মুবারক হো সুমহান পবিত্র ২২শে শাওওয়াল শরীফ: উম্মু আবীহা, উম্মুল খইর সাইয়্যিদাতুনা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র নিসবাতুল আযীম মুবারক দিবস


নারায়ে তাকবীর- আল্লাহু আকবার

শাহযাদী ঊলা- জিন্দাবাদ

শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা- জিন্দাবাদ

শাহ নাওয়াসী ক্বিবলা- জিন্দাবাদ

আহলে বাইত শরীফ- জিন্দাবাদ

সুমহান পবিত্র ২২শে শাওওয়াল শরীফ। উম্মু আবীহা, ফক্বীহাতুন নিসা, মাদারযাদ ওলী, ক্বায়িম-মাক্বামে সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদাতুনা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার সুমহান শাদী বা নিসবাতুল আযীম মুবারক দিবস। সুবহানাল্লাহ!

হযরত নাক্বীবাতুল উমাম! তিনি তো কুদরতময়। উনার শানে কিছু লিখার যোগ্যতা আদৌ কারো আছে কী? তবুও খানিকটা সান্তনা পাওয়ার অবকাশ বৈকি!

খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ যিনি খালিক্ব, মালিক, রব উনার এক অপরূপা সৃষ্টি সাইয়্যিদাতুনা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম। উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার দিবসে জিন-ইনসান যাতে ইচ্ছা, অনিচ্ছায় খুশি প্রকাশ করতে পারে, আনন্দে নিজেকে বিলিয়ে দিতে পারে, এজন্যই বুঝি উনার আগমন ঘটেছে পবিত্র ঈদুল ফিতর উনার দিনে তথা পবিত্র পহেলা শাওওয়াল শরীফ-এ। সুবহানাল্লাহ!

উনার পবিত্র অসীম মুবারক শান-মান যে তিনি স্বয়ং খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আখাছ্ছুল খাছ আওলাদ, পঞ্চদশ হিজরী শতকের মহান মুজাদ্দিদ মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমামে আ’যম, গাউছুল আ’যম, কুতুবুল আলম, ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার প্রথমা বিনতু। সুবহানাল্লাহ!

পৃথিবীতে আগমন করেই সম্মানিত মাতা হিসেবে পেলেন এমন একজন আখাছছুল খাছ ওলীআল্লাহ উনাকে যে, কোনো মহীয়সী মহিলা যদি যামানার মুজাদ্দিদ হতেন, যামানার খাছ লক্ষ্যস্থল হতেন, তাহলে তিনিই হতেন যামানার খাছ লক্ষ্যস্থল, যামানার সুমহান মুজাদ্দিদ। সুবহানাল্লাহ!

পবিত্র কিতাবে পড়েছি সাইয়্যিদুল আউলিয়া, গাউছুল আ’যম, হযরত বড়পীর সাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্মানিত আম্মাজান উনার পবিত্র জীবনী মুবারক। উনার সম্পর্কে বলা হতো যে- তিনি অন্ধ, খোঁড়া, বধির, ইত্যাদি। উনাকে খোড়া বলা হয়েছিল এ জন্য যে, উনার পা মুবারক দিয়ে তিনি কোনো দিন খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ উনার অসন্তুষ্টিমূলক কাজের দিকে ধাবিত হননি এবং হওয়ার চিন্তাও করেননি। উনাকে অন্ধ বলা হতো এজন্য যে, তিনি কখনো দু’চোখ মুবারক দিয়ে কোনো বেগানা পুরুষকে দেখেননি এবং কোনো বেগানা পুরুষও উনাকে কোনো দিন দেখেনি। অর্থাৎ তিনি দু’চোখ দিয়েও কোনো দিন অসন্তুষ্টিমূলক কাজ করেননি অর্থাৎ করার চিন্তাও করেননি। ইত্যাদি ইত্যাদি ……। সুবহানাল্লাহ!

মাশুকাহ, মাহবুবাহ, রহীমাহ, নূরে মদীনা, গুলে মুবীনা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি এমনি একজন, যে উনার মুবারক শানে উপরোক্ত শব্দগুলি অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত; বরং শুধু যুক্তিযুক্তই নয়, তিনি তার থেকেও অনেক ঊর্ধ্বে, অনেক ঊর্ধ্বে যা কিনা আমাদের কল্পনারও ঊর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ! কারণ তিনি তো কুদরতময়। আর কুদরতময় বিষয় সম্পর্কে তো মানুষের ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা থাকতে পারে না।

হাবীবাতুল্লাহ, মাদারযাদ ওলী, উম্মুল খইর, সাইয়্যিদাতুনা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি এমনি এক পরশ পাথর যে, উনার মুবারক সংস্পর্শে খালিছ ওলীআল্লাহ উনাদের সৃষ্টি হয়ে থাকে। এর উত্তম মেছাল শাফিউল উমাম, মাহিউল বিদয়াত, কুতুবুল আলম, সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা আলাইহিস সালাম। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ তিনি শাফিউল উমাম হযরত শাহদামাদ আউওয়াল হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাকে উম্মুল খইর সাইয়্যিদাতুনা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার উসীলায় আখাছছুল খাছ ওলী হিসেবে কবুল করেছেন। মনোনীত ওলীআল্লাহগণ উনাদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে মর্যাদা মুবারক দান করেছেন শাফিউল উমাম হযরত শাহদামাদ আউওয়াল হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনাকে।

মূলত, খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার ওলীগণ উনাদের সকল বিষয়গুলো মু’মিন-মু’মিনা উনাদের জন্য নাজাত উনার উসীলা। যারা যে কোনো বিষয়ে ওলীআল্লাহগণ উনাদের সাথে হাক্বীক্বীভাবে সংশ্লিষ্ট হতে পারবে তারা নাজাত পেয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ! এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই।

বর্ণনায় পাওয়া যায়, পবিত্র হাশর উনার মাঠে অনেক আমলহীন ব্যক্তি জাহান্নামের দিকে ধাবিত হবে। তখন খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ তিনি তাদেরকে ডেকে জিজ্ঞাসা করবেন যে, তারা কোনো দিন ওলীআল্লাহগণ উনাদের সাথে চলাফেরা, উঠা-বসা, খাওয়া-দাওয়া কিংবা মুহব্বত বা খিদমত করেছিলো কিনা। তখন আমলহীন লোকগুলো বলবে, না। আবার খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি জিজ্ঞাসা করবেন তাহলে এমন কোন ব্যক্তির সাথে মেলামেশা বা মুহব্বত রেখেছিলে যাঁরা ওলীআল্লাহগণ উনাদের সাথে সংশ্লিষ্ট। তখন সেই আমলহীন লোকেরা বলবে, হ্যাঁ! আমরা তো অমুক ব্যক্তির সাথে মেলামেশা করেছি, যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ উনার ওলীগণের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। তখন গাফুরুর রহীম খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ তিনি সেই ব্যক্তিদের বলবেন, “তোমাদেরকে সে উসীলায় ক্ষমা করে দেয়া হলো।” সুবহানাল্লাহ!

মূলত, যাঁরা খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ ওলী উনাদের সকল বিষয়গুলো আমাদের মাগফিরাতের প্রতি উত্তম উসীলা হিসেবে পরকালে উপস্থিত হবে। এজন্য সকলেরই উচিত যাঁরা ওলীআল্লাহ রয়েছেন, উনাদের হাক্বীক্বীভাবে মুহব্বত করা, অনুসরণ-অনুকরণ এবং খিদমত করা। পৃথিবীর সকল মহিলাদের জন্য উদাত্ত আহ্বান, তারা যেন নাজাতী তরী হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে হাক্বীক্বীভাবে অনুসরণ-অনুকরণ করে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের খাছ সন্তুষ্টি, রেযামন্দি মুবারক হাছিলের কোশেশ করেন।

মূলত, সাইয়্যিদাতুনা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র নিসবাতুল আযীম মুবারক উনার দিবস উপলক্ষে আমরা যদি উনার ছানা-ছিফতে মশগুল হই, খুশি প্রকাশ করি, পবিত্র মীলাদ শরীফ মাহফিল উনার আয়োজন করি, তাহলে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের খাছ সন্তুষ্টি, রেযামন্দি মুবারক হাছিল করা আমাদের জন্য অত্যন্ত সহজ হয়ে যাবে।

কারণ, খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীন তিনি সেখানে খাছ রহমত নাযিল করেন, যেখানে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার মুহসিন বান্দা-বান্দীগণ উনাদের আলোচনা হয়ে থাকে। তাহলে মাদারযাদ ওলী, রাহনুমায়ে দ্বীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার ছানা-ছিফত, মুবারক শানে পবিত্র কাছীদা শরীফ উনার আয়োজন করলে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার কিরূপ রহমত, বরকত, সাকীনা নাযিল হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

এজন্য আমাদের সকলেরই দায়িত্ব এবং কর্তব্য হবে- ওলীআল্লাহগণ উনাদের মুবারক আলোচনা করা, উনাদের সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে শরীক থাকা এবং যতটুকু সম্ভব খিদমত করার কোশেশ করা। তাই আমরা সকলেই দোয়া করবো, আর্জি করবো যেনো খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীন তিনি আমাদের সকলকে আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম এবং আওলাদে রসূল সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাদের কলিজা মুবারক উনার টুকরা মুবারক, নয়নের মণি, লখতে জিগার, মাদারযাদ ওলী, মাশুকাহ, মাহবুবা, হাবীবাতুল্লাহ, ক্বায়িম-মাক্বামে হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে হাক্বীক্বীভাবে মুহব্বত, অনুসরণ-অনুকরণ এবং খাছভাবে খিদমত করার তাওফীক দান করেন। আমীন!

Views All Time
2
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে