মুসলমানরাই ভারতকে স্বাধীন করেছে। ভারতের জনসংখ্যার ৪০ ভাগ হয়েও মুসলমানরা চরম বৈষম্য এবং অবহেলার শিকার।


বাংলাদেশের শতকরা ৯৮ ভাগ মুসলমান। কিছুদিন পূর্বে বাংলাদেশ সরকারের প্রসাশনে গুরুত্বপূর্ণ সচিব ও অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। পদোন্নতি প্রাপ্ত ৬৭ জনের মধ্যে ৪৬ জনই হলো হিন্দু। শতকরা ৯৮ ভাগ মুসলমান অধ্যুষিত বাংলাদেশে রাস্তাঘাট বন্ধ করে পূঁজার ঢোল আর কাঁসা বাজে।
এবার দেখুন- ভারতে জনসংখ্যার ৪০ ভাগ মুসলমানদের অবস্থা। ভারতের মুসলিমদের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষাগত অবস্থা সম্পর্কে জানার জন্য কয়েক বছর আগে ভারত সরকার এক বিশেষ কমিটি গঠন করে। কমিটির সভাপতি ছিলো দিল্লি হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারক রাজেন্দ্র সাচার। রাজেন্দ্র সাচারের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের কমিটি সাচার রিপোর্ট নিম্নে তুলে ধরা হলো-
পশ্চিমবঙ্গে সরকারি চাকরিতে মুসলমানরা মাত্র ২.১ শতাংশ। ভারতের উত্তরের কুচবিহার জেলায় কিছুদিন আগে পুলিশে লোক নিয়োগ হয়েছে। সেখানে ১২০ জনের নিয়োগের মধ্যে মুসলমানদের মাত্র ২ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়। কলকাতা পুলিশের তথ্যে দেখা যায়, উচ্চপর্যায়ে অর্থাৎ নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে, জয়েন্ট কমিশনার লেভেলে একজন মাত্র মুসলমান পুলিশ অফিসার, কলকাতা পুলিশে প্রশাসনিক কর্মীদের মধ্যে মাত্র ৩.৪ শতাংশ মুসলমান। রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার সর্বোচ্চ দফতর পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ডাইরেক্টরে প্রশাসনিক ১৩৭ কর্মীর মধ্যে মাত্র তিনজন মুসলমান। পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারে ২৬৪ জন আই.এ.এস অফিসারের মধ্যে মাত্র ২ জন মুসলিম।
পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও বিহারের ক্লাস ওয়ান সেক্টরের অফিসারের মধ্যে একজনও মুসলিম নেই। সর্বভারতীয় মোট ২,২৩২ জন ক্লাস ওয়ান অফিসারের মধ্যে মাত্র ৩৬ জন মুসলিম।
চাকরিপদ মুসলমানদের শতকরা হার
আই.এ.এস- ২.৯৯%
আই.পি.এস- ২.৮৫%
ইনকামট্যাক্স ৩.৬%
রেলওয়েট্রাফিক ২.৬৫%
আকাউন্ট ২.৬৫%
ব্যাংক ২.১৮%
কেন্দ্রীয়দপ্তর ৪.৪১%
রাজ্য সরকারি দপ্তর ৬.০১ %
পশ্চিমবঙ্গ বিহারের এক হাজার মুসলিম অধ্যুষিত গ্রামে কোনো বিদ্যালয়ই নেই। সারা দেশে মুসলিমপ্রধান গ্রামগুলির এক-তৃতীয়াংশে কোনো বিদ্যালয় নেই। কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় তো নাইই।
পশ্চিমবঙ্গের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রছাত্রীদের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যাচ্ছে, মাত্র ৩-৪ শতাংশ মুসলমান। টেকনিক্যাল স্নাতকের ক্ষেত্রে মুসলিমদের অবস্থা আরো খারাপ। ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট এর সবকটি শাখা মিলিয়ে ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে মাত্র ১.৩ শতাংশ মুসলমান। এর কারণ শুধুই সরকারি অমনোযোগিতা, স্কুল কলেজের অভাব। মুসলমান-অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যে এবং অবহেলার শিকার। অবাক করা ব্যাপার হলো- দেশের ৪০% মুসলমান অধ্যুষিত গ্রামে কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্রই নাই। বিনামূল্যে চিৎকিসা পাওয়া তো দূরের কথা।
মুসলমানরা প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিষেবা পেতে মুসলমান-অধ্যুষিত গ্রামের ৩৫ শতাংশ মানুষকে অন্তত চার কিলোমিটার ও ১২ শতাংশ গ্রামের মানুষকে ৮ কিলোমিটার দূরে যেতে হয়। স্বাস্থ্য পরিষেবার সাথে রাস্তার সম্পর্ক নিবিড়; সে ক্ষেত্রেও দেখা যায় মুসলমান-অধ্যুষিত ১৮ শতাংশ গ্রামের রাস্তা কাঁচা, সাইকেল চালানোও কঠিন। কাঁচা রাস্তায় চলাচলে গর্ভবতী মহিলার প্রসববেদনা দ্বিগুণ হয়, তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাড়িতেই শিশু প্রসবের ব্যবস্থা করা হয়। ভারতের মোট জনংখ্যার শতকরা ৪০ ভাগ হচ্ছে মুসলমান।
ধর্মীয় বিষয়ে সংবিধানে কথিত ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলা হলেও মুসলমানদের পবিত্র কুরবানী বন্ধ, মসজিদ বন্ধ, আজান বন্ধ, ধর্মীয় বিশেষ দিনে সরকারি ছুটি না থাকা ইত্যাদি ধর্মীয় বিভিন্ন বিষয়ে ভারতের মোট জনংখ্যার শতকরা ৪০ ভাগ মুসলমানরা চরম বৈষম্যে এবং অবহেলার শিকার হন। ভারতবর্ষে প্রায় ৭০০ বছর মুসলমান উনারা শাসন করেছে। অর্থ, প্রভাব প্রতিপত্তি, শিক্ষা সব দিক দিয়েই মুসলিম সম্প্রদায় সবচেয়ে বেশি অগ্রসর ছিল । কিন্তু বর্তমানে আমরা দেখতে পাই ধর্মীয়, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক প্রভৃতি ক্ষেত্রে ভারতে মুসলমানরা চরম বৈষম্যে এবং অবহেলার শিকার। ভারতের মোট জনসংখ্যার ৪০ ভাগ মুসলমান যাদের পূর্বপুরুষরা ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় পশ্চিম পাকিস্তান বা পূর্ব-পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) চলে যায়নি। তারা বরাবরই মনে করেছে এ দেশটা তাদেরই দেশ। কিন্তু ভারতের ধর্মান্ধ হিন্দু সম্প্রদায় তারা মনে করে ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পরেও যেসব মুসলমানরা ভারতে থেকে গেছে, তাদের ভারতে থাকার মতো কোনো অধিকার নেই। যার ফলে মুসলমানরা ভারতের জনসংখ্যার শতকরা ৪০ ভাগ হওয়ার পরেও ধর্মান্ধ হিন্দু সম্প্রদায়ের হাতে চরম নির্যাতিত, নিপীড়িত এবং সরকারের চরম বৈষম্যে এবং অবহেলার শিকার। বহু ক্ষেত্রে মুসলমানদের দেশদ্রোহী বলা হয়েছে, মুসলমানদের ‘বিদেশী চর’ বলা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে মুসলমান উনাদের তীব্র আন্দোলনের জন্যই ব্রিটিশরা ভারত ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল। অর্থ্যাৎ- ভারত নামের যে স্বাধীন দেশের জন্ম হয়েছে তা মূলত মুসলমানদেরই অবদান। মুসলিম দেশের সরকারদের একান্ত দায়িত্ব এবং কর্তব্য হচ্ছে জনসংখ্যার শতকরা ৪০ ভাগ হিসাবে মুসলমানদেরকে সুযোগ সুবিধা দেয়ার জন্য ভারত সরকারকে বাধ্য করা।
Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে