মুসলমানদের জন্য ভ্যালেন্টাইন ডে বা তথাকথিত ভালোবাসা দিবস পালন করা সম্পূর্ণরূপে হারাম


গোটা মুসলিম জাতি একটা ভয়ঙ্কর মহামারি ব্যাধিতে ভুগছে, রোগটা একটা মানসিক ব্যাধি, যার নাম হল – “হীনমন্যতা”। এই রোগে বেশি আক্রান্ত আঁতেল সমাজ অর্থাৎ তথাকথিত বুদ্ধিপরজীবী ও চুষিল সমাজ। এদের মাধ্যমে পশ্চিমা বিশ্বের নানাবিধ অপসংস্কৃতি আমাদের মুসলিম যুব সমাজকে আসক্ত করছে। অথচ মুসলমানগণ বিশ্ববাসীকে সভ্যতার আলো দেখিয়েছেন। আমরা কেন বিধর্মীদের কদর্য অপসংস্কৃতি দ্বারা প্রভাবিত হবো?

 

আমরা মনে করে থাকি যে, পাশ্চাত্য সভ্যতা বোধহয় উন্নত এবং অনুকরণীয়। কিন্তু না, কখনোই না। বাংলার বহুল প্রচলিত প্রবাদ বাক্যটি সবাই জানেন – চক চক করিলেই সোনা হয় না।

 

আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য এবং সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ সুন্দর থেকে সুন্দরতম। এক কথায় তুলনাহীন। আমাদের সমাজ পাশ্চাত্যের প্রভাবে অনেক কিছুই হারিয়েছে এবং হারাতে বসেছে তবুও যা কিছু অবশিষ্ট রয়েছে তার ধারে কাছেও পাশ্চাত্য সভ্যতা কখনোই আসতে পারবে না। প্রয়োজন শুধু আমাদের আত্ম-উপলন্ধি।

 

পাশ্চাত্য সংস্কৃতি আজ আধুনিকার নাম সভ্যতার নিম্নদেশে পৌঁছেছে। ওদের সব কিছুই মিথ্যা নির্ভর। তাদের সব কিছুই ঠুনকো এবং মিথ্যার উপর প্রতিষ্ঠিত। মিথ্যা কোনো দিন টেকসই হয় না- এটা ক্ষণিকের ভ্রম মাত্র।

 

আমাদের মুসলিম সমাজের কৃষ্টি ও রীতিনীতি আজো পশ্চিমা বিশ্বের তুলনায় কোটি কোটি গুণ বেশী উন্নত। আমাদের সমাজে রয়েছে পারিবারিক বন্ধন ও সুসম্পর্ক। ১৮ বছর বয়সে ইহুদী-নাসারাদের ছেলেমেয়েরা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তাই ওদের মা দিবস বা বাবা দিবস প্রয়োজন, ওরা সর্বদা অপরিষ্কার থাকে, তাদের ওযু গোসল নেই; টিস্যুই পরিচ্ছন্নতার একমাত্র ভরসা আর দুর্গন্ধ এড়াতে কৃত্রিম পারফিউম ব্যবহার করা। ওদের বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসের প্রয়োজন থাকতে পারে, আমাদের প্রয়োজন নেই।

 

ওদের কাছ থেকে আমাদের শেখার কিছু নেই। আমাদের প্রয়োজন আমাদের গৌরবময় সোনালী ইতিহাস অধ্যয়ন করা। আমাদের ইতিহাস বীরত্বের ও গৌরবের ইতিহাস। মুসলিম ইতিহাসের সঠিক জ্ঞানই পারে হীনমন্যতা নামক মানসিক ব্যাধি থেকে মুক্তি দিতে। আমাদের পূর্বপুরুষরা যখন মসলিন, রেশমী ও সুতি কাপড় পরতো, তখনও ওরা গাছের ছাল বাকল দিয়ে তৈরি পোশাক পরতো, প্রায় উলঙ্গ ঘুরে বেড়াত।

 

সুতরাং হীনম্মন্যতার কোনো কারণ নেই মুসলমানদের। আমাদের পবিত্র ঈমানী শক্তি বৃদ্ধি করে ঘুরে দাঁড়াতে হবে!

 

তথাকথিত ভালোবাসা দিবস পালন মূলত নোংরামির বিস্তার ঘটায় এবং এর প্রচার প্রসারের পিছনে আছে ব্যবসায়ীদের স্বার্থ। আগে শুধু ভ্যালেন্টাইন ডে পালক করতে উৎসাহ দিত তারা, এখন তারা ভ্যালেন্টাইন উইক অর্থাৎ সপ্তাহ পালন করে উৎসাহ দেয়। এর পিছনে কারণ হল তারা গিফট ও অন্যান্য খরচের মাধ্যমে একটা বিরাট ব্যবসায়িক বাজার তৈরি করতে পারছে তথকথিত ভালোবাসা দিবস এর মাধ্যমে।

 

এবার ফিরে আসা যাক আলোচনার মূল প্রসঙ্গে। মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফে ইরশাদ করেন-

 

“যে ব্যক্তি দ্বীন ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ধর্ম (বিধর্মী ও বিজাতীয়দের নিয়ম-নীতি ও তর্জ-তরীক্বা) তলব বা অনুসরণ ও অনুকরণ করে, তার থেকে তা কখনই গ্রহণ করা হবেনা এবং সে পরকালে (অবশ্যই) ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।” (সূরা আলে ইমরান/৮৫)

 

মহান আল্লাহ পাক তিনি আরও ইরশাদ মুবারক করেন –

 

“তোমরা কাফির ও মুনাফিকদের অনুসরণ করো না।”

 

মহান আল্লাহ পাক-এর হাবীব, রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন –

 

“হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত আছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের সাথে মিল রাখে, সে তাদের দলভুক্ত এবং তার হাশর-নশর তাদের সাথেই হবে।” (মুসনাদে আহমদ, সুনানে আবূ দাউদ)

 

মহান আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে কাফির বা বিধর্মী ও বিজাতীয়দের অনুষ্ঠান তথাকথিত ভালোবাসা দিবস সহ সমস্ত বিজাতীয় দিবস পালন থেকে বেচে থাকার এবং অন্যদের ফিরিয়ে রাখার তৌফিক দান করুন। আমীন!

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে