খুনাইস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি হাবশায় হিজরতকারী দ্বিতীয় দলটির সাথে হাবশায় হিজরত করেন। সুবহানাল্লাহ! (আত ত্ববাক্বাতুল কুবরা লিইবনে সা’দ (৩/৩০০)
হযরত ইমাম ইবনে আছীর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,
كان من السابقين إلى الإسلام، وهاجر إلى أرض الحبشة،
অর্থ: “প্রথম দিকে যাঁরা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত খুনাইস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি উনাদের অন্যতম এবং তিনি হাবশায় সম্মানিত হিজরত মুবারক করেন।” সুবহানাল্লাহ! (উস্দুল গ¦বাহ্ ১/৩৩১)
‘নসবু কুরাইশে’ উল্লেখ রয়েছে,
وكان خنيس من مهاجرة أرض الحبشة،
অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত খুনাইস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি ছিলেন হাবশায় হিজরতকারীদের মধ্যে অন্যতম।” সুবহানাল্লাহ! (নসবু কুরাইশ ১/১১৬)
কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
وهاجرت مع زوجها خنيس إلى المدينة عندما هاجر رسول الله صلى الله عليه وسلم إليها.
অর্থ: “যখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত মদীনা শরীফ সম্মানিত হিজরত মুবারক করেন, তখন ইবনাতু আবীহা, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আর রবি‘য়াহ্ আলাইহাস সালাম তিনি উনার সম্মানিত আহাল সাইয়্যিদুনা হযরত খুনাইস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনিসহ মহাসম্মানিত মদীনা শরীফ সম্মানিত হিজরত মুবারক করেন।” সুবহানাল্লাহ!
কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে,
هاجرت مع زوجها الأول خنيس بن حذافة السهمي إلى المدينة المنورة.
অর্থ: “ইবনাতু আবীহা, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আর রবি‘য়াহ্ আলাইহাস সালাম তিনি উনার সম্মানিত প্রথম আহাল সাইয়্যিদুনা হযরত খুনাইস ইবনে হুযাফাহ সাহ্মী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনিসহ মহাসম্মানিত মদীনা শরীফ উনার মধ্যে সম্মানিত হিজরত মুবারক করেন।” সুবহানাল্লাহ!
কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে,
هاجر خُنَيْس منفردًا إلى الحبشة ثم عاد وهاجر مع زوجته حفصة إلى يثرب.
অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত খুনাইস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি পৃথকভাবে সম্মানিত হাবশায় হিজরত করেন। অত:পর (আবার মহাসম্মানিত মক্কা শরীফ উনার মধ্যে) ফিরে এসে ইবনাতু আবীহা, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আর রবি‘য়াহ্ আলাইহাস সালাম তিনিসহ মহাসম্মানিত মদীনা শরীফ উনার মধ্যে সম্মানিত হিজরত মুবারক করেন।” সুবহানাল্লাহ!
কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে,
وأسلمت هي وخنيس وهاجرت معه إلى المدينة المنورة
অর্থ: “ইবনাতু আবীহা, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আর রবি‘য়াহ্ আলাইহাস সালাম তিনি এবং উনার সাইয়্যিদুনা হযরত খুনাইস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি অর্থাৎ উনারা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেন। আর ইবনাতু আবীহা, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আর রবি‘য়াহ্ আলাইহাস সালাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত খুনাইস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার সাথে মহাসম্মানিত মদীনা শরীফ উনার মধ্যে সম্মানিত হিজরত মুবারক করেন।” সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ:
সাইয়্যিদুনা হযরত খুনাইস ইবনে হুযাফাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বদরী ছাহাবায়ে রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
এ সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
وهو من أهل بدر؛
অর্থ: “তিনি ছিলেন বদরী ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু।” সুবহানাল্লাহ! (নসবু কুরাইশ ১/১৩৪)
২য় হিজরী শরীফ উনার ১৮ই রমাদ্বান শরীফ বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম তিনি মহাসম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। আর এই দিকে উম্মুল মু’মিনীন আর রাবি‘য়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ইবনাতু আবীহা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত আহাল বিশিষ্ট বদরী ছাহাবী সাইয়্যিদুনা হযরত খুনাইস ইবনে হুযাফাহ সাহ্মী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনিও মহাসম্মানিত মদীনা শরীফ-এ সম্মানিত ও পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। তখন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন আর রাবি‘য়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ইবনাতু আবীহা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ উনার প্রস্তাব মুবারক নিয়ে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার এবং সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের নিকট যান। কিন্তু উনারা প্রস্তাবে সাড়া দেননি। ফলে তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ বিষয়টি উপস্থাপন করেন, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
يَتَزَوَّجُ حَضْرَتْ حَفْصَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ مَنْ هُوَ خَيْرٌ مِنْ حَضْرَتْ عُثْمَانَ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَيَتَزَوَّجُ حَضْرَتْ عُثْمَانُ عَلَيْهِ السَّلَامُ مَنْ هِيَ خَيْرٌ مِنْ حَضْرَتْ حَفْصَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ.
অর্থ: “ইবনাতু আবীহা, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আর রবি‘য়াহ আলাইহাস সালাম উনাকে হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার চেয়ে উত্তম মহাসম্মানিত ব্যক্তিত্ব মুবারক তিনি মহাসম্মানিত ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ (শাদী মুবারক) করবেন। আর হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন আর রাবি‘য়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ইবনাতু আবীহা আলাইহাস সালাম উনার থেকে উত্তম ব্যক্তিত্বা মুবারক উনাকে মহাসম্মানিত ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (আল ইছাবাহ্ ৮/৮৫, নসবু কুরাইশ ১/১১৬)
অপর বর্ণনা রয়েছে,
عن عمر رضي الله تعالى عنه قال: لَمَّا تُوُفِّيَ خُنَيْسُ بْنُ حُذَافَةَ عَرَضْتُ حَفْصَةَ عَلَى عُثْمَانَ فَأَعْرَضَ عَنِّي فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلا تَعْجَبُ مِنْ عُثْمَانَ! إِنِّي عَرَضْتُ عَلَيْهِ حَفْصَةَ فَأَعْرَضَ عَنِّي. [فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ: قَدْ زَوَّجَ اللَّهُ عُثْمَانَ خَيْرًا مِنَ ابْنَتِكَ وَزَوَّجَ ابْنَتَكَ خَيْرًا مِنْ عُثْمَانَ] .
অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন খুনাইস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বিছাল শরীফ গ্রহণ করেন, তখন আমি ইবনাতু আবীহা, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আর রবি‘য়াহ আলাইহাস সালাম উনার বিষয়ে সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার নিকট প্রস্তাব পেশ করি, তখন তিনি তা গ্রহণ করেননি। আমি বিষয়টি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ পেশ করে বলি যে, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি কি সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার বিষয়ে আশ্চর্য হবেন না? আমি ইবনাতু আবীহা, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আর রবি‘য়াহ আলাইহাস সালাম উনার বিষয়ে সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার নিকট প্রস্তাব পেশ করেছি, কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি। তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
قَدْ زَوَّجَ اللَّهُ عُثْمَانَ خَيْرًا مِنَ ابْنَتِكَ وَزَوَّجَ ابْنَتَكَ خَيْرًا مِنْ عُثْمَانَ
“নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনার মহাসম্মানিত আওলাদ, ইবনাতু আবীহা, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আর রবি‘য়াহ আলাইহাস সালাম উনার চেয়ে উত্তম ব্যক্তিত্বা মুবারক উনার সাথে হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ সম্পন্ন করবেন এবং মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনার মহাসম্মানিত আওলাদ, ইবনাতু আবীহা, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আর রবি‘য়াহ আলাইহাস সালাম উনাকে সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার চেয়ে উত্তম মহাসম্মানিত ব্যক্তিত্ব মুবারক উনার সাথে মহাসম্মানিত ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ সম্পন্ন মুবারক করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (ইবনে সা’দ ৮/৬৬, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১১/১৮৪)
অপর বর্ণনায় রয়েছে, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
هَل أدلك على خير من ذَلِك أَتزوّج أَنا حَضْرَتْ حَفْصَة عَلَيْهَا السَّلَامُ وأزوج حَضْرَتْ عُثْمَان خيرا مِنْهَا حَضْرَتْ أم كُلْثُوم عَلَيْهَا السَّلَامُ
অর্থ: “আমি কি আপনাকে এর চেয়ে উত্তম বিষয় অবহিত করবো না? আমি উম্মুল মু’মিনীন আর রাবি‘য়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ইবনাতু আবীহা আলাইহাস সালাম উনাকে মহাসম্মানিত ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ করবো এবং হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনাকে উনার চেয়ে উত্তম ব্যক্তিত্বা মুবারক সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার সাথে মহাসম্মানিত ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ দিবো।” সুবহানাল্লাহ! (সিমতুন নুজূম)
হযরত ইমাম শামসুদ্দীন যাহাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,
ثُمَّ خَطَبَهَا مِنْهُ فَزَوَّجَهُ عُمَرُ
অর্থ: “অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন আর রাবি‘য়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ইবনাতু আবীহা আলাইহাস সালাম উনাকে মহাসম্মানিত ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ করার জন্য সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নিকট সম্মানিত প্রস্তাব মুবারক দেন এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন আর রাবি‘য়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ইবনাতু আবীহা আলাইহাস সালাম উনাকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট মহাসম্মানিত ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ দেন। অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে উম্মুল মু’মিনীন হিসেবে গ্রহণ করেন।” সুবহানাল্লাহ! (তারীখুল ইসলাম ৪/২২)
হযরত ইমাম ইবনে হাজার আসক্বালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,
وتزوج رسول اللَّه صلّى اللَّه عليه وسلّم حفصة بعد عائشة.
অর্থ: “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনার পর ইবনাতু আবীহা, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আর রবি‘য়াহ্ আলাইহাস সালাম উনাকে মহাসম্মানিত ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ-এ আবদ্ধ করেন। সুবহানাল্লাহ! (আল ইছাবাহ্ ৮/৮৫)
কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
وهي الرابعة في ترتيب زوجاته بعد خديجة وسودة وعائشة.
অর্থ: “আর ইবনাতু আবীহা, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আর রবি‘য়াহ আলাইহাস সালাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার এবং উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের পর মহাসম্মানিত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের ধারাবাহিকতা মুবারক অনুযায়ী ‘আর রবি‘য়াহ তথা চতুর্থ।” সুবহানাল্লাহ!
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, “৩য় হিজরী শরীফ উনার ৪ঠা শা’বান শরীফ লাইলাতু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ (ইছনাইনিল ‘আযীম শরীফ রাত) নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে ইবনাতু আবীহা, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আর রবি‘য়াহ্ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হন। সুবহানাল্লাহ! তখন দুনিয়াবী দৃষ্টিতে ইবনাতু আবীহা, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আর রবি‘য়াহ্ আলাইহাস সালাম উনার বয়স মুবারক ছিলেন ২১ বছর ২ মাস ২০ দিন। সুবহানাল্লাহ! তিনি ৭ বছর ৭ মাস ৮ দিন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেন।” সুবহানাল্লাহ

Views All Time
1
Views Today
4
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে