মুবারক হো ২০ শে শাওয়াল শরীফ


Valentines-Day-Red-Rosesএক নজরে
সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি ‘আলাল ‘আলামীন, উম্মুল মু’মিনীন আল খ¦মিসাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত পরিচিতি মুবারক

উম্মুল মু’মিনীন আল খ¦মিসাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মধ্যে বিশেষ ব্যক্তিত্বা মুবারক। সুবহানাল্লাহ! তিনি শুধু যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারিণী হচ্ছেন তিনি। সুবহানাল্লাহ! উনার সম্মানিত মুহব্বত মুবারকই হচ্ছেন সম্মানিত ঈমান। সুবহানাল্লাহ!
নিম্নে এক নজরে উনার সম্মানিত পরিচিতি মুবারক তুলে ধরা হলো-
সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক: সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত ও পবিত্র কুনিয়াত মুবারক: সইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত ও পবিত্র লক্বব মুবারক: উম্মুল মু’মিনীন, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি ‘আলাল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আত্ব ত্বাহিরাহ, আত্ব ত্বইয়্যিবাহ্, মালিকাতুল জান্নাহ, মালিকাতুল কায়িনাত এছাড়াও আরো অসংখ্য-অগণিত। সুবহানাল্লাহ!
যেই সম্মানিত লক্বব মুবারক-এ সম্মানিত পরিচিতি মুবারক গ্রহণ করেছেন: উম্মুল মু’মিনীন আল খ¦মিসাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত পিতা আলাইহিস সালাম: হযরত খুযাইমাহ্ আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিতা মাতা আলাইহাস সালাম: সাইয়্যিদাতুনা হযরত হিন্দ বিনতে ‘আউফ আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত বংশ মুবারক: বনূ হিলাল। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ: আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত নুবুওওয়াত ও রিসালত মুবারক প্রকাশের ১৪ বছর পূর্বে ২০শে শাওওয়াল শরীফ ইয়াওমুছ ছুলাছা’ শরীফ। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার সম্মানিত স্থান মুবারক: সম্মানিত ও পবিত্র মক্কা শরীফ। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত অবস্থান মুবারক: সম্মানিত ও পবিত্র মক্কা শরীফ এবং সম্মানিত ও পবিত্র মদীনা শরীফ। সুবহানাল্লাহ!
আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ: সম্মানিত ও পবিত্র মক্কা শরীফ। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে ‘আযীমুশ শান মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে ‘আযীম শরীফ: ৩য় হিজরী শরীফ। সুবহানাল্লাহ!
‘আযীমুশ শান মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে ‘আ’যীম শরীফ অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় দুনিয়াবী দৃষ্টিতে উনার সম্মানিত বয়স মুবারক: প্রায় ৩০ বছর। সুবহানাল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়া: কয়েক মাস। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ: ৪র্থ হিজরী শরীফ উনার ২৭শে রবী‘উল আউওয়াল শরীফ ইয়াওমুস সাব্ত শরীফ। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার সম্মানিত স্থান মুবারক: সম্মানিত ও পবিত্র মদীনা শরীফ। সুবহানাল্লাহ!
দুনিয়ার যমীনে সম্মানিত অবস্থান মুবারক: ৩০ বছর ৫ মাস ৭ দিন। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রওযা শরীফ: সম্মানিত জান্নাতুল বাক্বী’ শরীফ। সুবহানাল্লাহ!

উম্মুল মু’মিনীন আল খ¦মিসাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় নসবনামাহ মুবারক

উম্মুল মু’মিনীন আল খ¦মিসাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম উনার উনার মহাসম্মানিত পিতা হচ্ছেন সাইয়্যিদুনা হযরত খুযাইমাহ্ ইবনে হারিছ আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! তিনি উনার মহাসম্মানিত পিতা উনার দিক থেকে ১৭তম মহাসম্মানিত পুরুষে যেয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে মিলিত হয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! যেমন-
اُمُّ الْمُؤْمِنِيْنَ سَيِّدَتُناَ حَضْرَتْ زَيْنَبُ بِنْتُ خُزَيـْمَةَ بْنِ الْـحَارِثِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَبْدِ مَنَافِ بْنِ هِلَالِ بْنِ عَامِرِ بْنِ صَعْصَعَةَ بْنِ مُعَاوِيَةَ بْنِ بَكْرِ بْنِ هَوَازِنَ بْنِ مَنْصُوْرِ بْنِ عِكْرَمَةَ بْنِ خَصَفَةَ بْنِ قَيْسِ بْنِ عَيْلَانَ بْنِ مُضَرَ بْنِ نِزَارِ بْنِ مَعَدِّ بْنِ عَدْنَانَ عَلَيْهِمُ السَّلَامُ.
১. اُمُّ الْمُؤْمِنِيْنَ سَيِّدَتُناَ حَضْرَتْ زَيْنَبُ عَلَيْهَا السَّلَامُ উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব আলাইহাস সালাম।
২. سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ خُزَيـْمَةُ عَلَيْهِ السَّلَامُ সাইয়্যিদুনা হযরত খুযাইমাহ্ আলাইহিস সালাম।
৩. اَلْـحَارِثُ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত হারিছ আলাইহিস সালাম।
৪. عَبْدُ اللهِ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত ‘আব্দুল্লাহ আলাইহিস সালাম।
৫. سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ عَمْرٌو عَلَيْهِ السَّلَامُ সাইয়্যিদুনা হযরত ‘আমর আলাইহিস সালাম।
৬. مَنَافٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ عَبْدُ সাইয়্যিদুনা হযরত ‘আব্দু মানাফ আলাইহিস সালাম।
৭. هِلَالٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত হিলাল আলাইহিস সালাম।
৮. عَامِرٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত ‘আমির আলাইহিস সালাম।
৯. صَعْصَعَةُ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত ছ’ছ‘আহ্ আলাইহিস সালাম।
১০. مُعَاوِيَةُ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত মু‘আবিয়াহ্ আলাইহিস সালাম।
১১. بَكْرٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত বাক্র আলাইহিস সালাম।
১২. هَوَازِنُ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত হাওয়াযিন আলাইহিস সালাম।
১৩. مَنْصُوْرٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত মানছূর আলাইহিস সালাম।
১৪. عِكْرَمَةُ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত ‘ইক্রমাহ্ আলাইহিস সালাম।
১৫. خَصَفَةُ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত খ¦ছাফাহ্ আলাইহিস সালাম।
১৬. عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ قَيْسٌ সাইয়্যিদুনা হযরত ক্বইস্ আলাইহিস সালাম।
১৭. عَيْلَانُ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত ‘আইলান আলাইহিস সালাম।
১৮. سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ مُضَرُ عَلَيْهِ السَّلَامُ সাইয়্যিদুনা হযরত মুদ্বর আলাইহিস সালাম।
১৯. نِزَارٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত নিযার আলাইহিস সালাম।
২০. مَعَدٌّ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত মা‘আদ্দ আলাইহিস সালাম।
২১. عَدْنَانُ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত ‘আদ্নান আলাইহিস সালাম।
সাইয়্যিদুনা হযরত মুদ্বর আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত পূর্বপুরুষ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর আবুল বাশার সাইয়্যিদুনা হযরত ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার পর্যন্ত নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সল্লাম উনার এবং উম্মুল মু‘মিনীন আল খ¦মিসাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় নসবনামাহ মুবারক হুবহু একই। সুবহানাল্লাহ! (মিরআতুল আনসাব-৫৭, শু‘আবুল ঈমান ২/৫১৪, ‘উয়ূনুল আছার ২/৩৭০, বাহ্জাতুল মাহাফিল ১/১৯৫, ইবনে হিশাম, আর রওদ্বুল উন্ফ, মুস্তাদরকে হাকিম, আস সুনানুল কুবরা লিল বাইহাক্বী, শারহুয যারক্বানী, বিদায়াহ্-নিহায়াহ্, তারীখে ত্ববারী ইত্যাদী)
উম্মুল মু’মিনীন আল খ¦মিসাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিতা মাতা হচ্ছেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত হিন্দ বিনতে ‘আউফ আলাইহাস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! তিনি ছিলেন সম্মানিত বনী হিম্ইয়ার গোত্রের। সুবহানাল্লাহ!
তিনি হচ্ছেন-
اُمُّ الْمُؤْمِنِيْنَ سَيِّدَتُناَ حَضْرَتْ زَيْنَبُ عَلَيْهَا بنت سَيِّدَتِـناَ حَضْرَتْ هِنْدِ بِنْتِ عَوْفِ بْنِ زُهَيْرِ بْنِ الْـحَارِثِ بْنِ حَمَاطَةَ بْنِ رَبِيْعَةَ بْنِ ذِىْ جَلِيْلِ بْنِ جُرَشِ بْنِ اَسْلَمَ بْنِ زَيْدِ بْنِ الْغَوْثِ بْنِ سَعْدِ بْنِ عَوْفِ بْنِ عَدِىِّ بْنِ مَالِكِ بْنِ زَيْدِ بْنِ سَهْلِ بْنِ عَمْرِو بْنِ قَيْسِ بْنِ مُعَاوِيَةَ بْنِ جُشَمِ بْنِ عَبْدِ شَـمْسِ بْنِ وَائِلِ بْنِ الْغَوْثِ بْنِ قَطَنِ بْنِ غَرِيْبِ بْنِ زُهَيْرِ بْنِ اَيْـمَنَ بْنِ الْـهَمَيْسَعِ بْنِ حِمْيَرِ بْنِ سَبَاَ بْنِ يَشْجُبَ بْنِ يَعْرُبَ بْنِ قَحْطَانَ بْنِ هُوْدِ النَّبِــىِّ بْنِ شَالَـخِ بْنِ اَرْفَخْشَذَ بْنِ سَامِ بْنِ نُوْحِ عَلَيْهِمُ السَّلَامُ.
