মুবারক হো সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর, পবিত্র ঈদে বিলাদতে ইমামুল উমাম হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম।


 ইমামুল উমাম ইমাম মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নেক ছায়াতলে উপনীত হওয়া বর্তমান যামানায় সবার জন্য ফরয-ওয়াজিব। মুবারক হো সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর, পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদযাপনের ঘনঘটা উম্মত হিসেবে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি আমাদের মুহব্বতের মাপকাঠির সূচক নির্দেশ করে। সব প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক। আজ মহিমান্বিত, আলোকিত, উদ্ভাসিত, হাস্যোজ্জ্বল, আড়ম্বরপূর্ণ, বেমেছাল শান-শওকতযুক্ত ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ইমাম ও মুজাদ্দিদ, ইমামে আ’যম, মুজাদ্দিদে আ’যম, হাবীবে আ’যম, ফারূক্বে আ’যম, গাউছুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, হাবীবুল্লাহ, আওলাদে রসূল, ইমামুল উমাম, রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহিমান্বিত বিলাদত শরীফ দিবস। এ অর্থেই আজ মুরীদ-মুতাক্বিদ, সমঝদার এবং সব হাক্বীক্বী দ্বীনদারদের জন্য আজ সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর পবিত্র ঈদে বিলাদতে মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ! মূলত, পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের আলোকে পরিপূর্ণভাবে প্রমাণিত যে, ইমামে আ’যম হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি পৃথিবীর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মুজাদ্দিদ। সুবহানাল্লাহ! প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসমাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিছাল শরীফ গ্রহণ করার পর সম্মানিত ইমামতের মাক্বামই শ্রেষ্ঠ আর সর্বশ্রেষ্ঠ ইমাম তথা ইমামুল উমাম হচ্ছেন- মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম। পবিত্র কুরআন শরীফ উনার স্থানে স্থানে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হে ঈমানদারগণ! দেখা যাচ্ছে সব কিছুর পূর্বে প্রথম হলো পবিত্র ঈমান। সবকিছুর ঊর্ধ্বে হলো পবিত্র ঈমান। ইমামুল উমাম হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র ঈমান উনার যে শুদ্ধতা বর্ণনা করেছেন তা ইতিহাসে অনন্য। তিনি মানুষের আক্বীদা শুদ্ধ করেছেন ‘মহান আল্লাহ পাক উনার সম্পর্কে’; ‘মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে’; ‘হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামগণ উনাদের সম্পর্কে’। শুধু আক্বীদা বিশুদ্ধকরণই নয়, বরং উনাদের সম্পর্কে একদিকে কত ব্যাপক আদব রক্ষা করা দরকার সে সম্পর্কে বেমেছালভাবে ইলম মুবারক দান করেছেন তিনি। পাশাপাশি উনাদের সম্পর্কে আদব মুবারক কত সূক্ষ্ম এবং সামান্য স্খলনে যে পবিত্র ঈমানহারা হতে হয় সে সম্পর্কে সর্বোচ্চ সতর্ক করেছেন তিনি। অপরদিকে হাক্বীক্বী পবিত্র ইলম উনার প্রথম পরিচয়ও দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, পবিত্র ইলমে লাদুন্নী উনার দুটি দরজা মুবারক। একটি পবিত্র আরশে পাক উনার দিকে। অপরটি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে এবং এ দিক মুবারকটির ফায়দা ও সমৃদ্ধতা এত বেশি যে- সাধারণভাবে সবাই যে পবিত্র আরশে পাক বা পবিত্র লওহে-কলম উনাদের দিকে ঝুঁকে, তা সিন্ধুর তুলনায় বিন্দু পরিমাণও নয়। সুবহানাল্লাহ! মূলত আখিরী রসূল, মুত্তালা আলাল গায়িব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে বেমেছাল পরিপূর্ণ পবিত্র ইলমে লাদুন্নী মুবারক পেয়েছেন ইমামে আ’যম হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি। তাই উনার মতে পবিত্র ইলম উনার কিছুই মূলত প্রকাশ পায়নি। সুবহানাল্লাহ! অপরদিকে উনি উনার পবিত্র ইলম উনার যে ছিটাফোঁটা জাহির করেছেন তাতেই খ-িত হয়েছে এযাবৎ কালের বাতিল সব ফতওয়া। প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সব হক্ব ফতওয়া মুবারক। প্রকাশিত হয়েছে হাজার হাজার সব দলীল মুবারক। সুবহানাল্লাহ! ইমামুল উমাম, ইমামে আ’যম হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি যে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মুজাদ্দিদ উহার আরেকটি সুস্পষ্ট ও সহজ দালীলিক প্রমাণ হলো যে- তিনিই ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি পবিত্র সুন্নত মুবারক জিন্দা করেছেন। প্রবর্তন করছেন। পালন করছেন। সুবহানাল্লাহ! একথা প্রতিষ্ঠিত সত্য- যিনি যত বেশি সুন্নত পালন করেন তিনি তত বড় মহান মুজাদ্দিদ। সুতরাং সাধারণের জন্য এ কথাটিও প্রযোজ্য এবং প্রমাণিত। অপরদিকে যত হযরত মুজাদ্দিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের পবিত্র জীবনী মুবারক এ পর্যন্ত জানা যায় উনারা সবাই অঞ্চল হিসেবে উনাদের কাজ চালিয়েছেন। অপরদিকে ইমামে আ’যম হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি উনার তাজদীদী রোব মুবারক গোটা বিশ্বে বিস্তৃত করেছেন। তিনি উনার রূহানী শক্তি মুবারক দিয়ে আমেরিকা-ইউরোপের তথাকথিত সব সুপার পাওয়ারগুলোকে তছনছ করে দিচ্ছেন। তাদেরকে অর্থনৈতিক মন্দায় বিপর্যস্ত করে একের পর এক খোদায়ী গযবের দ্বারা ধ্বংস করে দিচ্ছেন। সুবহানাল্লাহ! এসবই হচ্ছে উনার মক্ববুল দোয়া মুবারক ও রূহানী রোব মুবারক উনার প্রেক্ষিতে। সুবহানাল্লাহ! ইমামুল উমাম, ইমামে আ’যম হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি যমীনকে-আসমান এবং আসমানকে-যমীন করে দেয়ার ক্ষমতার চেয়েও অনেক বেশি রূহানী ক্ষমতা মুবারক ধারণ করেন। সুবহানাল্লাহ! তাইতো তিনি অতি সহজেই শীঘ্রই ফিরিয়ে দিচ্ছেন মুসলমানগণ উনাদের হারানো সোনালী ঐতিহ্য। তিনি মুসলমানগণ উনাদের হীনম্মন্যতা দূর করে দিচ্ছেন। বাদশাহর জাত মুসলমানগণ উনাদের হাতে পুনরায় বাদশাহী ফিরিয়ে দিচ্ছেন। সুবহানাল্লাহ! ইমামুল উমাম, ইমামে আ’যম হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম সব তন্ত্রমন্ত্রের অন্তঃসারশূন্যতা প্রকাশ করে দিচ্ছেন। গুমরাহ শাসকদের প্রতি মানুষের অন্তরের মুহব্বত দূর করে দিচ্ছেন। তৈরি করছেন পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার প্রতি মুহব্বত। খিলাফতের যোগ্যতা। সুবহানাল্লাহ! ইমামুল উমাম, ইমামে আ’যম হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক ও বান্দা মুসলমানগণ উনাদের মাঝে অপূর্ব উপায়ে সংযোগ ঘটিয়ে দিচ্ছেন। মুসলমানগণ উনাদের ঈমানী জযবা, সম্মানিত ইসলামী মুহব্বত ফিরিয়ে দিচ্ছেন। মুসলমানগণ উনাদের পবিত্র ঈমান উনার প্রথম এবং প্রধান বিষয় হলো- আখেরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বত মুবারক। যে মুহব্বত থাকলে মুসলমান স্বতঃস্ফূর্তভাবে সম্মানিত ইসলামী আমলসমূহ করে এবং সতর্কভাবে সব অনৈসলামী আমল থেকে দূরে থাকে। ইমামুল উমাম, ইমামে আ’যম হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার অনবদ্য তাজদীদ মুবারক- সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনের উদাত্ত জযবা তৈরির দ্বারা এ উম্মাহকে সে মহান ও অমূল্য নিয়ামত নসীব করছেন। সুবহানাল্লাহ! মূলত, যতই ফিকির করা যাবে ততই উপলব্ধি করা যাবে উনার হাজারো তাজদীদ এবং তিনিই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মুজাদ্দিদ তথা মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম- এই অকাট্য সত্য কথা। সঙ্গতকারণেই এ সত্য এখন আমাদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে এবং বুলন্দ আওয়াজে উচ্চারণ করতে হবে। সর্বত্র বিস্তৃত করতে হবে। ব্যক্তি থেকে সরকার সবাইকে সম্পৃক্ত করতে হবে। তবেই সবাই লাভ করতে পারবে কাঙ্খিত ফায়দা। বাঞ্ছিত নিয়ামত। নতুবা পরিণতি হবে ভয়াবহ। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- “যে যামানার সম্মানিত ইমাম উনাকে চিনলো না, সে যেন জাহিলিয়াতের মধ্যে মারা গেল।” মূলত, তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে তথ্যহীন হওয়া তথা জাহিলিয়াতের মধ্যে মারা যাওয়া একেবারেই বেমানান, অসঙ্গত, অযথার্থ এবং অন্যায়। সুতরাং সচেতন ও সমঝদার হতে হলে আমাদের সবাইকে ইমামুল উমাম, ইমামে আ’যম হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নেক ছায়াতলে উপনীত হতে হবে। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা এ উম্মাহকে কবুল করুন এবং কামিয়াবী দান করুন। (আমীন) সব প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য। যিনি একটি গুপ্ত ধনভা-ার ছিলেন। পবিত্র হাদীছে কুদসী শরীফ উনার মধ্যে তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আমার ইচ্ছা হলো- আমি প্রকাশিত হই, অতঃপর আমি সর্বপ্রথম নূরে মুকাররম, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাজসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূর মুরারক তৈরি করলাম।” নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অনন্তকালের জন্য অফুরন্ত পবিত্র দুরূদ শরীফ এবং ছলাত শরীফ ও সালাম মুবারক। আজ মহিমান্বিত ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ। যমীনের বুকে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমন মুবারক উনার দিন। তথা সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যথাযথভাবে পালনের অর্থ মহান আল্লাহ পাক উনার মূল ও প্রধান ইচ্ছার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা। আর এর বিপরীত হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক উনার মূল ও প্রধান ইচ্ছার প্রতি অসম্মান ও শত্রুতা করা। যা ইবলিসী খাছলত এবং চূড়ান্ত হালাকীর কারণ। নাঊযুবিল্লাহ! হালে সরকারিভাবে সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদযাপন করা হয়। ভি,আই,পি রাস্তায় কিছু রঙিন পতাকা, ব্যানার ইত্যাদি টানানো হয়। বিচ্ছিন্নভাবে অন্তঃসারশূন্য কিছু মাহফিল, সেমিনার ইত্যাদির ব্যবস্থা করা হয় এবং একেই যথেষ্ট বলে মনে করা হয়। অথচ তুলনামূলক তথ্যে দেখা যায়- এদেশের রবীন্দ্র জয়ন্তী, ২৫ ডিসেম্বর, ১লা বৈশাখসহ অন্যান্য অনুষ্ঠানে যে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয় তার চেয়ে অনেক কম অর্থই কেবল নয়, বরং কম উৎসাহ ও কম আয়োজনের দ্বারা যেনতেনভাবে সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তথা পবিত্র ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ উনার সুমহান দিনটিকে অতিক্রান্ত করা হয়। অথচ পবিত্র ঈমান উনার একান্ত দাবির কারণেই এ মুবারক উপলক্ষটি সরকারি-বেসরকারি সর্বমহলে, ছোট-বড় নির্বিশেষে ব্যাপক আয়োজনে, বিপুল উৎসাহে, গভীর মূল্যায়নে, স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালিত হওয়ার দাবি রাখে। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে: “তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা তোমাদের বাবা-মা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন এমনকি নিজের জীবন থেকে আমাকে বেশি মুহব্বত করতে না পারবে।” এই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার প্রেক্ষিতে জ্বলন্ত জিজ্ঞাসা ব্যক্তি মুসলমান থেকে রাষ্ট্রের প্রতি- আমরা আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সর্বক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিতে পেরেছি কি?’ অথচ মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়েছেন। পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আমি আপনার আলোচনাকে বুলন্দ করেছি।” কতটুকু বুলন্দ? এতটুকু যে- মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র নাম মুবারক উনার সাথে সংযুক্ত করে দিয়েছেন। কোনো ব্যক্তি শুধু ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পড়লে ক্বিয়ামত পর্যন্ত মুসলমান হতে পারবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে ‘মুহাম্মদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ না পড়বেন। সুবহানাল্লাহ! প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বাংলাদেশ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল শিক্ষা বোর্ডের কারিকুলামে সাধারণ শিক্ষায়, সর্বোত্তম আদর্শ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য কোন নিবন্ধ স্থান পায়নি। অবশিষ্ট শ্রেণীগুলোতে নামকাওয়াস্তে সংক্ষিপ্তাকারে মাত্র একটি নিবন্ধ স্থান পেয়েছে। এভাবে পরবর্তীতে উচ্চ মাধ্যমিক এবং গ্রাজুয়েশন ডিগ্রি লাভ করে এ দেশের মুসলমান সন্তান প্রথম শ্রেণীর নাগরিক হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কিত সর্বমোট দশ থেকে বারটি নিবন্ধ পড়ে। অর্থাৎ বস্তুতান্ত্রিক শিক্ষায় শিক্ষিত বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণীর মুসলমান নাগরিকটি থেকে যাচ্ছে তার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক জীবন চরিত- উনার সর্বোত্তম আদর্শ সম্বন্ধে নেহায়েত অজ্ঞতাবস্থায়। আর সেক্ষেত্রে শিক্ষাঙ্গনে সর্বোচ্চ বাজেট তথা হাজার হাজার কোটি টাকার বাজেট করেও সুশিক্ষিত সন্তান পেতে জাতি করুণভাবে বঞ্চিত হচ্ছে। উল্লেখ্য, শিক্ষাঙ্গনে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রসঙ্গে এত সঙ্কুচিত হবার ক্ষেত্রটি মূলত ব্রিটিশ বেনিয়াদেরই কর্মফসল। ১৮১৩ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া এদেশের শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রথম নজর দেয়। এ ধারাবাহিকতায় ১৮২৩ সালে শিক্ষার ব্যাপারে নীতি নির্ধারণ ও পরামর্শদানের জন্য ‘জেনারেল কমিটি অব পাবলিক ইনস্ট্রাকশন’ নামে সংস্থা গঠিত হয়। মুসলিম ভাবধারায়, ফার্সী ভাষায় শিক্ষাদানের সুপারিশ করা হলেও ইংরেজ বেনিয়ারা প্রভূভক্ত রামমোহন রায়গং ও খ্রিস্টান মিশনারীদের সহযোগিতায় মুসলমানদের সে ন্যায্য দাবীকে ভূলুণ্ঠিত করে। বিশেষ করে এ ক্ষেত্রে বেন্টিস্কের সময় তার প্রিয়ভাজন, খ্রিস্টান মিশনারীদের মদদদাতা এ্যাংলিসিস্ট লর্ড মেকলে ১৮৩৫ সালে তার কুখ্যাত মেমোরেন্ডমে সম্পূর্ণ ব্রিটিশ ধাঁচে এদেশের শিক্ষা-ব্যবস্থাকে পরিবর্তন করার কথা বলে। এক্ষেত্রে তার অহমিকা ভরা বক্তব্য এখনো স্মর্তব্যের বিষয়। সে বলেছিল ‘আমরা এমন একটি শ্রেণী তৈরি করবো, যারা রক্তে গোশতে এদেশীয় হলেও চিন্তা-চেতনায় হবে বিলেতী।’ বলা চলে, সে হীনউদ্দেশ্য সাধনে ব্রিটিশরা সার্থক হয়েছে। আর সেটি তারা করতে পেরেছে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার বিবর্জিত, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জীবন-চরিত শূন্য সেক্যুলার শিক্ষা-ব্যবস্থা প্রণয়নের মাধ্যমেই। বলাবাহুল্য, ব্রিটিশউত্তর, চিন্তা-চেতনায় মেকলে কথিত বাঙালী সাহেবরাই এ দিকটি সঞ্জীবিত করে রেখেছে। তথাকথিত কুদরাত-ই-খোদা শিক্ষা কমিশনসহ বর্তমান কুফরী শিক্ষানীতি মূলত তারই প্রবাহ। স্মর্তব্য, বস্তুতান্ত্রিক শিক্ষা অর্থাৎ হালাল কামাই করার জন্য যে শিক্ষা যা হুনরের অন্তর্ভুক্ত। তার প্রয়োজনীয়তা পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে বলা হয়েছে। কিন্তু শর্ত হচ্ছে তার সাথে সম্মানিত ইসলামী আদর্শ উনার সমন্বয়। অর্থাৎ সর্বকালের, সর্বোৎকৃষ্ট আদর্শ, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর আক্বদাছ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদর্শের যোগসাধন ও রূপায়ণ। উল্লেখ্য, এদেশের রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে পবিত্র দ্বীন ইসলাম স্বীকৃত। কিন্তু কথা হচ্ছে রাষ্ট্রযন্ত্র কী পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাকে মানে? রাষ্ট্রযন্ত্র কী পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাকে স্বীকার করে? রাষ্ট্রযন্ত্র কী পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাকে পালনে যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা করে? রাষ্ট্রযন্ত্র কী সম্মানিত ইসলামী মূল্যবোধ উনার উজ্জীবন ঘটায়? রাষ্ট্রযন্ত্র কী পবিত্র ইসলাম উনার বিরোধী আচার বন্ধে পদক্ষেপ নেয়? বলাবাহুল্য, ৯৭ ভাগ মুসলমানের দেশ হিসেবে রাষ্ট্রধর্ম পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দেশ হিসেবে রাষ্ট্রযন্ত্রের পক্ষে উপরিল্লিখিত জিজ্ঞাসার জবাব হ্যাঁ বোধক হওয়া বাঞ্ছনীয় ছিল। কিন্তু বাস্তবতা হলো রাষ্ট্রযন্ত্র তা করতে চরম-পরমভাবে ব্যর্থ। বরং উল্টোদিকে তার বল্গাহীন অগ্রযাত্রা। নাঊযুবিল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! নিশ্চয়ই আমি আপনাকে প্রেরণ করেছি সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও ভয় প্রদর্শনকারীরূপে।” (পবিত্র সূরা ফাতহ শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৯) প্রসঙ্গত জান্নাতের সুসংবাদ এবং জাহান্নামের ভয় এখানে উল্লেখ্য। বলাবাহুল্য, দেশের মুসলমান এখনও জান্নাত আশা করে জাহান্নামকে ভয় পায়। আর জান্নাত-জাহান্নামের আমল সম্পর্কেও তারা অজ্ঞাত নয়। যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে জান্নাত-জাহান্নাম-এর মূলত মালিক- আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মর্যাদা মুবারক, মূল্যায়ন মুবারক, শান-মান মুবারক অনুধাবন, আদেশ-নিষেধ মুবারক পালন থেকে তারা কী করে পিছিয়ে থাকতে পারে? কাজেই মুসলমানকে ‘মুসলমানিত্ব’ বুঝতে হবে। ‘আশহাদু আন্না মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাক্বীক্বীভাবে বলতে হবে ও আমলে আনতে হবে। মূলত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যথাযথ ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালনের দ্বারাই মুসলমান সে সম্মানিত ঈমানী চেতনা ও প্রেরণা তথা কুওওয়াত বা নিয়ামত পাবে। রাষ্ট্রধর্ম পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার এদেশে, ৯৭ ভাগ মুসলমান অধিবাসীর এদেশে- সর্বপ্রধান, সর্বশ্রেষ্ঠ, সর্বোচ্চ সরকারি উৎসব হবে সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনের উৎসব। এ উৎসবকে উপলক্ষ করেই হাজার হাজার কোটি টাকা বাজেট করতে হবে। দেশের সব গরিব-দুঃখীদের এ পবিত্র ঈদ পালনের জন্য প্রভূত সরকারি সাহায্য দিতে হবে। গোটা পবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ মাস উনাকেই ছুটির মাস হিসেবে গণ্য করতে হবে। দেশের দশ লাখ মসজিদে ব্যাপক সরকারি সহযোগিতায় পবিত্র ওয়াজ শরীফ মাহফিল, পবিত্র মীলাদ শরীফ মাহফিল ও উন্নতমানের তবারক বিতরণ ইত্যাদির ব্যবস্থা করতে হবে। তবে আবশ্যকীয়ভাবে মনে রাখতে হবে, হামিলু লিওয়ায়িল হামদ, হাবীবে আ’যম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সার্বক্ষণিক রূহানী সংযোগ সমৃদ্ধ ও উনার মহান সুন্নত দ্বারা সুশোভিত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবতের মাধ্যমেই আমাদের পক্ষে পাওয়া সম্ভব সনদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জাত মুবারক ও পবিত্র ছিফত মুবারক সম্পর্কিত ইলম ও ফিকির, উনার হাক্বীক্বত সম্পর্কিত মা’রিফাত এবং উনার পূর্ণ অনুসরণ ও সুন্নত পালনের এবং সর্বোপরি চরম, পরম ও গভীর মুহব্বত, তা’যীম-তাকরীম ও আদবের সাথে সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর, পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনের কুওওয়ত। পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে সেসব নিয়ামত হাছিলই হোক আমাদের সকলের অন্তরের আরজু। (আমীন)

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে