মুসলমানদের বোধোদয় এখন সময়ের দাবি


হুজুগে বাঙ্গালীর নতুন হুজুগ হল “পদ্মাবতী”। নায়িকা কত কেজি সোনার গয়না পরেছে, কত কেজি ওজনের লেহেঙ্গা পরেছে, এসব তথ্যের পাশাপাশি খুব কৌশলে আরো যে তথ্য প্রচার করা হচ্ছে তা হল, এটি নাকি ইতিহাস নির্ভর সিনেমা! অর্থাৎ এখন ম্যাক্সিমাম মানুষের মনে গেঁথে যাবে, দিল্লীর বাদশাহ আলাউদ্দীন খিলজি পদ্মাবতীকে অপহরণ করে ভোগ করার জন্যই মেবার আক্রমণ করেছিলেন! আর পদ্মাবতী তার সম্মান রক্ষার্থে আগুনে ঝাঁপ দিয়েছে, তবু মুসলমান শাসকের অধীনে যায়নি। অথচ সত্য উদঘাটনের জন্য বেশীদূর যেতে হবে না। উইকিপিডিয়াতে ঢুঁ মারলেই দেখা যাবে যে, আলাউদ্দীন খিলজীর মেবার বিজয় যেমন পরিস্কার ঐতিহাসিক ঘটনা, তেমনি পদ্মাবতীর ঘটনা পরিস্কার কল্পকাহিনী। ব্রিটিশরা তাদের ক্ষমতা ধরে রাখতে এবং হিন্দুরা মুসলমানদের বিরুদ্ধে তাদের সেন্টিমেন্ট চাঙ্গা রাখতে, একটা নিছক লোকগীতিকে ঐতিহাসিক ঘটনারুপে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে।
 
এদিকে আরেকটি বিষয় সম্প্রতি পেপার-পত্রিকায় উঠে এসেছে, যেটা নিয়ে মানুষের কোন মাথাব্যাথা দেখা যাচ্ছে না; সেটি হল, “মাদ্রাসা পাঠ্যবই থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে জিহাদ অধ্যায়”। এই অধ্যায়গুলো নাকি শিক্ষার্থীদেরকে জঙ্গি কাজে সম্পৃক্ত হতে উদ্বুদ্ধ করে! মূর্খগুলো এটা ভাবছে না যে, নিবরাসদের পাঠ্যবইতে জিহাদ বিষয়ক কোন শিক্ষা ছিল না জন্যই, কতগুলো কুচক্রীর পক্ষে সম্ভব হয়েছিল, জিহাদের অপব্যাখ্যা করে তাদের ব্রেইনওয়াশ করার। তাছাড়া জিহাদের ব্যাপারে অনুৎসাহিত জাতি কেবল পালিয়ে বাঁচতে শিখে, লড়াই করে নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে শিখে না।
 
অবস্থাটা কি বুঝা যাচ্ছে? একদিকে “গো মাতা রক্ষা”, “রাজপুতদের বীরত্ব” ইত্যাদি চেতনার মাধ্যমে হিন্দুদের হিন্দুত্ববাদিতা শক্তিশালী করা হচ্ছে; অপরদিকে “অসাম্প্রদায়িকতা”, “জিহাদবিমুখীতার” প্রচার প্রসার ঘটিয়ে মুসলমানদের ঈমানী জজবা নষ্ট করা হচ্ছে। মুসলমানদের নিষ্ক্রিয়, অথর্ব, কাপুরুষ জাতিতে পরিণত করা হচ্ছে। এখন যত দ্রুত মুসলমানদের বোধোদয় হবে ততই ভালো।
Views All Time
1
Views Today
3
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে