মুসলমানরা তো হিন্দুদের খুশি করার জন্য দ্বীন ও ঈমান ত্যাগ করেছে, তবুও কি হিন্দুরা শত্রুতা করা ছেড়ে দিয়েছে ???


মুসলমানরা হিন্দুদের খুশি করতে তাদের ঈমান ও আমল সবকিছু ছেড়ে দিলেও হিন্দুরা কখনোই শত্রুতা করা বন্ধ করে নি, বরং তারা মুসলিম মুক্ত ভারত ও হিন্দু রাষ্ট্র ভারতের স্বপ্ন দেখেছে।

 

মুসলমানরা একে একে হিন্দুদের ধর্মীয় ও সামাজিক রীতি গ্রহণ করেছে , আর অপরদিকে হিন্দুরা একে একে মুসলমানদের হিন্দুদের ধর্মীয় ও সামাজিক রীতি কেড়ে নিয়েছে মুসলমানদের কাছে থেকে।

 

যেমন –

 

১. মুসলিম মেয়েরা হিজাব পরলে তাদেরকে পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হয় না ও চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
২. মুসলিম পুরুষরা দাড়ি রাখলে তাদেরকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
৩. মুসলিম পুরুষরা অফিসে নামাজ পড়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।
৪. মুসলিমরা প্রকাশ্যে নামাজ পড়তে পারবে না। ইত্যাদি

 

হিন্দুদের খুশি করার জন্য মুসলমানরা ছেড়েছে গোরু কুরবানী ( অবশ্য হিন্দি বেল্টে এখন মোষ ও ছাগলও কুরবানী দেওয়া মুশকিল) :-

 

গরু কুবরানী করাও একটি সুন্নাত কারণ নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বয়ং গোরু করবানী করেছেন। এই সুন্নাত মুসলমানরা ছেড়েছে হিন্দুদের খুশি করার জন্য।

 

আজ থেকে প্রায় ১০০ বছর আগে হিন্দুদের খুশি করার জন্য দেওবন্দ মাদ্রাসা থেকে সর্বপ্রথম গোরু কুরবানীর বিরোধিতা করে ফতোয়া দেওয়া হয়; মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর অনুরোধে। (প্রমাণ, IBN Live – http://bit.ly/Deovando2 )

 

এর পরও বারবার দেওবন্দ মাদ্রাসা থেকে হিন্দুদের খুশি করার জন্য গোরু কুরবানী করার বিরোধিতা করে ফতোয়া দেওয়া হয়। ( প্রমাণ, Times of India – http://archive.is/XRFYk )

 

হিন্দুদের খুশি করার জন্য মুসলমানরা শিরক করেছে, যা কঠিন গুনাহ :-

 

হিন্দুদের খুশি করার জন্য ভারতীয় মুসলমানরা সরস্বতী পূজা, দুর্গা পূজা ইত্যাদি হিন্দুদের সমস্ত পুজায় অংশগ্রহণ করেছে। মুসলমানরা হিন্দুদের পুজায় চাঁদা দিয়েছে, হিন্দুদের মন্দির তৈরি করতে জমি দিয়েছে, মন্দির তৈরি করতে অনেক স্থানে সহায়তা করেছে।

 

হিন্দুদের খুশি করার জন্য মুসলমানরা হিন্দুয়ানী নাম রেখেছে :-

 

মুসলিমরা হিন্দুদের খুশি করার জন্য নিজেদের ধর্মীয় আইডেন্টিটি ছেড়ে দিয়ে, আরবী নাম না রেখে হিন্দুয়ানী নাম রেখেছে। গোরুর অজুহাতে যাদের উপরে সবচেয়ে বেশী অত্যাচার হয়, সেই ভারতের হরিয়ানার মেওয়াতের মেও মুসলিমরা রাম খান, লক্ষ্মণ খান, শঙ্কর খান ইত্যাদি নাম রাখে। ঠিক একই রকম নাম রাখে রাজস্থানের মুসলিমরাও। তাদের নাম দিয়ে বোঝা যাবে না যে তারা মুসলিম, যতক্ষণ না পদবী “খান” বলবে।

 

হিন্দুদের খুশি করার জন্য মুসলমানরা হিন্দুয়ানী সংস্কৃতি গ্রহণ করেছে :-

 

হিন্দুদের খুশি করার জন্য মুসলমানরা বিভিন্ন হিন্দুয়ানী সংস্কৃতি গ্রহণ করেছে, যেমন – পহেলা বৈশাখে বৈশাখী পূজা, বিবাহ সহ অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠানে হিন্দুয়ানী রীতি রেওয়াজ। কিন্তু কোন লাভ হয় নি।

 

একটা উদাহরণ দিলে বোঝা যাবে, বলিউডে যত আরবী নামধারী অভিনেতা আছে তারা হিন্দুয়ানী কোন সংস্কৃতি গ্রহণ করতে বাদ রাখে নি। তারা হিন্দু মেয়েদের বিয়ে করেছে, তারা ও তাদের সন্তানরা গণেশ পূজা সহ বাকী অন্যান্য হিন্দু দেব দেবী পূজা করে কিন্তু তারা হিন্দুত্ববাদীদের সমালোচনা করে কোন মন্তব্য করলেই তাদের উপরে আক্রমণ শুরু হয়ে যায় যে ওরা মুসলিম তাই হিন্দুদের সমালোচনা করে।

 

এবার আমার বক্তব্যকে ন্যায্য প্রমাণ করতে আমি ২টি নিউজের উদাহরণ দেবো –

 

উদাহরণ ১ – বিবিসি বাংলা – ‘হিন্দুদের বন্ধু’ হয়েও লিঞ্চিস্তানে রেহাই নেই ভারতের মিও মুসলিমদের

 

লিঙ্ক – https://bbc.in/2Ha3f6P

 

এই নিউজে দেখা যায় ভারতে গোরুর অজুহাতে সবচেয়ে বেশী নির্যাতিত হরিয়ানার মেওয়াতের মেও মুসলিমদের দুর্দশার কথা, যারা হিন্দুদের বন্ধু হতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছে কিন্তু কোন লাভ হয় নি, হিন্দুরা শত্রুতা করা ছেড়ে দেয় নি!

 

চুম্বক অংশ ১ :-

 

“আমাদের চিরকালই হিন্দুদের সঙ্গে খুব ভাব – মিওদের রাজা হাসান খান মেওয়াতি রাজপুত রানা সাঙ্গার সাথে মিলে বাবরের বিরুদ্ধে পর্যন্ত যুদ্ধ করেছিলেন। মিওরা কোনওদিন মুঘল শাসন পর্যন্ত মানতে পারেনি, তারা ছিল চিরবিদ্রোহী।”

 

গরু-মোষ যেহেতু তাদের আয়ের প্রধান উৎস, তাই হিন্দুদের মতোই অনেক মিও গোমাংস ছুঁয়ে পর্যন্ত দেখেন না।”

 

আমার মন্তব্যঃ মেও মুসলিমদের হিন্দুপ্রীতি ভীষণ, তারা হিন্দুদের মতোই গোরুর গোশত ছুঁয়ে দেখে না। এটা হিন্দুরাও জানে। কিন্তু জানা সত্বেও কি তারা তাদের মুসলিমদের প্রতি শত্রুতা ভুলে গেছে? না, তারা ভোলে নি, বরং চরম অত্যাচার করেছে তাদের উপরে।

চুম্বক অংশ ২ :-

 

“তাদের বহুদিনের প্রতিবেশীরাই আজ গোরক্ষার নামে পুলিশের কাছে খবর দিচ্ছে, পুলিশের সঙ্গে মিলে মুসলিমদের ওপর জুলুম করছে।”

 

আমার মন্তব্যঃ যে হিন্দুদের তারা এত ভালবাসে তারাই পুলিশের সাথে মিলে মিশে তাদের উপরে চরম অত্যাচার করছে, তাহলে এত ভালোবাসা কিসের ?

 

চুম্বক অংশ ৩ :-

 

“যে মিও মুসলিমরা আজও রাম খান, লক্ষণ খান, শঙ্কর খানের মতো হিন্দুঘেঁষা নাম নিয়ে চলেন, তারা যেন আসলে কিছুতেই ঠাহর করতে পারছেন না এত দিনের পড়শি আর বন্ধুরা কীভাবে হঠাৎ তাদের ঘাতক হয়ে উঠল?”

 

আমার মন্তব্যঃ হিন্দু ঘেঁষা নাম নিলে কোন লাভ নেই। হিন্দুদের কাছে মুসলমানদের এই হিন্দুপ্রীতির কোন মূল্য নেই। শত্রুতা তারা করবেই!

 

উদাহরণ ২ – হিন্দুস্থান টাইমস, হেডলাইন – In Meerut, Muslims sell their cows to stay clear of vigilantes

 

লিঙ্ক – http://bit.ly/2Tpvn7f

 

নিউজে দেখা যায়, উত্তরপ্রদেশের মেরঠের সাউন্দাত গ্রামে মুসলিমরা গোরু, মোষ ইত্যাদি গবাদি পশু বিক্রি করে দিয়েছে ভয়ে, যোগী আদিত্যনাথের সরকার ক্ষমতায় আসার পর। মেরঠের বিজেপি নেতা গুলজার হাসান ( ভুল নয়, মুসলিম ও বিজেপি নেতা) বলছে যে ২০১৭ সালের ভোটে গ্রামের মুসলিমরা বিজেপিকে ভোট দিয়েছিল ।

 

সাউন্দাত গ্রামে ৭০০০ মানুষের বসবাস, যার মধ্যে খুব বেশী হলে ২০০ জন হিন্দু; বাকী মুসলিম। তারা স্বীকার করছে যে – তারা বিজেপিকে ভোট দিয়েছিল। সাউন্দাত গ্রামের মুসলিমরা হিন্দুদের ভীষণ ভালবাসে, তারা ভীষণ “অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষ”; এমনকি তারা গ্রামের হিন্দুদের সাথে হাত মিলিয়ে মন্দিরও তৈরি করেছিল।

 

কিন্তু হিন্দু-বান্ধব এই মুসলিমদের অবস্থা কি হল ? ? ? – তারা ভয়ে গোরু, মোষ বিক্রি করে দিয়েছে, যাদের কাছে আছে তারা ভয়ে বাইরে নিয়ে যেতে পারে না কারণ তাহলে বাড়ি ফিরতে পারবে কি না কোন গ্যারান্টি নেই। শুধু তাই নয়, তাদের গোরু, মোষ জোর করে ধরে নিয়ে চলে যায় হিন্দুরা অথবা পুলিশ।

 

ভারতীয় হিন্দুদের একটি বিরাট অংশ মধ্যপ্রাচ্যে চাকরি করে আয় করে মুসলমান মালিকদের অধীনেঃ

 

গোটা পৃথিবীতে ভারত সবচেয়ে বেশী রেমিট্যান্স আয় করে, ৮০ বিলিয়ন ডলার এবং এই আয়ের বেশীর ভাগ অংশটাই আসে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশ ও এমনকি বাংলাদেশ থেকেও। ( পাঠকগণ! বাংলাদেশ এর নাম দেখে চমকানোর কিছু নেই, হিন্দুরা বাংলাদেশকে ‘কাংলাদেশ’ বলে কিন্তু সেখান থেকেই আয় করে আনে।)

 

কিন্তু তা সত্বেও কি তারা মুসলমানদের প্রতি শত্রুতা করা ছেড়ে দিয়েছে? নাহ! কখনোই তারা ছেড়ে দেয় নি, বরং সেখান থেকেই তারা বিষ উগরে থাকে সোশ্যাল মিডিয়াতে যা বিভিন্ন সময়ে নিউজ পোর্টালগুলিতে দেখা যায়।

 

মুসলিমরা যতই ভালো হিন্দু খুঁজে চলুক না কেন, কোন লাভ হবে না – তাদেরকে এভাবেই অত্যাচারিত, বঞ্চিত ও লাঞ্ছিত হতে হবে।

 

এই প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআন শরীফে এসেছে –

 

“ (হে ঈমানদারগণ) দেখো, তোমরাই তাদের ভালোবাস, তারা (কাফিররা) কিন্তু তোমাদের প্রতি মোটেও মুহব্বত পোষণ করে না।“ – (পবিত্র সূরা আলে ইমরান: আয়াত শরীফ ১১৯)

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে