মুসলমানদের বসিয়ে রেখে বিধর্মীদের হাতেই প্রশাসনিক উচ্চপদগুলো যাচ্ছে কিভাবে?


বর্তমানে এদেশের পুলিশ-প্রশাসনের উচ্চপদ থেকে শুরু করে স্বায়ত্তশাসিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে বিধর্মীদের আনাগোণা কল্পনাতীত বেশি দেখা যাচ্ছে। হঠাৎ করে মুসলমানদের যোগ্যতা ডাউন (!) হয়ে বিধর্মীদের যোগ্যতার উর্ধ্বমুখী হওয়ার রহস্য কি? কিন্তু ইতিহাস বলে দেয়, দুর্নীতি ও অন্যায় করার সুযোগ সুবিধা বেশি পাওয়া যায় অমুসলিমদের থেকেই। যে কারনে ব্রিটিশ আমল থেকেই দস্যু ইংরেজদের নিকট অমুসলিমরা প্রাধান্য পেয়ে আসছে।
১৭৫৭ সালে ইংরেজরা যখন বাংলার ক্ষমতা দখল করে, তখন নৌ-দস্যু ক্লাইভ এদেশে ‘দ্বৈত শাসনব্যবস্থা’ জারি করে। এই দ্বৈত শাসনব্যবস্থার আওতায় ইরান থেকে আগত সাইয়্যিদ মুহম্মদ রেজা খান নামক এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির নিকট রাজস্ব, প্রশাসন ও আইনকানুনের ভার তুলে দেয়া হয়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর কাজ ছিল কেবলমাত্র একজন প্রতিনিধির দ্বারা সেই রাজস্বের অর্থ সংগ্রহ করা। এই ‘দ্বৈত শাসনব্যবস্থা’ প্রণয়নের মূল কারণ ছিল, ব্রিটিশ বেনিয়ারা তখনো রাজস্ব আদায় ও প্রশাসনের কাজকর্ম বুঝে উঠতে পারেনি, যেহেতু তারা ছিল স্রেফ কতগুলো অসভ্য নৌ-দস্যু মাত্র।
১৭৬৭ সালে ক্লাইভ যখন এদেশ থেকে পুরোপুরি বিদায় নেয়, তখন কোম্পানীর অন্যান্য ইংরেজরা রেজা খানকে চাপ দিতে থাকে জনগণের উপর অন্যায় করের বোঝা চাপিয়ে বেশি বেশি রাজস্ব আদায় করে দেয়ার জন্য। কিন্তু সাইয়্যিদ রেজা খান তা না মানায় কোম্পানী নিজেই বাংলাদেশের গ্রামে গ্রামে তাদের লোক পাঠিয়ে লুটপাট চালাতে থাকে। সাইয়্যিদ রেজা খান এর তীব্র প্রতিবাদ করেন, কিন্তু কোনো ফল হয় না। ব্রিটিশদের লুটপাটের ফলশ্রুতিতে ১৭৭০ সালে বাংলায় মহাদুর্ভিক্ষ সংঘটিত হয়, যাতে বাংলার এক-তৃতীয়াংশ লোক মারা যায়।
এই দুর্ভিক্ষের পর কোম্পানী উল্টো সাইয়্যিদ রেজা খানকে দায়ী করে তাকে কারারুদ্ধ করে এবং গোটা বাংলার রাজস্ব ও শাসনব্যবস্থা নিজের হাতে তুলে নেয়। অর্থাৎ মুসলমানদের কাছ থেকে রাজস্ব আদায় ও শাসনকার্য শিখে নেয়ার পর ব্রিটিশরা মুসলমানদের অপসারণ করে এবং এরপর ইংরেজরা গোটা শাসনব্যবস্থা ভরে ফেলে বিধর্মীদেরকে দিয়ে। ১৭৯৩ সালে কর্নওয়ালিস ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত’ আইন করে মুসলমানদের লাখেরাজ জমিগুলো কেড়ে নিয়ে বিধর্মীদেরকে দেয়, যার ফলে বাংলাদেশের মুসলমানরা রাতারাতি গরীব আর বিধর্মীরা রাতারাতি ধনী হয়ে যায়।
সাইয়্যিদ রেজা খানের প্রতিবাদ থেকে ব্রিটিশরা এই শিক্ষাগ্রহণ করেছিল যে, তারা প্রশাসনে মুসলমান রাখবে না, কারণ মুসলমানরা তাদের ঈমানের কারণেই নীচ-হীন দেশবিরোধী কর্মকা- সহ্য করবে না। বিপরীতে বিধর্মীদের প্রশাসনে বসিয়ে কলকাতা বন্দর দিয়ে এদেশের সমস্ত সম্পদ ইংল্যান্ডে পাচার করা হয়েছিল, লুটপাট করে দুর্ভিক্ষের সৃষ্টি করে বহু ভারতবাসীকে হত্যা করেছিল ব্রিটিশরা। বিধর্মীদের সহযোগিতার ফলেই ব্রিটিশরা মুসলমানগণ উনাদের ব্যাপক প্রতিরোধ-সংগ্রামের পরও ১৯০ বছর ধরে ভারতবর্ষে টিকে থাকতে পেরেছিল।

যেকোনো দুর্নীতিবাজ সরকারই চায় এমন একদল প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারী, যাদের কোনো দেশপ্রেম কিংবা বিবেক বলতে কিছু থাকবে না। সরকার যতোই দেশবিরোধী চুক্তি করুক না কেন, যতোই দেশের টাকা বিদেশে পাচার করুক না কেন, তারা তার কোনো প্রতিবাদ করবে না। দুর্নীতিবাজ ও স্বৈরাচারী সরকার এমন কিছু অনুগত পাহারাদার কুকুর চায়, যেসব কুকুরেরা মুক্তিকামী জনগণের প্রতিবাদ-বিক্ষোভ দমন করে প্রভুর স্বার্থ বজায় রাখতে হবে তৎপর।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে