মুবারক হো আসন্ন ১৫ শাবান শরীফ


মুবারক হো আসন্ন ১৫ শাবান শরীফ
তথা পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার পঞ্চম খলীফা সাইয়্যিদুশ শুহাদা, সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, আহলু বাইতিন নাবিইয়ি, আওলাদু রসূলিল্লাহ, ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ইমামুল হুমাম আউওয়াল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম
উনার সুমহান মহিমান্বিত বিলাদত শরীফ
সব প্রশংসা খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ ও সালাম মুবারক।
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “আমি খেলাচ্ছলে এ পৃথিবী সৃষ্টি করিনি। আর কোন উদ্দেশ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি সৃষ্টি করেছেন তাও অপ্রকাশিত রাখেননি।” মহান আল্লাহ পাক জাল্লা শানুহু তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “নিশ্চয়ই আমি জিন ও ইনসানকে সৃষ্টি করেছি কেবলমাত্র আমার ইবাদত করার উদ্দেশ্যে।” ‘ইবাদত’ শব্দের তাফসীরে বলা হয় মা’রিফাত-মুহব্বত উনাদের কথা।
মূলত মহান আল্লাহ পাক উনার মা’রিফাত-মুহব্বত উনাদের দিকে ধাবিত হতে হলে আমাদেরকে অনিবার্যভাবে নিবিষ্ট ও নিবেদিত হতে হবে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি।
আর সেক্ষেত্রে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- হযরত আদী বিন ছাবিত রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমি হযরত বারা’ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র কাঁধ মুবারক উনার উপর ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূল্লিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম উনাকে দেখেছি। মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যে ব্যক্তি আমাকে মুহব্বত করে, সে যেনো উনাকে অর্থাৎ হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূল্লিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মুহব্বত করে।”
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি (উম্মতদেরকে) বলুন, আমি তোমাদের নিকট কোনো প্রতিদান চাই না। (আর তোমাদের পক্ষে তা দেয়াও সম্ভব নয়) তবে যেহেতু তোমাদের ইহকাল ও পরকালে নাজাত লাভ করতে হবে, মুহব্বত-মা’রিফাত, রেযামন্দি মুবারক হাছিল করতে হবে সেহেতু তোমাদের দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- আমার নিকটজন তথা হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম ও আওলাদ আলাইহিমুস সালামগণ উনাদের প্রতি তোমরা সদাচারণ করবে।” (পবিত্র সূরা শূরা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ২৩)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, “হযরত যায়িদ ইবনে আরকাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, নিশ্চয়ই রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম, হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম, হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূল্লিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সম্পর্কে বলেছেন, যারা উনাদের প্রতি শত্রুতা পোষণ করবে, প্রকৃতপক্ষে তারা আমার প্রতিই শত্রুতা পোষণ করলো। পক্ষান্তরে যে উনাদের সাথে সদ্ব্যবহার করবে, আমি তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করবো।” (পবিত্র তিরমিযী শরীফ)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “হযরত বারা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখেছি যে, তিনি হাসান ইবনে হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনাকে নিজের কাঁধ মুবারক উনার উপর রেখে বলছেন, হে মহান আল্লাহ পাক! আমি উনাকে মুহব্বত করি, আপনিও উনাকে মুহব্বত করুন।” (মুত্তাফাকুন আলাইহি)
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার পঞ্চম খলীফা সাইয়্যিদুশ শুহাদা, সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, আহলু বাইতিন নাবিইয়ি, আওলাদু রসূলিল্লাহ, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূল্লিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের বেমেছাল বুযুর্গী সম্পর্কে তৎকালীন কাফিররাও উপলব্ধি করতে পেরেছিল। ইতিহাসে বর্ণিত রয়েছে- নজরানের ঈসায়ীদের (খ্রিস্টানদের) একটি প্রতিনিধি দল পবিত্র মদীনা শরীফ-এ আগমন করে। তাদের সঙ্গে আলোচনার ব্যাপারে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে। তাদের অস্বীকৃতিতে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দোয়া মুবারক উনার মাধ্যমে এর ফায়ছালা চান। এটাকে “দাওয়াতে মুবাহালা” বলা হয়। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সদস্যদেরকে নিয়ে বাইরে তাশরীফ আনেন। এসব পবিত্র নূরানী চেহারা মুবারক দেখে ঈসায়ীদের প্রধান পাদ্রী তার দলের লোকদেরকে বললো: “আমি এমনসব পবিত্র চেহারা মুবারক দেখছি, উনাদের দোয়া পাহাড়সমূহকেও আপন স্থান হতে হটিয়ে দিতে পারে। সুতরাং উনাদের সাথে মুবাহালা করে ধ্বংস হয়ো না।” পবিত্র আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সদস্য হিসেবে সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূল্লিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও তথায় উপস্থিত ছিলেন। (সুবহানাল্লাহ)
কিন্তু আজ মুসলমানরাও উনাদের ফযীলত মুবারক, শান-শওকত মুবারক সম্পর্কে উপলব্ধি করতে পারছে না। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে উনাদের সম্পর্কে সরকারি-বেসরকারিভাবে এমনকী নামধারী আলিমদের থেকেও কোনো মূল্যায়ন নেই। আলোচনা নেই। উপলব্ধি নেই। অনুভব নেই।
অথচ পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার পঞ্চম খলীফা, সাইয়্যিদুশ শুহাদা, সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, আহলু বাইতিন, নাবিইয়ি আওলাদু রসূলিল্লাহ, সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূল্লিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আলোচনা মুবারক করলে উম্মাহর মাঝে তথা ৯৭ ভাগ অধিবাসী মুসলমানের মাঝে উনার অব্যক্ত, অনুপম প্রভাব মুবারক পড়তো। প্রতিফলন হতো। অব্যক্ত অশেষ রহমত নাযিল হতো। তাতে করে এদেশবাসীর মাঝে দুর্নীতি থেকে সব সামাজিক ব্যাধি দূর হতো। ব্যক্তি, সমাজ ও সরকার কলুষমুক্ত হতো।
বলাবাহুল্য, এরকম সহজলভ্য এবং স্বতঃস্ফূত রহমত থেকে বঞ্চিত করে বিকৃত মানসিকতায় প্রবাহিত করার দায়ভার ৯৭ ভাগ মুসলমানের রাষ্ট্রের সরকার কিছুতেই এড়াতে পারেনা।
৯৭ ভাগ মুসলমানের রাষ্ট্র শুধু উৎপাদন, বণ্টন এবং কথিত মৌলিক চাহিদা পূরণ নিয়েই ব্যস্ত থাকতে পারেনা। ৯৭ ভাগ মুসলমানদের মাঝে তাদের জীবনের মূল দর্শন বিস্তার করাও অবিচ্ছেদ্য ও অনিবার্য।
৯৭ ভাগ মুসলমানের মাঝে এ চেতনা বিস্তার করা জরুরী যে- মুসলমানের জীবন হলো মুহব্বতভিত্তিক। মুহব্বতে ফানা হয়ে বাক্বা লাভ করাই জীবনের ব্যাপকতা ও সফলতা।
আর তা অবশ্যই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং উনার হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম তথা আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মাঝে। (সুবহানাল্লাহ)
সঙ্গতকারণেই তাই বলতে হয়- আসন্ন ১৫ শা’বান শরীফ পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার পঞ্চম খলীফা সাইয়্যিদুশ শুহাদা, সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, আহলু বাইতিন নাবিইয়ি, আওলাদু রসূলিল্লাহ, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূল্লিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ উপলক্ষে প্রত্যেক মুসলিম-অমুসলিম সরকারের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ দিবস উপলক্ষে বাধ্যতামূলক ছুটি ঘোষণা করা এবং বিশেষ সরকারি খরচে ব্যাপক জওক-শওকের সাথে দিবস মুবারকটি যথাযথ পালন করা।
মূলত এসব দায়িত্ববোধ আসে পবিত্র দ্বীন ইসলামী অনুভূতি ও প্রজ্ঞা থেকে। আর তার জন্য চাই নেক ছোহবত তথা ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ মুবারক। যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারক লাভে তথা উনার যথাযথ খিদমত ও তা’যীম-তাকরীমেই সে মহান নিয়ামত হাছিল সম্ভব। কারণ বর্তমান যামানায় তিনিই হচ্ছেন সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূল্লিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার লক্ষ্যস্থল আওলাদ শরীফ। সুবহানাল্লাহ! খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের তা নছীব করুন। (আমীন)

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে