মুসলমানরা কি তাদের শত্রুকে চিনে??? তা না হলে মুসলমানরা কেন এত বিপদে পতিত হচ্ছে !!!


পৃথিবী নামক এই গ্রহে মানুষের শত্রু মিত্রের অভাব নেই। দিবারাত্রি, সুখ-দুঃখ, চড়াই উতরাই, ভালমন্দের নাম জীবন। আচ্ছা পাঠক! একটু ভেবে দেখুন তো, এই পৃথিবীর সকল চাওয়া পাওয়া যদি মানুষের অধীন হতো তাহলে জীবনটা কেমন হতো? কোন বিপদ নেই, নেই কোন বাধা, নাই কোন দুঃখ কষ্ট। এমন জীবনের প্রত্যাশাই তো সকলের। কিন্তু জীবনটা হতো ভয়ঙ্কর, অসহনীয়। এই ধরুন রাত; রাত তো দিনের পরিচয় বহন করে। রাত আছে বলেই তো দিনের কদর। শুধু কি তাই! রাত না থাকলে প্রাণীকুল বিশ্রাম নিতো কিভাবে? রাতের আঁধার পরের দিনটার জন্য পৃথিবীটাকে তৈরি করে দেয়। শত্রু, মিত্র, আপন পর ভাল-মন্দ এ সবই জীবনের বাস্তবতা। এগুলো অস্বীকার করার জো নেই। ইসলাম ধর্মাবলম্বী যথা মুসলমানদের আছে অনেক শত্রু। প্রধান শত্রু ইবলিস শয়তান। আছে ইহুদী-নাছারা, বেদ্বীন-বদদ্বীন, কাফির, মুশরিক ইত্যাদি। শয়তান মনে করে হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার জন্য সে লা’নতগ্রস্ত। সুতরাং আদম সন্তানের সাথে তার শত্রুতা। অথচ শয়তান তার নিজের অপরাধের জন্যই সে লা’নতগ্রস্ত। আর বাতিল ধর্মাবলম্বীরা মনে করে ইসলাম তাদের অপকর্মের অন্তরায়। সুতরাং শয়তানের সঙ্গী হিসেবে তারাও মুসলমানদের শত্রুতে পরিণত হয়েছে। পরিতাপের বিষয় অভিশপ্ত লা’নতগ্রস্ত শয়তানকে চিনেও তার কৌশলের কাছে অনেক মুসলমান পরাজিত। আর ইহুদী-নাছারা, কাফির, মুশরিকদের নেক সুরতে ধোঁকায় পড়ে নানা বিপদ-আপদে পতিত হচ্ছে। এই পরম ও চরম শত্রুদের বন্ধু বলে গ্রহণ করছে! শত্রুকে যদি কেউ বন্ধু বলে গ্রহণ করে তবে তার পরিণতি কত ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে ভেবে দেখছেন কি? মুসলমান যদি তার সত্তাকেই বিসর্জন দিয়ে দেয় তা হলে তার অস্তিত্ব থাকে কোথায়? নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মতকে লক্ষ্য করে বলেন, “তোমরা নিজেদের চিনো, আরো তোমাদের শত্রু-মিত্রদের চিনো।” কিন্তু মুসলমান ভুল বুঝে হীনস্বার্থ উদ্ধারের জন্য শত্রুর সাথে বন্ধুত্ব করে তাদের পাতা ফাঁদে পা দেয়। ইসলামের শত্রুরা তাদের শত্রুতা প্রকাশ্যে প্রকাশ করে থাকে, তবুও মুসলমান বুঝে না।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+