১. اُمُّ الْمُؤْمِنِيْنَ سَيِّدَتُناَ حَضْرَتْ زَيْنَبُ عَلَيْهَا السَّلَامُ উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব আলাইহাস সালাম।
২. سَيِّدَتُناَ حَضْرَتْ هِنْدٌ عَلَيْهَا السَّلَامُ সাইয়্যিদাতুনা হযরত হিন্দ আলাইহাস সালাম।
৩. سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ عَوْفٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ সাইয়্যিদুনা হযরত ‘আউফ আলাইহিস সালাম।
৪. زُهَيْرٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত যুহাইর আলাইহিস সালাম।
৫. اَلْـحَارِثُ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত হারিছ আলাইহিস সালাম।
৬. سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ حَمَاطَةُ عَلَيْهِ السَّلَامُ সাইয়্যিদুনা হযরত হামাত্বহ্ আলাইহিস সালাম।
৭. رَبِيْعَةُ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত রবী‘আহ্ আলাইহিস সালাম।
৮. ذُوْ جَلِيْلٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত যূ জালীল আলাইহিস সালাম।
৯. جُرَشٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত জুরাশ আলাইহিস সালাম।
১০. اَسْلَمُ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত আসলাম আলাইহিস সালাম।
১১. زَيْدٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত যায়েদ আলাইহিস সালাম।
১২. اَلْغَوْثُ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত গ¦ওছ্ আলাইহিস সালাম।
১৩. سَعْدٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত সা’দ আলাইহিস সালাম।
১৪. عَوْفٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত ‘আউফ আলাইহিস সালাম।
১৫. عَدِىٌّ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত ‘আদী আলাইহিস সালাম।
১৬. مَالِكٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত মালিক আলাইহিস সালাম।
১৭. عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ زَيْدٌ সাইয়্যিদুনা হযরত যায়েদ আলাইহিস সালাম।
১৮. سَهْلٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত সাহ্ল আলাইহিস সালাম।
১৯. سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ عَمْرٌو عَلَيْهِ السَّلَامُ সাইয়্যিদুনা হযরত ‘আমর আলাইহিস সালাম।
২০. سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ قَيْسٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ সাইয়্যিদুনা হযরত ক্বইস্ আলাইহিস সালাম।
২১. مُعَاوِيَةُ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত মু‘আবিয়াহ্ আলাইহিস সালাম।
২২. جُشَمٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত জুশাম আলাইহিস সালাম।
২৩. عَبْدُ شَـمْسٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত ‘আবদু শাম্স আলাইহিস সালাম।
২৪. سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ وَائِلٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ সাইয়্যিদুনা হযরত ওয়াইল আলাইহিস সালাম।
২৫. سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ اَلْغَوْثُ عَلَيْهِ السَّلَامُ সাইয়্যিদুনা হযরত গ¦ওছ্ আলাইহিস সালাম।
২৬. سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ قَطَنٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ সাইয়্যিদুনা হযরত ক্বত্বন্ আলাইহিস সালাম।
২৭. سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ غَرِيْبٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ সাইয়্যিদুনা হযরত গ¦রীব আলাইহিস সালাম।
২৮. سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ زُهَيْرٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ সাইয়্যিদুনা হযরত যুহাইর আলাইহিস সালাম।
২৯. سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ اَيْـمَنُ عَلَيْهِ السَّلَامُ সাইয়্যিদুনা হযরত আইমান আলাইহিস সালাম।
৩০. سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ اَلْـهَمَيْسَعُ عَلَيْهِ السَّلَامُ সাইয়্যিদুনা হযরত আল হামাইসা’ আলাইহিস সালাম।
৩১. سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ حِمْيَرٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ সাইয়্যিদুনা হযরত হিম্ইয়ার আলাইহিস সালাম।
৩২. سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ سَبَاُ عَلَيْهِ السَّلَامُ সাইয়্যিদুনা হযরত সাবা’ আলাইহিস সালাম।
৩৩. سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ يَشْجُبُ عَلَيْهِ السَّلَامُ সাইয়্যিদুনা হযরত ইয়াশ্জুব আলাইহিস সালাম।
৩৪. سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ يَعْرُبُ عَلَيْهِ السَّلَامُ সাইয়্যিদুনা হযরত ইয়া’রুব আলাইহিস সালাম।
৩৫. سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ قَحْطَانُ عَلَيْهِ السَّلَامُ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমরিয়িল ক্বহ্ত্বান আলাইহিস সালাম।
৩৬. هُوْدٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত হূদ আলাইহিস সালাম।
৩৭. شَالَـخٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত শালাখ আলাইহিস সালাম।
৩৮. اَرْفَخْشَذُ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত আরফাখ্শায আলাইহিস সালাম।
৩৯. سَامٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত সাম আলাইহিস সালাম।
৪০. نُوْحٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيِّـدُنَـا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত নূহ আলাইহিস সালাম।
(মাক্বাতিলুত্ব ত্বালিবিয়্যীন, মাস‘ঊদী, ত্ববারাী, শারহুয যারক্বানী, আল ইস্তী‘য়াব, ইবনে হিশাম, আর রওদ্বুল উন্ফ, ‘উয়ূনুল আছার, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ, আল আনসাব, জমহুরাতুল আনসাব, আল মুন্তাখ¦ব ইত্যাদী)
কেউ কেউ উম্মুল মু’মিনীন আল খ¦মিসাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিতা মাতা সাইয়্যিদাতুনা হযরত হিন্দ বিনতে ‘আউফ আলাইহাস সালাম উনাকে বনী কেনানাহ গোত্রের বলেছেন ।

উম্মুল মু’মিনীন আল খ¦মিসাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সংক্ষিপ্ত জীবনী মুবারক-১

যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
اَلنَّبِـىُّ اَوْلـٰى بِالْمُؤْمِنِيْنَ مِنْ اَنْفُسِهِمْ وَاَزْوَاجُهۤٗ اُمَّهٰتُهُمْ.
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন মু’মিন উনাদের নিকট উনাদের জানের চেয়ে অধিক প্রিয়, উনাদের মহাসম্মানিত পিতা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং উনার মহাসম্মানিতা ‘আযওয়াজুম মুত্বহহারাত’ (হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম) উনারা হচ্ছেন সমস্ত মু’মিন উনাদের মহাসম্মানিতা মাতা আলাইহিন্নাস সালাম।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৬)
হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা ছিলেন মোট ১৩ জন। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ সম্মানিত তাশরীফ মুবারক নেয়ার মুবারক ধারাবাহিকক্রম অনুযায়ী উম্মুল মু’মিনীন আল খ¦মিসাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন ‘আল খ¦মিসাহ তথা পঞ্চম’। এ জন্য উনাকে ‘উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল খ¦মিসাহ্ আলাইহাস সালাম’ বলা হয়। তিনি সকলের মাঝে ‘উম্মুল মু’মিনীন আল খ¦মিসাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম’ হিসেবে পরিচিতি মুবারক গ্রহণ করেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি আইয়্যামে জাহিলিয়াতের যুগেই সকলের মাঝে ‘সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! তবে উনার মূল মহাম্মানিত ও মহাপবিত্র ইসম বা নাম মুবারক হচ্ছেন ‘সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব আলাইহাস সালাম’। সুবহানাল্লাহ! তিনি শুধু যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং উনার মাহবূব হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারিনী হচ্ছেন তিনি। সুবহানাল্লাহ! উনার সম্মানিত মুহব্বত মুবারকই হচ্ছেন সম্মানিত ঈমান। সুবহানাল্লাহ! উনাকে সম্মানিত মুহব্বত মুবারক করা, উনার সম্মানিত তা’যীম-তাকরীম মুবারক করা, সম্মানিত ছানা-ছিফত মুবারক করা এবং উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়া সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের জন্য ফরযে আইন। সুবহানাল্লাহ! তাই উনার সম্মানিত জীবনী মুবারক জানাও সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের জন্য ফরযে আইন। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত পিতা আলাইহিস সালাম:
উম্মুল মু’মিনীন আল খ¦মিসাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত পিতা আলাইহিস সালাম হচ্ছেন সাইয়্যিদুনা হযরত খুযাইমাহ্ ইবনে হারিছ আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদুনা হযরত খুযাইমাহ্ ইবনে হারিছ আলাইহিস সালাম তিনি ছিলেন বনূ হিলাল গোত্রের সবচেয়ে সম্মানিত ও অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব মুবারক। সুবাহনাল্লাহ! সকলেই উনাকে বেমেছাল সম্মান-ইজ্জত ও তা’যীম-তাকরীম মুবারক করতো। সুবহানাল্লাহ! উম্মুল মু’মিনীন আল খ¦মিসাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম তিনি মহাসম্মানিত পিতা আলাইহিস সালাম উনার দিক থেকে ১৭তম পুরুষে যেয়ে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে মিলিত হয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! উনার ৬ষ্ঠ তম পূর্বপুরুষ হচ্ছেন সাইয়্যিদুনা হযরত হিলাল ইবনে ‘আমির আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদুনা হযরত হিলাল ইবনে ‘আমির আলাইহিস সালাম তিনি ছিলেন আরবের প্রসিদ্ধ গোত্র ‘বনূ হিলাল’ গোত্রের মহাসম্মানিত প্রথম পুরুষ। সুবহানাল্লাহ! উনার সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক অনুযায়ী উনার সম্মানিত বংশ বা গোত্র মুবারক উনার নামকরণ মুবারক করা হয় ‘বনূ হিলাল’ গোত্র হিসেবে। সুবহানাল্লাহ! এজন্য উম্মুল মু’মিনীন আল খ¦মিসাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম উনাকে ‘আল হিলালিয়্যাহ’ বলা হয়। সুবাহনাল্লাহ! যেমন- কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
اُم الْـمُوْمِنيْنَ سيدتنا حَضْرَتْ زينب بنت خزيمة الهلالية عليها السلام
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন আল খ¦মিসাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব বিনতে খুযাইমাহ্ আল হিলালিয়্যাহ্ আলাইহাস সালাম।” সুবহানাল্লাহ! (সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১১/২০৫, দালাইলুন নুবুওওয়াহ্ লিল বাইহাক্বী ৩/১৫৯, শরফুল মুস্ত¡ফা শরীফ ৩/২৫১, উস্দুল গবাহ্ ১/১৯, বিদায়াহ্-নিহায়াহ্ ৫/৩২১, সিমতুন নুজূম ১/৪৫৪, আল মুন্তাখাব ফী কিতাবে আযওয়াজিন নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ১/১২)
হযরত ইমাম আল্লামা যারক্বানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,
“الهلالية” عليهاالسلام نسبة إلى جدها هلال عليه السلام
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন আল খ¦মিসাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম উনাকে ‘আল হিলালিয়্যাহ’ বলা হয় উনার মহাসম্মানিত পূর্বপুরুষ সাইয়্যিদুনা হযরত হিলাল আলাইহিস সালাম উনার সাথে নিসবত করে।” সুবহানাল্লাহ! (শরহুয যারক্বানী আলাল মাওয়াহিব ৪/৪১৬)
উনার ৭তম ছ’ছ‘আহ্ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক অনুযায়ী উনাকে উম্মুল মু’মিনীন আল খ¦মিসাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আল ‘আমিরিয়্যাহ আলাইহাস সালাম’ বলা হয়। সুবহানাল্লাহ! যেমন-
কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
أم المؤمنين سيدتنا حَضْرَتْ زينب بنت خُزَيْمَة بْن حَارِث الْهِلَالِيَّة العامرية عليها السلام
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন আল খ¦মিসাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব বিনতে খুযাইমাহ্ আল হিলালিয়্যাহ্ আল ‘আমিরিয়্যাহ্ আলাইহাস সালাম।” সুবহানাল্লাহ! (ওয়াসীলাতুল ইসলাম বিন নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)

উম্মুল মু’মিনীন আল খ¦মিসাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সংক্ষিপ্ত জীবনী মুবারক-২

মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম:
উম্মুল মু’মিনীন আল খ¦মিসাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম তিনি কে, যদিও এ বিষয়ে অনেকে অনেক ইখতিলাফ করেছেন, তবে বিশুদ্ধ কথা হচ্ছে- উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম হচ্ছেন- ‘সাইয়্যিদাতুনা হযরত হিন্দ বিনতে ‘আউফ আলাইহাস সালাম।’ সুবহানাল্লাহ! তিনি ছিলেন উনার সম্প্রদায়ের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিতা ব্যক্তিত্বা মুবারক। সুবাহনাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক উনার কায়িনাতে একমাত্র তিনিই সেই সুমহান ব্যক্তিত্বা মুবারক যিনি দুইজন মহাসম্মানিতা উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিমাস সালাম- উম্মুল মু’মিনীন আল খ¦মিসাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম উনার এবং উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছা ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ! এদিক থেকে তিনি ছিলেন এক অনন্য বেমেছাল শ্রেষ্ঠত্ব মুবারক উনার অধিকারিণী। সুবহানাল্লাহ! তাহলে উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুর্যূগী-সম্মান মুবারক এবং বংশীয় পবিত্রতা মুবারক কতো বেমেছাল, সেটা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ! উনার সম্মানিত শান মুবারক-এ বর্ণিত রয়েছে,
التي توصف بأنها أكرم عجوز في الأرض أصهاراً. فسيدتنا حَضْرَتْ هند بنت عوفٍ عليها السلام هذه أم كل من:
أم المؤمنين سيدتنا حَضْرَتْ زينب بنت خزيمة الهلالية عليها السلام زوج النبى صلى الله عليه وسلم
أم المؤمنين سيدتنا حَضْرَتْ ميمونة بنت الحارث زوج النبى صلى الله عليه وسلم
سيدتنا حَضْرَتْ أسماء بنت عميس الخثعمية رضي الله تعالى عنها، تزوجت من حضرت جعفر بن أبي طالب رضي الله تعالى عنه ، ثم تزوجها سيدنا حضرت أبي بكر الصديق عليه السلام ثم تزوجها سيدنا حضرت علي بن أبي طالب كرم الله وجهه عليه السلام
سيدتنا حضرت سلمى بنت عميس الخثعمية رضي الله تعالي عنه، زوج سيدنا حضرت حمزة بن عبد المطلب. عليه السلام
أم الفضل سيدتنا حَضْرَتْ لبابة الكبرى بنت الحارث الهلالية رضي الله تعالى عنها، زوج سيدنا حضرت العباس بن عبد المطلب عليه السلام
سيدتنا حَضْرَتْ لبابة الصغرى بنت الحارث الهلالية رضي الله تعالى عنها ، سيدنا حضرت أم خالد بن الوليد رضي الله تعالى عنه
অর্থ: “সাইয়্যিদাতুনা হযরত হিন্দ বিনতে ‘আওফ আলাইহাস সালাম তিনি এমন সুমহান মহাসম্মানিতা ব্যক্তিত্বা মুবারক যে, উনার সম্মানিত প্রশংসা মুবারক করা হয় এভাবে- ‘নিশ্চয়ই তিনি হচ্ছেন আত্মীয়তার দিক থেকে দুনিয়ার যমীনে সবচেয়ে সম্মানিতা মহিলা।’ সুবহানাল্লাহ! কেননা, সাইয়্যিদাতুন হযরত হিন্দ বিনতে ‘আওফ আলাইহাস সালাম তিনি যেই সমস্ত মহাসম্মানিতা ব্যক্তিত্বা মুবারক উনাদের মহাসম্মানিতা আম্মাজান ছিলেন উনারা হচ্ছেন,
১. উম্মুল মু‘মিনীন আল খ¦মিসাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম তিনি। যিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিতা যাওজাতুম মুত্বহ্হারত (উম্মুল মু’মিনীন আলাইহাস সালাম) ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!
২. উম্মুল মু‘মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম তিনি। যিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিতা যাওজাতুম মুত্বহ্হারত (উম্মুল মু’মিনীন আলাইহাস সালাম) ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!
৩. সাইয়্যিদাতুনা হযরত আসমা’ বিনতে ‘উমায়েস আল খ¦ছ‘আমিয়্যাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা। তিনি সর্বপ্রথম হযরত জা’ফর ইবনে আবী ত্বালিব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার আহলিয়াহ্ ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! তারপর (উনার সম্মানিত শাহাদাত মুবারক উনার পর) সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি উনাকে সম্মানিত শাদী মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর (উনার সম্মানিত বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পর) ইমামুল আউওয়াল মিন আহ্লি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত র্কারামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি উনাকে সম্মানিত শাদী মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ!
৪. সাইয়্যিদাতুনা হযরত সালমা বিনতে ‘উমায়েস আল খ¦ছ‘আমিয়্যাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা তিনি। তিনি ছিলেন, সাইয়্যিদুশ শুহাদা’ সাইয়্যিদুনা হযরত হামযাহ্ ইবনে ‘আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত আহলিয়াহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহা। সুবহানাল্লাহ!
৫. সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল ফযল লুবাবাহ্ কুবরা বিনতে হারিছ আল হিলালিয়্যাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা তিনি। তিনি ছিলেন, খ¦াতিমুল মুহাজিরীন সাইয়্যিদুনা হযরত ‘আব্বাস ইবনে ‘আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিতা আহলিয়াহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহা। সুবহানাল্লাহ!
৬. সাইয়্যিদাতুনা হযরত লুবাবাহ্ ছুগরা বিনতে হারিছ আল হিলালিয়্যাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা তিনি। তিনি ছিলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত খ¦ালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার সম্মানিতা আম্মাজান। সুবহানাল্লাহ!
আল্লামা দিয়ার বাক্রী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ: ৯৬৬ হিজরী শরীফ) তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘তারীখুল খমীস শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ করেন,
فكان يقال: أكرم عجوز في الأرض أصهارا: سيدتنا حضرت هند الجرشية عليهاالسلام، لأن أصهارها: رسول الله صلى الله عليه وسلم، و سيدنا حضرت حمزة عليه السلام ، وسيدنا حضرت علي عليه السلام ، وسيدنا حضرت جعفر رضي الله تعالي عنه، وسيدنا حضرت أبو بكرالصديق عليه السلام ، وسيدنا حضرت العباس عليه السلام ، و سيدنا حضرت شداد بن الهاد رضي الله تعالي عنه.
অর্থ: “এ কথা প্রচলিত ছিলো যে, দুনিয়ার যমীনে আত্মীয়তার দিক থেকে সবচেয়ে সম্মানিতা মহিলা হচ্ছেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত হিন্দ বিনতে ‘আওফ আলাইহাস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! কেননা উনার মহাসম্মানিত আত্মীয় হচ্ছেন-
১. স্বয়ং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!
২. সাইয়্যিদুশ শুহাদা’ সাইয়্যিদুনা হযরত হামযাহ্ ইবনে আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!
৩. সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!
৪. সাইয়্যিদুনা হযরত জা’ফর ইবনে আবী ত্বালিব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি। সুবহানাল্লাহ!
৫. সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!
৬. সাইয়্যিদুনা হযরত ‘আব্বাস আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!
৭. সাইয়্যিদুনা হযরত শাদ্দাদ ইবনে হাদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা ‘আনহু তিনি।” সুবহানাল্লাহ! (তারীখুল খমীস ১/২৬৭)
কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে,
سيدتنا حضرت هند بنت عوف بن زهير بن الحارث عليها السلام، التي قيل عنها إنها أكرم عجوز في الأرض أصهارا، حيث إن أصهارها: رسول الله صلى الله عليه وسلم، وسيدنا حضرت أبو بكر الصديق عليه السلام، وسيدنا حضرت حمزةعليه السلام، و سيدنا حضرت العباس عليه السلام، و سيدنا حضرت جعفر رضي الله تعالي عنه، و سيدنا حضرت علي بن أبي طالب عليه السلام أجمعين. وكان لها أيضا أصهار آخرون من المبرزين وذوي المكانة والمنزلة بين أقوامهم.
অর্থ: “সাইয়্যিদাতুনা হযরত হিন্দ বিনতে ‘আউফ ইবনে যুহাইর ইবনে হারিছ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত শান মুবারক-এ বলা হয় যে, ‘নিশ্চয়ই তিনি হচ্ছেন আত্মীয়তার দিক থেকে দুনিয়ার যমীনে সবচেয়ে সম্মানিতা মহিলা।’ সুবহানাল্লাহ! কেননা উনার মহাসম্মানিত আত্মীয় হচ্ছেন-
১. স্বয়ং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!
২. সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!
৩. সাইয়্যিদুশ শুহাদা’ সাইয়্যিদুনা হযরত হামযাহ্ ইবনে আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!
৪. সাইয়্যিদুনা হযরত ‘আব্বাস আলাইহিস সালাম তিনি।
৫. সাইয়্যিদুনা হযরত জা’ফর ইবনে আবী ত্বালিব রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু তিনি।
৬. সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!
