মুবারক হো মি’রাজ শরীফ


মুবারক হো মি’রাজ শরীফ
মুসলমান মানেই মি’রাজ শরীফ সম্পর্কে ছহীহ আক্বীদা পোষণ করতে হবে। সম্যক ইলম হাছিল করতে হবে।
যথাযথ শান-শওকত এবং জওক- শওকের সাথে মি’রাজ শরীফ পালন করতে হবে।
পাশাপাশি কেবল সরকারি ছুটি দিলেই হবেনা বরং আন্তর্জাতিকভাবেই মি’রাজ শরীফ পালনের জন্য উদ্যোগ বৃহত্তম মুসলিম দেশ বাংলাদেশ সরকারকেই নিতে হবে।

সব প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ ও সালাম।
কোনরূপ স্তম্ভবিহীন সমুন্নত আকাশ তৈরিকারী কুদরতময় আল্লাহ পাক উনার পবিত্রতা ও প্রশংসা। কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দানকারী, তাযকিয়া বা পরিশুদ্ধির প্রক্রিয়া প্রবর্তনকারী, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সমুদয় ছলাত ও সালাম।
পবিত্র কুরআন শরীফ-এ বর্ণিত চারটি হারাম বা সম্মানিত মাসসমূহের মধ্যে একটি মাস হলো রজব। যে আশ্চর্যজনক ঘটনা রজব মাসের তাৎপর্য ও গুরুত্বকে বহুগুণ বৃদ্ধি করেছে, তা হচ্ছে মি’রাজ শরীফ। মি’রাজের শব্দগত অর্থ ঊর্ধ্বারোহণ।
চন্দ্র মাস অর্থাৎ আরবী তারিখ অনুযায়ী রাত্রি আগে গণনা করা হয় বিধায় এ বছরের জন্য আজ ২৬ রজব ইয়াওমুল আহাদি বা রবিবার দিবাগত রাত্রিটি পবিত্র মি’রাজ শরীফ-এর রাত।
পবিত্র মি’রাজ শরীফ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল ফাযায়িল, ফযীলতের মধ্যে হতে একটি বিশেষ ফাযায়িল, ফযীলত যা বিশ্বাস করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরয। আর অস্বীকার ও অবজ্ঞা করা কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত।
হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মি’রাজ রজনীতে আল্লাহ পাক উনার সাক্ষাতে গিয়েছেন। অর্থাৎ প্রথম আসমান থেকে শুরু করে সপ্তম আসমান অতিক্রম করে সিদরাতুল মুনতাহা অতিক্রম করলেন- যেখানে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি বলেছেন, আমি যদি সিদরাতুল মুনতাহা থেকে এক চুল পরিমাণ অগ্রগামী হই তাহলে আমার ছয়শত (অন্য বর্ণনায় ছয় হাজার) পাখা জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে বলে থেকে গেলেন। হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেই সিদরাতুল মুনতাহা অতিক্রম করে আল্লাহ পাক উনার সাক্ষাতে গেলেন। এরপর আরো অনেক ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল। নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জান্নাত দেখলেন, জাহান্নাম দেখলেন। হাদীছ শরীফ-এ এসেছে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আল্লাহ পাক উনার সাক্ষাতে এতোটাই নিকটবর্তী হয়েছিলেন যেমন- ধনুকের দুই মাথা যত নিকটবর্তী হয় বরং তার চেয়েও অধিক নিকটবর্তী হয়েছিলেন। সুবহানাল্লাহ!
বলাবাহুল্য, এমন অতীব গুরুত্বপূর্ণ, ফযীলতপূর্ণ রাতটি সম্পর্কে রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের দেশ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম মন্ত্রণালয় বা ইসলামিক ফাউন্ডেশন কোনই আলোকপাত করেনি।
রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের এদেশে এটা স্বীকৃত হতে পারে না। সর্বোপরি ‘কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী কোনো আইন পাস হবে না’- এ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি সরকারের জন্যও বরদাশতযোগ্য হতে পারে না।
সে সাথে দেশের শতকরা সাতানব্বই ভাগ অধিবাসীও এ ব্যাপারে নীরব ভূমিকা পালন করতে পারে না, নিষ্ক্রিয় থাকতে পারে না। ইসলামের প্রতিটি পর্ব বিশেষত সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতিটি অনুষঙ্গ জনগণ ও সরকারকে যৌথভাবে যথাযথ গুরুত্ব, আদব, মুহব্বত, জজবা তথা শান শওকতভাবে পালনের জন্য সর্বোত সক্রিয় হতে হবে। সরকারি ছুটি নিশ্চিত করতে হবে এবং আন্তর্জাতিকভাবে পালনের জন্য সক্রিয় উগ্যোগ গ্রহণ ও বিশেষ পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করতে হবে।
সে যুগে কাফিররা মি’রাজ শরীফ নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ছিল এ যুগেও কাফিরদের অনুসারীরা তদ্রƒপ দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মহান আল্লাহ পাক তিনি আকাশকে সাত স্তরে তৈরি করেছেন। পৃথিবীর নিকটতম আকাশকে করেছেন তারকারাজি তথা গ্রহ নক্ষত্র দ্বারা সুশোভিত। যাদের সংখ্যা, প্রকৃতি ও অস্তিত্ব সম্পর্কে কাফিরদের জ্ঞান আজও খুবই নগণ্য।
তাদের গবেষণা এখনও প্রথম আসমানের নিচে। নিকট সৌরজগতের গ-ীই তারা এখনও অতিক্রম করতে পারেনি।
কাজেই মি’রাজ শরীফ সম্পূর্ণই আল্লাহ পাক উনার কুদরত ও হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মু’জিযার অন্তর্ভুক্ত। বলা আবশ্যক, মি’রাজ শরীফ-এ যে অনন্য নিয়ামত আল্লাহ পাক উনার দীদার মুবারক হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে লাভ করেছেন তাতে অংশীদার করেছেন স্বীয় উম্মতকেও ছলাত-এর মাধ্যমে। অর্থ ছলাত-ই তার মূল সওগাত।
প্রসঙ্গত মি’রাজ শরীফ-এর ঘটনায় আরেকটি বিষয় প্রতিভাত হয় যে, মুসলমানের জীবন চেতনা ঊর্ধ্বমুখী। মুসলমান বিশ্বাস করে যা কিছু ফায়ছালা হয় সাত আসমানের উপরে। মুসলমান প্রতিদিন কমপক্ষে ১১ বার আসমান অভিমুখে দু’হাত উত্তোলন করে। এ উত্তোলন অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও নিখুঁত প্রতীকী। এর দ্বারা প্রকাশ পায় মুসলমান দুনিয়ার কারো ইবাদত করেনা এবং দুনিয়ায় কারো কাছে কিছু চায় না। যা মুসলমান নামাযে বলে থাকে। কাজেই মুসলমান যদি সত্যিকার নামাযী হতেন তাহলে তাদের কোনই সমস্যা থাকতো না।
হিসাব মতে প্রায় তিনশত কোটি লোক সারা পৃথিবীতে প্রতিদিন নামায পড়ছেন। হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ে তার দ্বারা স্বাভাবিকভাবে কোন পাপ কাজ হওয়া সম্ভব নয়।” তাহলে প্রতিভাত হচ্ছে, যে সব মুসলমান নামায পড়ছে কিন্তু পাপ ছাড়তে পারছে না আসলে তাদের নামাযই হচ্ছে না। এর পেছনে কারণ হলো তাদের কলুষযুক্ত ক্বলব বা অন্তঃকরণ। তারা নামাযে দাঁড়িয়ে মুখে আওড়াচ্ছে সূরা ফাতিহা। কিন্তু মাথায়, মনে গিজগিজ করছে বিভিন্ন চিন্তা। এ ধরনের নামাযী সম্পর্কেই ইরশাদ হয়েছে, “ওই মুছুল্লীর জন্য জাহান্নাম যে নামাযে বেখেয়াল থাকে।” (সূরা মাঊন : আয়াত শরীফ ৪,৫)
সাবেত হয় যে, নামাযে দাঁড়িয়ে তারা মুখে যতই কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করুক তা তাদের ক্বলব বা অন্তঃকরণ পর্যন্ত পৌঁছায়না।
এ জন্য ইসলামে ক্বলবী যিকির বলে আলাদা যিকিরকে ফরয বলে স্বীকার করা হয়েছে।
হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, ‘মানুষের শরীরে এক টুকরা গোশত পি- রয়েছে। তা যখন শুদ্ধ হয়ে যায় তখন গোটা মানুষটাই শুদ্ধ হয়ে যায়। আর তা যখন অশুদ্ধ হয়ে যায় তখন গোটা মানুষটাই অশুদ্ধ হয়ে যায়।’ অন্য হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, ‘মানুষের ক্বলব যখন যিকির করে তখন ক্বলবে হযরত ফেরেশ্তা আলাইহিস সালাম আসন নেন এবং নেক কাজে আনন্দ দেন। আর ক্বলব যখন যিকির থেকে গাফিল থাকে তখন সে শূন্য স্থানে শয়তান বসে যায় এবং পাপ কাজে ওয়াসওয়াসা ও আনন্দ দেয়।’
উল্লেখ্য এই ক্বলবী যিকির থেকে গাফিল থাকার কারণেই নামধারী, ধর্মব্যবসায়ী উলামায়ে ‘সূ’দের প্রকট প্রাদুর্ভাব চলছে। তারা আজ ইসলামের নামে ছবি, বেপর্দা, নারী নেতৃত্ব, হরতাল, লংমার্চ, মৌলবাদ, ব্লাসফেমী, ভোট চাওয়া নির্বাচন করা ইত্যাদি করে যাচ্ছে। এদের সম্পর্কে তাই কুরআন শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “সেই ব্যক্তিকে অনুসরণ করোনা, যার ক্বলবকে আমার যিকির থেকে গাফিল করেছি। অর্থাৎ যার ক্বলবে আমার যিকির নেই সে নফসকে (শয়তানকে) অনুসরণ করে। আর তার কাজগুলো শরীয়তের খিলাফ।” (সূরা কাহাফ-২৮)
অতএব, ক্বলবী যিকিরবিহীন এসব ধর্ম ব্যবসায়ীদের দ্বারা কোনদিনই ক্বলবের শুদ্ধতা হাছিল ও ধর্মের স্বাদ আস্বাদন এবং নামাযে মি’রাজ হাছিল হওয়া সম্ভব নয়। তা সম্ভব কেবলমাত্র মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবতে। যাঁর ক্বলব মুবারক বেমেছাল রূহানী ক্ষমতায় সমৃদ্ধ। (আমীন)

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+