এছাড়াও উনার আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিলো উনাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে যাঁরা সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ, সম্মানিত ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্ব মুবারক উনাদের সাথে।” সুবহানাল্লাহ! (নিসাউন নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
সাইয়্যিদাতুনা হযরত হিন্দ বিনতে ‘আউফ আলাইহাস সালাম তিনি ছিলেন বনূ হিম্ইয়ার গোত্রের। সুবহানাল্লাহ! উনার ২৯তম পূর্বপুরুষ সাইয়্যিদুনা হযরত হিম্ইয়ার ইবনে সাবা’ আলাইহিস সালাম তিনি ছিলেন সাইয়্যিদুনা হযরত হূদ আলাইহিস সালাম উনার বংশধর। সুবহানাল্লাহ! আর সাইয়্যিদুনা হযরত হূদ আলাইহিস সালাম তিনি ছিলেন সাইয়্যিদুনা হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত সাম আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত বংশধর। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদুনা হযরত হিম্ইয়ার আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক অনুযায়ী পরবর্তীতে উনার বংশ বা গোত্র মুবারক উনার নামকরণ মুবারক করা হয় ‘বনূ হিমইয়ার’ গোত্র হিসেবে। সেই দিকে নিসবত মুবারক রেখে সাইয়্যিদাতুনা হযরত হিন্দ বিনতে ‘আউফ আলাইহাস সালাম উনাকে ‘সাইয়্যিদাতুনা হযরত হিন্দ বিনতে ‘আউফ আল হিম্ইয়ারিয়্যাহ্ আলাইহাস সালাম’ বলা হয়। সুবহানাল্লাহ! আর উনার ৭তম পুরুষ সাইয়্যিদুনা হযরত জুরাশ ইবনে আসলাম আলাইহিস সালাম উনার দিকে নিসবত করে উনাকে ‘সাইয়্যিদাতুনা হযরত হিন্দ বিনতে ‘আউফ আল জুরাশিয়্যাহ্ আলাইহাস সালাম’ বলা হয়। সুবহানাল্লাহ!
উম্মুল মু’মিনীন আল খ¦মিসাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিতা আখাওয়াত বা বোন আলাইহিন্নাস সালাম
উম্মুল মু’মিনীন আল খ¦মিসাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম উনারা ছিলেন মোট ৬ বোন। সুবহানাল্লাহ!
উম্মুল মু’মিনীন আল খ¦মিসাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান সাইয়্যিদাতুনা হযরত হিন্দ বিনতে ‘আউফ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত প্রথম শাদী মুবারক অনুষ্ঠিত হয় বনূ হিলাল গোত্রের সাইয়্যিদুনা হযরত খুযাইমাহ্ ইবনে হারিছ আলাইহিস সালাম উনার সাথে। সুবহানাল্লাহ! উনাদেরই মহাসম্মানিতা আওলাদ আলাইহাস সালাম হচ্ছেন- উম্মুল মু‘মিনীন আল খ¦মিসাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!
তারপর উম্মুল মু’মিনীন আল খ¦মিসাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান সাইয়্যিদাতুনা হযরত হিন্দ বিনতে ‘আউফ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত দ্বিতীয় শাদী মুবারক অনুষ্ঠিত হয় বনূ হিলাল গোত্রের সাইয়্যিদুনা হযরত হারিছ ইবনে হায্ন আলাইহিস সালাম উনার সাথে। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদুনা হযরত হারিছ ইবনে হায্ন আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমে সাইয়্যিদাতুনা হযরত হিন্দ বিনতে ‘আউফ আলাইহাস সালাম উনার ৩ জন মহাসম্মানিতা বানাত আলাইহিন্নাস সালাম উনারা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! উনারা হচ্ছেন-
১. উম্মুল মু‘মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘ আশার আলাইহাস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! উনার সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত রয়েছে-
قَالَ اَبُو الحسن علي بْن عبد العزيز الجرجاني النسابة كانت ام المؤمنين سيدتنا حضرت زينب بنت خزيمة عليها السلام اخت ام المؤمنين سيدتنا حضرت ميمونة بنت الحارث عليها السلام لامها
অর্থ: “নসববীদ হযরত ইমাম আবুল হাসান আলী ইবনে আব্দুল আযীয জুরজানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, উম্মুল মু’মিনীন আল খ¦মিসাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম তিনি ছিলেন উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ্ ‘আশার (হযরত মাইমূনাহ্ বিনতে হারিছ) আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিতা বৈপিত্রেয় বোন। অর্থাৎ মায়ের দিক থেকে বোন। ” সুবহানাল্লাহ! (আল ইস্তি‘য়াব ৪/১৮৫৩, আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ্ ৪/১১০, তারীখুল খমীস ১/২৬৬, শারহুয যারক্বানী ‘আলাল মাওয়াহিব ৪/২১৬ ইত্যাদী)
২. সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল ফযল লুবাবাহ্ কুবরা বিনতে হারিছ আল হিলালিয়্যাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা তিনি। এবং
৩. সাইয়্যিদাতুনা হযরত লুবাবাহ্ ছুগরা বিনতে হারিছ আল হিলালিয়্যাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা তিনি। সুবহানাল্লাহ!
অতঃপর উম্মুল মু’মিনীন আল খ¦মিসাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান সাইয়্যিদাতুনা হযরত হিন্দ বিনতে ‘আউফ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত তৃতীয় শাদী মুবারক অনুষ্ঠিত হয় সাইয়্যিদুনা হযরত ‘উমাইস ইবনে মা‘আদ্দ ইবনে হারিছ আল খ¦ছ‘আমী আলাইহিস সালাম উনার সাথে। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদুনা হযরত ‘উমাইস ইবনে মা‘আদ্দ ইবনে হারিছ আল খ¦ছ‘আমী আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমে সাইয়্যিদাতুনা হযরত হিন্দ বিনতে ‘আউফ আলাইহাস সালাম উনার ২ জন মহাসম্মানিতা বানাত রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুমা উনারা সম্মানিত বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! উনারা হচ্ছেন-
১. সাইয়্যিদাতুনা হযরত আসমা বিনতে ‘উমায়েস আল খ¦ছ‘আমিয়্যাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা তিনি এবং
২. সাইয়্যিদাতুনা হযরত সালমা বিনতে ‘উমায়েস আল খ¦ছ‘আমিয়্যাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা তিনি। সুবহানাল্লাহ!
কেউ কেউ উম্মুল মু’মিনীন আল খ¦মিসাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিতা বোন ৬ জনের বেশিও বলেছেন।

উম্মুল মু’মিনীন আল খ¦মিসাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সংক্ষিপ্ত জীবনী মুবারক-৩

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ:
পৃথিবীর কোনো কিতাবে উম্মুল মু’মিনীন আল খ¦মিসাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের মহাসম্মানিত তারীখ মুবারক উল্লেখ নেই। এটা মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত আফসোসের বিষয় যে, মুসলমানরা উম্মুল মু’মিনীন আল খ¦মিসাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের মহাসম্মানিত তারীখ মুবারক সংরক্ষণ করতে পারেনি। না‘ঊযুবিল্লাহ!
উল্লেখ্য যে, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি হচ্ছেন একমাত্র যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার মাহবূব হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা ব্যতীত সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ সম্মানিত নি‘য়ামত মুবারক। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে আখাছ্ছুল খাছভাবে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সাথে উনার রয়েছেন বেমেছাল হাক্বীক্বী দায়িমী তা‘য়াল্লুক্ব-নিসবত এবং যিয়ারত মুবারক। সুবহানাল্লাহ!
এ প্রসঙ্গে আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
أَخْبِرْنِي عَنِ الْإِحْسَانِ قَالَ أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ.
অর্থ: “আমাকে ইহসান সম্পর্কে সংবাদ দিন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তুমি এমনভাবে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত ইবাদাত মুবারক করো, যেন তুমি উনাকে দেখতে পাচ্ছো। আর যদি তুমি উনাকে দেখতে না পাও, তবে (ধারণা করো যে) তিনি তোমাকে দেখছেন।” সুবহানাল্লাহ! (মুসলিম শরীফ)
অর্থাৎ ইহ্সানের দুইটি দরজা- ১. যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনাকে দেখে দেখে ইবাদাত বন্দেগী করতে হবে। ২. যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে ধারণা করতে হবে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে দেখছেন। দায়িমীভাবে এই দুইটি অবস্থার যে কোনো একটি অবস্থা থাকতে হবে। সুবহানাল্লহ!
আর দায়িমী হুযূরী বলতে যেটা বুঝায়- সেটা হচ্ছে, সবসময় যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনাকে দেখে দেখে ইবাদত-বন্দেগী করা। সুবহানাল্লাহ! আর ২৪ ঘন্টা দায়িমীভাবে তো হুযূরী থাকবেই, তবে নামায উনার মধ্যে বিশেষ হুযূরী থাকবে। সুবহানাল্লাহ!
যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মাহবূব হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের সাথে সাথে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে দায়িমীভাবে দেখে দেখে সমস্ত ইবাদত-বন্দেগী করতে হবে। সুবহানাল্লাহ! তাহলে হুযূরী পূর্ণতায় পৌঁছবে, অন্যথায় কস্মিনকালেও হুযূরী পূর্ণতায় পৌঁছবে না।” সুবহানাল্লাহ!
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ১৪৩৯ হিজরী শরীফ উনার ২৩শে রমাদ্বান শরীফ লাইলাতুস সাব্ত শরীফ সম্মানিত তারাবীহ নামায এবং মক্ববূল মুনাজাত শরীফ শেষে ইরশাদ মুবারক করেন, “আজ আমি যখন সম্মানিত ‘ঈশার নামায উনার সম্মানিত নিয়ত মুবারক করলাম, তখন দেখলাম যিনি উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ‘আশিরহ্ আলাইহাস সালাম উনার বিশেষ যিয়ারত মুবারক করালেন। সুবহানাল্লাহ! সবসময় তো উনাদের সম্মানিত যিয়ারত মুবারক রয়েছে, তবে এটা বিশেষ যিয়ারত মুবারক। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা সম্মানিত রুকু ও সম্মানিত সিজদাহ মুবারক উনার তাসবীহ্ মুবারকগুলো নিয়ন্ত্রণ মুবারক করে থাকেন। সুবহানাল্লাহ!
স্বাভাবিকভাবে যদি ধরা হয়, তাহলে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের পুরো বিষয়টা নিয়ন্ত্রণ করেন উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি। এরপরে হচ্ছেন বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম তিনি।” সুবহানাল্লাহ!
তাহলে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার মাহবূব হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে, আখাছ্ছুল খাছভাবে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সাথে মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার কতো বেমেছাল তা‘য়াল্লুক্ব-নিসবত মুবারক, তা এখান থেকে স্পষ্ট হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ! তিনি দায়িমীভাবেই উনাদের হাক্বীক্বী দায়িমী দীদার মুবারক, তা‘য়াল্লুক্ব-নিসবত মুবারক-এ মশগূল রয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! যার কারণে একমাত্র উনার পক্ষেই সম্ভব হয়েছে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের, আখাছ্ছুল খাছভাবে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মহাম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশের মহাসম্মানিত তারীখ মুবারকসমূহ প্রকাশ করা। সুবহানাল্লাহ! তিনি ১৪৩৯ হিজরী শরীফ উনার ৪ঠা শাওওয়াল শরীফ লাইলাতুছ ছুলাছা’ শরীফ হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের প্রত্যেকের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের মহাসম্মানিত তারীখ মুবারকসমূহ ঘোষণা মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন যে, “উম্মুল মু’মিনীন আল খ¦মিসাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত নুবুওওয়াত ও রিসালত মুবারক প্রকাশের ১৪ বছর পূর্বে ২০শে শাওওয়াল শরীফ ইয়াওমুছ ছুলাছা’ শরীফ বনূ হিলাল গোত্রে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন।” সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের দিবস মুবারক উদ্যাপনের গুরুত্ব-তাৎপর্য ও ফাযায়িল-ফযীলত মুবারক
যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত ও পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,
سَلَامٌ عَلَيْهِ يَوْمَ وُلِدَ وَيَوْمَ يَمُوتُ وَيَوْمَ يُبْعَثُ حَيًّا.
অর্থ: “হযরত ইয়াহইয়া আলাইহিস সালাম উনার প্রতি সম্মানিত সালাম তথা সম্মানিত রহমত, বরকত, সাকীনা, সন্তুষ্টি-রেযামন্দি মুবারক। যেদিন তিনি সম্মানিত বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন, যেদিন তিনি সম্মানিত বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন এবং যেদিন তিনি পুনরুত্থিত হবেন।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা মারইয়াম শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১৫)
হযরত রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত শান মুবারক-এ ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
السَّلَامُ عَلَيَّ يَوْمَ وُلِدْتُ وَيَوْمَ أَمُوتُ وَيَوْمَ أُبْعَثُ حَيًّا
অর্থ: “আমার (হযরত ঈসা রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার) প্রতি সম্মানিত সালাম তথা সম্মানিত রহমত, বরকত, সাকীনা, সন্তুষ্টি-রেযামন্দি মুবারক। যেদিন আমি সম্মানিত বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছি, যেদিন আমি সম্মানিত বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করবো এবং যেদিন আমি পুনরুত্থিত হবো।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা মারইয়াম শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৩)
সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফদ্বয় উনাদের ব্যাখ্যায় আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আলোচ্য সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফদ্বয় উনাদের মধ্যে বর্ণিত ‘সালাম’ উনার অর্থ মুবারক হচ্ছেন- সর্বপ্রকার সম্মানিত নিয়ামত, রহমত, বরকত, সাকীনাহ, রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক।” সুবহানাল্লাহ!
তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন, “যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আলোচ্য সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফদ্বয় উনাদের মাধ্যমে সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সবাইকে বিষয়টি জানিয়ে দিলেন যে, মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত মাহবুব ব্যক্তিত্ব মুবারক তথা হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের এবং হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের সাথে সংশ্লিষ্ট সম্মানিত দিন ও রাত মুবারক-এ সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের উপর আখাচ্ছুল খাছ সর্বপ্রকার সম্মানিত নিয়ামত, রহমত, বরকত, সাকীনাহ, রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক বর্ষিত হয়ে থাকেন। সুবহানাল্লাহ! বান্দা-বান্দী, উম্মতের মধ্যে যারা এ সকল সম্মানিত দিন ও রাত মুবারক উনাদেরকে তা’যীম-তাকরীম মুবারক করবেন, উনারাই এ সকল আখাচ্ছুল খাছ সর্বপ্রকার সম্মানিত নি‘য়ামত, রহমত, বরকত, সাকীনাহ, রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক লাভে ধন্য হবেন।” সুবহানাল্লাহ!
যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
اَلنَّبِـىُّ اَوْلـٰى بِالْمُؤْمِنِيْنَ مِنْ اَنْفُسِهِمْ وَاَزْوَاجُهۤٗ اُمَّهٰتُهُمْ.
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন মু’মিন উনাদের নিকট উনাদের জানের চেয়ে অধিক প্রিয়, উনাদের মহাসম্মানিত পিতা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং উনার মহাসম্মানিতা ‘হযরত আযওয়াজুম মুত্বহহারাত’ (হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম) উনারা হচ্ছেন সমস্ত মু’মিন উনাদের মহাসম্মানিতা মাতা আলাইহিন্নাস সালাম।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৬)
কাজেই, উম্মুল মু’মিনীন আল খ¦মিসাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন একমাত্র মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার মাহবূব হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা ব্যতীত সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারাসহ, সাইয়্যিদুনা হযরত রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ইয়াহইয়া আলাইহিস সালাম তিনি অর্থাৎ উনারাসহ সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িানাতবাসী সকলেরই মহাসম্মানিতা মাতা আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ! এখন বলার বিষয় হচ্ছে সাইয়্যিদুনা হযরত রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ইয়াহইয়া আলাইহিস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের দিন যদি আখাছ্ছুল খাছ সর্বপ্রকার সম্মানিত নিয়ামত, রহমত, বরকত, সাকীনাহ, রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক বর্ষিত হয়, তাহলে উম্মুল মু’মিনীন আল খ¦মিসাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের দিন ও রাত মুবারক-এ কতো বেমেছাল আখাছ্ছুল খাছ সর্বপ্রকার সম্মানিত নি‘য়ামত, রহমত, বরকত, সাকীনাহ, রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক বর্ষিত হয়ে থাকেন সেটা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত ত্বরীক্বত, ইমামু আইম্মাতি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামায়াত, মুত্বহ্হার, মুত্বহহির, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার সম্মানার্থে আমাদের সবাইকে উম্মুল মু’মিনীন আল খ¦মিসাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের দিন ও রাত মুবারক উনাকে যথাযথ আদব ও তা‘যীম-তাকরীম মুবারক উনাদের সাথে পালন করার তাওফীক্ব দান করুন। (আমীন!)

উম্মুল মু’মিনীন আল খ¦মিসাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সংক্ষিপ্ত জীবনী মুবারক-৪

সম্মানিত ও পবিত্র কুনিয়াত মুবারক
উম্মুল মু’মিনীন আল খ¦মিসাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত ও পবিত্র কুনিয়াত মুবারক ছিলেন ‘সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম।’ সুবহানাল্লাহ! আর উম্মুল মাসাকীন (أُمُّ المساكين) উনার অর্থ মুবারক হচ্ছেন- গরীব-মিসকীন, ফক্বীর-ফুক্বারা, নিঃস-অসহায়, সর্বহারা-দরিদ্রদের মহাসম্মানিতা মাতা আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
এ সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
وهي أُمُّ المساكين كُنِّيتْ بذلك في الجاهلية لرأفتها بهم ورحمتها وإحسانها إليهم
অর্থ: “আর তিনি হচ্ছেন ‘উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম’। সুবহানাল্লাহ! গরীব-মিসকীন, ফক্বীর-ফুক্বারা, নিঃস-অসহায়, সর্বহারা-দরিদ্রদের প্রতি উনার সীমাহীন ¯েœহ-মমতা, রহম-করুণা ও দয়া-ইহসান মুবারক উনাদের কারণে উনাকে জাহিলী যুগেই এই সম্মানিত ও পবিত্র কুনিয়াত মুবারক-এ সম্বোধন মুবারক করা হতো।” সুবহানাল্লাহ! (আল মুখ্তাছরুল কাবীর ফী সীরাতির রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ১/৫৯)
কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে,
وَهِيَ أُمُّ الْمَسَاكِينِ كَانَتْ تُسَمَّى بِهِ فِي الْجَاهِلِيَّةِ
অর্থ: “আর তিনি হচ্ছেন ‘হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম।’ সুবহানাল্লাহ! জাহিলী যুগেই উনাকে এই সম্মানিত ও পবিত্র কুনিয়াত মুবারক-এ আহ্বান মুবারক করা হতো।” সুবহানাল্লাহ! (মুস্তাদরকে হাকিম)
আল্লামা দিয়ার বাক্রী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘তারীখুল খমীস শরীফ’ উনার মধ্যে বলেন,
وكانت تسمى فى الجاهلية أمّ المساكين للين قلبها
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন আল খ¦মিসাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র অন্তর মুবারক উনার সম্মানিত দয়া-অনুগ্রহ, মায়া-মমতা ও কোমলতা মুবারক উনার কারণে জাহিলী যুগ থেকেই উনাকে ‘হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম’ সম্মানিত ও পবিত্র কুনিয়াত মুবারক-এ আহ্বান করা হতো।” সুবহানাল্লাহ! (তারীখুল খমীস শরীফ ১/৪১৭)
আল্লামা ইবনে জাওযী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,
وكانت تسمى في الجاهلية أم المساكين،
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন আল খমিসাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম উনাকে জাহিলী যুগ থেকেই ‘হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম’ বলে আহ্বান মুবারক করা হতো।” সুবহানাল্লাহ! (তারীখুল উমাম ওয়াল মুলক ৩/১৬১)
কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে,
وكانت تُسمى في الجاهلية أم المساكين لبرها بهم وإطعامها لهم.
অর্থ: “গরীব-মিসকীন, ফক্বীর-ফুক্বারা, নিঃস-অসহায়, সর্বহারা-দরিদ্রদের প্রতি অত্যধিক দানশীলতা, সদ্বব্যবহার এবং তাদেরকে অধিক পরিমাণে খাদ্য খাওয়ানোর কারণে উনাকে জাহিলী যুগ থেকেই ‘হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম’ বলে সম্বোধন মুবারক করা হতো।” সুবহানাল্লাহ! (আল ক্বওলুল মুবীন ফী সীরতে সাইয়্যিদুল মুরসালীন ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে,
زَيْنَبَ بنتَ خُزَيْمَةَ، وَهِيَ أُمُّ الْمَسَاكِينِ، سُمِّيَتْ لِكَثْرَةِ إِطْعَامِهَا الْمَسَاكِينَ،
অর্থ: “উম্মুল মু‘মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল খমিসাহ্ আলাইহাস সালাম তিনিই হচ্ছেন ‘হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম।’ সুবহানাল্লাহ! গরীব-মিসকীন, ফক্বীর-ফুক্বারা, নিঃস-অসহায়, সর্বহারা-দরিদ্রদের অধিক পরিমাণে খাদ্য খাওয়ানোর কারণে উনাকে ‘হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম’ বলে সম্বোধন মুবারক করা হয়।” সুবহানাল্লাহ! (আল মু‘জামুল কাবীর)
কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে,
تعرف بأم المساكين سميت بها لكثرة إطعامها المساكين
অর্থ: “সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু‘মিনীন আল খামিসাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি ‘হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! গরীব-মিসকীন, ফক্বীর-ফুক্বারা নিঃস-অসহায়, সর্বহারা-দরিদ্রদেরকে অধিক পরিমাণে খাদ্য খাওয়ানোর কারণে উনাকে ‘হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম’ এই সম্মানিত ও পবিত্র কুনিয়াত মুবারক-এ সম্বোধন মুবারক করা হতো।” সুবহানাল্লাহ! (মা’রিফাতুছ ছাহাবাহ)
উম্মুল মু’মিনীন আল খ¦মিসাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম তিনি যে জাহিলী যুগ থেকে সকলের মাঝে ‘হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম’ কুনিয়াত মুবারক-এ সকলের মাঝে পরিচিত ছিলেন, এই বিষয়টি পৃথিবীর সমস্ত সীরাতগ্রন্থসমূহে উল্লেখ রয়েছে। সুবহানাল্লাহ! তাহলে উম্মুল মু’মিনীন আল খ¦মিসাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক কতো বেমেছাল, সেটা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কয়িনাতবাসী সকলের চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত ও পবিত্র লক্বব মুবারক:
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
وَلِلّٰهِ الْاَسْـمَاءُ الْـحُسْنٰـى فَادْعُوْهُ بِـهَا.
অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক উনার অনেক সুন্দর সুন্দর সম্মানিত নাম মুবারক তথা সম্মানিত লক্বব মুবারক রয়েছেন, তোমরা উনাকে সেই সম্মানিত নাম মুবারক তথা সম্মানিত লক্বব মুবারক দ্বারা উনাকে আহ্বান মুবারক করো।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত সূরা আ’রাফ শরীফ: সম্মানিত আয়াত শরীফ ১৮০)
মহান আল্লাহ পাক তিনি যেমন অসীম, ঠিক তেমনিভাবে উনার সম্মানিত লক্বব মুবারক উনাদের সংখ্যাও অসীম। সুবহানাল্লাহ! অনুরূপভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার মাহবূব হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার পরিপূর্ণ ক্বায়িম মাক্বাম হওয়ার কারণে উনার সম্মানিত লক্বব মুবারক উনাদের সংখ্যাও অসংখ্য-অগণিত। সুবহানাল্লাহ! এক কথায় তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন; এছাড়া সমস্ত সম্মানিত লক্বব মুবারক উনার অধিকারী হচ্ছেন তিনি। সুবহানাল্লাহ! ঠিক একইভাবে উম্মুল মু‘মিনীন আল খ¦মিসাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট এবং সম্পৃক্ত হওয়ার কারণে তথা উম্মুল মু‘মিনীন আলাইহাস সালাম হওয়ার কারণে উনার সম্মানিত লক্বব মুবারক উনার সংখ্যাও অসংখ্য-অগণিত। সুবহানাল্লাহ! তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া যত সম্মানিত লক্বব মুবারক রয়েছেন, সমস্ত সম্মানিত লক্বব মুবারক উনাদের অধিকারিণী হচ্ছেন তিনি। সুবহানাল্লাহ!
এখানে উনার কতিপয় সম্মানিত বরকতময় লক্বব মুবারক উল্লেখ করা হলো:
১. اُمُّ الْمُؤْمِنِيْنَ عَلَيْهَا السَّلَامُ (উম্মুল মু’মিনীন আলাইহাস সালাম) একমাত্র যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার মাহবূব হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা ব্যতীত সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারাসহ সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের মহাসম্মানিতা মাতা আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
২. اُمُّ الْمُؤْمِنِيْنَ اَلْـخَامِسَةُ عَلَيْهَا السَّلَامُ (উম্মুল মু’মিনীন আল খ¦মিসাহ্ আলাইহাস সালাম) সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ সম্মানিত তাশরীফ মুবারক নেয়ার মুবারক ধারাবাহিকক্রম অনুযায়ী উম্মুল মু’মিনীন আল খ¦মিসাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন ‘আল খ¦মিসাহ্ তথা পঞ্চম’। এ জন্য উনাকে ‘উম্মুল মু’মিনীন আল খ¦মিসাহ্ আলাইহাস সালাম’ বলা হয়। সুবহানাল্লাহ!
৩. اَهْلُ بَيْتِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ(আহলু বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আহলু বাইত শরীফ। সুবহানাল্লাহ!
৪. سَيِّدَةُ النِّسَاءِ عَلـٰى الْعَالَمِيْنَ (সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি ‘আলাল আলামীন) সারা কায়িনাতে যত মহিলা রয়েছেন উনাদের প্রত্যেকের সাইয়্যিদাহ। সুবহানাল্লাহ!
৫. سَيِّدَةُ نِسَاءِ اَهْلِ الْجَنَّةِ (সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ) জান্নাতবাসী সমস্ত মহিলাগণ উনাদের সাইয়্যিদাহ। সুবহানাল্লাহ!
৬. اُمُّ الْـمَسَاكِيْنِ (উম্মুল মাসাকীন)- গরীব-মিসকীন, ফক্বীর-ফুক্বারা’, নিঃস-অসহায়, সর্বহারা-দরিদ্রদের মহাসম্মানিতা মাতা আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
৭. اٰيَةُ اللهِ (আয়াতুল্লাহ)- মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত নির্দশন মুবারক।
৮. اَلْبُشْرٰى (আল বুশরা)- সম্মানিত সুসংবাদ মুবারক।
৯. جَامِعةُ النِّعْمَةِ وَالنِّسْبَةِ (জামি‘য়াতুন নি’মাতি ওয়ান নিসবাহ)- সমস্ত সম্মানিত নিয়ামত মুবারক ও নিবসত মুবারক উনাদের মালিকাহ।
১০. اَلْـحَافِظَةُ (আল হাফিযাহ)- সর্বোত্তম হিফাযতকারিণী, সর্বশ্রেষ্ঠ সংরক্ষণকারিণী।
১১. اَلْـحَامِدَةُ (আল হামিদাহ)- সর্বোত্তম প্রশংসাকারিণী।
১২. حَبِيْبَةُ اللهِ (হাবীবাতুল্লাহ)- মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীবাহ।
১৩. اَلْـحَلِيْمَةُ (আল হালীমাহ)- পরম ধৈর্যশীলা, মহাসহনশীলা।
১৪. اَلْـخَالِصَةُ (আল খ¦ালিছাহ)- খালিছাহ, পূত-পবিত্রা।
১৫. اَلْـخَبِيْرَةُ (আল খ¦বীরাহ)- মহাবিচক্ষণা।
১৬. اَلْـخَلِيْلَةُ (আল খ¦লীলাহ)- আখাছ্ছুল খাছ মাহবূবাহ।
১৭. خَلِيْلَةُ الرَّحْـمٰنِ (খ¦লীলাতুর রহমান)- মহান আল্লাহ উনার আখাছ্ছুল খাছ মাহবূবাহ।
১৮. اَلذَّاكِرَةُ (আয যাকিরাহ)- সর্বোত্তম যিকিরকারিণী।
১৯. ذِكْرُ اللهِ (যিক্রুল্লাহ)- মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত যিকির মুবারক। অর্থাৎ উম্মুল মু‘মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম তিনি নিজেই যিকরুল্লাহ। সুবহানাল্লাহ!
২০. ذَاتُ الْـخلق العظيم (যাতুল খুলুক্বিল আযীম)- সর্বোত্তম সুমহান চরিত্র মুবারক উনার অধিকারিণী।
২১. ذَاتُ السَّكِيْنَةِ (যাতুস সাকীনাহ)- সাকীনাহ, শান্তি, প্রশান্তি, ইতমিনান মুবারক উনাদের মালিকাহ।
২২. ذَاتُ الْعِزَّةِ (যাতুল ‘ইযযাহ)- সম্মানিত ইজ্জত মুবারক উনার মালিকাহ।
২৩. ذَاتُ الْفَضْلِ (যাতুল ফাদ্বল)- সম্মানিত ফযল মুবারক উনার মালিকাহ।
২৪. ذَاتُ الْـهِجْرَتَيْنِ (যাতুল হিজরাতাইন)- সম্মানিত দুই হিজরত মুবারক উনাদের মালিকাহ। সুবহানাল্লাহ! যেহেতু তিনি প্রথমবার হাবশায় এবং দ্বিতীয়বার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ-এ সম্মানিত হিজরত মুবারক করেন, তাই উনার একখানা বিশেষ লক্বব মুবারক হচ্ছেন যাতুল হিজরতাইন তথা সম্মানিত দুই হিজরত মুবারক উনাদের মালিকাহ। সুবহানাল্লাহ!
২৫. اَلرَّافِعَةُ (আর রাফি‘য়াহ)- সুউচ্চ মর্যাদা-মর্তবা মুবারক উনার অধিকারিণী এবং সুউচ্চ মর্যাদা-মর্তবা মুবারক দানকারিণী।
২৬. رَحْـمَةُ الْاُمَّةِ (রহমাতুল উম্মাহ)- সমস্ত উম্মতের জন্য সম্মানিত রহমত মুবারক।
২৭. لِّـلْـعَـالَـمِيْنَ ٌ رَحْـمَة (রহমাতুল্লিল ‘আলামীন)- সমস্ত আলমের জন্য সম্মানিত রহমত মুবারক।
২৮. رَفِيْقَةُ اللهِ (রফীক্বুল্লাহ)- মহান আল্লাহ পাক উনার রফীক্বাহ, হাবীবাহ।
২৯. رَفِيْعَةُ الدَّرَجَاتِ (রফী‘য়াতুদ দারাজাত)- সকল সুউচ্চ সুমহান মর্যাদা-মর্তাবা ও মাক্বামাত মুবারক উনাদের মালিকাহ।
৩০. اَلزَّاهِدَةُ (আয যাহিদাহ)- দুনিয়াবিরাগিণী, মহান আল্লাহ পাক উনার দিকে দায়িমীভাবে রুজু।
৩১. اَلـزَّكِـىَّةُ (আঝ ঝাকিয়্যাহ)- পূত-পবিত্রা, মহাবিচক্ষণা।
৩২. اَلسَّابِقَةُ بِالْـخَيْرَاتِ (আস সাবিক্বাতু বিল খইরাত)- খইর, কল্যাণ, ভালাই ইত্যাদি সর্ববিষয়ে অগ্রগামিণী।
৩৩. اَلسَّاجِدَةُ (আস সাজিদাহ)- সর্বোত্তম সিজদাকারিণী।
৩৪. اَلسَّخِىَّةُ(আস সাখি¦য়্যাহ)- মহাদানশীলা।
৩৫. سَعِيْدَةُ (আস সাঈদাহ)- সর্বশ্রেষ্ঠ সুখী, সর্বশ্রেষ্ঠ নেকবখ্ত, সৌভাগ্যবান।
৩৬. اَلسَّلَامُ (আস সালাম)- সর্বশ্রেষ্ঠ শান্তিদাতা।
৩৭. اَلسَيِّدَةُ (আস সাইয়্যিদাহ)- সাইয়্যিদাহ।
৩৮. سَيِّدَةُ الثَّقَلَيْنِ (সাইয়্যিদাতুছ ছাক্বলাইন)- দুই প্রধান সৃষ্টিজীব- জিন ও ইনসানের সাইয়্যিদাহ।
৩৯. سَـيِّـدَةُ الْكَوْنَيْنِ (সাইয়্যিদাতুল কাওনাঈন)- দুই জগতের সাইয়্যিদাহ।
৪০. اَلشَّافِعَةُ (আশ শাফি‘য়াহ)- সর্বোত্তম সুপারিশকারিণী, সর্বশ্রেষ্ঠ শাফায়াতকারিণী।
৪১. اَلشَّافِـيَةُ (আশ শাফিয়াহ)- শিফাদানকারিণী, আরোগ্যদানকারিণী, সমস্ত উম্মতের জন্য যাহিরী-বাতিনী আরোগ্যদানকারিণী।
৪২. اَلشَّاكِرَةُ (আশ শাকিরাহ)- যথার্থ পুরস্কারদানকারিণী, যথাযথ শুকরিয়া আদায়কারিণী।
৪৩. اَلشَّاهِدَةُ (আশ শাহিদাহ)- উপস্থিত, হাযির-নাযির, সাক্ষ্যদানকারিণী।
৪৪. اَلشَّرِيْفَةُ (আশ শারীফাহ)- সর্বোচ্চ শরীফ, সর্বোচ্চ মর্যাদাবান, সর্বোচ্চ সম্ভ্রান্তশীলা।
৪৫. اَلصَّابِرَةُ (আছ ছাবিরহ)- চরম ধৈর্যশীলা।
৪৬. اَلصَّاحِبَةُ (আছ ছাহিবাহ)- মালিকাহ, অধিকারিণী।
৪৭. صَاحِبَةُ الشَّفَاعَةِ (ছাহিবাতুশ শাফা‘আহ)- সম্মানিত শাফায়াত মুবারক উনার মালিকাহ।
৪৮. صَاحِبَةُ الْفَضِيْلَةِ (ছাহিবাতুল ফাদ্বীলাহ)- সম্মানিত ফযীলত মুবারক উনার মালিকাহ।
৪৯. صَاحِبَةُ الْـخَيْرِ (ছাহিবাতুল খইর)- সমস্ত কল্যাণ মুবারক উনাদের মালিকাহ।
৫০. صَاحِبَةُ الْكَوْثَرِ (ছাহিবাতুল কাওছার)- সম্মানিত কাওছার মুবারক উনার মালিকাহ, সম্মানিত খাইরে কাছীর মুবারক তথা সমস্ত সম্মানিত ভালাই বা কল্যাণ মুবারক উনাদের মালিকাহ।
৫১. صَاحِبَةُ الدَّرَجَةِ الْعَالِيَةِ الرَّفِيْعَةِ (ছাহিবাতুদ দারাজাতিল ‘আলিয়াতির রফী‘য়াহ) সুউচ্চ সুমহান সম্মানিত দারাজাত তথা সম্মান ও মাক্বামাত মুবারক উনার মালিকাহ।
৫২. اَلطَّاهِرَةُ (আত্ব ত্বাহিরাহ)- পূত-পবিত্রা, পূত-পবিত্রতাদানকারিণী।
৫৩. اَلظَّاهِرَةُ (আয যাহিরাহ)- অত্যন্ত সুস্পষ্ট, উজ্জ্বল, সুউচ্চ মর্যাদাবান, সর্বশ্রেষ্ঠ বিজয়িনী।
৫৪. اَلْعَادِلَةُ (আল ‘আদিলাহ)- চরম ন্যায়বিচারকারিণী, চরম ন্যায়পরায়ণা।
৫৫. اَلْعَارِفَةُ (আল ‘আরিফাহ)- পরিচিত, অবহিত, জ্ঞাত। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার হাক্বীক্বী সম্মানিত পরিচয় মুবারক লাভকারিণী।
৫৬. اَلْعَافِـيَةُ (আল ‘আফিয়াহ)- মাফকারিণী, ক্ষমাকারিণী।
৫৭. اَلْعَالِـمَةُ (আল ‘আলিমাহ)- আলিমাহ।
৫৮. اَلْعَلِيْمَةُ (আল ‘আলীমাহ)- সর্বজ্ঞাত, মহাজ্ঞানী।
৫৯. اَلْعَزِيْزَةُ (আল ‘আযীযাহ)- মাহবূবাহ, মহাসম্মানিতা, বেমেছাল মর্যাদা-মর্তবা ও প্রভাব-প্রতিপত্তি মুবারক উনার অধিকারিণী, মালিকাহ।
৬০. اَلْعَلِـيَّةُ (আল ‘আলিয়্যাহ)- সুউচ্চ, মহামর্যাদাবান, মহাসম্মানিতা।
৬১. اَلْغَالِبَةُ (আল গ¦ালিবাহ)- গালিবাহ, মহাবিজয়িনী, সর্বাধিক প্রাধান্য বিস্তারকারিণী।
৬২. اَلْغَنِيَّةُ (আল গ¦নিয়্যাহ)- মহাসম্পদশালিনী, মহাধনী, অমুখাপেক্ষী, বেনিয়াজ।
৬৩. اَلْفَاضِلَةُ (আল ফাদ্বিলাহ)- মহাসম্মানিতা, সুউচ্চ মর্যাদা-মর্তবা মুবারক উনার অধিকারিণী, সর্বশ্রেষ্ঠা, সর্বসেরা।
৬৪. اَلْفَائِقَةُ (আল ফায়িক্বাহ)- সর্বশ্রেষ্ঠা, অনন্যা।
৬৫. اَلْفَارِقَةُ (আল ফারিক্বাহ)- হক্ব ও নাহক্বের মাঝে পার্থক্যকারিণী।
৬৬. اَلْفَصِيْحَةُ (আল ফাছীহাহ)- সুভাষিণী, বিশুদ্ধভাষিণী।
৬৭. اَلْقَاسِمَةُ (আল ক্বাসিমাহ)- বণ্টনকারিণী।
৬৮. اَلْقَائِدَةُ (আল ক্বায়িদাহ)- সাইয়্যিদাহ, মহানপরিচালিকা, হিদায়াত উনার পথে পরিচালনাকারিণী।
৬৯. قَائِدَةُ الْـخَيْرِ (ক্বায়িদাতুল খইর)- কল্যাণের দিকে পরিচালনাকারিণী, যিনি সবাইকে কল্যাণের দিকে নিয়ে যান।
৭০. اَلْقَرِيْبَةُ (আল ক্বরীবাহ)- চিরনিকটবর্তী, অতি নিকটস্থ, অতি ঘনিষ্ঠ,
৭১. اَلْقَوِيَّةُ (আল ক্বওইয়াহ)- সর্বশক্তিমান, মহাশক্তিধর।
৭২. اَلْكَامِلَةُ (আল কামিলাহ)- পরিপূর্ণ, পরিপূর্ণতাদানকারিণী।
৭৩. اَلْكَرِيْـمَةُ (আল কারীমাহ)- মহাসম্মানিতা, মহামর্যাদাবান, মহাদানশীলা।
৭৪. اَلْمُؤْتَـمَنَةُ (আল মু’তামানাহ)- চির বিশ্বস্ত, সর্বশ্রেষ্ঠা আমানাতদার, আমানতের যথাযথ হিফাযতকারিণী।
৭৫. اَلْمَأْمُوْنَةُ (আল মা’মূনাহ)- নিরাপদ, চির বিশ্বস্ত, আমানদানকারী, নিরাপত্তাদানকারী।
৭৬. اَلْـمُؤْمِنَةُ (আল মু’মিনাহ)- সর্বশ্রেষ্ঠা ঈমানদার, সর্বশ্রেষ্ঠা মু’মিনাহ।
৭৭. اَلْمَاجِدَةُ (আল মাজিদাহ)- গৌরবময়ী, মহামর্যাদাবান, মহান, গৌরবান্বিত।
৭৮. اَلْمُبَاركَةُ (আল মুবারিকাহ)- বরকতদানকারিণী, কল্যাণদানকারিণী।
৭৯. اَلْمُبَارَكَةُ (আল মুবারকাহ)- বরকতময়, কল্যাণময়।
৮০. اَلْـمُبَشِّرَةُ (আল মুবাশশিরাহ)- সুসংবাদদানকারিণী।
৮১. اَلْمُبَلِّغَةُ (আল মুবাল্লিগহ)- সম্মানিত দ্বীন উনার প্রতি আহ্বানকারিণী।
৮২. اَلْمُتَبَسِّمَةُ (আল মুতাবাসসিমাহ)- হাস্যোজ্জ্বল, যিনি মুচকি হাসি মুবারক দেন।
৮৩. اَلْمُجَاهِدَةُ (আল মুজাহিদাহ)- মুজাহিদাহ, জেহাদকারিণী।
৮৪. اَلْمُجِيْبَةُ (আল মুজীবাহ)- জবাবদানকারিণী, সাড়াদানকারিণী, কবুলকারিণী।
৮৫. اَلْمَجِيْدَةُ (আল মাজীদাহ)- মহামর্যাদাবান, মহীয়ান, গৌরবান্বিত, গৌরবময়ী।
৮৬. اَلْمَحْمُوْدَةُ (আল মাহমূদাহ)- চরম প্রশংসিত।
৮৭. اَلْمُخْتَارَةُ (আল মুখ¦তারহ)- মনোনীত, সর্বশ্রেষ্ঠা।
৮৮. اَلْمُخْتَصَّةُ (আল মুখতাচ্ছাহ)- বিশেষ ব্যক্তিত্বা মুবারক, আখাছ্ছুল খাছ ব্যক্তিত্বা মুবারক।
৮৯. اَلْـمَخْصُوْصَةُ بِالعِزَّةِ (আল মাখ¦ছূছাতু বিল ‘ইজ্জাহ)- বিশেষ সম্মান-ইজ্জত মুবারক উনার অধিকারিণী, আখাছ্ছুল খাছ সম্মান-ইজ্জত, মর্যাদা-মর্তবা মুবারক উনাদের মালিকাহ।
৯০. اَلْـمُرْشِدَةُ (আল মুরশিদাহ)- সৎ পথ প্রদর্শনকারিণী, হিদায়াতদানকারিণী।
৯১. اَلْـمُزَكِّيَةُ (আল মুযাক্কিয়াহ)- তাযকিয়াদানকারিণী, পবিত্রতাদানকারিণী।
৯২. اَلْـمُسْتَجِيْبَةُ (আল মুস্তাজীবাহ)- সাড়াদানকারিণী, জবাবদানকারিণী।
৯৩. اَلْمُسْتَفِيْضَةُ (আল মুস্তাফীযাহ)- ফয়েযদানকারিণী।
৯৪. اَلْمُسْتَقِيْمَةُ (আল মুস্তাক্বীমাহ)- সরল, সঠিক, ইস্তিকামত রাখনে ওয়ালা।
৯৫. اَلْمَسْعُوْدَةُ (আল মাস‘ঊদাহ)- সৌভাগ্যশীলা, সর্বশ্রেষ্ঠা ভাগ্যবান।
৯৬. اَلْمَشْهُوْدَةُ (আল মাশহূদাহ)- উপস্থিত, হাযির-নাযির।
৯৭. اَلْـمُشَفَّعَةُ (আল মুশাফ্ফা‘আহ)- যেই সুমহান ব্যক্তিত্বা মুবারক উনার সুপারিশ কবুল করা হয়।
৯৮. اَلْمُصْلِحَةُ (আল মুছলিহাহ)- ইছলাহদানকারিণী, সংশোধনকারিণী।
৯৯. اَلْمُصَدِّقَةُ (আল মুছদ্দিক্বাহ)- সত্যায়নকারিণী।
১০০. اَلْـمُطَهَّرَةُ (আল মুত্বহ্হারহ)- পূত-পবিত্রা।
১০১. اَلْـمُطَهِّرَةُ (আল মুত্বহ্হিরহ্)- পূত-পবিত্রতাদানকারিণী।
১০২. اَلْمَعْرُوْفَةُ (আল মা’রূফাহ)- পরিচিত, প্রসিদ্ধ, মশহূর।
১০৩. اَلْـمُعَزَّزَةُ (আল মু‘আয্যাযাহ)- মহাসম্মানিতা, মহামর্যাদাবান।
১০৪. اَلْمَعْشُوْقَةُ (আল মা’শূক্বাহ)- মা’শূক্বাহ, সকলের নিকট সর্বাধিক মাহবূবাহ।
১০৫. اَلْمُعَظَّمَةُ (আল মু’য়ায্যামাহ)- মহাসম্মানিতা, মহামর্যাদাবান।
১০৬. اَلْمُعَلِّمَةُ (আল মু‘য়াল্লিমাহ)- মু‘য়াল্লিমাহ, তা’লীমদানকারিণী।
১০৭. اَلْمُعِيْنَةُ (আল মু‘ঈনাহ)- সর্বশ্রেষ্ঠ সাহায্যকারিণী।
১০৮. اَلْـمُقَدِّسَةُ (আল মুক্বদ্দিসাহ)- উৎসর্গকারিণী, পবিত্রতাদানকারিণী।
১০৯. اَلْـمُقَدَّسَةُ (আল মুক্বাদ্দাসাহ)- মহাপবিত্রা, উৎসর্গকৃত।
১১০. اَلْمُكَرَّمَةُ (আল মুর্কারমাহ)- মহাসম্মানিতা।
১১১. اَلْمَالِكَةُ (আল মালিকাহ)- মালিকাহ, অধিকারিণী।
১১২. مَالِكَةُ الْـجَنَّةِ (মালিকাতুল জান্নাহ)- সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার মালিকাহ।
১১৩. مَالِكَةُ الْكَائِنَاتِ (মালিকাতুল কায়িনাত)- সমস্ত কায়িনাতের মালিকাহ।
১১৪. مَالِكَةُ جَامِعِ النِعَمِ(মালিকাতু জামিয়িন নি‘য়াম)- সমস্ত সম্মানিত নিয়ামত মুবারক উনাদের মালিকাহ।
১১৫. اَلْـمُنْتَصِرَةُ (আল মুনতাছিরহ)- সর্বশ্রেষ্ঠ বিজয়িনী, মহাশক্তিধর।
১১৬. منّة الله (মিন্নাতুল্লাহ)- মহান আল্লাহ পক উনার সর্বশ্রেষ্ঠ অনুগ্রহ মুবারক।
১১৭. اَلْـمُنْذِرَةُ (আল মুনযিরহ)- ভীতিপ্রদর্শনকারিণী, সতর্ককারিণী।
১১৮. اَلْـمُنِيْبَةُ (আল মুনীবাহ)- মালিকাহ, মুনীবাহ, সমস্ত কায়িনাত যেই সুমহান ব্যক্তিত্বা মুবারক উনার গোলাম।
১১৯. اَلْـمُغِيْثَةُ (আল মুগীছাহ)- সর্বশ্রেষ্ঠ সাহায্যকারিণী, ত্রাণকর্তা, উদ্ধারকারিণী।
১২০. اَلْـمُنِيْرَةُ (আল মুনীরহ)- আলোদানকারিণী, উজ্জ্বল, নূর দানকারিণী, হিদায়াত দানকারিণী, ফয়েযদানকারিণী, সম্মানিত রহমত মুবারক দানকারিণী।
১২১. اَلْمَوْعِظَةُ (আল মাও‘িয়যাহ)- সর্বশ্রেষ্ঠ নছীহতকারিণী।
১২২. اَلْمُهَذَّبَةُ (আল মুহায্যাবাহ)- পূত-পবিত্রা, মহাপবিত্রা।
১২৩. اَلنَّاصِحَةُ (আল নাছিহাহ)- সর্বশ্রেষ্ঠ নছীহতকারিণী, উপদেশদানকারিণী।
১২৪. اَلنَّاهِـيَةُ (আন নাহিয়াহ)- (সম্মানিত শরী‘য়াত উনার খিলাফ সমস্ত কাজে) নিষেধকারিণী, বারণকারিণী।
১২৫. اَلنِّعْمَةُ (আল নি’মাহ)- সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত মুবারক।
১২৬. نِعْمَةُ اللهِ (নি’মাতুল্লাহ)- মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত মুবারক।
১২৭. اَلنَّقِيْبَةُ (আন নাক্বীবাহ)- সাইয়্যিদাহ।
১২৮. اَلنُّوْرُ (আন নূর)- নূর মুবারক।
১২৯. اَلنُّوْرُ الْمُكَرَّمَةُ (আন নূরুল মুকাররমাহ)- সম্মানিত নূর মুবারক।
১৩০. اَلنُّوْرُ الْمُطَهَّرَةُ (আন নূরুল মুত্বহ্হারহ)- মহাপবিত্র নূর মুবারক।
১৩১. نُوْرُ اللهِ (নূরুল্লাহ)- মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত নূর মুবারক।
১৩২. نُوْرُ الْاُمَمِ (নূরুল উমাম)- সমস্ত উম্মতের জন্য নূর মুবারক, আলোকবর্তিকা, নূরুল উমাম।
১৩৩. نُوْرُ الْكَائِنَات (নূরুল কায়িনাত)- সমস্ত কায়িনাতের জন্য নূর মুবারক, আলোকবর্তিকা।
১৩৪. اَلْـهَادِيَةُ (আল হাদিয়াহ)- সর্বশ্রেষ্ঠ হিদায়াতকারিণী।
১৩৫. هَدِيَّةُ اللهِ (হাদিয়্যাতুল্লাহ)- মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে মহাসম্মানিত হাদিয়া মুবারক, তোহফা মুবারক।
১৩৬. اَلْوَاسِعَةُ (আল ওয়াসি‘আহ)- সীমাহীন ইলম মুবারক উনার অধিকারিণী, মহাদানশীলা।
১৩৭. اَلْوَاعِظَةُ (আল ওয়া‘য়িযহ)- সর্বশ্রেষ্ঠ ওয়ায়েজ, নছীহতকারিণী, উপদেশদানকারিণী।
১৩৮. اَلْوَافِـيَةُ (আল ওয়াফীয়াহ)- পরিপূর্ণ, পরিপূর্ণতাদানকারিণী।
১৩৯. اَلْوَسِيْلَةُ (আল ওয়াসীলাহ)- সর্বশ্রেষ্ঠ ওয়াসীলাহ মুবারক, সর্বশ্রেষ্ঠ মাধ্যম মুবারক।
১৪০. اَلْوَهَّابَةُ عَلَيْهَا السَّلَامُ (আল ওহ্হাবাহ আলাইহাস সালাম)- সর্বশ্রেষ্ঠ দানশীল, সীমাহীন দানকারিণী। সুবহানাল্লাহ!
এছাড়াও অসংখ্য-অগণিত সম্মানিত লক্বব মুবারক উনাদের মালিকাহ হচ্ছেন উম্মুল মু‘মিনীন আল খ¦মিসাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে